বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছোট্ট ডায়রী

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ছোট্ট ডায়রীর পাতায় লিখতে গিয়েও কলম টা থামিয়ে রাখলাম।পাপী আমি,,আমার পাপের ভার অন্যরা কেন বহন করবে।অন্যরা কেন এই জন্য শাস্তি পাবে। গল্পটার শুরু আমার ভার্সিটি লাইফের প্রথম দিকে।গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই দেখি দূরে কিছু ছেলে একটা ছেলেকে র‍্যাগ দিচ্ছে।ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল থাকার কারনে অনেক ছেলের সাথে ভয়হীন ভাবে কথা বলার অভ্যাস আছে।কেও প্রপোজ করলে তাদের এমনভাবে ভয় দেখাতাম পরবর্তীতে আমার সামনে পড়লেও মাথা নিচু করে ফেলতো।আর র‍্যাগ জিনিসটা বরাবর ই আমার ভালো লাগেনা।তাই রাগ সামলাতে না পেরে ওদের কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম। -এই যে মিস্টার,আপনি ওকে র‍্যাগ দিচ্ছেন কেন?? -কই নাতো,ছোট ভাইরা নতুন আসছে ক্যাম্পাসে।কারো সাথে যেন বেয়াদবি না করে আর সুন্দর ভাবে চলে তাই বুঝোচ্ছিলাম। -কেন ক্যাম্পাসের চিফ বুঝি আপনাকে সবাইকে বুঝানোর এই মহান দায়িত্ব দিয়েছে? -না তা হতে যাবে কেন,আমি তো বড় ভাইয়ের কর্তব্য পালন করছি।। -অনেক হয়েছে আর এতো দায়িত্ব নিতে হবেনা।।এই ছেলে তুমি যাও।।আর হ্যাঁ ক্যাম্পাসে এসেছেন সুন্দর ভাবে পড়ালেখা করেন। এই বলেই চলে এলাম।বেচারার মুখের অবস্থা দেখে হাসি পাচ্ছে।কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছিল।ভালোই হয়েছে,এদের অবস্থা এমন ই হওয়া উচিৎ। আমি যথারীতি নিয়মিতই ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করলাম,কিন্তু কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছি সেই ছেলেটা সবসময় আমাকে ফলো করছে।কিছুদিন তাকে ইগনোর করেও লাভ হলো না।তাই একদিন ওকে ডাকলাম - এই ছেলে কি সমস্যা আপনার?অনুসরণ করছেন কেন? -আসলে সেই দিনের জন্য আমি লজ্জিত।তাই অনেকবার সরি বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু সাহস পাচ্ছিলাম না। -ঠিকাছে।।ভুল বুঝতে পেরেছন এতেই হবে। -আমার সাথে কি এক কাপ কফি খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় হবে,প্লিজ না করবেন না? -কি মনে করে যেন হ্যাঁ বলে দিলাম। সেদিন বিকেলবেলা কফি খেতে খেতে হঠাৎ ও আমাকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল।আমিও নিজের অজান্তেই সেই হাত গ্রহন করলাম।ক্যাম্পাসে আমার তেমন ভালো কোন বন্ধু ছিল না বলেই হয়তো।। ছেলেটির নাম রাজন।দেখতে শুনতে ভালোই।ওর হাসিটাই বেশি ভালো লাগতো।দিন বাড়ে ওর সাথে ক্রমশ কথা বলাও বাড়ে।একটা সময় দুজনের দূর্বলতার কারনে ভালোলাগাটা ভালোবাসায় রূপান্তরিত নেয়।এভাবেই সম্পর্ক এগুতে থাকে।দুজনের বিশ্বাসের প্রবলতার কারনে একপর্যায়ে দুজন দুজনের সাথে মিশে যাওয়াও হয়ে যায়। সুন্দরভাবেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ ই বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করল।পাত্রপক্ষ আসা শুরু হল।জীবনটা রঙিন ভুবন থেকে সরে আসে ঠিক তখুনি। কিছুদিন পরেই বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলে।অনেক আকুতি করার পরেও বাবা বলেছিল পড়ালেখা শেষ করতে চাইলে বিয়ের পর যেন শেষ করি।রাজনকে অনেক বলেছিলাম কিন্তু ওর পক্ষেও এই মুহুর্তে কিছু করা সম্ভব ছিলো না।একমাত্র ছেলে সে।পরিবারের সব দায়িত্ব ওর উপর।কিছুই করতে পারেনি ও।চোখের জলের সাথে আমার হাতটাও ছেড়ে দিতে হয়েছিল সেদিন। বিয়ের রাতে নিজেকে ছুতেঁ বাধা দিতে পারিনি।আমি এখন অপরিচিত সেই মানুষটার।বৈধ সম্পদ।তখনো জানতে পারিনি আমি অন্তঃসত্ত্বা,যার মালিক রাজন।বিয়ের কিছুদিন পর যখন বুঝতে পারলাম তখন থেকে কালো অধ্যায় নেমে এল। স্বামী আর শাশুড়ির অত্যাচার পেতে পেতে জীবনের প্রতি কত যে বিতৃষ্ণা এসেছে তার ইয়ত্তা নেই।তারা হয়তো তাদের জায়গায় ঠিক ই ছিল।অন্যের পাপের ফসল তারা কেন বইবে।সমাজের চোখে কেন তারা ছোট হয়ে থাকবে।প্রতিবাদ করতাম না।নিয়তিটাই যে এমন ছিল।অনেক হাতে পায়ে ধরেও তারা আমায় রাখতে চাইল না।ফ্যানের দিকে তাকিয়ে কতবার যে নিজেকে কল্পনা করেছি তার কোন হিসেব নেই।কিছুই করতে পারিনি সেদিন আমার গর্ভে যে নিষ্পাপ শিশুটির বৃদ্ধি হচ্ছে।সেই ই বা দুনিয়ায় আসার আগে আমার পাপের শাস্তি কেন ভোগ করবে। অপবাদ নিয়ে বাসায় চলে এসেছিলাম।মানুষজনের থু থু ছিটানো গায়ে অপেক্ষা করছিলাম নিষ্পাপ শিশুটির আগমনের জন্য।ঘরের কোনে লুকিয়ে থাকতাম।আলো বুঝি আমায় ঘৃণা করবে তাই।কিছুদিনের মধ্যেই বাসায় নোটিশ পাঠাল বাচ্চা ফেলে আসতে পারলেই কেবল স্বামীর পরিবার মেনে নিবে। বাসাতেও আমায় রাখতে অস্বীকার করল।বাবা খুব রাগী ছিল কিনা।মমতাময়ী মায়ের কারনে মাথা গুজার ঠাই হলো।কোনদিন বাবার সাথে বসে খেতে পারিনি।কলঙ্কীনি মেয়ের সাথে খেতে বুঝি রুচিতে বাধঁত।বিভিন্ন ভাবে রাজনকে খুঁজে বেড়িয়েছিলাম যদি ও অন্তত আমায় মেনে নেয় তবে ওর হাত ধরেই দূরে কোথাও নাহয় হারিয়ে যাবো যেখানে চরিত্র নিয়ে আর কটু কথা শুনতে হবে না।কলঙ্কীনি শব্দটা যে বড়ই কষ্টকর।বিধিবাম আর খুঁজে পাইনি।শুনেছি আমায় বিয়ে করতে না পারার কারনে বাসায় ফিরে গিয়েছে পড়ালেখা বাদ দিয়ে। এদিকে আমার সময় ও হয়ে এসেছিল।সেদিন ই বাবা আমায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল।বাচ্চাটা হওয়ার পর প্রচণ্ড কষ্ট আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রথম স্পর্শ করেছিলাম।চোখ দিয়ে কয়েকফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল।ডাক্তার রা সুখের অশ্রু ভেবে ভুল করেছিল।সেদিন সত্যি একরাশ কষ্ট আমায় জেকে ধরেছিল। বাসায় আসার কদিন পর এক রাতে বাবা আমার কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিল জীবনটা শুরু কর।বাচ্চাটিকে কোথাও রেখে আয়।আমি স্পষ্ট বাবার চোখে বেদনার বিভীষিকাময় নীল চাপা কষ্ট দেখেছিলাম।মেয়ের সুখ সব বাবাই প্রত্যাশা করবে এটাই স্বাভাবিক। বাবা মায়ের ফুঁপানো কান্নার শব্দে আমার কান্নার শব্দ সেদিন মিলিয়ে গিয়েছিল। বাচ্চাটির কোন নাম দিতে পারিনি।সেই অধিকার এই খুনী মায়ের নেই।রেখে এলাম আস্তাকুড়েঁ।পেছন ফিরে আসার সময় দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম-ভালো থাকিস বাবা।পবিত্র এই পৃথিবীতে অপবিত্র মায়ের সাথে রেখে অপবিত্রের কালি মাখানোর কোন অধিকার নেই আমার।মাফ করে দিও খোদা। সেই দিন আমার চোখে কোন জ্বল ছিলো না....... লেখকঃ-ইমরান(রকেট)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছোট্ট ডায়রী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now