বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 2

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X বা: বেশ ভাল । হাতে সময় থাকলে তোমার লগে যাইতাম । এফডিসির ভেতরটা দেহনের আমার খুব সখ । সদু ভাই, আমি তাহলে আসি, দেরি হয়ে যাচ্ছে, হাতে একদম সময় নাই । সাড়ে দশটার মধ্যে পৌছাতে হবে । আমি হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিনয়ের সঙ্গে বললাম । আরে তাইলে তো আসলেই সময় নাইকা । এহনতো অফিস টাইম । এখন গাড়ি ঘোড়াও পাওয়া কঠিন; চলো আমার লগে দেহি নাসিরার গ্যারেজে গাড়ি আছে কিনা । আমি চমকে উঠলাম । কেননা সদু ভাই এর সঙ্গে যাওয়া মানে আরেক যন্ত্রনা । দেখা যাবে গাড়ি পেতে পেতেই সাড়ে দশটা বেজে যাবে । আমি তারাতারি না,না করতে করতে বললাম, “আপনাকে কষ্ঠ করতে হবে না সদু ভাই, আমি খুঁজে নিবো ।” আরে মিঞ খুঁইজা নিবা বললেই হইলো নাকি ? গাড়ি পাইতে হইবো না ? চলো আমার লগে। সদু ভাই তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল, রাতের জন্য পোলাও গোস্ত করিস । আজ রাইটার সাহেবের জয় হইবোই হইবো। আমি সদু ভাইয়ের এই স্নেহের কাছে পরাস্ত হয়ে তার পিছু পিছু মেস থেকে বের হয়ে এলাম । বুক চিরে বের হয়ে এলো একটা দীর্ঘশ্বাস । নাসিরের গ্যারেজে অতি সহজেই গাড়ি পাওয়া গেল । গ্যারেজের দিকে হাঁটতে হাঁটতে সদু ভাই বললেন; “চলো আইজকা তুমি সফল হইবা কি হইবা না তার একটা ছোট্র পরীক্ষা কইরা ফেলাই ? ”কিভাবে ? আমি দ্রুত পা ফেলে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞাসা করলাম । যদি নাসিরার গ্যারেজে যাইয়াই গাড়ি পাইয়া যাই তাইলেই মনে করুম তুমি আজ সফল । ঐ পরিচালক ব্যাটা তোমার বই লইবোই লইবো । আমি এসব বিশ্বাস করি না । তাই মুখে কিছু বললাম না । কিন্তু তবুও দেখা গেল সত্যিই গ্যারেজে গাড়ি পাওয়া যায় কিনা সেটা দেখার জন্য মনে মেনে বেশ উৎগ্রীব হয়ে উঠলাম । নাসিরের গ্যারেজে ঢুকতেই দেখি, দরজার সামনে একটা সিএনজি দাঁড়িয়ে আছে। সদু ভাই আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ, তুমি জিতা গেছ । যাও, আইজকা তোমারে আর কেউ আটকাইতে পরবোনা কইয়া দিলাম । প্রাথমিক বিজয়ে আমার মনটাও খুশিতে ভরে উঠল । গ্যারজের মালিক নাসির একটা ময়লা বিছানার উপড়ে বসে চা খাচ্ছিল, সদু ভাইকে দেখে তারাহুরো করে নেমে এসে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “কিছু লাগবো ভাই ? আমারে খবর পাঠাইলে তো আমিই যাইতাম ।” তা,তো যাইতিই। এখন দেখ একটা গাড়িটারি আছে কিনা,আমাগো রাইটার সাব এফডিসিতে যাইবো । এই সিএনজিতে গেলে হয় না ভাই, নাকি গাড়িই লাগবো ? নাসির আমার দিকে তাকিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকা সিএনজিটা দেখিয়ে বলল । গাড়ি লাগবে না, সিএনজিতে হলেও চলবে । বলে আমি সদুভাইয়ের দিকে তাকালাম । তোর ড্রাইবার কই ? আছে, মনে হয় মুততে গেছে । দাঁড়ান আমি ওরে লইয়া আইতাছি । বলেই নাসির দৌড়ে গ্যারেজের পেছনে চলে গেল । নাসিরারা কামডা দেখলা, এইসব পোলাপান হালায় ম্যানার জানে না; তোমার সামনে ক্যামনে কইলো মুততে গেছে । তুমি কিছু মনে কইরো না । আইউক দিমুনে কানের পেছনে দু’ইডা ভনচটকোনা, হালায় পুতে কইবোনা, “বার্থরুমে গেছে । যাও যাও তুমি জিএনজিতে যাইয়া বও । রাইতে তারাতারি আইয়া পইরো পোলাও গোস্ত হইবো কিন্তু ।” আমি মাথা নেড়ে সিএনজিতে উঠে বসলাম । প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সতেরো কি আঠারো বছরের একটা ছেলে এসে , সিএনজি স্ট্যাট দিল । সদু ভাই কাছে এসে বলল, এক্কেবারে ঝড়ের বেগে লইয়া যাবি । সময় মতো পৌছাইতে না পারলে কিন্তু ঘারে খাবি । সদু ভাই এর এই বাড়াবারি দৃস্টিকটু, অনেক সময় অসহ্য লাগে। কিন্তু প্রচুর অর্থ কড়ি , উদারতা আর সান শওকতের জন্য সবাই সদু ভাইকে বেশ সমিহ করে চলতে বাধ্য হয় । ছেলেটা আমায় সত্যিই ঝড়ের বেগে নিয়ে এলো । আজ সবই দেখি বেশ ভালয় ভালয় হচ্ছে। রাস্তাতে জ্যাম ছিল না বললেই চলে । এফডিসির গেটে বিশাল ভীর । নায়ক নায়িকাকে দেখার জন্য উৎসুক ভক্তদের অভাব নাই । অনেক কষ্টে ভীড় ঠেলে গেটে পৌছে গেট পাস দেখাতেই আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিল । ১১ নম্বর ফ্লোরে এহতে সামস্ সাহেবের সূটিং চলার কথা । ১১ নম্বরটা কোথায় তা কয়েক জনকে জিজ্ঞাসা করে ১১ পৌছে দেখি বিশাল এক তালা ঝুলছে । গেটের সামনে কয়েকজন গার্ড বসে গল্প করছে । মনটা খারাপ হয়ে গেল । অনেকটা অনিচ্ছা সত্যেও গার্ডদের এহতে সামস্ কথা জিজ্ঞাসা করতেই একজন বলল, স্যার, ইউনিট নিয়ে ১৩ নম্বর গেছে । ঐ হানে যান, ১১ নম্বরের জেনারেটার খারাপ হইছে তাই এইহানে সুটিং বন্ধ । ১৩ নন্বরটা কোন দিকে তা জেনে নিয়ে আমি জোরে পা চালালাম ।বা: বেশ ভাল । হাতে সময় থাকলে তোমার লগে যাইতাম । এফডিসির ভেতরটা দেহনের আমার খুব সখ । সদু ভাই, আমি তাহলে আসি, দেরি হয়ে যাচ্ছে, হাতে একদম সময় নাই । সাড়ে দশটার মধ্যে পৌছাতে হবে । আমি হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিনয়ের সঙ্গে বললাম । আরে তাইলে তো আসলেই সময় নাইকা । এহনতো অফিস টাইম । এখন গাড়ি ঘোড়াও পাওয়া কঠিন; চলো আমার লগে দেহি নাসিরার গ্যারেজে গাড়ি আছে কিনা । আমি চমকে উঠলাম । কেননা সদু ভাই এর সঙ্গে যাওয়া মানে আরেক যন্ত্রনা । দেখা যাবে গাড়ি পেতে পেতেই সাড়ে দশটা বেজে যাবে । আমি তারাতারি না,না করতে করতে বললাম, “আপনাকে কষ্ঠ করতে হবে না সদু ভাই, আমি খুঁজে নিবো ।” আরে মিঞ খুঁইজা নিবা বললেই হইলো নাকি ? গাড়ি পাইতে হইবো না ? চলো আমার লগে। সদু ভাই তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল, রাতের জন্য পোলাও গোস্ত করিস । আজ রাইটার সাহেবের জয় হইবোই হইবো। আমি সদু ভাইয়ের এই স্নেহের কাছে পরাস্ত হয়ে তার পিছু পিছু মেস থেকে বের হয়ে এলাম । বুক চিরে বের হয়ে এলো একটা দীর্ঘশ্বাস । নাসিরের গ্যারেজে অতি সহজেই গাড়ি পাওয়া গেল । গ্যারেজের দিকে হাঁটতে হাঁটতে সদু ভাই বললেন; “চলো আইজকা তুমি সফল হইবা কি হইবা না তার একটা ছোট্র পরীক্ষা কইরা ফেলাই ? ”কিভাবে ? আমি দ্রুত পা ফেলে হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞাসা করলাম । যদি নাসিরার গ্যারেজে যাইয়াই গাড়ি পাইয়া যাই তাইলেই মনে করুম তুমি আজ সফল । ঐ পরিচালক ব্যাটা তোমার বই লইবোই লইবো । আমি এসব বিশ্বাস করি না । তাই মুখে কিছু বললাম না । কিন্তু তবুও দেখা গেল সত্যিই গ্যারেজে গাড়ি পাওয়া যায় কিনা সেটা দেখার জন্য মনে মেনে বেশ উৎগ্রীব হয়ে উঠলাম । নাসিরের গ্যারেজে ঢুকতেই দেখি, দরজার সামনে একটা সিএনজি দাঁড়িয়ে আছে। সদু ভাই আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ, তুমি জিতা গেছ । যাও, আইজকা তোমারে আর কেউ আটকাইতে পরবোনা কইয়া দিলাম । প্রাথমিক বিজয়ে আমার মনটাও খুশিতে ভরে উঠল । গ্যারজের মালিক নাসির একটা ময়লা বিছানার উপড়ে বসে চা খাচ্ছিল, সদু ভাইকে দেখে তারাহুরো করে নেমে এসে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “কিছু লাগবো ভাই ? আমারে খবর পাঠাইলে তো আমিই যাইতাম ।” তা,তো যাইতিই। এখন দেখ একটা গাড়িটারি আছে কিনা,আমাগো রাইটার সাব এফডিসিতে যাইবো । এই সিএনজিতে গেলে হয় না ভাই, নাকি গাড়িই লাগবো ? নাসির আমার দিকে তাকিয়ে দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকা সিএনজিটা দেখিয়ে বলল । গাড়ি লাগবে না, সিএনজিতে হলেও চলবে । বলে আমি সদুভাইয়ের দিকে তাকালাম । তোর ড্রাইবার কই ? আছে, মনে হয় মুততে গেছে । দাঁড়ান আমি ওরে লইয়া আইতাছি । বলেই নাসির দৌড়ে গ্যারেজের পেছনে চলে গেল । নাসিরারা কামডা দেখলা, এইসব পোলাপান হালায় ম্যানার জানে না; তোমার সামনে ক্যামনে কইলো মুততে গেছে । তুমি কিছু মনে কইরো না । আইউক দিমুনে কানের পেছনে দু’ইডা ভনচটকোনা, হালায় পুতে কইবোনা, “বার্থরুমে গেছে । যাও যাও তুমি জিএনজিতে যাইয়া বও । রাইতে তারাতারি আইয়া পইরো পোলাও গোস্ত হইবো কিন্তু ।” আমি মাথা নেড়ে সিএনজিতে উঠে বসলাম । প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সতেরো কি আঠারো বছরের একটা ছেলে এসে , সিএনজি স্ট্যাট দিল । সদু ভাই কাছে এসে বলল, এক্কেবারে ঝড়ের বেগে লইয়া যাবি । সময় মতো পৌছাইতে না পারলে কিন্তু ঘারে খাবি । সদু ভাই এর এই বাড়াবারি দৃস্টিকটু, অনেক সময় অসহ্য লাগে। কিন্তু প্রচুর অর্থ কড়ি , উদারতা আর সান শওকতের জন্য সবাই সদু ভাইকে বেশ সমিহ করে চলতে বাধ্য হয় । ছেলেটা আমায় সত্যিই ঝড়ের বেগে নিয়ে এলো । আজ সবই দেখি বেশ ভালয় ভালয় হচ্ছে। রাস্তাতে জ্যাম ছিল না বললেই চলে । এফডিসির গেটে বিশাল ভীর । নায়ক নায়িকাকে দেখার জন্য উৎসুক ভক্তদের অভাব নাই । অনেক কষ্টে ভীড় ঠেলে গেটে পৌছে গেট পাস দেখাতেই আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিল । ১১ নম্বর ফ্লোরে এহতে সামস্ সাহেবের সূটিং চলার কথা । ১১ নম্বরটা কোথায় তা কয়েক জনকে জিজ্ঞাসা করে ১১ পৌছে দেখি বিশাল এক তালা ঝুলছে । গেটের সামনে কয়েকজন গার্ড বসে গল্প করছে । মনটা খারাপ হয়ে গেল । অনেকটা অনিচ্ছা সত্যেও গার্ডদের এহতে সামস্ কথা জিজ্ঞাসা করতেই একজন বলল, স্যার, ইউনিট নিয়ে ১৩ নম্বর গেছে । ঐ হানে যান, ১১ নম্বরের জেনারেটার খারাপ হইছে তাই এইহানে সুটিং বন্ধ । ১৩ নন্বরটা কোন দিকে তা জেনে নিয়ে আমি জোরে পা চালালাম ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 5
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 4
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 3
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 2
→ দেয়ালে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now