বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অাপনার হাতের টি-শার্টটা নেন
ভালো মানাবে অাপনাকে। হঠাৎ
করেই পেছন থেকে এই কথাটা বললো।
অামি একটা জেন্টস শপে অাসছি টি-
শার্ট কিনতে, অামার হাতে একটা
নেভি-ব্লো কালারের টি-শার্ট। পেছন
থেকে বললো এই শার্টটাই নিতে।
কিছুটা অবাক হলাম, যে কথাটা একটা
মেয়ে বলেছে। জেন্টস শপে মেয়ে!
পেছনে ঘুরে মেয়েটিকে এক নজর দেখে
নিলাম। না অামার পরিচিত না। তবুও
জিঙ্গেস করলাম
.
-অাপনি কি অামার পরিচিত বা অামি
কি অাপনাকে চিনি ? (অামি)
-হয়তো না! (মেয়েটা)
-কোন দিন কি অাপনার সাতে কোথাও
দেখা হয়েছিলো!
-রাস্তাঘাটে হলে হতেও পারে।
-সরি রাস্তাঘাটে কখনোই অাপনাকে
দেখিনি!
-অাচ্ছা না দেখলেও হবে, এখন টি-
শার্টটা নেন!
-যদি না নেই!
-অাপনার পছন্দের জিনিস না নিলে
থাক।
-এইটা অামার পছন্দ?
-নাতো কি নেভি-ব্লো কালারের টি-
শার্ট তো অামার হেব্বি পছন্দের।
-অাপনারে কে বললো?
-যেই বলোক অাগে শার্ট নেন। অামি
গেলাম।
.
মেয়েটা অামার সম্পর্কে এতো কিছু
জানে কেমনে?মাথায় ধরছেনা। যাই
হউক পরে ভাবা যাবে।অাগে টি-
শার্টটা নেওয়া যাক।
.
দুইদির পর
.
সকাল বেলা লেকে জগিং করছি। এমন
সময় একজন এসে পেছন থেকে এসে বললো
হ্যাই কেমন অাছো? অামি পেছন ফিরে
দেখি জেন্টর্স শপের সেই মেয়েটা।
অাপনি থেকে তুমি!
-অাপনি কি অামাকে চেনেন? (অামি)
-হ্যাঁ! (মেয়েটা)
-সরি অাপনি অামার পরিচিত না।
(অামি)
-তুমি এতো খসখসা মেজাজের কবে
হলে?
-এই অাপনি অামাকে তুমি করে বলছেন
কেনো? অপরিচিত জনকে অাপনে
বলোন।
-থাপড়া দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো।
যেনো বিয়ে করতে না পারো।
-অামি বিবাহিত, তাই বিয়ে করার ভয়
নাই! (মিথ্যে)
-অাবার মিথ্যা কথা, তুমি বিবাহিত
না কি সব জানি অামি। এবার চলো
একটু দৌড়াই!
-অাপনার সাথে অামি দৌড়াবো না।
অাপনি একলা দৌড়ান।
-দেখো রাহাদ অামার মেজাজ গরম
করোনা। তাহলে কিন্তু তোমার কপালে
খারাপি অাছে। ভালোই ভালোই চল
দুজনে একসাথে দৌড়াই।
-না দৌড়াবোনা অাপনার সাথে!
-সত্যি?
-হুম!
-দেখো কি করি, অামি মানুষ
ডাকতেছি, বলবো যে তুমি অামার
সাথে খারাপ ব্যবহার করতেছো।
অামার গায়ে হাত দিচ্ছো। পরে বুঝবে
মজা। এই যে ভাই।
-চলেন।
এইতো গুড বয়।
.
মেয়েটার সাথে দৌড়াতেই হল।
মেয়েটা হচ্ছে ইপ্তি, অামার
ক্লাসমেট। অনেক বছর পর তার সাথে
দেখা।যখন কলেজে ২য় বর্ষে উঠলাম,
তখন হঠাৎ উদাও হয়ে পরে ইপ্তি।অামি
ক্লাসের ফাস্টবয় ছিলাম, অার ইপ্তি
ছিলো তৃতীয়। ইপ্তি সবসময় অামার
পেছনে লেগেই থাকতো। অামাকে
অনেক চিঠিও লিখতো। তবে তার চিঠি
গুলো অামি পড়িনি সেটা সে জানতো।
তবে ইপ্তি এটা জানেনা,যে তার
প্রত্যেকটা অামার কাছে এখনো
রয়েগেছে। সে যে ভালবাসতো জানি,
কিন্তু অামিও যে ভালবেসেছিলাম,
সেটা তার অজানাই ছিলো। তবে
প্রকাশ করতাম না অামার ভালবাসা।
কারণ তখন অামি অামার কেরিয়ার
নিয়ে ভেবেছি। জেন্টর্স শপে ইপ্তিকে
চিনেছি,বাট তবুও না চেনার মত অভিনয়
করেছি। কেনো করেছি তা নিজেই
জানিনা।
.
এই রাহাদ (ইপ্তি) হঠাৎ দেখি ইপ্তি
পেছন থেকে ডাকছে। অামি থামলাম।
অামি ইপ্তির কাছে গেলাম।
-তুমি একলা দৌড়াও! (ইপ্তি)
-কেনো? (অামি)
-সেই কখন থেকে দৌড়াচ্ছি, অামি
একলা বগবগ করছি। কিন্তু তুমি কিছুই
বলছোনা।
-অামি কিছুই শুনিনি!
- অার শুনতে হবেনা,একলাই দৌড়াও!
-অাচ্ছা
-অাচ্ছা মানে?
-একলা দৌড়াবো!
-থাপড়া চিনো দাঁত ভেঙে দিবো!
-যে অামার দাঁত ভাঙতে অাসবে,
তাকে অামার বউ অাস্তো রাখবে না।
-মিথ্যা ভালোই শিখেছো।
-কে বললো?
-অামি, তুমি কি মনে করেছো তোমার
সম্পর্কে কিছুই জানিনা,সব জানি।
-সব মানে।
-সব মানে সব।মানে তুমি বিয়ে
করোনি। বাসায় তুমি অার অান্টি
মানে তোমার মা একলা থাকো। একটা
ফার্মে জব করো,বেতন ভালো। তোমার
মা বিয়ের কথা বললেও বিয়ে করছোনা
সব।
-অাপনি কে বলেন তো?
-রাহাত অন্ততপক্ষে এবার ভালো
ভাবে কথা বলো। অামি ইপ্তি চিনতে
পারছোনা।
-কোন ইপ্তি এই নামে কাউকে অামি
চিনিনা।
-সাউন্ড! (হ্যাঁ থাপ্পড় মারছে) এবার
চিনেছো?
-হ্যাঁ মনে পড়েছে। অারে তুমি
এতোদিন পর কোথা থেকে?
-শয়তান এতো ফাজিল কেমনে হলে।
অনেক পরিবর্তন হয়েছো।
-তুমি কোথায় হারিয়েছিলে? হঠাৎ
তুমি উদাও।
-অার বলোনা বাবা কিছু না বলেই
কানাডাতে নিয়ে যায়। অার অাসতেই
দেয়নি। জানো খুব মিস করেছি
তোমাদের?
-তোমাদের? অামাকে মিস করোনি?
.
-তোমাকে মিস করবো কেনো?
-জানিনা
-বলো
-তুমি না অামাকে ভালবাসতে? চিঠি
দিয়েছিলে!
-অারে দূর ঐসব তো এমনি দিয়েছিলাম।
-কিন্তু অামি!
-কিন্তু তুমি সব বিশ্বাস করেছিলে
তাই নাহ। ঐসব এমনি। তুমি অামাকে
ভালবেসে ফেলেছিলে তাই নাহ। অফস
সরি ফর ইউ রাহাদ।
-মানুষের মন নিয়ে এমনে খেলা
করোনা।
-খেলা,তুমি তো অামাকে পাত্তাই
দিতেনা।তো ভালবাসলে কখন?
-কখন ভালবেসে ফেলেছি জানিনা,
তবে এখনো ভালবাসি।
-উফস সরি রাহাদ, অামি ম্যারিড!
-অভিনন্দন। ভালো থেকো।
-কি বেপার রাহাদ বৃষ্টি অাসবে
নাকি।
-অাসলে অাসুক, কেউ ভিজবেনা।
-রাহাদ তুমি সেই অাগের ইমোশনালটা
ধরে রেখেছো দেখছি।
-ভুল করেছিলাম, বিশ্বাস ছিলো
একদিন তুমি ফিরবে, তবে এমনে ফিরবে
এটা বিশ্বাস ছিলোনা।
-অাহ রাহাদ কাঁদেনা। এতো বড় ছেলে
কাঁদলে কেমনে দেখায় বলোতো। মানুষ
দেখছে কি ভাববে বলো।
-কিছু ভাবতে হবেনা অামি গেলাম,
ভালো থাকবেন অাপনাদের বিবাহিত
জীবন সুখের হউক।
.
বাই বলে হাটা শুরু করলাম। ভালবাসা
পোঁষে রেখেছিলাম। তবে এমনটা যে
ঘটবে অাশা করিনি। অামিও কেমন
বোকা ভালো ভাবে কখনো কথা হয়নি,
যাস্ট কয়েকটা চিঠি দিয়ে ছিলো
তাতেই ভেবেছি সেও অামাকে
ভালবাসে। এখন বুঝছি সবি তার মজা।
এই হাত ছাড়েন।
.
ইপ্ত অামার হাতের ভেতর দিয়ে তার
হাত দিল।হাত ছাড়েন মানুষে কি
বলবে, অার অাপনার হাসবেন্ড দেখলে
অাপনার সমস্যা হবে।
-সমস্যা হবেনা।যে যা বলোক ভয়
করিনা। কারণ অামি অামার হবু
স্বামীর হাত ধরে যাচ্ছি।
-মানে? (অামি)
-মানে টানে অাপনার বুঝালাগবেনা।
এটা বুঝেন যে অাপনি অামাকে বিয়ে
করছেন।(ইপ্তি)
-অাপনে না বলছেন অাপনি বিবাহিত।
-এমনি বলেছিলাম। সিউর হলাম তুমি
অামাকে মনে রেখোছো কিনা। যখন
বুঝলাম মনে রেখেছো তখন পরীক্ষা
নিচ্ছিলাম, অামার দেওয়া চিঠি গুলো
তোমার মনে দাগ কেটেছিলো কিনা।
সেই দাগে অামার জন্য তোমার
ভালবাসা জন্মনিয়েছিলো কিনা।তাই
একটু বাঁজিয়ে দেখছিলাম।
-ভালোই পারেন।
-তুমি করে বলেন। ভালোই পারি শুধু
তোমাকে ভালবাসি বলে। জীবনে
প্রথম যাকে ভালবেসেছি তাকে কি
করে ভুলে যাই।তোমাকে বিয়ে করবো
বলে কানাডা থেকে এসেছি।
-যদি অামি বিয়ে করে ফেলতাম।
-বিশ্বাস ছিলো করবেনা।কারণ
কিশোর সময়ে যে ভালবাসা সৃষ্ট
হয়েছিলো তাতো ভুলার নয় অামি
জানতাম তুমি মিস করবে অামায়।অার
তুমি তোমার কেরিয়ার নিয়ে
ভেবেছিলে তো।তাই তুমি বিয়ে
করলেও তোমার পড়া শেষ করে অার
তিন চার বছর পর।সব মিলিয়েই বিশ্বাস
ছিলো অামার ভালবাসার প্রতি।অার
যদি বিয়ে করে ফেলতে তাহলে অামার
ভালবাসা নিয়েই বেঁছে থাকতাম।
.
-এখন যদি বিয়ে না করি!
-তাহলে অাপনাকে মেরেই ফেলবো।
-তাহলে তো অাপনি বিয়ের অাগেই
বিধবা হয়ে যাবেন।
-ওরে দুষ্টু
-চলেন হাটি
-হুম চলো।
হাটতে শুরু করলাম হাতে হাত রেখে এ
পথ যেনো শেষ না হয়।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now