বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 3

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ১৩ নম্বরে পৌছে আমি এহতে সামস্ সাহেবকে সালাম দিলাম । তিনি আমাকে হাতের ইশারায় বসতে বললেন । আমি পেছনে দিকে একটা চেয়ার টেনে বসে পরলাম । এটা সেটা করে পুরো সেট রেডি করতে করতে ২টা বেজে গেল । লাঞ্চের পর সূটিং শুরু হলো । সূটিং মানে এক এলাহিকান্ড । আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে সুটিং দেখতে লাগলাম । এক একটা সট তিন চারবার করে নেওয়া হচ্ছে । যে সটটা আমার কাছে ওকে মনে হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে সেটাই পরিচালক সাহেব কাট করে আবার নতুন করে টেক করছেন । টানা রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সূটিং চলে প্যাক আপ করা হলো । আমার অবস্থা ততোখনে কাহিল । এতো দীর্ঘ সময় প্রতিক্ষা আমাকে আর কখন ও করতে হয়নি । কয়েকবার মনে হয়েছিল চলে যাবার কথা । কিন্তু নিজের স্বপ্ন , নিজের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চলে যেতে পারিনি । আর তাছাড়া চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম মানুষটা ব্যস্ত । নিজেকে এই বলে শান্তনা দিয়ে বেধে রেখেছি যে, “কস্ট না করলে, কেস্ট মেলে না ।” প্রায় পৌনে ১২টার সময় আমার ডাক পরলো । পুরো সেট তখন প্রায় খালি হয়ে গেছে । কয়েকজন সেট থেকে এটা সেটা খুলে ব্যাগে ঢুকাচ্ছে । এহতে সামস সাহেব বেশ রাশ গম্ভীর মানুষ । অপরিচিত জনের সঙ্গে খুব একটা কথা বলেন না । পুরো সূটিং চলাকালীন সময় আমি তাকে একবারের জন্যও হাসতে দেখিনি । আমাকে নিয়ে তিনি বসলেন পরিচালকদের রুমে । ওনার হাতে ছোট একটা গ্লাস । আমি রুমে ঢুকে আবারও সালাম দিতে উনি , মাথা নেড়ে বসতে বললেন । তারপর গ্লাসে আলতো করে একটা চুমুক দিয়ে বললেন – কতো দিন ধরে লেখালেখি করছো ? জ্বী,ছোটবেলা থেকেই । ছোটবেলা থেকে ? তিনি ঠোট উল্টে তাচ্ছিল্যের একটা ভঙ্গি করে আমার কথাটা রিপিট করলেন । তা দু’একটা নাটক টাটক কি টিভিতে গিয়েছে ? জ্বি না , আমি টিভির জন্য কোন নাটক লিখিনি । টিভিতে না লিখে একেবারে চলচিত্রে ? ছোট থেকে না শুরু করতে হয় । বলে তিনি আবারও গ্লাসে চুমুক দিলেন । আমি কিছু বললাম না । আমি মনে মনে বললাম, আমি বড় থেকে ছোটর দিকে যাবো বলে ঠিক করেছি । সুযোগ পেলেই মানুষ উপদেশ ঝারতে শুরু করে । তার উপড়ে হাতে যদি রঙ্গিন পানির গ্লেলাস থাকে তা হলে তো আর কথাই নেই । আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে তিনি গ্লাসে আরেকটা চুমুক দিয়ে বললেন ,দেখি কি এনেছো আমার জন্য ? বলে তিনি হাত বাড়ালেন । আমি ব্যাগ থেকে চিত্রনাট্যটা বের করে হাতে দিলাম । গ্লাসটা টেবিলে রেখে তিনি চিত্রনাট্যটার একটা একটা করে পাতা উল্টাতে লাগলেন – আমার বুক তখন ধুকধুক করছে । আমি মনে মনে আল্লাহ, আল্লাহ করছি এই জন্য যে, এবার যেন আমাকে আর প্রত্যাক্ষিত হতে না হয় । এবার যেন খুশি মনে ফিরতে পারি । এ লাইনের নিয়মই হচ্ছে একবার যদি কোন পরিচালক একটা লেখা নিয়ে কাজ শুরু করেন তা হলে আর বসে থাকতে হয় না। একেরপর এক কাজ আসতেই থাকে । যতো সময় যাচ্ছিল তোতোই উত্তেজনার আমার হাত পা কাঁপতে লাগল । আমি কোন রকম বসে রইলাম । তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে একটার পর একটা পাতা উল্টিয়ে যাচ্ছেন । আর আমার অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছে । অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছি। আমি যেন আমার সাফল্যের হাতছানি দেখতে পাচ্ছি। একসময় তিনি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন – এটা তুমি লিখেছো ? জ্বি ? আমি ছোট করে উত্তর দিলাম । তোমার লেখাটা এক কথায় চমৎকার প্রচুর কাজ করেছো বুঝা যাচ্ছে । কিন্তু এ লেখা নিয়ে তো আমি কাজ করতে পারবো না । তোমার এ গল্পটা হলিউডে হলে লুফে নিত । কিন্তু আমাদের দেশের পারিপাশ্বিক অবস্থার জন্য এ গল্প চলবে না । আমি দু:খিত । তুমি অন্য একটা গল্প নিয়ে আস । আমার মন ভেঙ্গে গেল । আমি কিছু বললাম না । উঠে দাঁড়ালাম । আমাকে উঠতে দেখে তিনি বললেন “তোমার হাতের টার্ন ভাল , আমি তোমাকে একটা থিম দিচ্ছি তুমি এটা নিয়ে কাজ করো ।” সরি স্যার, আমি শুধু নিজের থিম নিয়েই স্টরি তৈরি করি । আমি ওনার হাত থেকে চিত্রনাট্যটা নিয়ে স্টুডিও থেকে বের হয়ে এলাম । সঙ্গে সঙ্গে একঝাক হতাশা আমায় ঝেকে ধরলো । মনে হলো এ জীবনের কোন মানে হয় না । এ জীবনের জন্য শুধু ব্যর্থতা পর ব্যর্থতাই অপেক্ষা করছে । অনেক রাত হয়ে গেছে । পথ ঘাট একেবারে জন শুন্য । কিভাবে মেসে পৌছাব আমার সে চিন্তা নেই । এফডিসি থেকে বের হয়ে হাঁটতে লাগলাম । কয়েক কদম হেঁটে মাছের আড়ৎটার সামনে আসতেই একটা লোককে দেখতে পেলাম । একটা খুটির সঙ্গে হেলাম দিয়ে একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে । পুরানো কালো একটা কোট গায়ে দিয়ে আছে । পা’দুটো খালি । মাথাটা কেমন অস্বাভিক রকমের বড় । লোকটাকে দেখে আমার পাগল বলে মনে হলো । আমি না দেখার ভান করে সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম । লোকটার সামনে যেতেই লোকটা গলা খাকারি দিল । আমি ফিরে তাকালাম – লোকটা সোজা হয়ে দাঁড়াল, তারপর আমার দিকে এগিয়ে এসে কোন রকম জড়তা ছাড়াই বলল – কি কিছু হলো ? আমি বেশ অবাক হয়ে লোকটার দিকে তাকালাম । লোকটা আবারও বলল, কিছুই হয়নি তাই না? কি হয়নি ? আমি চরম বিরক্তি নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলাম ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 5
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 4
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 3
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 2
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now