বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাকিণী-১, পর্ব-৪৬,৪৭,৪৮,৪৯,৫০

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাকিণী-১, পর্ব-৪৬,৪৭,৪৮,৪৯,৫০ লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।) লাইব্রেরীতে যেয়ে দেখলাম দরজাটা খুলাই আছে। কিন্তু মনিকা মাটিতে পড়ে আছে। কি ব্যাপার মনিকা। কোন সমস্যা হয়েছে? ও জবাব দিলোনা। শুধু কাঁপাকাঁপা হাত তুলে দরজার দিকে ইঙ্গিত করলো। বুঝলাম ও ভয় পেয়েছে। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে সিতে দিতে বললাম, ওই দরজার তালায় একটু সমস্যা আছে। বন্ধ হলে খুলতে চায় না। আমি চাচ্ছিলাম না আলেসের ব্যাপারটা ওর কাছে খুলে বলতে। ও এখানে দুদিনের অতীথি। ওকে এসবে জড়িয়ে কি লাভ। ও খানিক হেসে মাথা নেড়ে ও বলল “যাক তবে। এই কথা! কিন্তু আজই মিস্ত্রি ডেকে ওটা সারিয়ে নিও ডার্লিং। ” আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলাম। ও কিছুই টের পায়নি। ও কাপাকাপা হাতে নাস্তা খেলো। খেয়েই বলল ও আজ অফিসে যাবে না। ওর নাকি শরীর খারাপ লাগছে। ভালোই তো। থাক তবে আজ এখানে। আমি ওকে গেস্ট রুম দেখিয়ে দিয়ে নিজের রুমে ফিরে এলাম। এতোক্ষণ শুধু একটা তোয়ালে পরেই ছিলাম। এবার কাপড় পড়ে অফিসে যেতে হবে। সময় ঘনিয়ে এসেছে। ক্লজিট থেকে এক সেট কাপড় বের করে বাথরুমে গেলাম কাপড় বদলাতে। কিন্তু একি! বাথরুমের আয়নাটা ভেঙে গেছে দেখছি! কিন্তু কে ভাঙলো! আলেস কি এটা ভেঙে আয়নার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে! এসব ভাবার সময় নেই। তাড়াতাড়ি কাপড় বদলে বেরিয়ে গেলাম অফিসের উদ্দেশ্য। মনিকা একা রয়ে গেল অভিশপ্ত কটেজে। ওর জন্যে মনটা খচখচ করছিলো। ওর যদি কিছু হয়ে যায়। ক্লান্তিতে আমি কিছুই চিন্তা করতে পারছিলাম না। শুধু গাড়িটা চালিয়ে যাচ্ছিলাম অফিসপাণে। অফিসে পৌছতেই কেমন ফুরফুরে লাগলো। নিজের অফিসে ফিরে ডেস্কের নীচে টেপ দিয়ে আটকানো আমার সেই নোটটা পেয়ে গেলাম। নতুন সিইও কে স্বাগতম! নতুন সিইও! ফাক দি নিউ সিইও। আমিই এখানের বস, এবং আমার রিটায়ার্ডের সময় এখনো হয় নি। আগামী ২০ বছরের মধ্যে এই ব্রাঞ্চে কোন নতুন সিইও আসবে না আশা করি। নিজ হাতে ওই নোটটাকে ছিড়ে কুটিকুটি করলাম। তারপর অফিসের কাজে ডুবে গেলাম। সারাদিন শেষে ৪টার দিকে মনিকার ফোন এলো। সে উদভ্রান্তের মতো চিৎকার করে বলছে, “সাঞ্জে তাড়াতাড়ি কটেজে ফিরো। এখানে একটা সমস্যা হয়েছে। প্লীজ জলদি কর।” কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠলো! বলে কি! কটেজে কি নতুন করে ভৌতিকতা শুরু হলো? আলেস কি কটেজে এখনো আটকে আছে? থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করছে না কেন? ও কি আমায় এড়িয়ে চলছে? নাকি কটেজে নতুন কোন অশরীরীর আবির্ভাব হয়েছে? মাথায় কিছুই ঢুকছে না। একটা ঘুম দিয়ে মাথাটা ফ্রেশ করে নিলে হয়তো কাজ করতো। এসব যখন ভাবছিলাম তখন আমার ডেস্ক আটেন্ডেন্ট ডুবাইনো বিনা অনুমতিতেই হতদন্ত হয়ে আমার কক্ষে ঢুকলো। কি ব্যাপার ডুবাইন? কোন সমস্যা? “ম্যাডাম, কিছু স্টার(STAR=Special Team of Action & Rescue=পোলিশ গোয়েন্দা সংস্থা) এসেছে। ওরা আপনার সাথে কথা বলতে চায়। আমি ধরা পড়ে গেছি। ওরা সম্ভবত গতরাতের ব্যাপারে কথা বলতে চায়। গার্ডকে পেটানোর জন্যে হয়তো আমায় ধরে নিয়ে যাবে। পোলিশ সিকুরিটি আর বাংলাদেশী নেড়ি কুকুরের খুব সামঞ্জস্য রয়েছে। দুটোই গন্ধ শুকেশুকে পাতাল খুড়ে বের করে আনতে পারে। ভদ্রতার তোয়াক্কা না করে দুজন বিশালদেহী গোয়েন্দা ঠাস করে দরজা খুলে আমার অফিসে ঢুকলে। ইচ্ছা করছিলো থাপড়ে ওদের ভদ্রতা শিখিয়ে দেই। আমি ওদের বসতেও বললাম না। ওদের চোখের দিকে না তাকিয়েই বললাম, “আমি আপনাদের এখানে আশা করিনি স্টারস। তবুও আপনাদের সাহায্য করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।” ওদের একজন বলল, “মিস সাঞ্জে, আপনাকে আমাদের সাথে একটু ঘুরতে যেতে হবে। ” আমি দৃঢ় কন্ঠে বললাম, “দুঃখিত অফিসারস। আমার উপর দিয়ে আজ অনেক ধকল গেছে। এখন আমি টায়ার্ড। বাড়ি ফিরে ঘুমাতে হবে।” ওরা বলল,”অসুবিধা নেই মিস সাঞ্জে। আমরা আপনার বিশ্রামের ব্যবস্থা করব। তবুও আপনাকে আমাদের সাথে আসতেই হবে। আমরা আপনার ঘড়িটা খুজে পেয়েছি। ওটা তার যোগ্য মালিকের কাছে ফেরৎ দিতে চাই।” এই সেরেছে। কাল গোরস্থানে সম্ভবত আমার ঘড়িটা ফেলে এসেছি। খেল খতম। ধরা পড়ে গেছি। তবুও ঠাট বজায় রেখে বললাম,”আপনাদের কাছে কি গ্রেফতারী পরোয়ানা আছে? আমায় নিয়ে যেতে হলে আপনাদের ওটা দেখাতে হবে।” ওরা বলল, “রিলাক্স মিস সাঞ্জে। আমরা এখানে কোন এরেস্ট ওয়ারেন্ট নিয়ে আসিনি। তবে আপনি চাইলে দশ মিনিটের ভেতর ওটা এনে হাজির করতে পারি। তবে সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি আমদের কর্তব্য পালনে সহায়তা করেন।” বুঝলাম এদের বাধা দিয়ে লাভ নেই। এরা আমায় নিয়ে যাবেই। বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। হাল ছেড়ে দিয়ে বললাম, “ঠিক আছে তবে, চলুন যাওয়া যাক। ” ওরা আমায় বের করে নিয়ে গাড়িতে তুলল। কপাল ভালো যে সৌজন্যতাবশত ওরা আমায় হাতকড়া পড়ায় নি। নইলে অফিসের অধস্তন কর্মচারীদের সামনেই আমার দু কান কাটা যেতো। আমায় নিয়ে ওদের কালো মার্সিডিজটা যাত্রা শুরু করল। আমার চোখ তখন ঘুমে বুজে আসছে। আমি এক অফিসারের কাধেই মাথা ফেলে ঘুমিয়ে পড়লাম। যায়গা মতো পৌছে ওরা আমায় ডেকে তুলল। “মিস সাঞ্জে, উঠুন। আমাদের এবার যেতে হবে! ” ধড়মড়িয়ে উঠে বসলাম। ওদের সাথে কোন বাকবিতণ্ডা ছাড়াই গাড়ি থেকে নেমে সুবোধ মেয়ের মতো ওদের অনুসরণ করতে লাগলাম।ওরা আমায় নিয়ে একটা সাদা রঙের সেইফ হাউসে ঢুকলো। তারপর আমায় একটা ভুগর্ভস্থ কক্ষে ঢুকিয়ে বলল, “মিস সাঞ্জে, আপনি বিশ্রাম নিন। আমাদের লোক বাহিরেই থাকবে। কোন কিছু প্রয়োজন পড়লে ডাকতে বিব্রত বোধ করবেন না।” আমি মরিয়া হয়ে বললাম, “আমি এখান থেকে কবে বাড়ি ফিরতে পারবো অফিসার? ” অফিসার ঘুরে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল, “আজ রাতের ভেতরে আপনি সাক্ষ তৈরি করে দিতে পারলে সম্ভবত কাল সকালেই আপনি বাড়ি ফিরবেন। এখন এসব নিয়ে টেনশন না করে আপনি বিশ্রাম করুন। রাতে আবার দেখা হবে” আমি চুপ করে থেকে অফিসারের চলে যাওয়া দেখলাম। কি আশ্চর্য! আমি ভাবছিলাম আমায় পুলিশ আস্যাল্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। কিন্তু এখন দেখছি এরা আমার কাছ থেকে অন্যকিছু চাইছে! সাক্ষি! আমাকে আজ রাতে সাক্ষি দিতে হবে। কিন্তু কিসের সাক্ষি? এত কিছু ভাবতে পারছি না। কক্ষটিতে একটা সুন্দর বিছানা পাতা আছে। একটা নির্ঘুম রাতের পর একজন মানুষ কেবল বিছানার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেই ভাবতে পারে। সাক্ষি টাক্ষি ও গুলো নিয়ে নয়। দেহটাকে ছুড়ে দিলাম বিছানার উপর। মুহুর্তেই তলিয়ে গেলাম অতল ঘুমে। ঘুমের মধ্যেই আমি স্বপ্ন দেখলাম। অসংখ্য প্রজাপতি আকাশে উড়ছে। কি সুন্দর এদের ডানার কারুকার্য। এতগুলি দুঃস্বপ্নের পর এটাই ছিলো আমার প্রথম সুখময় স্বপ্নের স্মৃতি। নিজেকে একটা প্রজাপতি মনে হচ্ছিলো। পিঠে যেনো নতুন করে পাখা গজিয়েছে। উড়েউড়ে ভেসে চলছি এক ফুল থেকে অন্য ফুলে। তারপর দরজার খটখট কড়া নাড়ার শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো। একজন অফিসার এসে আমায় বলল, “ঘুম ভাঙ্গানোর জন্যে অত্যন্ত দুঃখিত মিস সাঞ্জে। তবে এখন আপনার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এসেছে। অনুগ্রহ করে আমার সাথে চলুন।” মুখে দুঃখিত বললেও ওর কথায় দুঃখের কোন লেশমাত্র ছিলো না। বিছানা ছেড়ে উঠে কাপড় ঠিক করে ওর পেছন পেছন চলতে শুরু করলাম। ও আমায় গ্রাউন্ড লেভেলে একটা কক্ষে নিয় ঢুকলো। সেখানে দুজন ইনভেস্টিগেটর ও একজন আপ্রণ পড়া ডাক্তার আমার জন্যে অপেক্ষা করছিলো। আমি ঢুকতেই ওরা আমায় একটা চেয়ারে বসিয়ে তার হাতলের সাথে হাত বেধেঁ দিলো। তারপর একজন ইনভেস্টিগেটর শুরু করলো, “দেখুন মিস সাঞ্জে, আমরা জানি কাল রাতে আপনি কি করছিলেন। আপনার এহেন কর্মকাণ্ডের কারণে আপনার উপর একাধিক মামলা দায়ের করা যায়। কিন্তু আমরা হয়তো এ ব্যাপারটা চেপে যেতে পারি যদি আপনি আমাদের আরেকটি ব্যাপারে সাহায্য করেন।” আমি ভয়ার্ত গলায় বললাম, “দেখুন মিঃ অফিসার, আপনি কি বলছেন আমি তা কিছুই বুঝতে পারছি না। অনুগ্রহ করে কথার মার প্যাঁচ বাদ দিয়ে যা বলবেন সোজাসুজি বলুন।” ঐ লোকটা বলল, “কাল রাতে আপনি গীর্জায় গিয়েছিলেন, সেখানে ফাদারের কাছে ফালতু কনফেশন করেছেন, তারপর রাতে গির্জার ছাদে উঠে সেখান থেকে দড়ি বেয়ে সিমেট্রিতে ঢুকেন। গীর্জার ছাদ থেকে আপনার হাতের ছাপ সম্পন্ন দড়িটা আমরা উদ্ধার করেছি। গীর্জার পাদদেশে সিমেট্রির ভেতরে আপনার ঘড়িটা পাওয়া গেছে। আমরা রোলেক্স ওয়াচ স্টোরে এর ব্যাচ নাম্বার মিলিয়ে দেখেছি। ওটা আপনিই কিনেছিলেন। তার উপর একজন আহত গার্ডের গালে আপনার হাতের ছাপ পাওয়া গেছে। সর্বপরি আপনার উপর গীর্জায় অনধিকার প্রবেশ, সন্ধার পর সিমেট্রিতে অনধিকার প্রবেশ, আট্যাম্পট টু মার্ডার আ সিকুরিটি গার্ড এ তিনটা অভিযোগ সহজেই দায়ের করা যায়। আর আমরা চাইলে আপনার উপর, কিলিং এন্ড হাইডিং মাল্টিপল ডেড বডি এর চার্জ আনতে পারি যার ফলে আপনার মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে। ” এক নিঃশ্বাসে এতগুলি কথা বলে লোকটা এবার শ্বাস নেওয়ার জন্যে থামলো। বুঝলাম এরা আমায় মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়ার চেষ্টা করছে। তাই দৃঢ় কন্ঠে বললাম, “মিঃ অফিসার, আপনি কারো উপর মিথ্যা চার্জ আরোপ করতে পারেন না। আপনাদের কাজ হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তা ভঙ্গ করা নয়।” এবার লোকটা ধমকের সুরে বলল, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা পুলিশের কাজ। আমাদের দেখে কি আপনার পুলিশ মনে হয়? আমরা স্টারস। বৃহত্তর প্রয়োজনে আমরা যে কোন কঠর পদক্ষেপ নিতে পিছ পা হবো না। তবে আমরা ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভাবে চেপে যেতে রাজি আছি। যদি আপনি আমাদের সাহায্য করেন।” আমি মুখ বাকিঁয়ে জিজ্ঞাস করলাম, “কি ধরনের সাহায্য? আপনাদের সাহায্য করার জন্যে আমি মুখিয়ে আছি।” ঐ লোকটা বলল, “কাল রাতে আপনি ঠিক কি করতে বেরিয়েছিলেন? গোরস্তানে আডভেঞ্চার? ” আমি বললাম, “আসলে আমি আমার এক বান্ধবী মনিকার সাথে বাজি ধরেছিলাম যে গোরস্তানে একরাত কাটিয়ে এসে নিজেকে সুপার হিরোইন প্রমাণ করবো। এটাই ওখানে যাওয়ার একমাত্র কারণ। আর রাতের আধারে সেখানে গার্ডকে দেখে চমকে উঠেছিলাম। সন অফ আ বি* টা এমন ভাবে রেইনকোট চাপিয়েছিলো যে দেখে ভয় পেয়ে গেছিলাম। শুধু ভয় পেয়েই আমি ওকে আঘাত করেছি, এর পেছনে আর কোন উদ্দেশ্য ছিলো না। প্লীজ আমাকে এ দুর্ঘটনায় ফাসাবেন না।” এবার আপর ইনভেস্টিগেটর কথার খেই ধরলো,” দেখুন মিস সাঞ্জে।গতকাল রাতে আনুমানিক ১১-১২টার দিকে গির্জার ঠিক পাশের বিল্ডিং এ তিন তলায় একটা জোড়া খুন হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস গির্জার ছাদ থেকে আপনি তা স্পষ্টত দর্শন করেছেন। আপনি সমগ্র ব্যাপারটা বিস্তারিতভাবে আমাদের লিখে দিন। আমরা আপনাকে ছেড়ে দেবো।” হায় খোদা। ঐ সময়টাতে তো আমি গির্জার ছাদে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।সাংঘাতিক ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু একথা ওদের সামনে বলা যাবে না। ওরা বিগড়ে যেতে পারে। তাই গোঁয়ারের মতো ওদের দিকে খেঁকিয়ে উঠে বললাম, “যদি আমি এ ব্যাপারে সাহায্য না করি তো আপনারা কি করবেন?” এবার আগের ইনভেস্টিগেটর অত্যন্ত রুক্ষ গলায় বলল, আপনাকে সাহায্য করতেই হবে ম্যাম। ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়। আপনি সাহায্য না করলে আমরা লাই ডিটেক্টর & ট্রুথ টেলিং ড্রাগ ব্যাবহার করতে বাধ্য হবো। তবে সেক্ষেত্রে আপনার উপর গতরাতের আডভেঞ্চারের জন্যে চার্জ দায়ের করা হবে। এতে আপনার মৃত্যুদণ্ড না হোক অন্তত নুন্যতম দশ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।” দাঁতে দাঁত চিপে মনেমনে বললাম শালা শয়তান। এবার ওপর ইনভেস্টিগেটর বলল, “মিস সাঞ্জে। আমরা আপনার হাত মুক্ত করে দিচ্ছি। সাথেসাথে কিছু কাগজ ও একটা কলমও দিয়ে যাচ্ছি। আমরা ঠিক এক ঘন্টা পরেই ফিরবো। সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি এই সময়ের ভেতরই আপনার সাক্ষ্য আমাদের কাছে লিখিত আকারে জমা দেন। অন্যথায় আপনার জন্যে তা নিতান্তই অমঙ্গলকর হবে।” ওরা আমায় ফেলে যাওয়ার প্রায় আধা ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। ভেবেছিলাম কিছু একটা বানিয়ে লিখে দেবো। কিন্তু এখন কিচ্ছু মাথায় আসছে না। অগত্যা ডেস্কে মাথা ফেলে আবারো ঘুমিয়ে পড়লাম। তখন কেবল ঘুমই আমায় এমন দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে পারতো। কিছুক্ষণের মধ্যেই খসখস শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেলো। জেগে দেখি আমার আংটি পরা হাতটা আমার অজান্তেই প্রায় চার পাতা সাক্ষ্য লিখে ফেলেছে! খুবই বিষ্ময়কর লাগলো ব্যাপারটা! আমার হাত, আমার হস্তাক্ষর, পোলিশ বর্ণ, কিন্তু আমি লেখিকা নই! আমি কাগজগুলি উল্টে দেখতে লাগলাম কি লিখেছে। কাগজে লিখা ছিলো, “রাত ১১:২০ এ একজন মুখোশ পরিহিত লোক পাশের বাড়িতে ঢুকলো। তার বা হাতে একটা পিস্তল আর ডান হাতে একটা মাচুটি ছিলো। সে বিল্ডিং বেয়ে দড়াবাজিকরের ন্যায় উঠে পড়লো। তারপর তিনতলার জানালা গলে ভেতরে ঢুকলো।,,,,,” এইটুকু পড়ার পরেই কক্ষে সেই দুই ইনভেস্টিগেটর প্রবেশ করলো। আমার হাত থেকে সাক্ষ্যটা নিয়ে ওরা উল্টে পাল্টে পড়লো। পড়ার পর ওদের অনেকটাই সন্তুষ্ট মনে হলো। তারপর ওরা সাক্ষ্যটা নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল। বিশ মিনিট পরেই ওরা আবার কক্ষে প্রবেশ করলো। এবার আগের ইনভেস্টিগেটরটাই নরম সুরে বলল, “আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ মিস সাঞ্জে। আপনার সাক্ষ্য আমাদের অনেক কাজে লাগবে। এবার চলুন আপনাকে আপনার বাড়ি পৌছে দিয়ে আসি।” যাক বাবা। অনেক বড় সমস্যা থেকে আজ পরিত্রাণ পেলাম। বাহিরে মুক্ত বাতাসে বেরুতেই খুশিতে প্রাণটা ভরে গেলো। আহ মুক্তি। কি অসাধারণ এর স্বাদ। রাত প্রায় আড়াইটার দিকে স্টার এর একটা গাড়ি আমায় কটেজের ফটকের সামনে নামিয়ে দিয়ে গেলো। কটেজে ঢুকতেই মনে পড়লো গতিকাল বিকালে মনিকা আমায় তাড়াতাড়ি কটেজে ফেরার জন্যে ফোনে অনুরুধ করেছিলো। ওর ভাষ্য মতে কটেজে নাকি প্রচন্ড সমস্যা হচ্ছে। স্টারদের সাথে চলে আসার কারণে আমার কটেজে ফিরতে অনেক দেরী হয়ে গেছে। তার উপর আমি আমার ফোন ও গাড়িটা অফিসেই ফেলে রেখে এসেছি। যদি ভেতরে ওর কোন সমস্যা হয়ে থাকে তো আমি বাহিরের সাহায্যের জন্যে কারো কাছে ফোনও করতে পারবো না! আচ্ছা, ভেতরে ঢুকে ওকে কোন অবস্থায় দেখতে পাবো? জীবন্ত না মৃত! আজ সারাটি দিন আসলেই কি ঘটেছিলো আমার কটেজে! মনিকার সাথে দিনে যা ঘটেছে আজ রাতে কি তা আমার সাথেও ঘটবে! এসবের উত্তর কেবল মনিকাই দিতে পারে। দৌড়ে গেলাম কটেজের দরজার সামনে। ওখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কলিংবেলটা টিপলাম তারপর হাক ছাড়লাম, “মনিকা, মনিকা, দরজা খুলো ডার্লিং। দেখো আমি ফিরে এসেছি।” কোন সাড়া মিলল না। আমার কাছে দরজার একটা ডুপ্লিকেট চাবি ছিলো। ভেবেছিলাম ওটা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকবো। কিন্তু একটু ধাক্কা লাগতেই দরজাটা হাঁ হয়ে খুলে গেলো! খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে প্রাণপণে হাক ছাড়লাম, মনিকা, মনিকা। কোথায় তুমি ডার্লিং? কোন সাড়া নেই। কটেজের পীনপত্ন নিরবতায় আমার ডাক কেবল প্রতিধ্বনি তুলল। কি যে হলো মেয়েটার!কটেজে ফিরে মনিকা কে না পেয়ে আমি অস্থির হয়ে উঠলাম। প্রথমেই দৌড়ে গেলাম গেস্টরুমে যেখানে ওকে থাকতে দিয়েছিলাম। সেখানে ওকে না পেয়ে ডায়ানিং, ড্রয়িং, বাহিরের গ্যারেজ, নীচের বেসমেন্ট, সবখানেই খুজলাম। কিন্তু পেলাম না। অবশেষে ভাবলাম লাইব্রেরীতে একটা ঢু মারি। লাইব্রেরীর দরজা খুলতেই ওকে পেয়ে গেলাম। আমার দিকে পেছন ফিরে টেবিলে একটা বিরাট বই নিয়ে বসে আছে। আমি ওকে একদম কাছ থেকে ডাকলাম। কিন্তু ও নিরুত্তর। এগিয়ে গিয়ে ওর কাঁধে হাত রাখলাম। ওমা! একি! ওর শরীর তো জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। ও কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। ও জ্বরের ঘোরে বিড়বিড় করে কি যেন বলছে ঠিক বুঝা যাচ্ছে না। আমি ওকে পাজঁকোলা করে গেস্টরুমে বয়ে নিয়ে গেলাম। গেস্টরুমে বিছানায় ওকে শুইয়ে দিয়ে আমি কিচেনে গেলাম ওর জন্যে কিছু খাবার নিয়ে আসতে। ফ্রিজ থেকে যেই না এক বোতল দুধ বের করেছি অমনি গেস্টরুম থেকে মনিকার আর্তচিৎকার ভেসে এলো। দুধ নিয়েই আমি ছুটলাম গেস্টরুমের দিকে। ও বিছানায় উপুর হয়ে বসে কাঁতরাচ্ছে। মেয়েটার প্রতি খুব মায়া হলো আমার। ওর মাথাটা আমার কোলে নিয়ে ওই বোতলের দুধটুকু ওকে জোর করে খাইয়ে দিলাম। আমার কোন বাচ্চাকাচ্চা নেই। অদুর ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনাও কম। কিন্তু ওকে দুধ খাওয়াতে যেয়ে নিজেকে একজন দক্ষ মায়ের মতোই লাগলো। সাঞ্জে দ্যা বাস্টি মম্মি। হিহিহিহিহি। দুধটুকু খাওয়া হয়ে গেলে ওকে আবার বিছানায় শুইয়ে দিলাম। এরপর ওর সবগুলি কাপড় খুলে, বাথরুম থেকে তোয়ালে ভিজিয়ে এনে সারা শরীর মুছে দিলাম। ও অনেক আকর্ষণীয় দেহের অধিকারী। জীবনের এতো ঝড় বাদল ওর দেহে এতটুকু প্রভাব ফেলতে পারে নি। দেখে মনেই হয় না দু বাচ্চার মা। যেন সদ্য হাইস্কুল পাশ করা এক ষোড়শী। বলাই বাহুল্য এটা পুরুষদের পতঙ্গপালের মতো আকৃষ্ট করে। ধ্যাত। একজনের দেহ নিয়ে ভাবার সময় এখন না। ও সুস্থ হয়ে গেলে জিজ্ঞেস করে জেনে নেবো ও সপ্তাহে কয়দিন জীমে যায়। তারপর ওর মতো আমিও শুরু করবো। তখন আমারো অমন পুরুষ্ট দেহ সৌষ্ঠব হবে। ওর দেহটা বেডশীট দিয়ে ঢেকে দিলাম। ও ঘুমিয়ে পড়েছে। এবার ওর কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়া যাক। দরজার কাছে যেয়ে একবার ফিরে তাকালাম ঘুমন্ত মনিকার দিকে। হায় খোদা। কি অসম্ভব সুন্দর সৃষ্টি। দেখে বিশ্বাসই হতে চায় না এই মেয়েটা পুরুষের কাছে দেহ বিলিয়ে বেরায় কেবলমাত্র একাকীত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে। মনে পড়লো আলেসের ডায়ারীর লেখাটা। “একাকীত্বই আমাকে সবচেয়ে বেশী কষ্ট দেয়। ক্ষুদা, চাবুক, বা অন্যকোন নির্যাতন নয়।” সত্যিই একাকীত্ব একটা ভয়াবহ ব্যাপার। আচ্ছা, মনিকা তো অনেকটা সময় লাইব্রেরীতে ছিলো। ও কি আলেসের ডায়ারীটা পড়ে ফেলেছে? সারাটি দিন ও লাইব্রেরীতে কি করছিলো? আমাকে খুজে বের করতে হবে। আমি গেস্টরুম থেকে বেরিয়ে সোজা লাইব্রেরীতে চলে এলাম। লাইব্রেরীতে এসে দেখি আলেসের ডায়ারীটা জায়গা মতোই আছে। কিন্তু ডেস্কের উপর চামড়ার বাধানো একটা বই রাখা! বইয়ের কোন শিরনাম নেই। কেবল লেখকের নামই আছে; ম্যারগারেট। কিন্তু কে এই ম্যারগারেট? মনিকা কেনই বা ওর লেখা বইটা পড়ছিলো? কি আছে ওতে। এসব ভাবতে ভাবতেই বইটার শূন্য প্রথম পাতা উল্টালাম। দ্বিতীয় পাতায় লেখিকার একটা পেন্সিল স্কেচ আছে। স্কেচটা আমার খুব পরিচিত ঠেকলো। কোথায় যেন দেখেছি। ঠিক মনে করতে পারছি না। তৃতীয় পাতায় সূচিপত্র। আদিম পোলিশ ভাষায় লেখা। সূচিপত্রের টপিক্সগুলি বড্ড অদ্ভুত। প্রথম অধ্যায়, নরবলি ও আত্মহনন। দ্বিতীয় অধ্যায়, আত্মাবাদ আত্মাবশীকরণ। তৃতীয় অধ্যায়, মৃত্যুপুরী ও প্রত্যাবর্তন। চতুর্থ অধ্যায়, অবিনাশবাদ। পঞ্চম অধ্যায়,,,, কিন্তু আর পড়তে পারলাম না। আমার বেডরুমে আল্যার্ম বেজে উঠলো। ভোর ছটা হয়ে গেছে। বেডরুমে যেয়ে ঘড়িটা বন্ধ করলাম। তারপর তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে গেলাম গোসল করতে। সেখানে আমার জন্যে আরেকটি বিষ্ময় অপেক্ষা করছিলো। গতকাল অফিসে যাওয়ার সময় দেখেছিলাম বাথরুমের আয়নাটা ভাঙ্গা। কিন্তু আজ দেখছি ওটা ঠিক আগের মতোই আস্তো আছে। নিজে থেকেই ঠিক হলো কিভাবে? না কি মনিকা কোন মিস্ত্রি ডেকে ঠিক করিয়েছে? দ্বিতীয়টাই বেশী যুক্তিসঙ্গত মবে হলো। যাহোক। গোসল শেষে তোয়ালে জড়িয়ে বেরিয়ে এলাম। উহঃ। চুলে একদম জট লেগে গেছে। বেশ কদিন হলো চুল আচড়াই নি। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে পড়লাম চিরুনি নিয়ে। চুল আচড়াঁতে আচড়াঁতে আয়নায় চোখ পড়লো। আরে! একি! প্রতিবিম্বে দেখলাম আমার নাক দিয়ে রক্তের সরু একটা ধারা বয়ে যাচ্ছে। নাকে হাত দিলাম। আরে ধ্যাত। কিসের রক্ত। ওটাতো সর্দি। ওয়াক। গোরস্থানে বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা লেগে গেছে। দৌড়ে বাথরুমে যেয়ে নাক মুখ ধোয়ে এলাম। তারপর কিচেনে যেয়ে নাস্তা তৈরি শুরু করলাম। আমি যখন ডিম ভেঙে অমলেট বানানোয় ব্যাস্ত তখন পা টিপেটিপে মনিকা আমার পেছনে এসে হঠাৎ ঝাপটে ধরলো। ও আমাকে চমকে দিয়েছিলো। প্রায় শূন্যে লাফিয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু এই হুড়োহুড়িতে আমার দেহে জড়ানো তোয়ালেটা খুলে পড়ে গেলো। তা দেখে মনিকা খিলখিল করে হেসে উঠলো। উফ। ওকে নিয়ে আর পারি না। মাঝে মাঝে ও যা করে নাহ। ধ্যাত। কি লজ্জা। তাড়াতাড়ি তোয়ালেটা তুলে আবার জড়িয়ে নিলাম। লজ্জায় ওর দিকে তাকাতে পারছিলাম না। তাই মেঝের দিকে তাকিয়েই ওকে জিজ্ঞাস করলাম, “মনিকা, এটা কি হলো? আর তুমি কিচেনে এসেছো কেন?তোমার তো শরীর খারাপ। যাও রুমে যেয়ে বিশ্রাম নাও।” ও হাসতে হাসতে বলল, “তোমাকে ছাড়া কিভাবে বিশ্রাম নেই ডার্লিং। কাল রাতে তুমি আমার কাপড় খুলেছিলে। তাই এখন তার প্রতিশোধ নিলাম।” আমি বিনীত কন্ঠে বললাম, “দেখ মনিকা। কাল তোমার জ্বর বেশী ছিলো তো, তাই আমি গাঁ টা মুছিয়ে দিয়েছি। এর পেছনে আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলো না।” ও আমন্ত্রণের সুরে বলল, “তোমার যখনই কারো গা মোছাতে মন চাইবে সোজা আমার কাছে চলে আসবে। আমি তোমার জন্যে সব সময়ই বরাদ্দ আছি, আমার জ্বর হোক বা না হোক। ” আমি ওর আমন্ত্রণটা অগ্রাহ্য করে বললাম, চল মনিকা। নাস্তার সময় হয়ে এলো। অফিসে দেরি হয়ে যাবে।” ও আর উচ্চবাচ্য না করে আমায় অনুসরণ করলো। নাস্তা খেতে খেতে আমি ওকে জিজ্ঞাস করলাম, “সত্যি করে বলতো মনিকা কাল কটেজে কি হয়েছিলো? ” প্রত্যুত্তরে ও খাবার ফেলে উঠে হাত দুতে চলে গেল। কি আশ্চর্য! ভদ্রতার তোয়াক্কা না করে ও হাত দুয়েই ও গেস্টরুমে চলে গেলো। আমি ওকে পেছন পেছন ডাকলাম। “মনিকা, মনিকা। দাড়াও। যেওনা। নাস্তা তো শেষ করো।” কিন্তু ও ফিরেও তাকালো না। মনটা খারাপ হয়ে গেলো। সম্ভবত ওকে এভাবে জিজ্ঞাস করা আমার উচিৎ হয় নি। এ ঘটনার পর আমারো ক্ষুদা মরে গেলো। নাস্তা রেখেই আমি উঠে গেলাম। নিজের রুমে ফিরে একটা ব্লু স্কার্ট আর বেগুনি টপ পরে অফিসের জন্যে তৈরি হয়ে গেলাম। আজ আমাকে হেটেই অফিস যেতে হবে। আমার গাড়িটা কাল অফিসে ফেলে এসেছি। তাই আজ একটু তাড়াতাড়িই বেরুলাম। বলাবাহুল্য বাল্টিসে বড় শহরগুলির মতো টেক্সি সহজপ্রাপ্য নয়। বাস সার্ভিস ও নগন্য। কোন পাতাল রেল ব্যবস্থা নেই। কারণ এর জনসংখ্যা খুবই সীমিত। আর প্রায় শত ভাগ জনসংখ্যারই নিজস্ব গাড়ি রয়েছে। আমি কটেজ থেকে বেরিয়ে যাবার সময় গেস্টরুমের সামনে দাড়িয়ে হাক ছাড়লাম, “মনিকা, এই মনিকা। আজো অফিসে যাবে না? ” ওড় কোন সাড়া শব্দ নেই। একদম নিশ্চুপ। আমি গেস্টরুমে ঢুকে পড়লাম। গেস্টরুমে ঢুকে দেখি ও বিছানায় শুয়ে শুয়ে নিঃশব্দে কাঁদছে! অন্তরটা খচ করে উঠলো। মেয়েটার যে কি হলো। কাল পর্যন্ত কত্ত হাসি খুশি ছিলো ও। কিন্তু আজ কাঁদছে! কি এমন হলো এই ২৪ঘন্টার মধ্যে যা ওকে এতটা বদলে দিলো? আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কাছে যেয়ে ওর পিঠে হাত বুলিয়ে দিলাম। মনিকা ডার্লিং। আমার কোন ব্যবহারে যদি তুমি কষ্ট পেয়ে থাকো তো প্লীজ আমায় ক্ষমা করে দাও। কি হয়েছে আমায় খুলে বলো। আমি প্রমিজ করছি এমনটি আর কখনও হবে না। আসলে কাল রাতে ওকে কোলে করে দুধ খাওয়ানোর পর থেকেই কেন জানি ওকে খুব আপন মনে হচ্ছে। ও হয়তো বয়সে আমার অনেকটাই বড় হবে। কিন্তু তবুও ওকে জানি আমার সন্তানের মতো মনে হচ্ছে। ওর এমন কান্নাকাটি আমার আর সহ্য হচ্ছে না। সত্যিই খুব খারাপ লাগছিলো ওর জন্যে। ও এবার সুবোধ মেয়ের মতোই উঠে কাপড় চেঞ্জ করা শুরু করলো। আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই ব্যাস্ত কন্ঠে বলল, “দুঃখিত সাঞ্জে। আমি বোধ হয় তোমার অফিসের দেরী করিয়ে দিলাম। ভেবো না। আমি এক্ষুনি তৈরি হয়ে নিচ্ছি, আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসলাম আর মনেমনে বললাম, “এইতো, লক্ষী মেয়ে আমার।” ওর চেঞ্জ হয়ে গেলে আমরা দুজন এক সাথে বেরিয়ে এলাম অভিশপ্ত কটেজটা ছেড়ে। কটেজ ছেড়ে বেরিয়ে যেই না কুয়োটার কাছে এলাম সাথেসাথে মনিকা উবু হয়ে বসে এক দলা রক্তবমি করলো! আমি কুয়োটার কাছ থেকে সরে যেতে চাইছিলাম কিন্তু মনিকা ওখানে দাঁড়াতেই পারছিলো না। তাই বাধ্য হয়েই আমরা কুয়োর পাশে, পথেই বসে পরি। হঠাৎ মনিকা কুয়োটা দেখিয়ে বলে “ওখান থেকে কে যেন আমার নাম ধরে ডাকছে।” কিন্তু আমি তো কিছুই শুনতে পারছি না। এটা সম্ভবত ওর হালুসিন্যাশন অথবা আলেসের কুকীর্তি । কিন্তু আলেস কেন মনিকার পেছনে লাগতে যাবে? আমি তো ওর চাহিদা মতো আংটিটা নিয়ে এসেছি। এবার অন্য মেয়েগুলির মতো ওর চলে যাওয়ার কথা। না কি ও আংটির ভেতরই বেঁচে থাকতে চাইছে? আংটিতে করে আমার সাথেই ছুটে চলছে! সেদিন স্টারদের অফিসে আলেসই কি জবানবন্দি দিয়েছিলো?এসব ভাবনা বাদ দিয়ে মনিকাকে নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে কুয়োটার কাছ থেকে সরে এলাম। ওখান থেকে সরে আসতেই মনিকা ওনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠলো। ওকে গ্যারাজে নিয়ে গিয়ে এক বোতল পানি দিয়ে ওর মুখ ধুইয়ে দিলাম। তারপর কটেজের বাউন্ডারি ছেড়ে বেরিয়ে এলাম মুক্ত জগতে। সেদিন বিনা নোটিশে মনিকা কে নিয়ে অফিসে যাওয়ায় আমার অধিকাংশ কর্মচারীই নাখোশ হলো। একজন পরিদর্শক কোন অফিসেই স্বাগত নয়। তবে কর্মস্থলে এসেই মনিকা তার আগের রূপ ধারণ করলো। সারা অফিস ঘুরে ফিরে দেখছে। পার্স থেকে ট্যাবলেটটা বের করে গুরুত্বপূর্ণ অব্যাবস্থাপনার ফটো তুলছে, ও নোট নিচ্ছে। আমি ওকে স্বাধিনভাবে ওর কাজ করতে দিয়ে আমার অফিস কক্ষে চলে এলাম। ডেস্কের উপর আমার ফোনটা তখনো পড়ে ছিলো। ওটা হাতে নিতেই দেখলাম ২১টা মিসড কল। পাঁচটা মিস কল আম্মুর আর বাকিগুলো আদিনের। ওয়াও। আদিন কি তবে সুস্থ হয়ে গেছে। ওর সাথে আমার যত শীঘ্রই সম্ভব দেখা করা উচিৎ। আলেসকে তাড়াতে ওর অসাধারণ কিন্তু ব্যার্থ প্রচেষ্টার জন্যে ওর একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য। চেয়ারে বসেই আমি আদিনকে ফোন দিলাম। “হ্যালো আদিন। কেমন আছো? তোমার চোট সেরেছে? ” আদিন: “আমার ব্যাপারে পরে জেনো, আগে বলো কাল সারারাত তুমি কি করছিলে? কতবার তোমাকে ফোন দিয়েছি! কোন সাড়া নেই! ” আমি বললাম, “সত্যি বলতে কি আদিন, তোমার অবর্তমানে আমি অনেক কিছু করে ফেলেছি। তোমাকে জানানো হয় নি। যত শীঘ্রই সম্ভব আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই।” ও বলল, “তুমি কোথায়? আমি এক্ষুনি আসছি।” আমি: “এখন আমি অফিসে। কিন্তু আলোচনা করার জন্যে অফিস আদর্শ জায়গা নয়।অন্য কোথাও দেখা করি? ” আদিন: “তাহলে আজ বিকালে আমি তোমার কটেজে আসছি। তুমি তৈরি থেকো।” আমি: না না। আদিন। কটেজে একজন মেহমান এসেছে। ও যতদিন এখানে আছে ততদিন কটেজে কোন রিচুয়াল কাজকর্ম চলবে না। আদিন: কটেজে মেহমান এসেছে মানে? তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে সাঞ্জে? তুমি কটেজে মেহমান থাকতে দিলে কেনো? আমার দুর্ঘটনার পরেও তুমি এখনো বুঝতে পারোনি যে ওটা একটা হউন্টেড কটেজ। তুমি জানোনা তোমার মেহমানরা কি ভয়ঙ্কর ঝুকির মধ্যে আছে? আদিনের সাথে কথা বলার এ পর্যায়ে মনিকা আমার অফিস কক্ষে প্রবেশ করলো। আমি ব্যাস্ত কন্ঠে আদিনকে বললাম, “দেখ আদিন। আমি এখন অফিসে। এসব নিয়ে তোমার সাথে পরে কথা হবে। এখন রাখি।” আসলে আমি চাচ্ছিলাম না আমার ও আদিনের এসব কথা বার্তা মনিকা শুনে ফেলুক। আমি ওকে ভয় পাইয়ে দিতে চাই না। মনিকা সেই স্বভাবসুলভ গজগজ করতে করতে আমার কক্ষে ঢুকলো। ওর বদমেজাজ দেখে আমি তটস্থ হয়ে উঠলাম। “কি ব্যাপার মনিকা। কোন সমস্যা হয়েছে?” ও প্রায় হুঙ্কার ছেড়ে বলল, “মিস সাঞ্জে, তোমার অফিসে এই এই অব্যাবস্থাপনাগুলি আমার একদম ভালো লাগেনি। আমি আশা করবো তুমি ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ঠিক করে ফেলবে। নইলে আমি মিউনিখে এগুলি প্রামাণ্যচিত্র পাঠাতে বাধ্য হবো।” বাহ। মেয়েটা ব্যাক্তি জীবনে যাই হোক না কেন কর্মজীবনে অসাধারণ। কাজের বেলায় নো কম্প্রোমাইজ। এই জন্যেই ও পরিদর্শক হতে পেরেছে। আমি ওর ট্যাবলেটটা নিয়ে অব্যাবস্থাপনাগুলির বিস্তারিত বর্ণনা পড়তে শুরু করলাম। সারাটি দিন অফিসে খুব ব্যাস্ত সময় কাটলো। মাঝখানে অবশ্য মনিকাকে নিয়ে লাঞ্চ খেতে গিয়েছিলাম। লাঞ্চ খেতে খেতে মনে হলো মনিকা একদম স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ঠিক আগের মতই হাসি খুশি। দেখে মনেই হয় না এই প্রাঞ্জল মেয়েটা সকালে কান্নাকাটি করে বুক ভাসিয়ে দিয়েছিলো। তবে একটা জিনিস আমায় খুব ভাবিয়ে তুলছে। ও সকালে রক্তবমি করেছে।রক্তবমির দুটো প্রধান কারণ হলো, মিলিয়ারি যক্ষা, আর হৃদপিণ্ডের ধীরগতির পশ্চাৎমুখি অতিসঞ্চালন (Cronic passive congestion) । যেহেতু আমি ওকে কখনোই কাশতে শুনিনি তাই দ্বিতীয়টাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। আমি ঠিক জানিনা ওর ভেতরে কি হচ্ছে। তবে আজ অফিস শেষে জেনে নেবো। ঠিক করলাম অফিসের পর ওকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে ইলেক্টো কার্ডিগ্রাফি করিয়ে আনবো। বাহিরে যতই হাসি খুশি দেখাই না কেনো মেয়েটার জন্যে আমার সত্যিই খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে। লাঞ্চ খেতে খেতে ওকে বললাম, “আজ তো শুক্রবার। এর পর দুদিন উইকেন্ড। আজ তুমি আমার সাথে অফিস শেষে ঘুরতে যাবে ডার্লিং। ” ও হাসতে হাসতে বলল, “হা যাবো। খুব যাবো। তা কোথায় নিয়ে যাবে শুনি? ” আমি বললাম, মিলফোর্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ও বলল, “ওহ ফাক। আমি ভেবেছিলাম তুমি আমায় কোন নাইট ক্লাবে নিয়ে যেতে চাইছো।” আমি বললাম, “না বেবি। আজ সকালে তোমার শরীর খারাপ ছিলো। তোমার রক্তবমি হয়েছে। আমি তোমার হৃদপিন্ডের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চাই। তাই আজ অফিস শেষে তোমার ই,সি,জি করিয়ে আনবো। ও চরম বিরক্তি নিয়ে বলল, “কেন? আমায় দেখে তোমার অসুস্থ মনে হয় না কি? আমি ঠিকই আছি। আমাকে নিয়ে তুমি শুধুশুধুই দুশ্চিন্তা করছো ডার্লিং। ” প্রথমে রাজি না হলেও অনেক পীড়াপীড়ির পর ও আমার সাথে ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে যেতে রাজি হলো। কিন্তু ও শর্ত জুড়ে দিলো। ডায়াগনোসিসের পর আমাকে ওর সাথে ওর পছন্দের বিকিনি পড়ে বীচে যেতে হবে। দুর্দান্ত একটা সপ্তাহের পর আমি একটু রেস্ট নিতে চেয়েছিলাম। »চলবে…


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ডাকিণী-১, পর্ব-৪৬,৪৭,৪৮,৪৯,৫০

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now