বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ধোঁকার জল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X writter:আওলা ঝাওলা বলদ ............... -কয়েকমাস আগে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুঁয়ে মেসে বসে আছি।হঠ্যাত্ হাতের মধ্যে থাকা মোবাইলটা বেজে উঠল।ফোনের উপর তাকাতেই দেখলাম অচেনা নাম্বার।একটু নড়েচড়েই ফোনটা রিসিভ করে সালাম দিতেই: -তুমিই কি টিউশনি খুঁজছ??(ফোনের ওপাশ থেকে একটা বাজখাঁই আওয়াজে) -জ্বি(আমি) -ওকে,তাইলে আজ বিকালে এই ঠিকানাই চলে এসো। -আচ্ছা আঙ্কেল।কিন্তু........! -কথা শেষ না হতেই ফোনটা কেটে গেল। মনে যেন একটা আনন্দ হচ্ছিল।অনেক খোঁজাখুজির পর অবশেষে একটা কপালে জুটল। আসলে আমি তখন গ্রাম থেকে শহরে এসছিলাম পড়াশোনার জন্য।বাড়িতে আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল তাই এত টিউশনির খোঁজাখুজি। . -কিন্তু একি ফোন করা লোকটার নাম জানতেই তো ভুলে গেছি।আবার কাকে পড়াতে হবে সেটাও তো জানতে পারলাম না।অনেক প্রশ্নই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল তাই আবার ফোন দিলাম।ফোন দিতেই একটা মিষ্টি মেয়েলি কণ্ঠে বলে উঠল"আপনার কলটি বর্তমান ক্রেডিটকে অতিক্রম করছে।অনুগ্রহ করে রিচার্জ করুন"ধন্যবাদ।কেমন লাগে বলুন তো??দরকারের সময় ধন্যবাদ দেয়।অবশ্য টাকা থাকবেই বা কি করে লোড দেওয়াই তো হয়না। . -অতঃপর দুপুরের খাওয়া সেরে বেরিয়ে পড়লাম ঐ ঠিকানার খোঁজে।রাস্তাঘাট চেনা ছিল তাই ঠিকানাটা খুঁজেপেতে সমস্যা হলো না। . -বাসার দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।একটু ভয় ভয় লাগছিল।তাই বুকে দুইটা ফুঁ দিয়ে সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করে কলিং বেলটা বাজালাম। . -সাথে সাথেই একজন ভদ্র মহিলা দরজা খুলে: -কি দরকার?? -আসলে আন্টি আমি টিউশনি......! কথাটা শেষ না করতেই..।. -ও আচ্ছা আচ্ছা তুমিই তাইলে সেই ছেলে।তোমার আঙ্কেল আমাকে বলে গেছে।তা তোমার নামটা কি?? -জ্বী আন্টি,নয়ন। -ও আচ্ছা,তুমি এখানে বসো আমি নবীনকে ডেকে দিচ্ছি।যাক এতক্ষণে শান্তি পেলাম কারণ একটা ছেলেকে পড়াতে হবে। এটা বলে আন্টি চলে গেলেন।আমি সোফায় বসে নিজের ভাঙাচোরা মোবাইল টিপছি হঠ্যাত্ সামনে তাকাতেই দেখি,একটা মেয়ে তার ভেজা চুলগুলো মুচছে।চুলগুলো মুখের সামনে ছড়ানো ছেটানো।মুখটা ভালোভাবে দেখাও যাচ্ছেনা কিন্তু দেখতে ভয়ংকর লাগছে।আমিতো তখন ভূতের ভয়ে প্রায় দৌড়ে পালাবার উপক্রম।কিন্তু তখন মেয়েটা আমার দিকে তাকালো...!মেয়েটা দেখতে অপূর্ব ছিল তাই চোখ সরাতে পারছিলাম না। -কি ব্যাপার কে আপনি??এভাবে ঘরে ঢুকছেন কেন?এখানে কি চান?(মেয়েটা) -কথা শুনে বুঝতে পারলাম মেয়েটা এতক্ষণেও আমাকে খেয়াল করেনি।মেয়েটা একনাগাড়ে প্রশ্ন করেই চলেছে উওর দেওয়ারও সুযোগই পাচ্ছিনা। -ইয়ে মানে আমি টিউ...!(আমি) -কি আপনি টিউ চুরি করতে এসছেন।কোন দরজা দিয়ে ঢুকলেন(ভয় পাওয়া কণ্ঠে)আপনি ভুল বাড়িতে এসছেন দয়া করে বের হন বের হন বলছি। -আসলে আপনি ভুল......!কথা শেষ না হতেই।ঝড় ওঠার আগে আশেপাশের পরিবেশ যেমন থমকে যায় মেয়েটাও কয়েক সেকেন্ডের জন্য চুপ থেকে আম্মু চোর চোর বলে চিত্কার শুরু করল। -একি কেলোরে বাবা!কি বিপদ এসব শেষ পর্যন্ত টিউশনি করাতে এসে কিনা...টিউ চুরির কেসে..!ছিঁ ছিঁ। . -আন্টি কাছেই ছিল তাই সমস্যাটা বাড়ল না।কিন্তু আন্টি ভেতরে ঢুকে এমনভাবে আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন মনে হচ্ছিল যেন কতবড় একখান অন্যায় আমি কইরা ফেলছি।তারপর আন্টি আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।ওর নাম ঋতু। . -অতঃপর আমি পড়ানোর রুমের দিকে পা বাড়ালাম।অমনি পেছন থেকে ডেকে এইযে মিস্টার আপনি কি বোবা নাকি? কথা বলতে পারেন না....কোথা থেকে যে আসে এসব(ধমকের স্বরে)। . -এরপর থেকে পড়াতে গেলে ঋতুর থ্রেট আর ধমক আমাকে হজম করতে হতো।কিছু বলতে পারতাম না কষ্টের টিউশনি চলে যাওয়ার ভয়ে।ঋতু আর আমি একই সাথেই পড়তাম। . -হঠ্যাত্ একদিন পড়ানো শেষ করে চলে আসছি এমন সময় ঋতু আমাকে ছাদে ডাকল। -জ্বী বলেন কি বলবেন?(আমি) -সত্য বল তোমার কি কোন গালফ্রেন্ড আছে?? -না। -আমাকে তোমার কেমন লাগে? -জ্বী ভালো। -তাইলে আমার সাথে প্রেম করতে হবে। -ত্র্যাঁ!!! আমি পারবো না। -না পারলে আর পড়াতে আসার দরকার নেই। -কি ঝামেলারে বাবা...!এতো রবি সিম কেনার মত হয়ে গেল একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি।চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। -কি হল কথা বলো? -ওকে কাল বলব। -না এখনি উওর চাই আমার। এ তো মহামুসকিল।জোর করে প্রেম করতে চাইছে!অবশেষে অনিচ্ছা সত্তেও রাজি হয়ে ফিরে আসলাম।এখান থেকেই ঋতুর সাথে আমার প্রেমের শুরু।ঋতুকে আমার ভালো লাগতো তাই কখন যে অভিনয়ের প্রেমটা আমার মনে সত্ত্যিকারের ভালবাসায় পরিণত হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি। . -এরপর থেকে আমরা একসাথে ঘুরতাম,খেতাম শপিংও করতাম।অনেক ভালোই কাটছিল সময়টা।ওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেও শুরু করেছিলাম।কিন্তু অল্পসময়েই সেটা মিথ্যা হয়ে গেল।যে ছাদে প্রেমের শুরু হয়েছিল শেষটাও সেখানেই হল।একদিন ঋতু আমাকে বলল আমি যেন আর তাকে বিরক্ত না করি।আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম..! -মানে? -মানে আর এক সপ্তাহ পর আমার বিয়ে। -তাইলে আমাদের রিলেশন?? -ওটা ভুলে যাও আর এটাকে রিলেশন নয় টাইম পাস বলে। -মানে?? -কখনো নিজের মুখটা দেখেছো একটা গাঁইয়া ক্ষেত কোথাকার। -তাইলে আমার মনকে নিয়ে এমন খেলা কেন করলা? -এমনি আর এটাই তো লাইফের মজা।আমিও এমন খেলার স্বীকার হয়েছি আর তাই আজ তার শোধ নিলাম। রাগটা যেন মাথায় উঠে গেল তাই ওকে চড় মেরে বসলাম। . -অজানতেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল আমার।এটা আমার সাথেই করতে হল?ও উওর দেয়নি।যাওয়ার সময় বলেছিল নবীনকে পড়াতে আর না যেতে। . -অনেক কেঁদেছিলাম।সেদিন যে কিভাবে মেসে পৌঁছেছিলাম জানিনা।পরে নিজেকে এটা বলে বুঝিয়েছিলাম যে ওটা আমার না তাই হারিয়ে গেছে।শুধু মনের কষ্টের খাতার পেজটা আরও একটু ভরাট করে দিয়ে গেছে।আজকাল প্রেম হল টাইমপাস আর এই টাইমপাসে অনেকের জীবন থেকেই হাসিটা হারিয়ে যায়।তাই একটা কথায় বলব কেউ নিজের আনন্দের জন্য অন্যের হাসি কেড়ে নিয়ো না। . স্বপ্নহীন নিস্তদ্ধ ছেলে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ধোঁকার জল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now