বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
' কেন?'
' লোক-দুটো সত্য-সত্যই বজ্র বা বিদ্যুতের আক্রমণে মারা পড়েছে ।'
' তবে আবার সন্দেহ কিসের ?'
' না, ঠিক সন্দেহও নয় । তবে মাঝে মাঝে পাচ্ছি যেন বিপরীত ইঙ্গিত ।
একবার বেড়াতে বেড়াতে আমার এখানে আসবে নাকি?'
' নারাজ নই।'
জয়ন্ত ও মানিককে দেখে গিরীন্দ্র বললে, ' প্রথমেই তোমরা কি এক-এক পেয়ালা কফি
পান করতে চাও । জান তো, আমি চায়ের ভক্ত নই।'
জয়ন্ত বললো ' কফি বা চা কিছুই চাই না।
আমরা আজ গল্প শুনতে এসেছি ।'
' তাহলে একেবারে গোড়া থেকে শুরু করি।'
' হ্যাঁ, গৌরচন্দ্রিকা বাদ দিয়ে।'
' শোন । আজ এক বছর হল, অমরনাথ বসু মারা গিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন বড় জমিদার, যথেষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক। অজিতকুমার, অসীমকুমার আর অমলকুমার হচ্ছে তাঁর তিন ছেলে।
ছোট অমল নাবালক, সেকেণ্ড ইয়ারের ছাত্র । অমরবাবুর একটি মাত্র মেয়ে সুষমা, তার বিবাহ হয়েছে, স্বামীর নাম সুরেন্দ্রনাথ মিত্র। সুষমার শ্বশুরবাড়ি বিদেশে কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর ভাইদের অনুরোধে স্বামীর
সঙ্গে বাপের বাড়িতেই বাস করে । এই হচ্ছে গত আর বর্তমান পাত্রপাত্রীদের পরিচয়।
' প্রথমে অজিত যখন বজ্রাঘাতে মারা পড়ে, ঘটনাটা আমার মনে স্থায়ী রেখাপাত করেনি। ডাক্তার বললে মৃত্যুর কারণ বিদ্যুতের আঘাত ।
কিন্তু গেল পরশু অসীমও ঐ ভাবে মারা পড়তে আমরা রীতিমত চমকে গিয়েছি ; এবারেও ডাক্তারের মুখে মৃত্যুর কারণ শুনলুম বটে, কিন্তু দুই
সপ্তাহের মধ্যে একই পরিবারের উপর বজ্রের এমন পক্ষপাতিত্ব বিস্ময়কর। অবশ্য দুটি ঘটনার রাত্রেই মেঘাচ্ছন্ন সজল আকাশ থেকে বজ্রের হুঙ্কার
আমরা সকলেই শুনেছি।'
' তবে তুমি সন্দিগ্ধ হয়েছ কেন?'
' দু-দিনই ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটো মৃতদেহ ছাড়া বজ্রাঘাতের আর কোনও
চিহ্ণই দেখতে পাইনি ।'
' এ ছাড়া আর কিছু লক্ষ্য করেছ ?'
' করেছি । দু-দিনই লাস পাওয়া গিয়েছে পূর্বদিকের জানালার নীচে মেঝের উপর । এও লক্ষ্য করেছি মৃত্যুর রাত্রে অজিত আর অসীম যে বিছানায় ঘুমিয়েছিল, খাটের শয্যার উপরে সে প্রমাণের অভাব নেই। কিন্তু দুর্যোগময় রাত্রে তারা শয্যা ত্যাগ করে জানালার ধারে এসেছিল কেন ? এ প্রশ্নের উত্তর পাইনি।'
' তাহলে তোমরা কোন মামলা খাড়া করতে পারনি ।'
' উঁহু ! মামলা দাঁড়াবে কিসের উপরে । প্রমাণ কই । সন্দেহ তো প্রমাণ বলে গ্রাহ্য হবে না!'
' আমাকে একবার ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতে পার?'
' অনায়াসে । সেখানে গিয়ে পৌঁছতে পাঁচ-ছয় মিনিটের বেশি লাগবে না। কিন্তু সেখানে গিয়ে তুমি কি দেখবে?'
' যা দেখবার তাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now