বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়—৭

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়" মানবেন্দ্র পাল --------------------- (পর্ব ৭) ▪▪▪​জ্যোৎস্না রাতের অলৌকিক মায়া▪▪▪ দুটি কাজ আমি নির্বিঘ্নে শেষ করেছি। একটি ডায়েরিটা পড়ে। আর একটি দুর্গম দুর্গের ভিতরে ঢোকার সাংকেতিক চিহ্ন আঁকা কার্ডটি পার্টিশানের ফাঁক দিয়ে পাশের ঘরে নিঃশব্দে ফেলে দেওয়া। ছকটা নিশ্চয় ভিরুবাগুর চোখে পড়েছে ৷ কিন্তু সেটা পেয়ে তার মনে যে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে তা আমি এখনও টের পাইনি৷ সুরঞ্জনবাবুকে ডায়েরিটি ফেরত দেবার সময়ে উনি আমাকে জ্যিগ্যস করলেন, সব কথাই আপনি তো জানতে পারলেন। বোধহয় এর চেয়ে ভালো করে আমি আপনাকে কিছু বলতে পারতাম না। বললাম্, তা ঠিক ৷ তা হলে বুঝতে পারছেন। জায়গাটা ৰিপদজনক কী কারণে? বললাম, একটা জিনিস আমার কাছে এখনও স্পষ্ট নয়... আমার কথা চাপা দিয়ে সুরঞ্জনবাবু বললেন, বুঝেছি৷ জানতে চাইছেন যে প্রেতছায়াকে স্মিথ দেখেছিলেন সেটা কার? রাজভান্ডারের কল্পিত অশরীরী রক্ষকের, না যুবরাজের? বললাম, ওটার মীমাংসার জন্যে আমার আগ্রহ নেই। আমার কৌতুহল পাথরের ছাদ চু'ইয়ে রক্ত পড়া বা দেওয়ালে রক্তমাখা হাতের ছাপ কার? সুরঞ্জনবাবু বললেন, ওটার উত্তর আমিও খুঁজে পাইনি৷ পরে আর কেউ সেরকম কিছু দেখেছিলেন কিনা জানা নেই। মনে রাখতে হবে ভৌতিক ব্যাপারটাই তো রহস্যময়। তাই না ? আমি কিছুক্ষণ পরে জ্যিগ্যস কারলাম, বলতে পারেন স্মিথ কোথায় মারা গিয়েছিলেন? সুরঞ্জনবাবু বললেন, সঠিক বলতে পারব না৷ তবে ডায়েরিটা নাকি পাওয়া গিয়েছিল পাহাড়ের ওপর এ গড়েই। বললাম, তা হলে তো বোঝাই যাচ্ছে ঐ গড়ের তীব্র আকর্ষণে স্মিথ বারে বারে ছুটে গিয়েছিলেন। তারপর আলোর পোকাের মতো ওখানেই একদিন শেষ হয়ে যান৷ সুরঞ্জনবাবু কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, হয় তাে তাই৷ একটু থেমে বললেন, তাই আমি বলি দুর পাহাড়ের ওপর ঐ কেল্লার মায়াবী আকর্ষণে যে ছুটে যাবে তাকে মরতেই হবে। একটু অবাক হয়ে বললাম, আচ্ছা, সুরঞ্জনবাবু… পাথরের তৈরি ভাঙাচোরা একটা কেল্লা সত্যিই হাতছানি দিয়ে মরণডাক ডাকে? সুরঞ্জনবাবু একটু হাসলেন৷ ঠাট্টা করে বললেন, আপনিও তো দেখছি মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন৷ ও সব চিন্তা ছাড়ুন৷ কাল আদিবাসীদের একটা বড়ো পরব আছে৷ আমি ঘোড়ার ব্যবস্থা করব৷ কাল চলুন, দেখে আসি৷ সুরঞ্জনবাবুর আন্তরিক প্রস্তাব আমার কানে গেল না। বললাম, আচ্ছা… আমার পাশের ঘরের বন্ধুদের সাড়া পাচ্ছি না তাে। সুরঞ্জনবাবূ বললেন, ও'রা কখন যে কোথায় যান আমার বলে যান না৷ অথচ আমার একটু জানিয়ে যাওয়া উচিত৷ হাজার হোক অপরিচিত জায়গা তো৷ ওরা কজন আছেন? পাঁচজন। সবাই বাঙালি? হ্যাঁ। সেটাই ভাবনার৷ জ্যিগাস করলাম, কেন? বেশি গভীর জঙ্গলে গিয়ে পথ হারালে বাংলা ভাষায় জিজ্ঞেস করলে কোনো ফল পাওয়া যাবে না৷ সুরঞ্জনবাবু নীচে চলে যাবার অল্পক্ষণ পর সিঁড়িতে ভারী জুতোর শব্দ শুনে বুঝতে পারলাম আমার প্রতিবেশী বন্ধুরা সদলবলেই ফিরল, তবে বেশ ভদ্রভাবে৷ তালা খোলার শব্দ পেলাম পর পর তিনটে ঘরে। তারপর জানলা খোলার শব্দ ৷ তারপর একটা ঘরে গেলাস ভাঙার শব্দ……তারপর সব শান্ত -সব ম্ভব্ধ৷ আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম। অনেক রাতে হঠাৎ আমার ঘুমটা ভেঙে গেল ৷ দূরে কোথায় যেন ঘোড়ার খুরের শব্দ আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ এখানে ঘোড়ার খুরের শব্দ এল কোথা থেকে ভাবতে গিয়ে মনে পড়ল আজই সন্ধেবেলা সূরঞ্জনবাবু আদিবাসীদের পরব দেখতে যাবার জন্যে ঘোড়ার ব্যবস্থা করে রাখবেন বলেছিলেন। তিনি ভালো কথাই বলেছিলেন, কিন্তু একজন পুরােদস্তুর শহরবাসী যে কোনদিন ঘোড়ার চড়েনি সে এই জঙ্গল পাহাড়ের রাস্তায় কীভাবে ঘোড়া চালাবে সেই অসম্ভব, অবাস্তব ব্যাপারটা বোধহয় ঘুমিয়ে পড়ার আগে পর্যন্ত মাথায় ঘুরছিল। তারই ফলে স্বপ্নের মধ্যে ঘোড়ার খুরের শব্দ শুনেছি। ঘুম ভাঙতেই দেখলাম উত্তর দিকের জানলা দিয়ে একরাশ চাঁদের আলো এসে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। এখানে এসে, এমন চাঁদের আলো দেখতে পাব আশা করিনি৷ ধীর মন্থর পায়ে উঠে বেরিয়ে এলাম৷ এই আমার সেই প্রিয় বারান্দা৷ শুধু আমারই প্রিয় তা নয়, এই হোটেলে যেই আসে আগেই সে দাবি করে বসে এই দশ নম্বর ঘরটা-ঐ বারান্দাটুকুর লােভে। আমি ভাগ্যবান তাই এই বারান্দা সংলগ্ন ঘরটা আমিই পেয়েছি৷ কৃষ্ণপক্ষের নিস্তব্ধ রাতে চাঁদ যেন দু’ হাতে করে মুঠো মুঠো জ্যোৎস্না ছড়িয়ে দিয়েছে গাছগাছালির পাতায় পাতায় আর আমাদের এই হোটেলের বারান্দায় বারান্দায়৷ যে ভাগ্যবান সেই দেখতে পায়। আমি এদিক ওদিক দেখতে দেখতে হঠাৎ উত্তর দিকে ফিরতেই স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। একদিন আমেরিকার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছিল বিশাল টাইটানিক জাহাজ। অতলান্ত আটলান্টিকের বুকে গভীর রাতে চলতে চলতে মায়াবী জ্যোৎস্নায় ঢাকা মহাসাগরের বুক ফুড়ে হঠাৎ বিপুলাকার হিমশৈলকে একেবারে জাহাজের সামনে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জাহাজের ওয়্যারলেসে অপারেটর জ্যাক ফিলিপ্স যেমন হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন, আমিও তেমনি জ্যোৎস্নার আলোয় হোটেলের একেবারে সামনে সেই দুর্গপ্রাসাদটাকে দেখে ভয়ে বিহ্বল হয়ে গেলাম৷ এই নিয়ে দুবার ওটাকে এত কাছ থেকে দেখতে পেলাম৷কিন্তু তা মুহূর্তের জন্যে৷ অল্প পরেই সেটা অদৃশ্য হয়ে গেল। তারপরেও কতক্ষন খোলা বারান্দায় আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম খেয়াল ছিল না। এক সময়ে হুশ হল। রাত বোধহয় তখন তিনটে। আমি ধীরে ধীরে ঘরে এসে ঢুকলাম আর সঙ্গে সঙ্গেই মনে হল কিছু একটা যেন ঘর থেকে বেরিয়ে আমার গা ঘেঁষে ছুটে বারান্দার পাঁচিলের দিকে গেল৷ তারপর পাঁচিলে উঠে শূন্যে ঝাঁপ দিল৷ আমি কাঁপতে কাঁপতে বিছানায় বসে পড়লাম। ▪▪▪মৃত্যুর হাতছানি▪▪▪ এবার নিয়ে দুবার হল এই হোটেলে আমার দশ নম্বর ঘরে ভয়ের ব্যাপার ঘটল৷ প্রথমবার সেই প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় ঘরে ঢুকতে গিয়ে শেকলে হাত দিতেই আমার হাতের ওপর অদৃশ্য হাতের চাপা আর এদিন ভোর রাত্রে আমারই ঘরের মধ্যে ছায়ামুর্তির আবির্ভাব৷ সন্দেহের অবকাশ নেই বিন্দুমাত্র -সেই ছায়ামুর্তিটি আমার গা ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল৷ তার পর দােতলার পাঁচিল থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল। এ সব ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রমাণ থাকে না৷ কে কী কারণে এই রকম অদ্ভুত আচরণ করল তারও সঠিক উত্তর পাওয়া যায় না৷ হয় চোখকান বুজে বিশ্বাস করতে হয়, নতুবা উড়িয়ে দিতে হয়৷ আমি বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু উড়িয়ে দিতেও পারি না। আমি প্রথম দিনের ঘটনা সুরঞ্জনৰাবুকে বলিনি৷ কিন্তু দ্বিতীয়বার যে ঘটনা ঘটল তা সুরঞ্জনবাবুকে জানাতেই হবে৷ কারণ এখন বুঝতে পারছি আমার এই দশ নম্বর ঘরটি আর নিরাপদ নয়। কোন অশরীরী আত্মা সেদিন কেন আমার হাত চেপে ধরেছিল এ যেমন জানা শক্ত তেমনি জানা শক্ত এই ঘরের মধ্যেই কার ছায়ামূর্তি সারারাত আস্তানা গেড়ে ছিল৷ এ বাড়ি বা এই ঘরের সঙ্গে এই দুটি ঘটনার কী যোগসূত্র-কে তা বলতে পারে? তবে এটা স্থির বুঝেছি এই ঘরে আমার থাকা আর মোটেই নিরাপদ নয় ৷ পরের দিনই আমি সূরঞ্জনবাবুকে সব কথা বললাম ৷ শুনে সুরঞ্জনবাবু কিছুক্ষণ গুম হয়ে রইলেন৷ তারপর বললেন, প্রথম দিনের ব্যাপারটা আমার আগেইবলা উচিত ছিল৷ তাঁর গলার স্বরে আমার ওপর বিরক্তি ঝরে পড়ছিল। কথার ধরনটা যেন কেমন। আমি ক্ষুব্ধ হলাম৷ পাল্টা বিরক্তি প্রকাশ করে বললাম, আপনাকে বলেই বা কী হত? আপনি কি বলতে পারতেন, আমার হাতটা যে চেপে ধরেছিল সে কে ছিল? কিংবা এটাই বলুন না যে ছায়ামূর্তিটি ভােরবেলায় আমার ঘরে বসেছিল সে কে? সুরঞ্জনবাবু কােনােরকম উত্তেজনা প্রকাশ না করে শুধু মাথা নাড়লেন ৷ বললেন, না, এ দুটো ঘটনার কোনো একটির সম্বন্ধেও আমি কিছুই বলতে পারব না। তবু এটা ঠিক, আমি এখানে বহু দিন থাকার সুবাদে এই অঞ্চলের অনেক কিছুই জানা আছে। এই বাড়িতে এর আগেও এইরকম আরো ঘটনা ঘটেছে যা প্রচার হলে হোটেলে কেউ থাকতে সাহস করবে না। যেমন আপনি আর ও ঘরে থাকতে চাইছেন না-এ কথাটা জানাবার জন্যেই সাত-সকালে নেমে এসেছেন আমার সঙ্গে দেখা করতে। ঠিক কিনা? সলজ্জভাবে স্বীকার করলাম। বললাম, ও ঘরে থাকাটি আমার পক্ষে এখন আর নিরাপদ নয়। তা হলে? আমাকে অন্য একটা ঘর দিন৷ সুরঞ্জনৰাৰু ঠোঁটের ফাঁকে হাসলেন৷ বললেন দিতে পারি। কিস্তু ভেবে দেখেছেন কি যে ঘরটার জন্যে মিস্টার ভিরুবাগুর সঙ্গে এত অশাস্তি হয়ে গেল… আজ আপনি স্বেচ্ছায় সে ঘর ছেড়ে দিচ্ছেন দেখে সব ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যাবে না ? শেষ পর্যন্ত ভুতের ভয়ে আপনি ঘর ছাড়লেন, এটা প্রচার হলে আপনার সম্মান থাকবে? আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম, কিন্তু ঐ ঘরে থাকা কি আর সম্ভব? সুরঞ্জনবাবূ বললেন, খুব সম্ভব। কেন কদিন তো ঐ ঘরেই রইলেন৷ তেমন কোন অসুবিধে হয়েছে কি? আর বাকি যে কটা দিন এখানে থাকবেন ভাবছেন সে কটা দিন চোখ বুজে ভগৰানের নাম করে কাটিয়ে দিন। দেখবেন বিপদ আপনার ধারে কাছে ঘেঁষতে পারবে না৷ সুরঞ্জনবাবূর পরামর্শ ভালোই লাগল ৷ সত্যিই আজই যদি দশ নম্বর ঘরটা ছেড়ে দিয়ে অন্য ঘরে চলে যাই তা হলে ভিরুবাগু আর তার দলবল যে হাসবে ৷ ভুতের ভয় জীবনে কখনও করিনি৷ আর সবচেয়ে মজার কথা হচ্ছে আজ বাদে কাল যখন কলকাতায় ফিরে যাবো তখন সেই চিরপরিচিত আলো, পাখা, টিভি আর ক্রমাগত ট্রামবাসের যান্ত্রিক শব্দের মধ্যে বসে সুদূর ছত্রিশগড়ের কোনো এক অখ্যাত জায়গায় কয়েকদিনের এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা মনেই পড়বে না৷ কাজেই ঘর বদলাবার কথা চিন্তা না করে মনে সাহস নিয়ে ঐ দশ নম্বরেই থেকে গেলাম। এর পর কয়েকটা দিন উত্তর দিকে তাকাইনি ৷ ভূলতে চেষ্টা করছিলাম সেই রহস্যময় দুর্গের কথা। এদিকে গত দুদিন মিস্টার ভিরুবাগু দের গলা শুনতে পাচ্ছি না৷ র্তারা এখানে আছেন কি না তাও সঠিক জানি না-জানতে ইচ্ছেও করে না। এরই মধ্যে অন্যমনস্ক থাকার জন্যে একদিন বস্তার জেলার যুবক যুবতীদের ‘করমা নৃত্য’ দেখে এলাম। করমা দেবীকে খুশি করার জন্যেই আদিবাসীরা এই নাচ-গানের অনুষ্ঠান করে ৷ সঙ্গে থাকে মাদল, ঝাঁঝ আর ঢোল৷ বেশ কয়েকঘণ্টা আনন্দে কেটে যায়৷ ও অঞ্চলে একদিন রাউং নাচ উৎসবও দেখলাম। আমাদের পশ্চিম বাংলার যাদের গােয়ালা বলে রাউং হচ্ছে সেই জাত ৷ এরা গোসেবা করে৷ দুধ দই বিক্রি করে৷ এই রাউংরা নিজেদের শ্রীকৃষ্ণের বংশধর বলে মনে করে৷ আর গোবর্ধনের পুজাে করে। এমনি ভাবে তিন চারদিন কেটে গেল। বেশ ভুলেই গিয়েছিলাম অলৌকিক ব্যাপারগুলাের কথা। কিন্তু হঠাৎ সেদিন ঘটল একটা কাণ্ড ৷ সক্কালবেলাতেই সুরঞ্জনৰাবু হন্তদন্ত হয়ে আমার ঘরে এসে হাজির। জিগ্যেস করলাম কী ব্যাপার? হঠাৎ এইভাবে? সুরঞ্জনৰাবু বললেন, খুব মুশকিলে পড়েছি সোমেশ্বরবাবু। আজ চারদিন হল মিস্টার ভিরুবাগু বা তার সঙ্গীদের কোনো খবর নেই৷ অবাক হয়ে বললাম, সে কী? চারদিন কোনো খবর নেই৷ আমিও ওদের কদিন না দেখে অবাক হচ্ছিলাম৷ কোথায় গেছে কিছু বলে যাননি? সুরঞ্জনবাবু বললেন, অনেকেই বলে যান না। আমি নিজে থেকে জিজ্ঞেস করি না। তবে এইসব অজানা অচেনা জায়গায় আমাকে একটু বলে গেলে ভালো হয় ৷ এ সাধারণ জ্ঞানটুকুও অনেকের থাকে না। বললাম, চারদিন আগে মিস্টার ভিরুৰাগু কখন বেরিয়েছিলেন? সুরঞ্জনবাবু বললেন, কদিন থেকেই তিনি বলছিলেন পাহাড়ের ওপর এ পুরনো গড়টা দেখতে যাবেন। তা আমি নিষেধ করেছিলাম। উনি কিন্তু গুরুত্ব দেননি। তারপর ঐদিন সকাল সকাল খেয়ে ওরা বেরিয়ে গেলেন৷ ইচ্ছে করেই জিজ্ঞেস করিনি কোথায় যাচ্ছেন৷ তবে আমি নিশ্চিত যে উনি সদলবলে ঐ পাহাড়টাতেই গেছেন ৷ তার পর থেকে এখনও ফেরেননি। বললাম, ওখানে রাত্তিরে থাকার ব্যবস্থা আছে? আমার বোকার মতো কথা শুনে উনি একটু হাসলেন৷ বললেন, আমি কখনও ওখানে যাইনি ৷ যাবার দরকারও হয়নি ৷ তবে স্মিথের ডায়েরি তো আপনি পড়েছেন ৷ সেখানে কোথায় কীভাবে যুবরাজ বা স্মিথ নিজে রাত্রিবাস করেছিলেন সেটা থেকে যা জানা যায়। বললাম, ওখানে পৌঁছে কিছুক্ষণ ৰিশ্রাম করে ফিরতে কত সময়ে লাগতে পারে? সুরঞ্জনবাবু বললেন, ঘোড়ার চেপে গেলেও ফিরতে ফিরতে সন্ধে হয়ে যাবে। তারপর অন্ধকারে এগােনো যায় না৷ তবে ভোরবেলায় বেরিয়ে গেলে সন্ধের মুখে ফেরা সম্ভব। জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কি ধারণা ওনারা ঐখানেই গেছে? ধারণা নয়। জানতে পেয়েছি মিস্টার ভিরুবাগু শুধু নিজের সঙ্গীদের নিয়েই নয়, কয়েকজন আদিবাসীদেরও মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে সঙ্গে নিয়ে গেছে।এ খবর আপনি কার থেকে পেলেন? আদিবাসী পাড়া থেকে। বলে চিন্তায় যেন ভেঙে পড়লেন৷ কিছুক্ষন পর সুরঞ্জনবাবু বললেন, এই যে আমার হোটেল থেকে চারজন মানুষ তার সঙ্গে কয়েকজন আদিবাসী উধাও হয়ে গেল, এর জন্যে পরে হয়তো আমাকেই জবাবদিহি করতে হবে৷ তা হলে? এখন কী করব তাই ভাবছি। বললাম, আমার মনে হয় দু এক দিনের মধ্যেই ওরা ফিরে আসবেন। সুরঞ্জনবাবু ঈষৎ বিরক্ত হয়ে বললেন, ঐ জায়গা সম্বন্ধে বাস্তবে আপনার কোনো ধারণা নেই বলেই এটা নিশ্চিন্ত হয়ে এ কথা বলতে পারছেন৷ কিন্তু আমি বলছি জেনে রাখুন, ওদের একজনও ফিরবে না। ফেরবার হলে প্রথমদিনেই কিংবা তার পরের দিন ফিরে আসত। এতক্ষণে বিপদের গুরুত্ব বুঝতে পারলাম l বললাম, তা হলে? সুরঞ্জনবাবু বললেন, সব জেনে সব বুঝে আমি হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। ভাবছি কাল ভোরেই আমি ওখানে চলে যাব ৷ তারপর যা থাকে কপালে। আপনি একলা যাবেন? তা ছাড়া নিশ্চিত বিপদের মুখে কাকে টানব? বললাম, ঠিক আছে সুরঞ্জনবাবু, আমি আপনার সঙ্গে যাব৷ সুরঞ্জনবাবু কিছুক্ষণ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন৷ তারপর বললেন, সোমেশ্বরবাবু, আপনি কি ভালো করে ভেবে বলছেন ? হ্যা।একেবারে মনস্থির করে বলছি ৷ তবে আমার মনে হয় সব ব্যাপারটা সদরে জানিয়ে রাখা আপনার কর্তব্য। সুরঞ্জনবাবু বললেন, আমি কালই খবর পাঠাচ্ছি৷ (শেষ পর্ব আজকেই দেওয়া হবে) --------------------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়—৭

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now