বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়- ৫

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়" মানবেন্দ্র পাল -------------------- (পর্ব ৫) ▪▪▪​অন্ধকার পাহাড়ে দেওয়ালি▪▪▪ সন্ধ্যার পর ঘরে একলা মুখ বুজে কী করব ভেবে যখন বুঝে পাচ্ছি না তখন মনে পরল সুরঞ্জনবাবু বলেছিলেন আজ সন্ধ্যায় উনি আসবার চেষ্টা করবেন। উনি এলে সময় কাটাবার কোনো অসুবিধে হবে না। কিন্তু উনি আজ আসবেন কী? ভাবতে ভাবতেই দরজায় মৃদু শব্দে কড়া নড়ে উঠল। আমি দরজা খুলে দিলাম। ওর ঠোটে ভদ্রতাসূচক এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল ৷ ভাবছিলেন তো বুঝি এলাম না ? হাসলাম ৷ বললাম, আসলে আপনার সঙ্গটুকু পাবার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ধন্যবাদ৷ বলে একটু হাসলেন ৷ তারপর বললেন, দুদিন তো কেটে গেল। আদিবাসীদের উৎসব কবে কােনটা দেখবেন ঠিক করলেন কিছু? অন্যমনস্কভাবে আমি মাথা নাড়লাম৷ সুরঞ্জনবাবূ একটু যেন অবাক হয়ে বললেন… এখানকার উৎসবগুলাে দেখবার টানেই তাে আপনি এখানে এসেছেন ৷ বললাম, ঠিকই বলেছেন৷ কিন্তু কষ্টিপাথরের মতো কালো দুর্গ আর ছেদী রাজবংশের সেই হতভাগ্য যুবরাজ এখন আমার মনকে আচ্ছন্ন করে আছে ৷ আপনি ভাবতে পারবেন না সুরঞ্জনবাবু, ওই কালো দুর্গটা কীভাবে আমাকে টানছে৷ সুরঞ্জনবাবু বললেন… তাই বলে ভুলেও যেন ঐ দিকে যাবেন না। তা হলে আর বেঁচে ফিরতে হবে না৷ হ্যা, এইরকম একটা বিপদের কথা আপনি সেদিন বলেছিলেন বটে৷ না, সেদিন বলার সুযোগ পাইনি ৷ আজও সুযোগ নেই! এখনই হয়তো মিস্টার ভিরুবাগু সদলবলে এসে পড়বেন৷ আপনার সঙ্গে গল্প করছি দেখলে মোটেই খুশি হবেন না। আর উনি বিরক্ত হলে আমাদেরও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। উনি বিরক্ত হবেন ? কেন? সুরঞ্জনবাবু হাসলেন একটু। বললেন, এই ঘরটা নিয়ে আপনি আমি দুজনেই ওদের শত্রু-পক্ষ হয়ে গেছি। আর এই সব শিক্ষিত ভদ্ৰলোকেরা তাদের শত্রু -পক্ষকে টাইট দেবার জন্যে অনেক কিছুই করতে পারেন৷ অথচ আমরা দুজনে ঠেকাতে পারব না৷ একটু থেমে বললেন, শুনুন, আমার মুখ থেকে শোনার চেয়ে এই পাতায় বইটা চুপচাপ পড়ে ফেলবেন। অনেক সত্য ঘটনা জানতে পারবেন ৷ তবে দেখবেন বইটা যেন অন্য কারও চোখে না পড়ে। বলে খবরের কাগজে মলাট দেওয়া একটা চটি বই আমার হাতে দিলেন। পাতা উন্টে আমি তাে অবাক ৷ ইংরিজিতে লেখা বই ৷ বহু পুরনাে৷ তাও ছাপা নয়৷ হাতে লেখা ৷ পুঁথির মতো৷ তুলােট কাগজের মতো পুরু কাগজে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা। বহু জায়গা পোকায় কাটা ৷ এই বই আপনি কোথায় পেলেন? বাবার দেওয়৷ল আলমারিতে ছিল ৷ সম্ভবত রতনলালকাকু বাবার কাছে রাখতে দিয়েছিলেন। ঐ দুর্গে যে রাতে যুবরাজকে হত্যা করা হয় সে সময়ে একজন ইংরেজ ওখানে গোপনে ঢুকে পড়েছিলেন। আড়ালে… লুকিয়ে লুকিয়ে স্মিথ সাহেব যা কিছু দেখেছিলেন তা নোট করে নিয়েছিলেন ৷ স্মিথ সাহেবের সেই সব নোট নিয়েই এই ডায়েরি ৷ নিন রাখুন। যদি সম্ভব হয় আজ রাত্তিরেই পড়ে ফেলে কাল সকালে আমার ফেরত দেবেন ৷ তা না হয় দিলাম, কিন্তু সেই যে সেকাি সন্ধেবেলা শেবপ্স খুলতে গিয়ে আমার হাতের ওপর অন্য এক অদৃশ্য হাতের চাপ পড়েছিল সে কথা তো ভুলতে পারছি না। তাই সুরঞ্জনবাবুকে বলে ফেললাম, আচ্ছা, আমায় একটা কথা বলুন তাে, এই দুর্গ আর এই হোটেলবাড়ি.....এ দুইএর মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি? আছে বৈকি ৷ তবে এখন বলতে পারব না। এইটেও আপনি রাখুন ৷ বলে তাসের মতো পুরো রঙিন ছক কাটা একটা কার্ড আমার হাতে দিলেন ৷ বুঝতেই পারছেন এটা একটা নকশা যেটা ভিরুবাগুর পকেট থেকে পড়ে গিয়েছিল৷ এটা ওকে দেননি? না, হাতে হাতে ফেরত দিলে সাহেব বুঝে নেবে আমি ব্যাপারটা জেনে গেছি। তাই দিইনি ৷ এখন অনুগ্রহ করে আপনি এটো সাহেবকে গোপনে দেবার ব্যবস্থা করুন৷ ওঁর কথা শুনে আমি হতবাক হয়ে গেলাম ৷ বললাম, আমি কেমন করে দেব? সে ব্যবস্থা আছে। ন নম্বর আর দশ নম্বর ঘরের মধ্যে দেখুন কাঠের পার্টিশান৷ ঐ ঘরে ভিরুবাগু থাকেন ৷ কাঠের পার্টিশানের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম ফাঁক আছে ৷ খুঁজলেই দেখতে পাবেন৷ যখন ঘরে কেউ থাকবে না তখন ঐ ফাঁক দিয়ে কার্ডটা জোরে ঠেলে দেবেন। কার্ডটা হয় ওদের বিছানায় নয় মাটিতে পড়ে থাকবে। ভিরুবাগু ভাবতেই পারবেন না আপনি ওটা ফেলেছেন৷ আমি বললাম, তাতে আমাদের কী লাড? সুরঞ্জনবাবু বললেন, ভিরুবাগু এখনও জানেন না কেল্লার ঐ সাংকেতিক কার্ডটা তার কাছে নেই ৷ ওটা হঠাৎ পড়ে থাকতে দেখলে নিশ্চয় ঘাবড়ে যাবেন ৷ মনে করবেন এটা কোনো অলৌকিক ব্যাপার৷ বলেই তিনি সাবধানে চলে গেলেন। যাতে ভিরুবাগুর সামনে পড়ে না যান ৷ সুরঞ্জনবাবু চলে যেতেই আমার মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল৷ এখন সবে সন্ধে সাড়ে সাতটা ৷ রাত দশটার আগে ঘুমনাে যায় না৷ তা হলে এই দীর্ঘ সময় কী করব? একবার ভাবলাম এখন দোতলায় কেউ নেই ৷ এই সুযোগে যদি নকশাটা পার্টিশনের ফাঁক দিয়ে চুপি চুপি চালান করে দেওয়া যায় তাহলে একটা বড়ো কাজ হয় ৷ এই কথা ভেবে আমি ঘরের আলো নিভিয়ে একটা টর্চ নিয়ে পার্টিশানের গায়ে কোথায় চিড়টা আছে, খুঁজতে লাগলাম ৷ কিছুক্ষণ পরেই চিড়টা আবিষ্কার করলাম ৷ এইবার বাকি কাজটুকু খুবই সহজ। তবু নকশাটা হাতে নিয়েও তখনই পার্টিশানের মধ্যে দিয়ে গলাতে গিয়ে হাত কেঁপে উঠল l ভাবলাম কার্ডটা নিরাপদে ন নম্বরে চালান করে দিলেও ঘরে ঢুকেই আকস্মিক ভাবে ওটা পড়ে থাকতে দেখলে সাহেব যে ক্ষেপে যাবে তাতে সন্দেহ নেই৷ আর সেই রাগটা এই রাত্তিরে কার ওপর যে অঘটন ঘটাবে ভেবে আমি রীতিমভো ভয় পেয়ে গেলাম৷ কী করব ভাবছি এমনি সময়ে বাইরে গাড়ির শব্দ শুনলাম৷ বুঝলাম ওনারা এলেন ৷ এলেন তো বটেই কিন্তু একটা হোটেলে ঐভাবে যে কেউ আসতে পারে তো ভাবা যায় না। শুধু বুটপরা মিলিত পায়ের শব্দই নয়, সেই সঙ্গে মিলিত গলায় অদ্ভুত সুরে ইংরিজি বাংলা মেশানাে গান গাইতে গাইতে সিঁড়ি বেয়ে ক্রমশ উপরে উঠে আসতে লাগল। আমি তাড়াতাড়ি আলো জেলে ঘরে খিল লাগিয়ে বসে রইলাম৷ গানের কথা মাথামুণ্ডু কিছু বুঝতে পারছিলাম না ৷ হেঁড়ে গলায় মিলিত সুর থেকে মাঝে মাঝে যে কয়েকটা কথা কানে আসছিল তা এইরকম … Let us enjoy ... পরােয়া করি না কাউকে ভাই… don‘t sleep...ঘুমাতে দেব না কাউকে … হিপ_ হিপ হুর রে ! … উন্মত্তের মতো গান করতে করতে ওরা যখন আমার ঘরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল তখন এক এক লাইন গাইবার সঙ্গে সঙ্গে আমার দরজায় প্রতি জনে বুট পরা পায়ে জোরে লাথি মেরে যাচ্ছিল৷ এ যে কীরকম ভদ্রতা তা বুঝে উঠতে পারলাম না৷ তা হলে এরা তো দরজা ভেঙে ঢুকে আমার শেষ করে দিতেও পারে৷ অতটা অবশ্য ওরা করল না৷ ঘরের মধ্যে ঢুকে ওরা বোধহয় হাত ধরাধরি করে নাচতে নাচতে গানটা পুরোপুরি গাইল। গানটা এইরকম… Let us dear friends, let us enjoy. পরােয়া করি না কাউকে ভাই, করি নাকাে ভয়৷ We don’t sleep--sleep at all. ঘুমােতে দেব না কাউকে জেনো গেলো শুধু ব্রান্ডি আর জল৷ হিপ্ হিপ্ হুররে হিপ্ হিপ্ হুররে! আনন্দে মেতেছি আমরা আনন্দের গাহি জয়। আনন্দ করতে জানে যারা! আনন্দেতেই রয়। Let us enjoy. এমন স্বর্গীয় সংগীত কার জন্য জানি না, এ গান লেখার উদ্দেশ্য কী তাও জানি না৷ উদ্দেশ্য যেটা প্রধান তা হচ্ছে আমাকে সব রকমে বিরক্ত করা। আমার ঘুমের মাথা চিবিয়ে খাওয়া। বেশ, তাই হোক। আমি ঘরের আলো নিভিয়ে শুয়ে পরলাম৷ তারপর কখন ওদের নাচগান থেমেছিল জানি না, কিন্তু যখন আমার ঘুম ভাঙল তখন গোটা হোটেলটা শান্ত, নিস্তব্ধ। এরকম মাঝরাতে আমার বড়ো একটা ঘুম ভাঙে না৷ কিন্তু হঠাৎ আজ কেন ভাঙল ভাবতে ভাবতে আমি অন্ধকার ঘরের চারিদিক দেখতে লাগলাম৷ না… অন্য দিনের মতোই সব ঠিকঠাক। আমার ঘরের জানলাগুলো রাত্তিরেও খোলা থাকে। হঠাৎ উত্তর দিকের জানলাটার ওপর নজর পড়ল। চমকে উঠলাম৷ উঠে বসলাম৷ ভালো করে চোখ রগড়ে দেখলাম-না,ভুল দেখছি না। অনেক দূরে শাল, সেগুন আর অর্জুন গাছের অরন্যের ঘন কালো অন্ধকারের মাথার ওপর অনেকগুলো আলো টিপ্ টিপ্ করে জ্বলছে ৷ মনে হচ্ছে যেন ঘোর অমাবস্যায় দেওয়ালির রাতে অজস্র প্রদীপ জলছে। অবাক হয়ে তাড়াতাড়ি দরজা খুলে বাইরে এসে দাড়ালাম ৷ আবারও মনে হল, না চোখের ভুল নয়। সত্যিই পাহাড়র ওপর সেই ভাঙা পোড়ো অলিন্দে অলিন্দে কে আলো জেলে রেখেছে ৷ কিন্তু ঐ জনশূন্য অন্ধকার পাহাড়দুর্গে এই গভীর রাতে কারা প্রদীপ জ্বেলে রাখল? কো জ্বালল? আমি স্তস্তিত হয়ে দেখতে লাগলাম৷ এই আলোর মালা কি আমার পথের দিশারী? হঠাৎ আলােগুলি প্রায় একসঙ্গেই নিচে গেল ৷ সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিক থেকে হু হু করে একটা দমকা বাতাস সবেগে বয়ে এসে হোটেল বাড়িটার ওপর আছড়ে পড়ল৷ আমি ছুটে গিয়ে ঘরের মধ্যে আশ্রয় নিলাম। (ক্রমশ) ----------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়- ৮ম ও শেষ পর্ব
→ ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়- ৫
→ ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়-৩
→ ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়-৪
→ ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়-২
→ ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now