বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
শুক্রবার জুমুআর নামাজ পড়ে ধীর গতিতে
হেটে চলছেন খন্দকার আশরাফ আলী।
আজকে বয়সের ছাপ এসে গেছে,আগের
মত জোয়ান শক্তি নেই তাই চাইলেও আর
দ্রুত পদে চলতে পারেন না।এখন শরীরটা
অসুখের খনি হয়ে গেছে একের পর একটা
লেগেই থাকে।সেবা করার মানুষটাও নাই
বললেই চলে বউটা মরে গেছে পাঁচ বছর
আগে আর একমাত্র ছেলে সেও স্ত্রী
সন্তান নিয়ে নাগালের বাইরে।এই
সন্তানকে নিয়ে তার কতো না স্বপ্ন
ছিল।বউয়ের কথা অগ্রাহ্য করে নিজের
চিন্তাভাবনাকে বেশি প্রাধান্য দিতেন
বলেই ছেলেটাকে আজকে এ পর্যায়ে
আনতে পেরেছেন কিন্তু ততোদিনে
ছেলে আর ছেলের অবস্থানে নেই।ছেলে
হয়েছে ডাক্তার।চলুন এবার ডাক্তার
হবার ইতিহাসটা জানি।
.
.
আশরাফ :-কি গো রকির মা ছেলেটা এই
সাত সকালে কোথায় গেছে?বলেই স্ত্রীর
পানে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে
আছেন।
রহিমা»এই তো আমাদের মসজিদের
মক্তবে কারী হুজুর আরবী শেখায়
সেখানে পাঠিয়েছি।আরবী শিখতে। :-
কী বলছ তুমি?আমার ছেলেকে এই আরবী
শিখতে পাঠিয়েছ!ও এগুলা শিখে কি
করবে?এরকম হুজুরানা করেই কি জীবন
চালাবে?
»ছিঃ ছিঃ।আপনি এভাবে বলছেন কেন?
এটা তো আমাদের ধর্মীয় শিক্ষা এটা
আমাদের জন্য একটা সফলকাম জীবন
যাপনের পথ।
:-শোন রকির মা আমাকে জ্ঞান দিতে
আসবানা।আমি জানি
কি করলে সফলতা আসবে এরকম হুজুরদের
পড়া পড়লে এ বাড়ি সে বাড়ি দাওয়াত
খেয়ে চলতে হবে।এটাকে সফল জীবন
বলেনা,আমি আমার ছেলেকে ডাক্তার
করব।ডাক্তার হলে টাকা আর টাকা।
টাকা থাকলে সফল,না থাকলে বিফল।
»»এভাবে বলবেন না গো।ছেলেকে
ডাক্তার বানান ঠিক আছে কিন্তু
দ্বীনের এই প্রাথমিক শিক্ষাটা
অন্তঃতপক্ষে নিতে দিন।প্রতিদিন এক
ঘন্টা মক্তবে গেলে কি এমন ক্ষতি? :-চুপ
কর!বেয়াদপ মহিলা স্বামীর মুখে মুখে
কথা বল।ছেলে আর মক্তব যাবেনা। এসব
শিখে কাজ নেই আমি চিলমারীর একটা
কিন্ডারগার্টেনে কথা বলে এসেছি
সকাল ৭টার সময় করে ও ওখানে যাবে
আর গেলে ওর মেধা বাড়বে। »»আপনি যা
ভাল বোঝেন।
বলেই কষ্টে দুঃখ অভিমানে ঘরে দৌড়ে
গিয়ে বালিশে মুখ বুজে কাঁদতে
লাগলেন।
.
.
এরপর থেকে ছেলেকে প্রতিদিন
কিন্ডারগার্টেনে নিয়ে যাওয়া এবং
আনা।এই দুই করতে করতে পাচটি বছর
কেটে যায় ছেলে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি
হয়।রকি লেখাপড়ায় খুব ভাল মেধা
তালিকায় বরাবরে প্রথম।লেখাপড়ায়
এগিয়ে থাকলেও ধর্মীয় শিক্ষা হতে
পিছিয়ে পড়ে।একসময় এসএস সি ও এইচ
এস সি পাশ করে ঢাকা মেডিকেলে
চান্স পায়।এদিকে ছেলে চান্স পাওয়ায়
আশরাফ খন্দকারের খুশি দেখে কে?কিন্তু
বেশিদিন টিকলোনা খুশিটা ধীরে ধীর
মলিন হতে লাগলো।
ছেলে ঢাকায় গিয়ে প্রেমে জড়িয়ে
পড়ে।বাবার কাছে অহেতুক মিথ্যা বলে
টাকা নিয়ে ফূর্তি করে উড়ায়।এভাবে
বাবাকে ফাকি দিয়ে ডাক্তারিটা শেষ
করে রকি।ডাক্তার হয়ে রকি ভুলে যায়
গ্রামের পথ ঢাকায় প্রাইভেট
হাসপাতালে চাকরি নিয়ে মা বাবাকে
না জানিয়ে বিয়ে করে।বিয়ের পর
মাঝে মাঝে পিতা মাতার খোজ নিলেও
একসময় সেটাও বন্ধ হয়।হঠাৎ ছেলের
বদলে যাওয়া এই আচরনে আশরাফ অবাক
হলেও একটুও অবাক হননি রহিমা বেগম।
কারন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে
ছেলেকে দ্বীনি শিক্ষা না দিলে এরকম
দিন আসাটা কঠিন কিছুইনা। ছেলের
পরিবর্তনে আশরাফ খন্দকার কিছুই বলতে
পারেন না কারন ভুলটা যে তারই ছিল
ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষা দিলে সে মা
বাবা সম্পর্কে জানতে পারতো দুরে
থাকতো না।এই নিয়ে চিন্তা করতে হঠাৎ
একদিন হার্ট এ্যাটাক করে মারা যায়
রহিমা বেগম।স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভেঙ্গে
পড়েন আশরাফ আলী। তখন মসজিদের
ইমাম সাহেব এসে তার পাশে দাঁড়ান
এবং অনেক বুঝিয়ে আশরাফ আলীকে
ইসলামের ছায়াতলে আনেন।এরপর কেটে
যায় পাচটি বছর। প্রতি সপ্তাহের ন্যায়
আজকেও স্ত্রীর কবরের পাশে দাড়িয়ে
বলতে থাকেন আমি হেরে গেছি রহিমা
আমি একজন ডাক্তারের কাছে হেরে
গেছি।হেরে গেছে আমার সেদিনের
উচ্চআশা। .
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now