বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চিলেকোঠার ভূত - ৩ ও শেষ পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X " চিলেকোঠার ভূত " রকিব হাসান ------------------ (৩য় ও শেষ পর্ব) ছয় জ্ঞান ফিরলে দেখল কামরুল ওর কাঁধ ধরে ঝাঁকাচ্ছে। ‘জুলি, এই জুলি, কি হয়েছে তোর? ব্যথা পেয়েছিস?’ উঠে বসল জুলিয়া। হাত চলে গেল গলার কাছে। এখনও ব্যথা আছে। বলল, ‘না, কিছু হয়নি। তুমি এলে কেন?’ ‘শুয়ে বই পড়ছিলাম। চিলেকোঠায় শব্দ শুনে দৌড়ে এসে দেখি পড়ে যাচ্ছিস। হয়েছে কি?’ ‘বিশ্বাস করবে?’ ‘বল।’ ‘কে যেন গলা টিপে ধরেছিল!’ গম্ভীর হয়ে গেল কামরুল। ‘মওলানা সাহেব নয়, বুঝতে পারছি, ডাক্তারের কাছেই নিতে হবে তোকে। খোলামেলা জায়গা থেকে হঠাৎ বদ্ধ জায়গায় এসে মাথায় গোলমাল হয়ে যাচ্ছে তোর।’ ‘বিশ্বাস করো, ভাইয়া, আমার মাথা ঠিকই আছে। কিছু একটা আছে এ বাড়িতে। সত্যি আছে।’ পরদিন সকালে ছেলের মুখে সব শুনে চিন্তিত হলেন মা। আফসার সাহেবকে বললেন, মওলানা সাহেবকে খবর দিয়ে মিলাদ পড়াতে। অফিসে যাচ্ছেন আফসার সাহেব। তাড়াহুড়া। ‘তুমিও কি পাগল হলে নাকি। মিলাদ পড়াতে চাও, পড়াও। তবে ওই ভূতের চিন্তা তাড়াও মাথা থেকে। জুলিকে ঘুমের ওষুধ খেতে বলো কয়েক দিন। ঠিক হয়ে যাবে।’ সবাই বলছে ওর মাথায় গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। জুলিও বিশ্বাস করতে আরম্ভ করল কথাটা। সেদিনে কলেজে গিয়ে এই বিশ্বাস আরও জোরদার হলো। টিচার পড়া জিজ্ঞেস করলেন। জবাবটা ওর জানা। বলার জন্যে উঠে দাঁড়াল জুলিয়া। হঠাৎ কি যেন কি হয়ে গেল ওর। মনে হলো অন্য কোনোখানে চলে গেছে। হালকা হয়ে গেছে দেহ। মেঘের মধ্যে উড়তে আরম্ভ করেছে। হই-চই শোনা গেল। বাস্তবে ফিরে এলো জুলিয়া। দেখল, সহপাঠীরা অবাক হয়ে তাকাচ্ছে ওর দিকে। মিসেস জামান বললেন, ‘জুলিয়া, তুমি বাড়ি চলে যাও। তোমার শরীর খারাপ।’ সহপাঠীদের দৃষ্টি সহ্য করতে পারল না জুলিয়া। বইখাতা হাতে নিয়ে বেরিয়ে চলে এলো। তবে বাড়ি গেল না। কি হয়েছিল জানতে ইচ্ছে করছে। কমনরুমে এসে এককোণে বসে রইল চুপচাপ। ঘণ্টা বাজল। শেষ হলো একটা ক্লাস। আরও পনেরো সেকেন্ড সময় দিয়ে কমনরুম থেকে বেরোল সে। নিজের ক্লাসে এসে দেখল, টিচার বেরিয়ে গেছেন কিনা। বাইরে থেকেই ইশারায় শিউলিকে ডাকল। বারান্দায় বেরিয়ে এলো শিউলি। ‘তুমি যাওনি?’ ‘না। কি করেছিলাম জানতে ইচ্ছে করছে।’ অবাক দৃষ্টিতে তাকাল শিউলি। ‘সত্যি কিছু মনে নেই তোমার?’ ‘না।’ ‘কি বলেছ, কিছুই মনে নেই?’ নীরবে মাথা নাড়ল জুলিয়া। ভুরু কুঁচকে দীর্ঘ একটা মুহূর্ত জুলিয়ার দিকে চেয়ে রইল শিউলি। ‘তুমি বলেছ, চেঁচিয়ে বলেছ- আশীষ, তুমি এ কাজটা কি করে করতে পারলে আমার সঙ্গে! আমি তোমার পথ চেয়ে বসে থেকেছি, কতদিন বসে থেকেছি...' ‘আর কিছু?’ ‘না। ওই যে, টিচার এসে গেছেন, যাই। তুমি বাড়ি চলে যাও। একা যেতে পারবে? না পারলে টিচারকে বলে দিয়ে আসি তোমাকে?’ ‘না, লাগবে না, পারব।’ সকাল থেকেই মেঘলা ছিল আকাশ। টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে এখন। মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল জুলিয়ার। একটা রিকশা ডেকে বাড়ি ফিরে এলো। বাকি দিনটা বিছানায় পড়ে রইল সে। শরীর খারাপ হয়েছে ভেবে মা-ও বিরক্ত করলেন না। জুলিয়া একটা কথা বুঝে গেছে, তার মাথা খারাপ হয়নি। চিলেকোঠায় সত্যি কিছু আছে, যে তার ওপর ভর করতে চাইছে। বেশি সময় দিলে পুরোপুরি কাবু করে ফেলবে ওকে ওটা। তারপর কি করবে ওকে নিয়ে? মেরে ফেলবে? গায়েব করে দেবে? রীতার মতো? ভীষণ বিপদের মধ্যে আছে সে। যতই সময় যাবে, বাড়বে সেটা। বাঁচতে চাইলে যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে। কিন্তু কি করবে? কি করলে শান্তি মিলবে সবিতার অশান্ত আত্মার? এক উপায় আছে, এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া। তার জন্যে পুরো পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে হোক, এটা চায় না সে। তার বাবা সবে বদলি হয়ে এসেছেন, বেতনও তেমন বেশি পান না যে এখুনি অন্য বাসায় উঠে যাবেন। যেতে হয়তো পারেন, তাহলে অনেকগুলো টাকা অহেতুক ব্যয় হয়ে যাবে ভাড়ার পেছনে। তা ছাড়া...তা ছাড়া, আরও একটা ব্যাপার, এই বাড়িটাকে ভালোবেসে ফেলেছে সে। এই অন্ধকারেরও যেন কেমন একটা নেশা রয়েছে। বাইরে দিনের আলো, ঘরের মধ্যে অন্ধকার, বাতি জ্বেলে সব কাজ করতে হয়। তার ওপর নীরবতা। ঢাকা শহরের প্রচণ্ড কোলাহলের খুব সামান্যই পৌঁছায় এখানে। অন্য বাড়িতে গেলে শব্দের চোটেই কান ঝালাপালা হয়ে যাবে হয়তো। না, সে যাবে না এই বাড়ি ছেড়ে। ভূতটাকেই বিদেয় করবে। ভূত তাড়ানোর যত রকম উপায় বইতে পড়েছে, সব ভেবে দেখল। কোথায় যেন পড়েছে, ভূতেরা কোনোও যুক্তি বোঝে না। সামনে যেটা দেখে, যা শোনে, সেটাকেই সঠিক ধরে নেয়। বুদ্ধিটা মাথায় এসে গেল তার। বিছানা থেকে লাফিয়ে নেমে এসে রান্নাঘরে ঢুকল। চা বানাচ্ছেন মা। ‘আম্মা, আব্বা এসেছে?’ ‘হ্যাঁ, এইমাত্র এলো। বাথরুমে।’ রান্নাঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে গেল জুলিয়া। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন মা। চেহারায় দুশ্চিন্তা ফুটল। আফসার সাহেব বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখতে পেলেন, পায়চারি করছে জুলিয়া। তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে হেসে বললেন, ‘খুব ঘুমিয়েছিস। অন্ধকার ঘর, শব্দ নেই, বাইরে একটানা বৃষ্টি...দারুণ আরাম, তাই না?’ ‘তুমিও পোড়োবাড়ির প্রেমে পড়েছ। বাবা, বাড়িটা থেকে যাব না আমরা।’ ‘যাব না বললেই তো আর হয় না, অন্যের বাড়ি। এত বড় বাড়ি কেনার কি আর সাধ্য আছে আমার।’ ‘যতদিন থাকতে দেয়, ততদিনই থাকব।’ ‘তা তো থাকবই। কেন, শীঘ্রি চলে যেতে হবে এ ভয় হচ্ছে নাকি তোর?’ ‘বাবা, তুমি বসো। তোমার সঙ্গে জরুরি কথা আছে আমার।’ ‘চা দিতে এলেন মা।’ জুলিয়া বলল, ‘আম্মা, তুমি এখন যাও। বাবার সঙ্গে আমার কথা আছে।’ মেয়ের মুখের দিকে নীরবে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বেরিয়ে গেলেন মা। আধঘণ্টা পর আফসার সাহেব বললেন, ‘চল, কাজটা সারতে হলে এখনই বেরোতে হবে।’ সাত রাত নটায় বাড়ি ফিরলেন দুজনে। মেয়েকে নিয়ে সোজা অফিসে চলে গিয়েছিলেন আফসার সাহেব। একটা নিউজ লিখে, সেটাকে কম্পোজ করিয়ে, পুরনো মলিন কাগজে ছেপে নিয়েছেন। দেখে মনে হয়, অনেক পুরনো একটা খবরের কাগজের কাটিং ওটা। মেয়ের মাথায় ভূতের রোগ চেপেছে। সেটাকে তাড়ানোর জন্যেই সে যা বলেছে, তাই করতে রাজি হয়েছেন। মানসিক রোগ সারাতে হলে অনেক সময় রোগীর কথামতো চললে কাজ হয়। কামরুলের সঙ্গে দেখা হয়ে গেলে নানা রকম প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে এই ভয়ে সবার সঙ্গে খাবার টেবিলে বসল না জুলিয়া। কামরুল চলে যাওয়ার পর একা একা এসে খেয়ে নিল সে। খাওয়ার পর এক মুহূর্ত দেরি করল না, নিজের ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে দিল। ভীষণ উত্তেজিত। বারবার হাত দিয়ে দেখছে বালিশের নিচে রাখা খবরের কাগজের কাটিংটা ঠিক আছে কিনা। এগারোটা বাজল। বারোটা। নিস্তব্ধ হয়ে গেল সব। যাওয়ার সময় হলো। বিছানা থেকে নামল জুলিয়া। ভয় লাগছে। বুকের মধ্যে কাঁপছে। কাজ হবে তো? নাকি আরও বেশি বিপদে পড়বে? বালিশের তলা থেকে কাগজটা বের করে নিল। জানালা খুলে বাইরে তাকাল। অবাক হয়ে গেল দেখে, জ্যোৎস্নায় ঝলমল করছে আকাশ। বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময়ও দেখেছে আকাশের মুখ গোমড়া, মেঘে ঢাকা, একটাও তারা দেখা যাচ্ছিল না। এর মধ্যেই কেটে গেল মেঘ! শরতের আকাশের কোন মাথামুণ্ডু নেই। দরজা খুলে বেরিয়ে এলো সে। পা টিপে টিপে উঠতে শুরু করল কাঠের সিঁড়ি বেয়ে। চিলেকোঠার ভেজানো দরজার সামনে থমকাল এক সেকেন্ড। ঠেলা দিয়ে খুলে ফেলল। ভেতরে অন্ধকার। অন্যদিন যা হয়েছে, আজও তাই হলো, ভাপসা গন্ধ এসে ধাক্কা মারল নাকে। হাত ঘামছে ওর। বুকের খাঁচায় অস্থির হয়ে দাপাদাপি করছে হৃৎপিণ্ডটা। কি ভয়ঙ্কর কাজ করতে চলেছে ভেবে অনড় হয়ে গেল পা। কথা শুনতে চাইছে না। বার কয়েক দোয়া-দরুদ পড়ে ফুঁ দিল বুকে। তারপর মনটাকে শক্ত করে নিয়ে ঢুকে পড়ল ভেতরে। মোম ধরানোর জন্য খস করে দেশলাই জ্বালতেই আলো যেন লাফ মারল। ধড়াস করে উঠল বুক। আরেকটু হলে কাঠিটা পড়ে যাচ্ছিল হাত থেকে। কাঁপা হাতে মোমটা ধরিয়ে বসিয়ে দিল তাকের কোণে। ভীত দৃষ্টিতে তাকাল চারপাশে। বড় বড় ছায়া নাচছে অন্যদিনের মতোই। আস্তে করে ডাক দিল, ‘সবিতা? সবিতা, কাছে এসো।’ আগের মতোই নাচছে ছায়াগুলো। কাগজের কাটিংটা বের করে মোমের সামনে ধরল জুলিয়া। ‘সবিতা, ডাকছি আমি তোমাকে। কাছে এসো।’ আচমকা শীতল বাতাস বয়ে গেল ঘরের মধ্যে। ঝাপটা লেগে কেঁপে উঠল মোমের শিখা। কি যেন গা ছুঁয়ে গেল জুলিয়ার। এক মন বলছে, পালাও, এক্ষুনি! আরেক মন বলছে, না, যাবে না, কাজ শেষ করো! বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ডের ঢিপ ঢিপ শব্দ যেন কানে এসে বাজছে ওর। ‘সবিতা,’ কণ্ঠস্বরে জোর এনে বলল সে, ‘শোনো। মন দিয়ে শোনো। আমি তোমাকে একটা খবর জানাতে এসেছি। যেদিন তোমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, তার পরের দিনের খবর, পত্রিকায় বেরিয়েছিল।’ শুকনো ঠোঁটে জিভ বোলাল জুলিয়া। অনুভব করছে, ওর পাশেই রয়েছে এখন সবিতা। ওর কথা শুনছে। ‘সবিতা, শুনতে পাচ্ছো? দাঁড়াও, খবরটা পড়ছি আমি। সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু। আজ এখানে একটা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, শহরের বিখ্যাত একটা অলঙ্কারের দোকান হইতে বিবাহের জন্যে গহনা কিনিয়া দোকান হইতে বাহির হইয়াছিল এই তরুণ। হঠাৎ পিছন হইতে একটি গাড়ি আসিয়া তাহাকে সজোরে ধাক্কা মারিয়া রাস্তায় ফেলিয়া দিয়া পিষ্ট করিয়া চলিয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তরুণের মৃত্যু ঘটে। জানা গিয়াছে তাহার নাম আশীষ। সেইদিন তাহার বিবাহ হইবার কথা ছিল, সেই জন্যেই গহনা কিনিতে দোকানে গিয়াছিল।’ থামল জুলিয়া। কখন যে চোখের কোণ ভিজে এসেছে তার, নিজেও বলতে পারবে না। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল অশ্রু। ‘সবিতা, আশীষ কেন আসেনি সেদিন, বুঝতে পারছ তো? ওর আসার কোনো উপায় ছিল না।’ ধীরে ধীরে বদলে যেতে আরম্ভ করল ঘরের আবহাওয়া, টের পাচ্ছে জুলিয়া। তাজা অক্সিজেন আসছে। ভাপসা গন্ধ আর ভারি ভাবটা চলে যাচ্ছে। সাহস বাড়ল জুলিয়ার। গলায় সহানুভূতি ঢেলে বলল, ‘তোমার সঙ্গে দেখা করার জন্যে অস্থির হয়ে আছে আশীষ। পরপারে অপেক্ষা করছে সে। তোমাকে ও ভালোবাসে। আর দেরি করো না। ওকে আর কষ্ট দিয়ো না। ওর কাছে চলে যাও। তোমরা সুখী হও, সবিতা।’ মড়মড় করে উঠল জানালার পাল্লা পেরেকগুলো উপড়ে এলো। খুলে পড়ে গেল আড়াআড়ি লাগানো তক্তা। ঝটকা দিয়ে খুলে গেল পাল্লা। জুলিয়ার হাতে আলতো করে ধরা কাগজের কাটিংটা দমকা বাতাসে উড়ে গিয়ে পড়ল মোমের শিখার ওপর। আগুন ধরে গেল। নিভে গেল মোম। পুড়ে ছাই হলো কাগজটা। লালচে আভাটুকুও নিভে গেল। কিন্তু অন্ধকার হলো না ঘর। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে। ফুরফুর করে বাতাস ঢুকছে। ভাপসা গন্ধ উড়িয়ে নিয়ে গেছে তাজা বাতাস। চিলেকোঠাটাকে আর অন্য রকম লাগছে না জুলিয়ার কাছে। মনে হচ্ছে বাড়িটার আর সব ঘরের মতোই সাধারণ। ভয় দূর হয় ওর। এক অজানা আনন্দে ভরে উঠল মন। সব ভার কেটে গেছে। জানালার সামনে এসে দাঁড়াল সে। বহুদূর দেখা যায়। রাস্তার ওপাশে অনেকগুলো নারকেলগাছওয়ালা একটা বাড়ি। জ্যোৎস্নায় চকচক করছে ওগুলোর বৃষ্টিভেজা পাতা। চোখ গেল আকাশের দিকে। কত্তবড় চাঁদ! গোল, বিশাল এক রুপালি থালার মতো। আজ যে পূর্ণিমা, জানেই না ও। মনে পড়ল, এমনি এক রাতেই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সবিতার। হয়নি। আজ কি হবে? সত্যি কি পরপারে গিয়ে আজ আশীষের আত্মার সঙ্গে দেখা হবে ওর? লাল শাড়িটার কথা মনে পড়ল জুলিয়ার। ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করল। দেখতে চায়, আজ ওটা ছুঁলে কোনো অনুভূতি হয় কিনা। মোমটা জ্বালল আবার। তাক থেকে তুলে নিয়ে এসে দাঁড়াল ট্রাংকটার সামনে। ডালার দিকে চোখ পড়তে স্তম্ভিত হয়ে গেল। আগের লেখাটা মুছে গেছে। ধুলোর আস্তরণের ওপর আঙুল দিয়ে সেই একই হস্তাক্ষরে লেখা : ধন্যবাদ! হাঁ করে তাকিয়ে রইল জুলিয়া। ভাবছে, সেদিনের লেখাটা তাহলে কামরুল লেখেনি। (সমাপ্ত) ----------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চিলেকোঠার ভূত - ৩ ও শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now