বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়-৩

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়" মানবেন্দ্র পাল --------------------- (পর্ব ৩) ▪▪▪​পাহাড়ের উপর কেল্লা▪▪▪ সুরঞ্জনবাবু এলেন হাসতে হাসতে। প্রথমেই বললেন, সিঁড়ির দরজাটা শুধু ভেজিয়ে রেখেছিলেন, খিল দেননি? অন্যমনস্কভাবে উত্তর দিলাম, তা হবে। সন্ধেবেলাতেই খিল লাগাতে হবে ভাবিনি ৷ সুরঞ্জনবাবু গার্জেনের মতো উপদেশ দিয়ে বললেন, নানা, সব সময়ে খিল দিয়ে রাখবেন। পাহাড় জঙ্গলের জায়গা, বিপদ ঘটতে কতক্ষণ? অবাক হবার ভাল করে বাললাম… বিপদ? কিসের বিপদ? সুরঞ্জনবাবূ সহজভাবেই বললেন, বিপদ যে কত রকমের হয় আর কখন কোন দিক দিয়ে ঘাড়ে এসে পড়ে তা কেউ বলতে পারে না, সােমেশ্বরবাবু৷ মোট কথা একটু সাবধানে থাকতে হয়৷ বাঃ, এর মধ্যেই ঘরটা বেশ গুছিয়ে ফেলেছেন তো৷ বলতে বলতে উনি বিছানায় ওপর বসে পড়লেন৷ বিকেলে চা দিয়েছিল ? মাথা দুলিয়ে সায় দিলাম। তবে ছেলেটা খুব মিশুকে বলে মনে হল না৷ একটু যেন এড়িয়ে চলতে চায়৷ আসলে কী জানেন? এ অঞ্চলের লােকেরা যেমন নিরীহ তেমনি ভীতু ৷ ওদের কেবল ভয় এই বুঝি চাকরি গেল। বড়ো গরিব। অল্পে তুষ্ট। সামান্য বাসি ভাত আর একটু নুন হলেই এরা খুশি। সে তুলনায় হোটেলে তাে ওরা রাজভােগ খায়। তাই সব সময় তটস্থ। এখানকার খাওয়ার স্টান্ডার্ড বোধহয় ভালোই? সুরঞ্জনবাবু হেসে বললেন, এ বেলা খেলেই বুঝবেন ৷ মাংসে অরুচি নেই তো ? হেসে বললাম, না, মোটেই না৷ উনি আমার অনুমতি নিয়ে একটা সিগারেট ধরালেন৷ বললান, তখন বলেছিলেন এই হোটেলের মালিক দিল্লিতে থাকেন, তা হলে তো আপনার আপনার দায়িত্ব অনেকটাই ৷ সুরঞ্জনবাবু বললেন, তা বলতে পারেন। ​এক সময়ে রায়পুরে যখন উনি থাকতেন তখন আমার বাবার সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব ছিল৷ নিতান্তই শখ করে রায়পুর বিলাসপুর থেকে ঢের দূরে এই রকম নির্জন জায়গায় তিনি হোটেল খুললেন। উদ্দেশ্য বাইরে থেকে ভ্রমণবিলাসীরা এসে এখানকার আদিবাসীদের নানা উৎসব, যা একেবারে খাঁটি লােকসংস্কৃতি বলতে পারেন, দেখবার সুযোগ পায় ৷ আর সে উৎসব বছরে দুটো চারটে নয়, প্রায় প্রতিমাসেই দুটো তিনটে ৷ আপনিও তো বললেন সেই উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছো৷ বললাম,হ্যাঁ। আমি আদিবাসীদের নিয়ে গবেষণা করি। তা ছাড়া এখানে নানা খনিজ সম্পদ আছে। যেমন ধরন কয়লা, ডলােমাইট, বক্সাইট , আয়রন ওর, লাইম স্টোন, টিন, ম্যাঙ্গানিজ-এত খনিজ সম্পদ ভারতবর্ষে আর কোথাও আছে বলে আমি না৷ আর এই সব খনিজ সম্পদের টানেও ধনী লোকেরা ব্যবসার খাতিরে এখানে আসতে চান ৷ কিন্তু থাকার জায়গা ছিল না৷ আমার বাবার বন্ধু সেই অসুবিধাটা দূর করলেন ৷ এতটুকু লাভের মুখ চেয়ে নয়… নিতান্তই পরোপকারের জন্য৷ আর আমাকে দায়িত্ব দিয়ে গেলেন হোটেলটা চালাতে ৷ যাবার সময় একটা অদ্ভুত কথা বলেন, ‘লাভ হলে তোমার, লোকসান হলে আমার।' বলে সুরঞ্জনব৷বু হাসলেন। বললাম. এ রকম মানুষ বড়ো একটা দেখা যায় না৷ তা আপনি তো এখানেই থাকেন? হ্যা। একাই ? হ্যাঁ৷ একাই আছি। হোটেলেই খাই ৷ হোটেলেরই ওদিকের একটা ঘরে থাকি ৷ একটু চুপ করে থেকে বললাম, কত বছর হোটেলটা হয়েছে? তা দশ বছর হল।রেডি বাড়ি পেয়েছিলেন বলে হোটেল খোলা সম্ভব হলো। সুরঞ্জনবাবু একটু ভেবে বললেন, তা ঠিক। তাও আবার বেওয়ারিশ বাড়ি ৷ আমি চমকে উঠে বললাম, বেওয়ারিশ বাড়ি ৷ মানে? সুরঞ্জনবাবু বললেন, রতনলকাকু, অর্থাৎ বাবার সেই বন্ধু অত বড়ো খালি ৰাড়িটা কিনতে গিয়ে বাড়ির মালিকের সন্ধান পেলেন না৷ কাগজে কাগজে বিজ্ঞাপন দিলেন ৷ তবু কেউ দাবি করল না৷ স্থানীয় আদিসীদের কাছে খোঁজ নিতে যেতেই তারা ভয়ে শিউরে উঠল। ওরা জানাল বাড়িটা ভুতের ৷ দিনের বেলাতেও কেউ এ বাড়ির ত্রিসীমানা দিয়ে হাঁটে না। রতনলালকাকু তবু দমবার পাত্র নন। তিনি আদিবাসীদের সর্দারকে ডেকে জানতে চাইলেন কেন ৰাড়িটাকে ভুতুড়ে বাড়ি বলা হয়৷ সর্দারের বক্তব্য ইংরেজ সাহেবরা নাকি এখানেই প্রথম লাশকাটা ঘর করেছিল ৷ কত বেওয়ারিশ লাশ এই বাড়ির মাটিতে পোতা৷ম আছে তার হিসেব নেই। এমনকি এক যুবরাজের লাশও নাকি এখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল৷ এই রকম নানা কথা ৷ গল্পগুলাের রতনলালকাকুর মনে ধরল ৷ তিনি ঠিক করলেন স্থানীয় লোকেদের ভয় দুর করার জন্যে এই বাড়িটাকেই হোটেল বানাবেন৷ বাইরের পাঁচ দশ জন লোক যাতায়াত করলেই এখানকার লােকেদের অহেতুক ভয় দুর হয়ে যাবে ৷ বুঝলাম ৷ একটু পরে জিগ্যেস করলাম, আপনি তো অনেক দিন এখানে আছেন। তেমন কিছু.... । সুরঞ্জনবাবু বললেন, তেমন কিছু বলতে কী জানতে চাইছেন? ভৃত টুত? না মশাই। তেমন কিছু ঘটেনি আজ পর্যন্ত। আশা করি ঘটবেও না। তবে... তবে কী? তবে মাঝে মাঝে উত্তর দিক থেকে, ঐ পাহাড়ের দিক থেকে একটা দমকা বাতাস বয়ে যায়৷ এখানকার লোকেরা ঐ বাতাসকে বড্ড ভয় পায় ৷ বলে প্রেতের দীর্ঘনিশ্বাস। বললাম, আপনিও কি তা বিশ্বাস করেন? পাগল ! একটু থেমেই আবার বললেন, যাক ওসব বাজে কথা। যেজন্যে আপনি এসেছেন অর্থাৎ আদিবাসীদের পালাপার্বন দেখতে, তার কোনো প্রোগ্রাম করেছেন? কবে কোনটি দেখবেন? তা হলে আপনার সঙ্গে একজন অভিজ্ঞ লোক দিতে পারি। বললাম, সবে তো আজ এলাম৷ কাল ঠিক করব। আর এ বিষয়ে আপনার সাহায্য দিতেই হবে। হ্যা, অবশ্যই বলে দেব কোন সময়ে কোন উত্সব৷ পােলা আর তিজা উৎসব শেষ হয়ে গেছে। এর পরই গণেশ পৃজাে। তারপর নবরাত্রি, তারপর দশেরা-সুরঞ্জনবাবু থামতেই চান না৷ অথচ আমার মাথায় তখন অন্য রহস্যের জাল জড়িয়ে আছে৷ বললাম, আচ্ছা, মিস্টার ভিরুবাগুর খবর কী? এসেছেন ? সুরঞ্জনবাবু বললেন, না। টাকা জমা দিয়ে গেছে যখন আসবেন নিশ্চয় ৷ তবে কী জানেন? এঁদের কথার ঠিক নেই। আমাদের মতো সাধারণ মধ্যবিত্তদের পাত্তাই দিতে চান না। জিজ্ঞেস করলাম, ওকে কোন ঘরটা দেবেন ভাবছেন? উনি তো এই ঘরটাই নেবার জন্যে জেদাজেদি করছিলেন৷ তা দিলেন না কেন? আমার অন্য ঘর হলেও' চলত। সুরঞ্জনবাবু বললেন, তা জানি। কিন্তু যে ঘরটা একজনকে দেওয়া হয়ে গেছে সেটাই তাকে পেতে হবে তার কী মানে আছে? আমাকে আবার টাকার লোভ দেখাচ্ছিলেন। তা হলে কোন্ ঘরটা দেবেন? ভাবছি আপনার পাশের ঘরটা কিংবা তার পরেরটা৷ কদিন থাকবেন? এক সপ্তাহের জন্যে বুক করেছেন। শেষ পর্যন্ত কদিন থাকবেন বলতে পারি না। কথার জের ধরে বললাম, উনি কি ব্যবসার ধান্দাতেই এখানে এসেছেন? তাই প্রথম মনে হয়েছিল। কারণ বড়ােলোকেরা খনিজের খোঁজেই এখানে আসেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এর অন্য কোনো ধান্দা আছে৷ কী রকম? সুরঞ্জনবাবু পকেট থেকে তাসের মতো একটা রঙিন নকশা সাবধানে বার করে দেখালেন। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না৷ জিজ্ঞেস করলাম, এর অর্থ কী? কোথায় পেলেন এটা? সকালে কাউন্টারের সামনে যেখানে দাঁড়িয়ে মিস্টার ভিরাবাগু কথা বলছিলেন, উনি চলে যাবার পর সেইখানেই এটা কুড়িয়ে পাই ৷ বোধহয় পার্স খুলে টাকা টাকা দেবার সময় পড়ে গিয়েছিল। ​কিন্তু জিনিসটা কী? এটা একটা সাংকেতিক চিহ্ন। হেসে বললাম, স্কুল লাইফে এই রকম গুপ্তধন সংক্রান্ত ম্যাপ বা সাংকেতিক চিহ্ন নিয়ে অনেক অ্যাডভেঞ্চারের বই পড়েছি৷ সুরঞ্জনবাবু কিন্তু হাসলেন না। বললেন, বইগুলো হয়তো লেখা হয়েছিল কল্পনা করে। কিন্তু তখনকার দিনে অনেক রাজা মহারাজা জমিদারেরা শত্রুর আক্রমণের ভয়ে ধনসম্পত্তি কোনো গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখতেন যাতে শত্রু প্রাসাদে ঢুকে সেসৰের সন্ধান না পায়। আবার সেই গোপন জায়গাটি যাতে পরে উত্তরাধিকারীরা খুঁজে পায় তার জন্যে নকশা বা সাংকেতিক চিহ্নর ব্যবস্থা থাকত। বললাম, সে তো জানি। কিন্তু এই ছত্রিশগড়ে রাজা-জমিদার কােথায়? সুরঞ্জনবাবু বললেন, আজ নেই, কিন্তু একদিন ছিল৷ ও আচ্ছা, আপনি ছেদী রাজবংশের কথা বলতে চাইছেন? হ্যাঁ ৷ আজকের ‘ছত্রিশগড়’ নামটা শুধু ‘ছেদিসগড়’ থেকেই হয়নি। ছেদী রাজাদের ছত্রিশটা বিশাল বিশাল গড় অর্থাৎ দুর্গ ছিল সেসব দুর্গের মধ্যে রক্তাপুর, বিজয়পুর, মারাে, ছুরি, রেল্ডা, পেণ্ড্রা এইরকম কতকগুলাে গড় এখনও দেখা যায়৷ বাকিগুলি ধূলিসাত্ হয়ে গেছে। এইসব গড়ে শত্রু আক্রমণকালে গোটা রজােপরিবার তাদের, হিরে, জহরৎ সব নিয়ে আত্মগোপন করে থাকতো। কাজেই এইসব পরিত্যক্ত গড়গুলোতে.... বললাম, বুঝতে পেয়েছি। গোপন ঐশর্য থাকা সম্ভব। তা আপনি কি মনে করে মিস্টার ভিরুবাগু সেই রকম কোনো গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছে? অসম্ভব নয়। আমি একটু ভেবে বললাম, আচ্ছা, উনি এই ঘরটা নেবার জন্যে এত ঝুলোঝুলি করছিলেন কেন ? সে তো শুনলেনই৷ ঘরটা নাকি পয়া ৷ অদ্ভুত কথা৷ যিনি আগে কোনো দিন এখানে আসেনইনি, তিনি কী করে জানলেন এই ঘরটা পয়া? ভদ্রলােক ভেৰেছেন আমি এতই বোকা ! শেষ পর্যন্ত স্বীকার করলেন নিজে না এলেও আগে যারা এসেছিল তাদের কাছ থেকেই নাকি শোনা ৷ গুল মারার আর জায়গা পায়নি ৷ সত্যি বলছি সোমেশ্বরবাবু, ভদ্রলােকের এইরকম চালবাজি দেখে আমি খুব বিরক্ত হয়েছি৷ একটু থেমে ফের বলতে লাগলেন, এই ঘরটার ওপর তার আগ্রহের কারণ সম্বন্ধে আমার এখন অন্য ধারণা হয়েছে৷ সুরঞ্জনবাবু একটু থামলেন। সাগ্রহে জিগ্যেস করলাম, কী? প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গে আমার বুকের মধ্যে হৃৎপিন্ডটা লাফালাফি শুরু করে দিল৷ সত্যি কথাই বলছি-আমি হঠাৎ ভয় পেলাম ৷ মনে হল এই ঘর সম্বন্ধে কোনো কথা এই রাত্রিবেলা না তুললেই পারতাম। কারণ যে যাই বলুক আজই সন্ধেবেলা এই ঘরের দরজা খুলতে গিয়ে আমার হাতের ওপর যে অদৃশ্য হাতের চাপ অনুভব করেছিলাম তা তাে ভুলতে পারিনি ৷ সুরঞ্জনবাবু বললেন, আপনার ঘরের বারান্দা থেকে সোজা উত্তর দিকে তাকালে অল্প দূরে একটা পাহাড়ের ওপর দুর্গ দেখতে পাবেন। ওটা ঠিক দুর্গ কিনা আমার পিতৃদেব কিংবা রতনলালকাকুও বলতে পারেননি ৷ উচ্চতায় ছোটো কিন্তু অনেকখানি জায়গা নিয়ে পাহাড়ের ওপর ওটা বোধহয় একটা গড়ই হবে৷ যে কোনো কারণেই হোক ওটার একটা অংশ ভেঙে পড়েছে। গড়টা আগাগােড়া কালো পাথরে তৈরি। পাথরে গড়া বাড়ি ভাঙল কী করে সে এক রহস্য। দ্বিতীয় রহস্য হচ্ছে এখান থেকে খুব দূরে না হলেও এটি দিনের বেলাতেও সব সময়ে খালি চোখে দেখা যায় না৷ পাথরটার রঙ এমনই যে… মাঝে মাঝেই এটা যেন হারিয়ে যায়৷ আবার হঠাৎই স্পষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে ৷ এই গড় নিয়ে এখানে নানারকমের কাহিনি প্রচলিত আছে। সুরঞ্জনবাবু একটু থামলেন ৷ বললেন, আমার কথাগুলো শুনতে ইনটারেস্টিং লাগছে? বললাম, অবশ্যই। কিন্তু বললাম না আজই বিকেলে সেই দুর্গটা দেখতে পেয়েছিলাম৷ সুরঞ্জনবাবু একটা সিগারেট ধরিয়ে বলতে লাগলেন, অনেক রকম কাহিনি, উপকথা, গালগল্প চলে আসলেও আসল সত্যটা হল ওখানে কোনো একসময়ে ছেদী বংশের এক যুবরাজ থাকতেন৷ তাকে একাকী ওখানেই অতর্কিতে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়৷ তাঁরই অগাধ্ ধনরত্ন ওই গড়ের মধ্যে কোথাও লুকানো আছে যার সন্ধান সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, ইংরেজ গভর্মেন্ট ও পর্যন্ত তল্লাশি করে খুঁজেও পায়নি৷ কেউ কেউ বলেন গড়ের একটা অংশ ইংরেজরাই কামান দেগে উড়িয়ে দিয়েছিল ধনরত্ন হাতাবার উদ্দেশ্যে ৷ কিন্তু সফল হয়নি। হোটেলের এই দশ নম্বর ঘরটির বৈশিষ্ট্য দুপুরবেলায় সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর থাকে তখন এখান থেকে ঐ ভাঙা দুর্গটার ভেতর পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যায় যা অন্য কোনো জায়গা থেকে দেখা যায় না। সুরঞ্জনবাবু একটু থামলেন। তারপর বললেন, মনে হচ্ছে ভিরুবাগু সাহেব নিশ্চয় ওখানে যাবার মতলব করছেন৷ তবে ওখানে গেলে যে কী মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে তা উনি জানেন না। কী রকম বিপদ একটু বলবেন? জবাব দেবার আগে উনি একবার ঘড়ির দিকে তাকালেন। বললেন, রাত নটা বাজতে চলল। এখনও সাহেবের দেখা নেই। তারপরই আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে যাচ্ছিলেন এমনি সময়ে গাড়ির শব্দ শোনা গেল। উনি সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ওই ওনারা এসে পড়েছে। আজ আর কথা বলা যাবে না৷ বলেই উঠে পড়লেন। (ক্রমশ) -----------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছত্রিশগড়ের ভাঙা গড়-৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now