বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চন্দ্রাহত

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান R.H (dangeor-virus) (০ পয়েন্ট)

X চাঁদের নিজস্ব একটা রূপ আছে। যেটা সবাই দেখতে পায় না। দীপ জ্বালা সন্ধ্যায় চাঁদের আলো কেমন একটা মায়ার জন্ম দেয়। যাকে অনেক সময় ভ্রম বলে মনে হতেই পারে। এ রকম জ্যোৎস্নায় ভেসে যাওয়া রাতে শীতল পাটি পেতে ছাদে শুয়ে থেকে তারা দেখতে দেখতে তারার রাজ্যে হারিয়ে যেতে বড় ইচ্ছা করে। কালেভদ্রে আবার খসে পড়া তারাও দেখতে পাওয়া যায় ভাগ্য খুব সুপ্রসন্ন হলে। অনেকেই বলে থাকেন, এ সময় কিছু একটা চাইলে সে চাওয়া অপূর্ণ থাকে না। আমার ক্ষেত্রে অবশ্য সত্যি হয়নি কথাটা। কী জানি হয়তো অন্য কারও জন্য সত্যি হয়ে থাকবে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কেমন একটা ভ্যাপসা গরম চারদিকে। হাতপাখা দিয়ে কাজ হচ্ছে না। চারদিকে জোনাকি পোকারা তারাদের মতোই মিটিমিটি করে জ্বলছে। আবার ঝি ঝি পোকার একঘেয়ে ডাক ওই নিশুতি রাতেও। এই তালপাকা গরমে সেবার বেশ ভালো আম হয়েছে। বাড়িতে বেশ কয় রকমের আম রয়েছে। কতগুলো কাচা মিঠা, কতগুলো বেশ মিষ্টি। আবার কতগুলো খুবই টক। একটা বড় লিচুগাছও আছে। সেখানে মুড়ির টিন লাগানো এবং একটা সুতো বাঁধা থাকে। টং–টং আওয়াজে বাদুড় আর ধারে কাছে ভিড়তে পারে না। সঙ্গে পাতলা নেটের কাপড় দিয়েও লিচুর ঝোকা বাঁধা থাকে। বোম্বাই জাতের লিচু। মামা একসময় দিনাজপুর থেকে নিয়ে এসেছেন। বাড়িতে মোট দুটি পুকুর। একটা একটু ছোট। আর একটা বেশ দূরে তালপুকুর। তালগাছের পাশে বলেই এমন নামকরণ। পানির মধ্যে একটা ছন দিয়ে বানানো একচালা ঘর আর তার সঙ্গে নৌকা বাঁধা আছে। পাড়ার যত দস্যি ছেলেরা সারা দিন পুকুরে দাপাদাপি করে বেড়ায়। মাঝে মাঝে ও পাড়া থেকেও আসে। পাশেই হিন্দু বাড়ি। শুরুতেই তালগাছখানা পেরোতেই কালির মন্দির করা। ভয়াল দর্শন কালি লাল রঙের বিশাল জিহ্বা বের করে হাতে ধারালো কিছু একটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। এমন জিনিসের পূজা করে কি করে ওরা, বাবা জানি না। অন্যপাশটাতে ঘোষদের বাড়ি, তারা মাটির হাঁড়িতে করে দই পাতে। দই বেঁচেই জীবনজীবিকা নির্বাহ। পুকুরের পাড় ঘেঁষে বেশ একছড়া কাশবন হয়েছে। সাদা ফুলে ছেয়ে গেছে ওই পাশটা। আকাশে শরতের সাদা পেঁজা পেঁজা মেঘের ভেলা। মাঠে আবার কিছু ছেলেমেয়ে ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। রঙিন কাগজ কেটে ঘুড়ি বানানো। একেকটা একেক রকম। একটার থেকে আরেকটা সুন্দর। সঙ্গে সুতোও রং দিয়ে রং করা হয়েছে। আরেক দল অন্যপ্রান্তে মার্বেল খেলছে। শ্যালো মেশিনে জমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ওখানে গোসল করতে ভীষণ মজা। যে করেনি তাকে বোঝানো যাবে না এটা। পাশেই আবার পারিবারিক কবরস্থান। বেশ কিছু কবরের সারি আর মাঝে মাঝে খেজুরগাছ লাগানো। একধারে বাইরে পাটখেত। একসময় মায়েরা বাচ্চাদের ভয় পাওয়ানোর জন্য বলত, না খেলে ছেলেধরা এসে নিয়ে যাবে। ছেলেধরা ওই পাটখেতেই থাকে। তারা কখনো লাঠি লজেন্স, কখনো কদমা বাতাসার লোভ দেখিয়ে বাচ্চাদের বস্তায় পুরে অজানার দেশে নিয়ে যায়। এ সবই কিছুটা মিথের মতো। যার আসলে কোনো ভিত্তি নেই। তারপরও যুগ যুগ ধরে পুথি পুরানে কিংবা লোকমুখে চলে আসা এসব মিথ আমাদের মজ্জায় মজ্জায় ঢুকে গেছে। যেখান থেকে এসব বের করে আনাটা শুধু দুষ্করই নয় অসম্ভবও বটে। হয়তো এসবেরও প্রয়োজন আছে কিংবা ছিল। এ সব ভাবতে ভাবতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। আকাশে আবারও চাঁদ তারাদের আনাগোনা আর পৃথিবীর এই বিস্তর চরাচরের এক ধূসর প্রান্তে চন্দ্রাহত হয়ে পড়ে থাকি আমি। যেখানে আমার সমস্ত অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেতে চায় ওই সীমাহীন আকাশের মতো। এই বিপুল বিশ্ব চরাচরে আমি কিংবা আমরা এক ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। যার কিংবা যাদের না থাকায় এ পৃথিবীর কোনো দিন কিচ্ছুটি যায় আসেনি। চাঁদের বুড়িরা পান খেতে খেতে অবিরাম চরকা কেটে যেতে থাকে। তাদের কেউ কখনো দেখতে পায় না। তারা মস্ত আকাশের চাঁদের আড়ালেই থেকে যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চন্দ্রাহত আমি
→ চন্দ্রাহত

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now