বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিদিনের মত আজও ছেলেটা পার্কে এসে ঐ একই সময়ে একটা গোলাপ ঠিক আগের জায়গায় রেখে দাঁড়িয়ে আছে! ব্যাপারটা নাইমার কেমন অদ্ভুত মনে হলো। এই জায়গার মধ্যে এমন কি আছে যে ছেলেটা এরকম অদ্ভুত একটা কাজ করছে।
এটা জানতে হবে। প্রতিদিন এখানে এসে একমনে দাঁড়িয়ে থাকে আবার ৫মিনিট পর চলে যায়! এটা কেনো করে? সারা বিকেল বেলা এটাই ভাবতে ভাবতে সময় কেঁটে গেল নাইমার। কোনো কিছুই উদঘাটন করতে পারলো না। সন্ধ্যা গড়িয়ে এলো, চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। এখনও বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে নাইমা! আজ একমাস হলো পার্কের পাশে এই হোটেলে উঠেছে। আসার পরদিন থেকেই দেখছে ছেলেটা এইরকম করছে।
রুমে চলে আসলো নাইমা। পড়তে বসল, পড়ায় মনোযোগ আসছেনা। ঘুরে ফিরে ওই একই চিন্তা! নাহ এর থেকে মুক্তি পেতে হবে। নাইমার তার বান্ধবী জুলির কাছে গিয়ে এটা জিজ্ঞাস করল। জুলি এই হোটেলে উঠেছে প্রায় একবছর। সেও বলে আজ একবছর থেকে প্রতিদিনই এই ছেলেটার এই দৃশ্যটি দেখছে! প্রথম প্রথম জুলিরও এইরকম কৌতুহল ছিল। একদিন জুলি নাকি ছেলেটির সাথে কথা বলতে চাইছিলো, ছেলেটি কথাও বলে নি!
নাইমার আগ্রহটা আরও বেড়ে গেল। কে এই ছেলে? এ গাছের নিচে এমন কি হইছে যে প্রতিদিন এই রকম করে?
মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করছে আর নিজের কাছে সমাধান খোজার চেষ্টা করছে।নাইমা মনে মনে ভাবছে,
ছেলেটার সাথে কি একবার কথা বলবো? নাহ, তাও তো সম্ভব না। ছেলেটা নাকি কথাও বলে না। আমি তাহলে এই সত্যটা জানবো কেমনে? না জানলে যে এখানে থাকা অসম্ভব হবে। সবসময়ই এই চিন্তাটা মাথায় ঘোরাফেরা করবে? এসব ভেবে ভেবে তার চোখে ঘুম চলে আসে। ঘুমিয়ে পড়ে নাইমা।
সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে ভার্সিটিতে গেল। ওই চিন্তাটা তার মাথায়ই আসলো না। সারাদিন ভার্সিটিতে বন্ধুদের আড্ডা দিয়ে কাঁটালো।
তারপর চলে আসলো।
আসার পথে কালকের ঐ ছেলেটার সাথে দেখা হলো। সাথে ছোট সুন্দর একটা বাচ্চা! হাসিমাখা মুখে বাচ্চাটিকে আদর করে করে রাস্তায় হাঁটছে। নাইমার ভাবনাতে আবার চলে আসল ছেলেটি। কিছুক্ষণ পেছনের দিকে তাকালো। ছেলেটির হেঁটে যাওয়া দেখছে। চোখ ফাঁকি দিয়ে ছেলেটি কোথাও চলে গেল নাইমা সেটা আর দেখতে পায়নি। সামনে এগোচ্ছে আর সেই চিন্তাগুলো বারবার থাকে আক্রমণ করছে। হোস্টেলে এসে বই টেবিলে রেখে, ধপাস করে বিছানায় বসে লম্বা এক নিঃশ্বাস নিল। এই কোন চিন্তা যে থাকে বারবার এসে অসুস্থ করে তোলছে? এইরকম হচ্ছে কেন? ছেলেটি তার আত্বীয় বা রক্তের সম্পর্কের কেউ হত তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না । কিন্তু সে তো আত্বীয় হওয়া তো দুরে থাক! পরিচিতও কেও নয়।
নাহ, দেখছি আর পারা যাবেনা! এটা উদঘাটন করতেই হবে, না হলে ধীরে ধীরে আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ব । এটাই ভেবে ভেবে এক কাপ চা খেয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগল নাইমা, ছেলেটি কখন আসে?
চারদিক থেকে ধমকা বাতাস এসে কাঁপুনি তোললো শরীরে, এই শীতের সময় বাতাসটাকে সহ্য করাই অনেক কষ্টের আর আপনি যদি পার্কে বা কোনো ময়দান জায়গায় থাকেন তাহলে তো কোনো কথা নেই, শরীরে আসবে ভূমিকম্প আর দাঁতে আসবে ইড়িমিড়িকিড়ি! নাইমারও বিকল্প কিছু হয়নি। ঠান্ডা সহ্য করতে না পেরে চলে গেল রুমে। শীতের কাঁপড় পড়ে, চুলগুলো ঠিক করতে আয়নার সামনে গেল। চিন্তাটা আর তারকাছে থাকলো না। পাশের রুমের রুমমেট তার কাছে এসে গল্প করতে লাগলো। মনোযোগ এখন গল্পে! হাসিঠাট্টা করে সময়টা সন্ধ্যা পর্যন্ত গড়ালো! নাছোড়বান্দা চিন্তা নাইমার মাথা চাপলে সে দৌড়ে বারান্দায় চলে গেল। হতাশ! ছেলেটি ফুল রেখে চলে গেল। নাইমা ফুলটির দিকে তাঁকিয়ে আছে। ঠিক গতকালের মত আজও পড়তে বসে চিন্তা করতে লাগল, ঘুমাতে যেয়েও চিন্তা করতে লাগল! বরং আজকে একটু বেশিই চিন্তা করছে। শেষ রাতের প্রথম প্রান্তে এসে তার চোখে ঘুম চলে আসলে সে ঘুমিয়ে পড়ে।
আজ শুক্রবার,
কলেজ বন্ধ। নাইমার কোনো কাজ নেই। অনেক দেরিতে ঘুম থেকে ওঠল। সময় প্রায় এগারোটা। তারপর খাওয়া দাওয়া সেরে জুলিকে সাথে নিয়ে মার্কেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলো, জুলির অনেক কেনাকাটা আছে, নাইমা শুধুমাত্র একটা বই কিনবে । ভালো করে সাজগোজ করে দুজনই বের হলো।গাড়ীতে ওঠে দুজনই জিন্দাবাজারে দিকে চলল। জ্যাম না থাকায় বেশি সময় লাগলো না, ৩০ মিনিটেই পৌঁছে গেল জিন্দাবাজার। প্রথম দুজন বইয়ের মার্কেটে প্রবেশ করে কিছু বই কিনল, তারপর চলে আসে সেখান থেকে।
কাপড়ের মার্কেটে প্রবেশ করল।
জুলি আর নাইমা কাপড় বাছাই করতে লাগলেন। নাইমার হঠাৎ করে চোখ পড়ল "বেবি স্বপ " মার্কেটের দিকে। ওই ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে সাথে কিউট বাচ্চাটাও! নাইমা দ্রুত ছেলেটিকে অনুস্বরণ করে ওখানে চলে গেল। জুলি একমনে কাপড় পছন্দ করছে । নাইমা এখন ছেলেটির খুব পাশে! বড় জোর তিন-হাত ফাকা জায়গা! একদম কাছে থেকে ছেলেটিকে দেখছে! ছেলেটি বাচ্চাটার জন্য শীতের কাপড় বাছাই করছে। মনে কেমন বিষণ্নতার ছাপ। কাপড় কিনে, ছোট বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসলো। নাইমা পেছন পেছন আসছে। বাচ্চাটাকে নিয়ে গাড়ীতে উঠে চলে গেল। নাইমা এবারও ব্যর্থ ! কথা বলতে পারলোনা। কিছুক্ষণ থাকিয়ে থেকে আবার চলে আসলো কাপড়ের মার্কেটে। আগের দোকানেই এখনও জুলি বসে আছে। একমনে একটার পর একটা কাপড় বাছাই করছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now