বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চুপচাপ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X চুপচাপ গিয়ে বসে পড়লাম শুভ্র এর পাশে।ক্লাসে স্যার থাকার কারনে শুভ্র এর পাশে বসতে পারছি।নাহলে চিল্লাচিল্লী করে পুরা ক্লাস মাথায় তুলতো।এই ছেলের প্রবলেম টা কি সেটাই বুঝিনা।মাঝে মাঝে ওকে দেখে নিজেকে সাইকো মনে হয়।কেনো যে এরকম একটা ছেলের প্রেমে পড়তে গেলাম কে জানে।শুধু শুধু কস্ট পাওয়ার নামই শুভ্র কে ভালোবাসা।আর একই যন্ত্রনায় জ্বলছে ক্লাসের বহুত মেয়ে।কারন ক্লাসের অনেক মেয়ের ক্রাশ শুভ্র ,, শুভ্র কে প্রথম দেখে ক্রাশ খাইছিলাম কিন্ত হাজার হলে মেয়ে তো যার কারনে বলতে পারছিলাম না।ভেবেছিলাম হয়তো সে কিছু বলবে তার জন্য বারবার ওর সামনে যেতাম কিন্ত কার কি।তার চোখ হয় বইয়ের পাতায় আর নাহয় বেন্চের নিচে।আজিব একটা ছেলে ,, আমি অর্নিলা।মেহজাবিন অর্নিলা।মেডিকেল কলেজের ২য় বর্ষ।আর শুভ্র সম্পর্কে যতটুকু জানতে পারছি ওর নাম শুভ্র রহমান।গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মনবাড়িয়া। থাকে খিলগাও একটা ফ্লাটে।এর থেকে বেশি ওর সম্পর্কে কেউ জানেনা।আর এতটুকু জানা গেছে অরিয়েন্টেশন ক্লাস এর দৌলতে। ,, গত ১বছর ৯ মাস যাবত ওর পিছে লাইন মারি মাগার কোনো কাজ হইতাছে না।কি যে করি কিছুই মাথায় আসতেছে না।হঠাৎ মাথায় আসলো ওর বেস্ট ফ্রেন্ড কে খুজে বের করতে হবে।কিন্ত পাক্কা ৪ দিন ফলো করেও কারো সাথে মিস্টি করে হেসে বা ফাজলামো করতে দেখলাম না।আই মিন শুভ্র হ্যাভ নো ফ্রেন্ড।এটা ঠীক হজম করতে পারছিলাম না।তবে এটা শুভ্র তাই হজম করতে হলো।ওর দ্বারা অসম্ভব কিছুই না। ,, আজ কলেজে নবীনবরন অনুষ্ঠান।গান এবং নাচ নাম দিয়েছি।গান এ নাকি আমার সাথে ডুয়েট পারফরমেন্স করবে কেউ।কে জানিনা।আর নাচ এ আমার বেস্টু জানু মিমি। ,, অনুষ্ঠানে আমার জন্য এত বড় একটা উপহার অপেক্ষা করবে তা জানতাম না।আমার সাথে ডুয়েট পারফরমেন্স করছে শুভ্র।উফফফ কি ভয়েস ওর।আগে জানতাম না।ইনফেক্ট কেউই জানতো না বলে আমার মনে হয়।গান গাওয়ার সময় আমি শুধু ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ,, আজ যেভাবেই হোক শুভ্র কে প্রপোজ করবো।আর ওয়েট করতে পারছি না।সেইভাবে একটা সাজ দিলাম।দেখলে পরি পরি লাগতাছে নিজেকে ,, ক্যাম্পাসে পৌছে শুভ্র কে খুজে বের করলাম।দেখলাম একাই আছে পাশে গিয়ে বসলাম আমি:::---হাই শুভ্র::;---জ্বি বলুন ::::----একটা কথা বলার ছিলো ::::----জ্বি বলুন ::::----জানি না আপনাকে ভালোবাসি কি না তবে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে আপনার পাশে বসতে অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করে মনে হয় আপনার সাথে কথা বললে অন্য জগৎে থাকি আর সেই অনু্ভুতিগুলোর একটা নাম দিয়েছি ভালোবাসা আমি তোমাকে ভালোবাসি শুভ্র শুভ্র::::----আমার পক্ষে কাউকে ভালোবাসা সম্ভব না।আমি নিজেকে ছাড়া কাউকে ভালোবাসতে জানিনা ,, জিবনে প্রথমবার কাউকে প্রপোজ করে রিজেক্ট হলাম।তবে কোনো কস্ট নেই।আমার একটা ফেসবুক ফ্রেন্ড বলেছিলো দুর থেকে ভালোবাসতে নাকি অনেক মজা আর অনেক সুখ।আর শুভ্র বলছে সে কাউকেই ভালোবাসতে পারবে না সো আমার জেলাসও হতে হবে না।এখন থেকে শুধু ওর দিকে তাকিয়েই থাকবো।এসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়ছিলাম জানিনা।সকালে আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙে।তড়িগড়ি করে রেডি হয়ে কলেজে চলে গেলাম। আজ শুভ্র কে অন্যরকম লাগছে।কেমন জানি মনে হচ্ছে। দেখলেই খালি ক্রাশ খাইতাছি ,, ইদানীং মহা ঝামেলায় পড়েছি।প্রতিদিন কে যেনো বইয়ের পাতায় চিরকুট রেখে যায়।প্রত্যেকটাতে,,আমাকে কেমন লাগছে,,আমার কি তার কাছে খারাপ বা ভালো লাগে এসবই লেখা,,,আর সবশেষে লেখা থাকে ভালোবাসি।অনেক খুজেও সেই চিরকুট দাতাকে খুজে বের করতে পারছিনা।কে হতে পারে সেই চিরকুট দাতা।কিছুই মাথায় আসছে না।ক্লাসের সবার হাতের লেখার সাথে চিরকুটের লেখা মিলিয়েছি বাট কারোও লেখার সাথেই ম্যাচ করতেছে না।তাই ক্লাসের কেউ না।তবে বাইরে থেকে কেউ কিভাবে বইয়ে ভিতরে চিরকুট দিবে সেটাও ভেবে পাচ্ছিনা।মনে হচ্ছে চিন্তায় মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করতেছে কিন্ত ব্যাথা পাবো বলে ছিড়তে পারছি না ,, আজ প্রায় দু মাস যাবত সেই চিরকুট দাতা চিরকুট দিয়েই যাচ্ছে।কোনোদিন সামনে আসলো না।আর আমারও চিরকুট পেতে পেতে অভ্যাস হয়ে গেছে।এখন মনে হয় চিরকুট না পেলে আরোও খারাপ লাগবে।কারন,,,সেই চিরকুট কে ভালোবেসে ফেলেছি আর সেই চিরকুট দ্বাতাকেও।এখন চিরকুট পেতে ভালোই লাগে।মনে হয় কেউ একজন সবসময় আড়ালে আমার পিছনে আছে।তবে কে সে ,, আজ তিনদিন যাবৎ চিরকুট আসছে না।মনটা খুব খারাপ।তারমাঝে খেয়াল করতেছি কে ক্লাসে নেই।একি,,,শুভ্র বাদে সবাই আছে।তার মানে চিরকুট গুলো শুভ্র দিতো।কিন্ত সে তো আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো।আর তার দ্বারা চিরকুট দেয়া কি সম্ভব।মাথা আবার আউলাইয়া যাইতাছে।একবার হাতের কাছে পাই শুভ্র মিয়াকে,,,তবে শুভ্র আমাবে চিরকুট দিতো এটা আমি সিওর।কারন শুভ্র ক্লাসে আসে না আর আমি চিরকুটও পাই না ,, আজ প্রায় দেড়মাস হয়ে গেলো শুভ্র কলেজে আসে না।শুভ্র কে এই কয়দিন না দেখে নিজেকে খালি শুন্য মনে হইতেছে।যেখানেই যায় সেই যায়গাটাই শুন্য মনে হয়।সব জায়গায় শুভ্র কে খুজে বেড়াই।আর কার শুন্যতাটা ভালোভাবে প্রভাব ফেলেছে আমার উপর। ,, কালকে রাতে টেবিলে যখন বাবার সাথে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম তখন বাবা যা বললো তা শুনে মাখা পুরাই নস্ট হয়ে গেছে।কি করবো বুঝতে পারছিনা।বাবার বন্ধুর ছেলে সাদমানের সাথে ২ মাস পরে নাকি আমার বিয়ে।একদিকে নিজের ভালোবাসা আর একদিকে বাবা।২২ বছরের ভালোবাসার কাছে ২ বছরের ভালোবাসা কিছু না।তবে কেনো জানি বাবাকে শুভ্রর কথা বলতে পারলাম না।বললেও কোনো লাভ হতো না।বাবা এককথার মানুষ। ,, শুভ্রকেও কলেজে পাচ্ছি না।তাকে বলতেও পারছি না যে আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।মনটা কে কিছুতেই স্থির করতে পারছি না। ,, বাধ্য হয়ে বিয়েটা করে নিতে হলো।অনেক ভেবেছি।বাবার ভালোবাসার কাছে শুভ্র কিছুই না।আর তাই বাবার কথা মত আজ বিয়ের আসরে।বিয়ের আগে সাদমানের ছবি দেখতে পারি নি।মা খামে ভরে একটা ছবি দিয়েছিলো।তবে সেটা ড্রয়ারে রাখার পর আর খুজে পায় নি।মাকে বলেছিলাম কিন্ত সে বলেছিলো একেবারে বিয়ের পর দেখিস।এখন আর দেখতে হবে না ,, বাসর রাতে বসে আছি।কিন্ত সাদমান সাহেব কেনো এখনো আসছেন না।মরছে নাকি আল্লাহয় ভালো জানে।এমন সময় দরজায় নক পড়লো।তার মানে তিনি এসেছেন।আমি আমার ঘোমটা ঠীক করে নেমে তাকে সালাম করে আবার খাটের উপর উঠে বসলাম সাদমান::--কেমন আছেনন...?? আমি:::---জ্বি ভালো আছি।আপনি...? :::---জ্বি ভালো কন্ঠটা খুব চেনা মনে হচ্ছে।তিনি তো ঘোমটাও উঠাচ্ছেন না।আর আমিও তাকে দেখতে পাচ্ছি না :::---হুমম ::::----তিনি ঘোমটা উঠালেন আর ওকে দেখে আমি অজ্ঞান হবার দশা। :::---শুভ্র তুমি :::---কেনো,,,সমস্যা আছে আমি হলে :::---কিন্ত কিভাবে কি ::::---তাহলে শুনো,,ছোটোবেলা থেকেই তোমার সাথে আমার বিয়ে ঠীক।কিন্ত তোমাকে না চিনে না জেনে বিয়ে করবো না বলে আমি বাবার সাথে কথা বলো তোমার সাথে কলেজে ভর্তি হয় যদি আমার ওই কলেজ থেকেই এমবিবিএস করা হয়েছে।আর তার জন্যই আমি একটু লুকিয়ে থাকতাম।পরে তুমি প্রপোজ করলে তোমাকে রিজেক্ট করি কারন দেখতে চেয়েছিলাম তোমার ভালোবাসা কতটুকু সত্যি।তারপর চিরকুট তিয়ে তোমার সাথে ভালোবাসা শুরু করলাম তবে আড়াল থেকে।তোমার বাসায় আমার ছবি রেখে আবার সেটা তোমার ড্রয়ার থেকে নিয়ে আসি আমি নিজেই।আর লাস্ট কয়েকদিন তোমার কস্ট দেখে এটা বুঝতে পারছিলাম যে তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাসো।তাই দেরি না করে তাড়াতাড়ি তোমাকে বিয়ে করে ফেলি ::::----কিছু না বলে শুধু ওকে জড়িয়ে ধরলাম।আল্লাহ আমাকে এত বড় একটা উপহার দেবে সেটা কল্পনাও করতে পারি নাই। :::---চলো ফ্রেশ হয়ে আসো।নামাজ আদায় করে নেই ::---হুম ,, দুজনে নামাজ আদায় করে নিলাম।তারপর শুভ্র তার কিছু কথা বললো যেমন তার মার সাথে কিভাবে ব্যাবহার করতে হবে আরও কিছু নীতিকথা।তারপর আমার পরম ভালোবাসার জায়গা শুভ্রর বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমের দেশে চলে গেলাম , লেখকের কথা:::--সত্যিকারের ভালোবাসায় কস্ট যেমন বেশি তেমন সুখটাও বেশি।আর সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো বিফলে যায় না নিশ্চুপ বালক(শুভ্র নিল)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চুপচাপ
→ মেয়েটা চুপচাপ হাটছে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now