বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অনেক রাত হয়ে গেছে । পথ ঘাট একেবারে জন শুন্য । কিভাবে মেসে পৌছাব আমার সে চিন্তা নেই । এফডিসি থেকে বের হয়ে হাঁটতে লাগলাম । কয়েক কদম হেঁটে মাছের আড়ৎটার সামনে আসতেই একটা লোককে দেখতে পেলাম । একটা খুটির সঙ্গে হেলাম দিয়ে একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে । পুরানো কালো একটা কোট গায়ে দিয়ে আছে ।
পা’দুটো খালি । মাথাটা কেমন অস্বাভিক রকমের বড় । লোকটাকে দেখে আমার পাগল বলে মনে হলো । আমি না দেখার ভান করে সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম । লোকটার সামনে যেতেই লোকটা গলা খাকারি দিল । আমি ফিরে তাকালাম – লোকটা সোজা হয়ে দাঁড়াল, তারপর আমার দিকে এগিয়ে এসে কোন রকম জড়তা ছাড়াই বলল – কি কিছু হলো ?
আমি বেশ অবাক হয়ে লোকটার দিকে তাকালাম । লোকটা আবারও বলল, কিছুই হয়নি তাই না?
কি হয়নি ? আমি চরম বিরক্তি নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম ।
তোর চিত্রনাট্য তো ঐ বুড়ো ভামটা নেয়নি, তাই না ?
আমি বেশ অবাক হয়ে লোকটার দিকে তাকালাম । এহতে সামস্ এর সঙ্গে আমার কি কথা হয়েছে তা তো এই পথের লোকটার জানার কথা নয় । আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞিস করলাম, কে আপনি ?
আমি কে ? সেটা বড় কথা না , আমার কথা সত্য কিনা সেটা বল ।
আমি অনিচ্ছা সত্বেও মাথা নাড়লাম । যার অর্থ হলো , হ্যা , তিনি আমার লেখাটি নেননি ।
ঐ বুড়ো ভামটা যে নিবে না তা আমি আগেই জানতাম । বলে লোকটা খেক খেক করে হেসে উঠলো। হাসির শব্দে আমি কেমন জানি ভয় পেয়ে গেলাম । মাছের আশটে গন্ধ তীব্র হয়ে নাকে এসে লাগল ।
দু’পা পিছিয়ে এসে প্রশ্ন করলাম আপনি কে , কি করে এসব জানলেন ?
বললাম না , আমি কে সেটা বড় ব্যাপার না । আমি সব জানি । তোর অতীত জানি, তোর বর্তমান জানি; আবারও তোর ভবিষ্যতও জানি ।
লোকটা আবারও ভয়াল ভাবে হাসতে লাগল । এবার আমি সত্যি সত্যি ভয় পেয়ে গেলাম । কোন এক অজানা ভয়ে ভেতরটা কেপে কেঁপে উঠল । আমি কোনরকম তোতলাতে তোতলাতে বললাম, কি চাই আপনার, কি চাই?
তোর সঙ্গে সওদা করতে করতে চাই ? লোকটা হাসি থামিয়ে সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল । ভয়ন্কর হলুদ দু’টো চোখের দিকে তাকিয়ে আমার পুরো শরীর কাপতে লাগল । হঠাৎ আমার মনে হলো আমার বমি পেয়েছে । বমি করতে পারলে ভাল হতো । আমি আবারও তোতলাতে তোতলাতে বললাম, কিসের সওদা ?
তোর খ্যাতি, যশ্, প্রতিস্ঠা তোর সকল স্বপ্ন পুরণের সওদা ।
মানে ?
মানে সোজা ,তুই উঠে যাবি খ্যাতির চুড়ান্তে যেখান থেকে সব কিছু অতি তুচ্ছ বলে মনে হয়। যেখান থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় না । করবি এমন সওদা ? আমি তোকে সব সব দেবো । লোকটা আমার মুখের কাছে এসে ফিসফিস করে কথাগুলো বলল । বিশ্রী মাছের আশটে গন্ধটার জন্য আমি আবারও পিছিয়ে গেলাম । টের পেলাম তীব্র ভয়ে আবার হাত পা থরথর করে কাঁপছে । ভয়ন্কর কিছুর শন্কায় আমি ছুটে পালাতে চাইলাম ।
লোকটা মনে হয় আমার মনোভাব বুঝতে পেরে খপকরে আমার বাম হাতের কব্জির উপড়ে চেপে ধরল । আমি তীব্র ব্যর্থায় উহু করে শব্দ করে উঠলাম । লোকটা হাসতে হাসতে বলল , রাজি আছিস ? রাজি আছিস ? তুই মনে মনে যেমনটা চেয়েছিস ঠিক তেমনটাই হবে,তরতর করে উঠে যাবি খ্যাতির চুড়ায় । এসব বুড়ো ভামরা লাইন দিয়ে পরে থাকবে তোর লেখার জন্যে , বল রাজি আছিস কিনা । বলে ফেল, বলে ফেল ।
আমি কয়কে মিনিটের মধ্যে যেন আমার ভবিষ্যত দেখে ফেললাম । সকল ভয়কে উপেক্ষা করে বললাম , তাতে আপনার কি লাভ ?
আমার কি লাভ ? বলে লোকটা হো হো করে হাসতে লাগল । তাতে আমার পুরো শরীর আবারও কাঁটা দিয়ে উঠল ।
আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, দেবার মতো তো আমার কিছু নেই ।
তোর সব আছে, আমার প্রয়োজনে আমি চেয়ে নেবে । তোর প্রয়োজনে তুই চেয়ে নিবি । আছিস রাজি ? বলে ফেল , বলে ফেল ।
আমি মনে মনে চিন্তা করলাম । হারাবার মতো আমার কিছুই নেই । আবার দেবার মতোও নেই কিছু । তা হলে লোকটা কি চাচ্ছে ?
ঠিক তখনি আমার ভেতর থেকে কেউ একজন বলে উঠল রাজি; আমি রাজি । তোর তো আপন কেউ নেই, তাই হারাবারও কিছু নেই ।
তুই তাহলে রাজি ? লোকটা আমার দিকে অদ্ভূত ঘোর লাগা চোখে তাকাল ।
আমি মাথা নেড়ে বললাম, রাজি । সঙ্গে সঙ্গে লোকটা আমার হাত ছেড়ে দিল আমার কাছে মনে হলো পুরো হাতটা অবশ হয়ে গেছে । আমি হাতটা ঝারতে ঝারতে লোকটার চোখের দিকে তাকালাম । মনে হলো, আমার পুরো শরীর গুলিয়ে উঠলো । সঙ্গে সঙ্গে আমি বর্মি করে ফেললাম । অনেকক্ষন বর্মি করার পর একটু আরাম হলো । আমি লোকটার দিকে তাকাতেই দেখি কেউ নেই। কালো খুঁটিটা যেন আমার দিকে তাকিয়ে হাঁসছে । আমি মাতালের মতো টলতে টলতে মেসের দিকে পা বাড়ালাম ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now