বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চুইংগাম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সঞ্জয় গোস্বামী জ্যোর্তিময় (০ পয়েন্ট)

X ‘হ্যালো?’ নিঃশ্বাসের ফাঁকে বলে ওঠে আনিকা । ‘হুঁ, বল ।’ ঘুমজড়িত কন্ঠে জবাব দেয় রিদিত । ‘ও দেখা করতে চেয়েছে ।’ ‘আ-আ-আম’ ‘অ্যাই বেয়াদব ! কি বলিস ? ’ ঝাড়ি দেয় আনিকা । ‘উম ... যা দেখা কর । সাথে সার্টিফিকেট নিয়ে যা ।’ ‘কিসের সার্টিফিকেট?’ ‘এইচএসসির । আর বার্থ সার্টিফিকেট । হা-আআ-আম।’ হাই তুলেই যায় বেচারা । ‘কেন?’ ‘যদি পছন্দ হয় বিয়ে করে ফেলিস ।’ ‘ফাইজলামি করবি না বেয়াদব । উঠে বস । তারপর কথা বল ! আসলেই যেতে বলছিস ?’ জবাব দেয় না রিদিত । মোবাইলের এ প্রান্তে কড়মড় শব্দ শোনে শুধু আনিকা । আরেকটা রামঝাড়ি দেয় ও বেয়াদবটাকে । ‘অ্যাই কি করিস ?’ ‘বাদাম খাই ।’ ‘ঘরের মধ্যে বাদাম পেলি কই?’ ‘বাদামের গাছ লাগিয়েছি । যখন মন চায় পেড়ে পেড়ে খাই ।’ ‘ওই !! তোর বলা লাগবে না দেখা করব কি করব না । আগে বল বাদাম কোথায় পেয়েছিস ?’ ‘আরে – ছোটভাই এনেছিল । বাদাম খেতে খেতেই ঘুম চলে এসেছিল ।’ ‘বাদাম খেয়ে খেয়ে ভোটকা হ আরও ! আমি টেনশনে মরি আর উনি বাদাম খাচ্ছে !’ সংযোগ কেটে মোবাইলটাকে একদিকে ছুড়ে ফেলে আনিকা । রিদিতটা এরকমই । ওদের বন্ধুত্ব সেই ছোট্টবেলা থেকে । ক্লাস টুতে পড়ত তখন ওরা । আনিকা যে সীটে বসত সে সীটে প্রতিদিন চুইংগাম লাগিয়ে রাখত রিদিত । বসে পড়ার পর বেচারি বুঝতে পারত কিছু একটা ঠিক নেই । উঠতে গেলেই চুইংগাম লম্বা হয়ে লেজ হয়ে যেত । আর সারা ক্লাস হেসে খেত গড়াগড়ি । একদিন আর সহ্য হয় না আনিকার । রিদিতের সামনে একটা স্টীলের স্কেল উচিয়ে হুংকার দেয়, ‘অ্যাই বেয়াদব, আমার সীটে চুইং গাম লাগাস কেন?’ ‘ওটা গিলতে হয় না । আম্মু না করেছে ।’ মিন মিন করে কৈফিয়ত দেয় শিশু রিদিত । ‘প্রতিদিন আমার সীটে লাগাস কেন হতচ্ছাড়া !’ ‘লাগালে কি করবি ?’ ‘পিট্টি দিব । হাত পাত ।’ ‘পিট্টি দিলেও লাগাব ।’ ‘কান ছিড়ে ফেলব । হাত পাত ।’ ‘মারবি ? মার । তাও লাগাব । একশ বার লাগাব ।’ রিদিতও জোরের সাথেই বলে । পিট্টি খেয়েও রিদিত যখন চুইং গাম লাগানোর কাজ অব্যাহত রাখল তখন বাধ্য হয়েই আনিকা ভিন্ন পথ ধরে । ‘অ্যাই, তুই আমার বন্ধু হবি?’ একদিন রিদিতকে বলে ও । ‘হুঁ ।’ ঘাড় শক্ত করে বলে রিদিত । ‘তাহলে কিন্তু আর সীটে চুইং গাম লাগাতে পারবি না ।’ ‘হুঁ ।’ গলার জোর কম থাকে এবারের ‘হুঁ’তে । ছোটবেলার ছেলেমানুষীর কথা ভেবে একটু হাসে আনিকা । তারপর স্কুল, কলেজ পেরিয়ে ভার্সিটিও যাওয়ার পথে । বন্ধুত্ব আছে সেই ছোটবেলার মতই অটুট । কিন্তু এই মুহূর্তে রিদিতটার পরামর্শ দরকার ছিল । আজ আনিকার সাথে আকাশ দেখা করতে চেয়েছে । আকাশ হল আনিকার সিক্রেট ক্রাশ । আকাশের সাথে আনিকার পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে । গত দুই বছর ওরা চ্যাট করে গেছে । ফোনেও কথা হয় কয়েকমাস ধরে । কিন্তু দেখা হয় নি । ছেলেটাকে আনিকার ভালোলাগা শুরু হয় ওর লেখা পড়ে পড়ে । কি অদ্ভুত সুন্দর করে ও মানুষের জীবনের অনুভূতিগুলোকে তুলে ধরতে পারে ! আকাশের একেকটা নোট আপলোড করার সাথে সাথেই পড়ে ফেলে আনিকা । তবে লাইক দেয়ার বেলায় আকাশের সামনে ও হাড়কেপ্পন । ছেলেটা বুঝে গেলেই তো শেষ । ছেলে জাতিটাকে চেনা আছে । বুঝিয়ে দাও তুমি দুর্বল – তোমার প্রতি আগ্রহ হাওয়া হয়ে যাবে সাথে সাথে । ভাব ধরে থাকতে হয় । তবে চ্যাট যত বেশি হয় দূরত্ব ততই কমে আসে । আকাশের সাথে দেখা করার ইচ্ছা আনিকার অনেকদিনের । কিন্তু ওই যে, সময় হওয়ার আগে মুখে বলা যাবে না ! ছেলে জাতি ! কাল রাতে যখন কথা বলার এক পর্যায়ে আকাশ নিজে থেকেই দেখা করতে চাইল তখন আনিকাকে ইনঅডিবল কয়েকটা চিৎকার ছাড়লেও দায়সারা ভাবে ওকে জানায় পরের দিন জানাবে । কিন্তু জানানো আর হল কোথায় ? পরের দিন পর্যন্ত সময় চেয়েছিলই তো রিদিতের সিদ্ধান্ত জানতে । ওদিকে কি না বেয়াদবটা বাদাম চিবাচ্ছে ! রিদিত সবই জানে । আকাশের নোট পড়ে যখন ‘পানি-খাব ! পানি-খাব!!’ ভাব ভঙ্গী নিয়ে রিদিতকে জানায় আনিকা তখন ওকে কতবার ও পরামর্শ দিয়েছে আকাশকে প্রপোজ করার ! ‘আর কোন ডাইনি কেড়ে নেয়ার আগেই তুই ঝাঁপিয়ে পড় । আফটার অল, অন্য কোন ডাইনির হাতে পড়ে গেলে ডাইনি-প্রধানের জন্য ওটা একটা ডিসক্রেডিট হয়ে যাবে রে ...’ বলত রিদিত । কিন্তু আনিকা পারেনি । সব হারানোর ভয়ে আগলে রেখেছিল কিছু পাওয়ার স্বপ্ন । একটা রজনীগন্ধার স্টিক হাতে নিয়ে পার্কে ঢোকে আনিকা । দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে । বেয়াদব রিদিতটা ঘুমাচ্ছে । ঘুমাক ! বেশি করে ঘুমাক । ওর কাছে আলোচনা করার সময়টুকু পর্যন্ত দিল না । ছেলেটার নাকি রজনীগন্ধা ভালো লাগে । সব কিছু নিয়েই অদ্ভুত রকম সব চিন্তাভাবনা আকাশের মধ্যে । এটাই অবশ্য আনিকার ভালো লাগে । যেখানে দেখা করার কথা ছিল সেখানে কাওকে দেখে না আনিকা । একটা ফোন কি দেবে ও আকাশকে ? না, দেবে না, ছেলে জাতি ! আগ্রহ দেখানো যাবে না নির্ধারিত মুহূর্তের আগে । কয়েক মিনিট অপেক্ষা করেও যখন আকাশের ফোনকলের কোন পাত্তা নেই – একটা বেঞ্চে বসে পড়ে আনিকা । বসে পড়ার পর আনিকা বুঝতে পারল কিছু একটা ঠিক নেই । লাফ দিয়ে উঠে চুইং গামের লেজের দিকে তাকায় আনিকা, তারপর ঘুরেই দেখতে পায় রিদিতকে । ‘তুই এত্তগুলা বেয়াদব ! তোর ফেসবুক আইডি-ই নীল আকাশ ! হারামী আমাকে আগে কেন বলিস নাই?’ রাগে নীল হয়ে বলে আনিকা । ‘তার আগেই যে তোর প্রেমে পড়ে গেলাম ।’ বিষন্ন গলায় বলে রিদিত, প্রথমবারের মত ওকে সিরিয়াস হতে দেখে আনিকা । ‘চুপ করে থাক !’ রজনীগন্ধার স্টিক নাচায় ও ডানহাতে, ‘আমার সীটে চুইং গাম দিস – হাত পাত !’ ‘মারবি ? মার । তাও বলব । একশ বার বলব !’ ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি রিদিতের । রজনীগন্ধা পড়ে থাকে একপাশে, রিদিতকে জড়ায় আনিকা, ‘অ্যাই, তুই আমাকে বিয়ে করবি?’ ‘হুঁ ।’ ঘাড় শক্ত করে বলে রিদিত । ‘তাহলে কিন্তু আর সীটে চুইং গাম লাগাতে পারবি না ।’ ‘হুঁ ।’ গলার জোর কম থাকে এবারের ‘হুঁ’তে । রিদিতের কাঁধে আলতো করে থুতনী ঠেকায় আনিকা । ছেলে জাতিটাকে যেমন ভাবত তেমনটা না বলেই তো মনে হচ্ছে ...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চুইংগাম

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now