বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়-৪

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়" মানবেন্দ্র পাল ---------------------- (পর্ব ৪) ▪▪▪​মিস্টার ভিরুবাগুর রাগ▪▪▪ সুরঞ্জনবাবু চলে যেতেই আমি সিঁড়ির দরজায় খিল দিলাম। হোটেলের ছোকরাটি, কী যেন নাম? হ্যা, মহেন্দ্র সেনাপতি, রাতের খাবার দিয়ে গিয়েছিল৷ রুটি, আলুর দম আর বাটিভর্তি মাংস। তাড়াতাড়ি খেয়ে আমি আরও কিছুক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে ​সেই কালো কেল্লাটা দেখবার চেষ্টা করলাম।কিন্তু দেখতে পেলাম না৷ সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ নীচ থেকে ব্রেকফস্টে সেরে ওপরে এসে সরে বসেছি, এমনি সময়ে মিস্টার ভিরাবাগু এসে ঢুকলেন৷ ভদ্রতা করে অনুমতি নেবার প্ৰয়োজনটুকুও মনে করলেন না। ঘরে ঢুকেই তিনি হাঁকড়ে উঠলেন, এই দশ নম্বর ঘরটা আমি চেয়েছিলাম। এটা দেওয়া হল না কেন ? তার ধমকানিটা হজম করতে আমার একটু সময় লাগল। তারপর শান্ত গলায় বললাম, কাকে কোন ঘর দেওয়া হবে সেটা ঠিক করেন হোটেলের মালিক৷ এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে৷ এই ঘরটার জন্যে আপনার মতো আমি জেদ ধরিনি৷ মিস্টার ভিরাবাগু বললেন, ঠিক আছে। এখন ঘরটা আমার ছেড়ে দিন। এবার আমি কঠিন স্বরে বললাম, না, এখন আর তা সম্ভব নয়। আমি গুছিয়ে বসেছি৷ মিস্টার ভিরুবাগুর মুখটা চাপা রাগে থমথম করতে লাগল। একটু পরে বললেন, এখানে আপনি কতদিন থাকবেন? বললাম, ঠিক নেই। আপাতত সাত দিন তো বটেই। দরকার হলে আরও বেশি দিন হতে পারে৷ এবার উনি অভদ্রের মতো আমাকে কিছু না বলেই আমার বিছানার ওপর পা ক্রস করে বসে বললেন, ঠিকঠাক বলুন তো কী জন্যে এখানে এসেছেন? ঠিকঠাক কারণটা জানিয়ে দিলেই কথা কাটাকাটি ব্যাপারটা ঘটত না ৷ কিন্তু ঐ যে ‘মেজাজ’ বলে একটা রোগ আছে না ঐতেই বিপদ বাড়ে। বললাম, সেটা জেনে আপনার লাভ? উনি দ্বিগুণ রেগে বললেন, লাভ আছে বৈকি৷ কিন্তু আমার কোনো লাভ নেই৷ তা হলে আপনি বলবেন না? বললাম আপনাকে বলতে আমি বাধ্য নই l আপনি আমাকে বলবেন কি কোন উদ্দেশ্যে আপনারা এখানে এসেছেন ? এর উত্তর না দিয়ে ভিরাবাগু সাহেব উঠে পড়লেন৷ দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে উত্তেজিত ভাবে বলে গেলেন, আপনি আমার চেনেন না৷ আপনার এই অবাধ্যতার প্রতিফল শিগগির পাবেন! আমি ভেবে রেখেছিলাম আজ সকালে সুরঞ্জনবাবুর সঙ্গে বসে আদিবাসীদের কোন কোন উৎসবে যার ঠিক করে ফেলব। কিন্তু কাল রাত্তিরে সুরঞ্জনবাবুর কাছে পাহাড়ের ওপরে ঐ রহস্যময় কালো পাথরের দুর্গটার কথা শুনে আর তার আগে সন্ধ্যাবেলায় শেকল খুলতে গিয়ে সেই অদৃশ্য হাতের চাপ আমাকে এতই ভাবিয়ে তুলেছিল যে, আদিবাসীদের উৎসব দেখার ব্যাপারটা চাপা পড়ে গিয়েছিল। কেবলই মনে হচ্ছিল অদৃশ্য হাতের সঙ্গে ঐ রহস্যময় দুর্গের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা। একটা প্রাচীন দুর্গ বা প্রাসাদ হলেই যে তা রহস্যময় হয় তা নয় ৷ কিন্তু কাল সন্ধ্যায় ঐ দুর্গ সমেত পাহাড়টা যখন কোন মন্ত্রবলে দূর থেকে একেবারে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল তখন কিছুক্ষণের জন্যে আমি বিহ্বল হয়ে গিয়েছিলাম৷ আর তখনই দুর্গটিকে মনে হয়েছিল রহস্যময় বলে। তাছাড়া ঐ দুর্গে গেলে কী বিপদ ঘটতে পারে তা সুরঞ্জনবাবুর কাছ থেকে এখনও শোনা হয়নি। আমি তাই মাঝে মাঝেই বারান্দায় গিয়ে দাড়াই যদি দুর্গটা ভালো করে আরও একবার দেখতে পাই। কিন্তু হতচ্ছাড়া ভিরাবাগু সক্কালৰেলাতেই আমার মেজাজটা খারাপ করে ফেলেছে। বেলা যত বাড়তে লাগল ভিরাবাগুর সঙ্গীরা ততই হৈ হট্টগােল করতে লাগল। এক সময়ে ওরা আমার দরজা লক্ষ করে ইট পাটকেল এমনকি কাপডিশও ছুড়তে লাগল। জানলা লক্ষ করে একটা হাসের ডিম এমনভাবে ছুড়ল যে আমার বিছানাটা নষ্ট করে দিল৷ শেষ পযন্ত আমি বাধ্য হলাম নীচে গিয়ে সুরঞ্জনবাবুর কাছে নালিশ করতে। সব শুনে সুরঞ্জনবাবু বললেন, কিচ্ছু করার নেই, সােমেশ্বরবাবু৷ কাছেপিঠে পুলিশও নেই যে ডেকে আনব। তা হলে আমি কী করব? সুরঞ্জনৰাবু বললেন, একমাত্র উপায় আপনি যদি ঘরটা ছেড়ে দেন। মনে হয় তা হলেই উৎপাত থামবে ৷ কিন্তু আমি বলব আরও একটু ধৈর্ষ ধরে থাকুন। ওরা থেমে যাৰেই। ঘরটা ছেড়ে দিলে ওদেরই জিত্ হবে৷ বললাম, ঘর আমি ছাড়ব না৷ খুব ভালো ৷ তা ছাড়া আমি যা ভেৰেছিলাম তাই ঘটতে চলেছে। খুব সম্ভবত ওরা দুএকদিনের মধ্যে ঐ দুর্গের দিকে যাবে। আমি অবশ্য ওদের নিষেধ করব ৷ শোনা না শোনা তাদের মর্জি৷ কিন্তু কেন নিষেধ করবেন কাল আপনার কাছ থেকে শোনা হয়নি ৷ সুরঞ্জনবাবু বললেন, যদি আজ সময় পাই তা হলে বলব৷ বিকেলের দিকে ওরা হৈচৈ করে কোথায় বেরিয়ে গেল! নিশ্চয়ই এই অবেলায় গড়ের দিকে যাবে না। তা হলে ? জাহান্নমে যাক আর যেখানেই যাক ওরা যতক্ষণ না থাকে ততক্ষণ আমার মঙ্গল ৷ রোদ একটু পড়ে এলে আমি খোলা বারান্দায় গিয়ে দাড়ালাম। তারপর উৎসুক নেত্রে তাকিয়ে রইলাম উত্তর দিকে -যদি সেই ভয়ংকর গড়টা দেখা যায়৷ কিন্তু অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও দেখা গেল না৷ তারপর সন্ধ্যার মুখে যখন ঘরে ঢোকার জন্যে পা বাড়িয়েছি তখন হঠাৎই উত্তর দিকে আকাশের গায়ে পাহাড়ের ওপর কষ্টিপাথরের মতো কালো গড়টা ভেসে উঠল৷ কিন্তু মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য। তারপরেই অন্ধকারে মিলিয়ে গেল ৷ ঐটুকু দেখেই আমি খুশি হলাম বটে কিন্তু গতকালের মতো ওটা এগিয়ে এল না তো৷ আমি ধীরে ধীরে ঘরে এসে ঢুকলাম বটে কিন্তু সেই অলৌকিক গড়টা বারে বারে দেখার জন্য মনটা ছটফট করতে লাগল ৷ (ক্রমশ) ---------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়-৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now