বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডায়রির ছেঁড়া পাতা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডায়রির ছেঁড়া পাতা ---হৃদয় মাহমুদ। - - সুপ্তা বহু দিনের পুরোনো পরিত্যক্ত আলমারির কাপড়গুলো গুছাতে গিয়ে দেখে ধূলা-বালিতে ভরে আছে। আলমারিটাও কোনো মতে দাঁড়িয়ে আছে একটু চোট দিলে পড়ে যাবে। ঘুন পোকায় খেয়ে ঝরঝর করে ফেলেছে। বালির ভয়ে সুপ্তা মুখে মাস্ক পরে প্রথমে সমস্ত কাপড় ধীরে ধীরে নামিয়ে নিলো। তারপর একটি একটি করে ঝেড়ে নিয়ে পুনরায় আলমারি ভর্তি করতে লাগলো। কিছু কাপড় ঝেড়ে নেওয়ার পর হঠাৎ বইয়ের মত কিছু একটা কাপড় থেকে বেরিয়ে পড়লো। সুপ্তা হাতে নিয়ে দেখে প্রায় আধ ইঞ্চি পরিমান বালি জমে আছে। বালির জন্য কোনো লেখা দেখা গেলো না। হাত দিয়ে বইটা ঝেড়ে নিলো কাজ হলো না, তাই একটা কাপড় দিয়ে মুছে নিলো। বালি পরিষ্কার করার পর বুঝতে পারলো এটা একটা পুরোনো ডায়রি। ছেঁড়া মলাটে লেখাগুলো মুছে গেছে। সুপ্তা কাপড় গুছানো ফেলে রেখে ডায়রিটা হাতে নিয়ে পাশে খাটে বসে পড়লো। ছেঁড়া মলাটের ডায়রির পৃষ্ঠা উল্টাতেই ডায়রির স্মৃতি জড়ানো রাফিমের কথা মনে পড়ে গেলো । প্রতিটা ছেঁড়া পাতায় জড়িয়ে আছে দুজনের অসংখ্য সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা। পৃষ্ঠাগুলো ছিঁড়ে গেছে, লেখাগুলো মুছে ঝাপসা হয়ে গেছে। সুপ্তা একটা করে পৃষ্ঠা উল্টায় আর চোখের পানি ছাড়ে। . ডায়রিটার পিছনে লুকিয়ে আছে বহু না'বলা অজানা কাহিনী। এটা উপহার হিসেবে সুপ্তার বিয়েতে দিয়েছিলো রাফিম। পুরো ডায়রিটাতে লেখা আছে সুপ্তাকে নিয়ে প্রতিটি মুহুর্তের অসংখ্য স্মৃতিমালা। সুপ্তা স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরানী এসে উপহার সামগ্রী গুছাতে গিয়ে দেখতে পেলো রাফিমের দেওয়া গিফ্টটা। খুলে দেখে একটা নতুন ডায়রি। সুপ্তা সবার অগৌচরে ডায়রিটা সরিয়ে নিলো। আলাদা হয়ে একাকী লুকিয়ে ডায়রিটা পড়ে দেখলো সবই তাকে নিয়ে লেখা, সেই ক্লাস সেভেন থেকে বিয়ে অবদি। লেখাগুলো সুপ্তাকে দারুনভাবে নাড়া দিলো। সেদিন সুপ্তা রাফিমের জন্য খুব কাঁদলো এবং বিয়ের পরেও বহুদিন পর্যন্ত যখনই ডায়রিটা চোখে পড়তো বুকে জড়িয়ে কাঁদতো। . রাফিম ছিলো সুপ্তার প্রতিবেশী কাজিন, একই স্কুলে একই ক্লাসে পড়তো এবং দুজনই ভালো বন্ধু ছিলো। একই সাথে স্কুলে যেতো-আসতো, খেলতো, হাসতো-কাঁদতো, গাইতো, ঝগড়াও করতো এবং একসাথে তারা ঘুমাতোও। যদিও একে অপরকে চোখে হারাতো, তারপরও দেখা হলে ঝগড়ার অন্ত ছিলো না। দিন শেষে সুপ্তার দাদী মার কাছে দুজনের নালিশেরও শেষ ছিলো না। সবগুলো নালিশের মধ্যে যেটা বেশি হতো তা হচ্ছে একা একা চলে এসেছে। তাদের দুজনকে একসাথে চলতে কেউ বাঁধা দিতো না। রাফিমের পরিবার যেমন সুপ্তাকে অনেক ভালোবাসতো, তেমনি সুপ্তার পরিবারও রাফিমকে ভালোবাসতো। . রাফিম সেই সপ্তম শ্রেণী থেকেই সুপ্তাকে দুষ্টুমি করে বলতো "এই তুই কোনো ছেলের সাথে প্রেম করবি না। আমিই তোর একমাত্র প্রেমিক। তোর প্রেম হবে শুধু আমার সাথে। বিয়েও করবো তোকে আমি "। তখন সুপ্তা রেগে গিয়ে বলতো "ইশ! তোর সাথে প্রেম করতে আমার বইয়ে গেছে। আমার প্রেমিক হবে রাজকুমার, যে কিনা গোড়ায় চড়ে এসে তার রাজকুমারীকে নিয়ে যাবে "। এগুলো বলে দুজনে স্কুলে ঝগড়া লেগে যেতো। স্কুল ছুটি হলে দুজনই দাদী মার কাছে নিলিশ দিতো। তখনও রাফিম দাদী মাকে বলে দিতো "দাদী মা ওকে বলে দাও আমার সামনে যেনো অন্য কোনো পুরুষের কথা না বলে। তাতে আমার হিংসা হয়। আর এও বলে দাও, ওর যদি কারো সাথে বিয়ে সেটা হবো আমি। অন্য কেউ হলে সে থাকবে কিন্তু মাথা থাকবে না "। সুপ্তাও রাফিমের বিরুদ্ধে নালিশ করতো। দাদী মার সামনেই লেগে যেতো আবার পরের দিন একসাথে স্কুলে যেতো। . সময় যেতে লাগলো, সময়ের সাথে সাথে দুজন বেড়ে উঠতে শুরু করলো। সুপ্তা অনেকের ভাবনার একজন মেয়ে হয়ে স্বপ্নে ঘুরা শুরু করলো। সবার ভালো লাগার তালিকায় সুপ্তা, যা শুনে রাফিমের মাথা খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু সুপ্তা কারো ভালো লাগায় সাড়া দিতো না। রাফিম ছোট বেলায়ও সুপ্তার পাশে কেউ হাটুক পছন্দ করতো না। আর বড় হয়েতো কল্পনাই করতে পারে না। একদিন শুনেছে একটি ছেলে সুপ্তাকে অফার করেছে, সেই শুরু হয়ে গেলো ভেজাল। যতক্ষণ সুপ্তার নাম ছেলেটির মুখ থেকে বের করা বন্ধ করতে না' পেরেছে ততক্ষণ পর্যন্ত তার পিছু ছাড়েনি। সুপ্তা রাফিমকে বলতো "আমি যেহেতু মেয়ে ছেলেরা অফার করতেই পারে তা স্বাভাবিক। আমিতো আর চলে যাচ্ছি না। তাছাড়া তুই কত জনকে থামাবি বল "? রাফিম জবাব দিতো "আমার যতক্ষণ এই দেহে নিঃশ্বাস থাকবে ততক্ষণ তোকে কেউ আমার হাত থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। কারন তুই আমার, তোকে না' দেখে যে আমি এক মুহুর্ত ভাবতে পারিনা, থাকতে পারবো নারে সুপি "। কথাগুলো রাফিম সুপ্তাকে সরাসরি বললেও সুপ্তা সহজভাবে নিতো, বন্ধু মনে করে শুনতো, ছোট বেলার সেই দুষ্টুমি মনে করতো। বাস্তবে সুপ্তা তার জীবন সঙ্গিনী হিসেবে রাফিমকে ভাবে নি। শুধু রাফিম না, সুপ্তার মনে তখনো পর্যন্ত কেউ জায়গা করে নিতে পারে নি। . রাফিম একদা সুপ্তার জন্য বখাটেদের হাতে খুব মার খেলো। সেদিন সুপ্তা রাফিমের যথেষ্ট সেবা যত্ম করলো। আর বললো "তোকে কেউ হিরো সাজতে বলেছে যে নায়িকাকে ডিস্ট্রার্ব করাতে নায়ক শায়েস্তা করতে গেছে। এত বেশি নায়ক সাজতে যাইসনা বললাম। ওরা আমাকে কিছুই করতে পারবে না "। রাফিম জবাবে বললো "বখাটেরা আমার সুপিকে বিরক্ত করবে আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখবো ! তোর জন্য প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেবো, তবুও কোনো ক্ষতি হতে দেবো না "। কথাগুলো যদিও রাফিমের মুখ থেকে সিরিয়াসলি বের হচ্ছে কিন্তু সুপ্তা কাছে সামান্য কিছু বুলি মাত্র। তাইতো রাফিমের কথাগুলো শুনে সুপ্তা হাসতো। সুপ্তার মনের গহীনে রাফিম শুধুই একজন খেলার সাথী, ভালো বন্ধু ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু রাফিম মনে করতো সুপ্তা হয়তো দুষ্টুমি করে প্রকাশ করেনা, সেও তাকে ভালোবাসে। তাকে ভালো না'বাসলে অন্য কাউকে তো বাসতো কিন্তু সুপ্তারতো অন্য কারো সাথে অ্যাফেয়ার নাই। তাই রাফিম নিশ্চিত যে সুপ্তা তাকেই ভালোবাসে। . সেই অপরিণত বয়সেই একদিন সুপ্তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো। সেদিন রাফিম পাগল পাগল হয়ে গিয়েছিলো শুধু সুপ্তার জন্য। রাফিম মনে করেছিলো সুপ্তার অনিচ্ছাতে বিয়ে ঠিক করেছে তাই সুপ্তাকে বহু রকম বাজিয়ে দেখলো, না' সুপ্তা সেদিন খুবই স্বাভাবিক ছিলো, বিয়ে নিয়ে কোনো বিতর্ক করেনি। সুপ্তা সহজেই বিয়েতে রাজি হয়ে গিয়েছিলো যদিও খবরটা ছিলো রাফিমের জন্য দুঃসংবাদ। রাফিম ভাবলো হয়তো ভয় লাগিয়ে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু যেদিন দেখলো সুপ্তা হাসি মুখেই বিয়ের কার্ড দিয়ে রাফিমকে দাওয়াত দিলো। আর নিজের বিয়ের আনন্দে সারাক্ষণই মেতে থাকলো সেদিনই বুঝতে পারলো সুপ্তা আসলেই রাফিমকে ভালোবাসেনি শুধু সময় কাটিয়েছে। তখন থেকে রাফিম আর সুপ্তাকে নিয়ে কোনো কথা বললো না, সুপ্তার সামনে যায়নি, স্তব্দ হয়ে গেলো। বিয়ের দিন পর্যন্ত একাকী সুপ্তার জন্য কেঁদেছে। সুপ্তার জন্য ভালোবাসা সেদিন কেউ বুঝতে না' পারলেও দাদী মা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলো। কিন্তু দাদী মার প্রশ্নের জবাব রাফিম এড়িয়ে গেছে সত্যি কথা বলে নি। বিয়ের পরের দিন ডায়রি পড়ে সুপ্তাকে কাঁদতে দেখে দাদী মা সব কিছু খুলে বললো কিন্তু তখন বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিলো। সেদিন থেকেই সুপ্তার মনে রাফিমের জন্য একাংশ খালি করে রাখলো কিন্তু রাফিমের দেখা পেলো না। . সুপ্তার বিয়ের বয়স আজ দশ বছর। এই দশ বছরে ডায়রিটা বড্ড অপরিচিত হয়ে গেলো। ডায়রির প্রতিটা পৃষ্ঠা ছিঁড়ে গেছে, লেখাগুলো মলিন হয়ে গেছে। সুপ্তা ছেঁড়া পাতাগুলো এক এক করে উল্টাচ্ছে আর দু'চোখ ভরে পানি পড়ছে। চোখের পানির ফোঁটা প্রতিটা পাতা ভিজিয়ে দিচ্ছে। একটি করে পাতা পড়ছে আর পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে যাচ্ছে। যেনো সেই দিনগুলো এইতো কয়দিন আগের, মনে হচ্ছে মাত্র কিছু দিন আগের। ডায়রিটা হয়তো ছিঁড়ে গেছে কিন্তু স্মৃতিগুলো যেনো আজও জীবিত। ডায়রির ছেঁড়া পাতায় সুপ্তার পুরো অতীত জীবন গাঁথা। পুরো জীবনটাই যেনো ডায়রির ছেঁড়া পাতা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডায়রির ছেঁড়া পাতা
→ ডায়রির ছেঁড়া পাতা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now