বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছেলেটাও ভালবাসে
.
.
.
অন্তরা এ শহরে ফিরে আসার পর ওর সাথে আমার
মাঝে মাঝেই দেখা হয়ে যেত। দেখা হলেই
বলত,
"-ভাইয়া ভাল আছেন?"
তারপর আমার উত্তর শোনার জন্য ওর উৎসুক
চোখ জোড়া তাকিয়ে থাকত আমার দিকে।
.
মাঝে মাঝে জোর করে কফি শফেও নিয়ে
যেত।
তবে ওর সাথে কথা বলতে আমার কেমন জানি
অস্বস্তি হত। যদিও আমাদের মাঝে যা হয়েছে
সেটা চার বছর আগের কথা,, তবুও ব্যাপার টা আমার
কাছে কেমন জানি লাগত?
.
ও যখন ক্লাস টেনে পড়ত তখন আমি ওকে
টুকটাক ম্যাথ দেখিয়ে দিতাম।ভাল স্টুডেন্ট ছিল তাই
খুব একটা কষ্ট হয়নি।তবে আগের অন্তরা আর
এখন কার অন্তরার মধ্য অনেক তফাৎ। মাঝে মাঝে
আমি চিনতেই পারিনা যে এই কি সেই মেয়ে?
.
অন্তরার গায়ের রঙ তেমন ভাল না,, শ্যামলাই বলা
যায়। তবে ড্রেসাপ এর প্রতি ও যথেষ্ট
যত্নশীল ছিল।
আমি যখন ওকে পড়াতে যেতাম তখন ও খুব
সেজে গুজেই পড়তে আসত।মাঝে মাঝে
ওকে দেখতে সুন্দর লাগত।
হয়ত ও আমার প্রেমে পড়েছিল তখন, তবে ওর
প্রতি আমার কোন আকর্ষণ ছিল না, এটার কারণ
হিসেবে বলা যায় ওর গায়ের রঙ।
.
আমার লামিয়াকে ভাল লাগত। লামিয়ার মত সুন্দরী
মেয়ে আমি খুব কমই দেখেছি। লামিয়া অন্তরার
বান্ধবী ছিল। আমি অন্তরাকে জানিয়ে ছিলাম আমার
ভাল লাগার কথা,,সুন্দর একটা চিঠি লিখে দিয়েছিলাম ওর
হাতে যেন ও লামিয়াকে এটা দেয়।
ও খুব সুন্দর ভাবেই আমার এ কাজটা করে দেয়।
যার ফলে লামিয়া আর আমার প্রেম হয়ে যায়।যদিও
সেটার স্থায়ীত্ত্বকাল বেশি দিন ছিল না।ইন্টার পড়ার
সময় লামিয়ার বিয়ে হয়ে যায়, আমার তখন বেশি কিছু
করার ও ছিলনা।আমি তখন মাত্র অনার্স সেকেন্ড
ইয়ার এর স্টুডেন্ট।আর এ বিষয়ে অন্তরাও
আমাকে বেশি কিছু বলেনি,ভাল ছেলে
পেয়েছিল।
.
অন্তরা এস.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে চলে যায় ওর
মামার বাসায়।কেন চলে গিয়েছিল সেটা অনেক টাই
অজানা আমার কাছে?হয়ত আমার জন্য?
লামিয়াও মাঝে মাঝে বলত অন্তরা হয়ত আমাকে
পছন্দ করত, কথাটা আমি হেসেই উড়িয়ে দিতাম।
তবে মাঝে মাঝে মনে হত কথাটা সত্যি। যদি সত্য
হয়ে থাকে তবে আমার কারণে অন্তরা অনেক
কষ্টই পেয়েছে। ওর মাধ্যমেই আমি লামিয়াকে
আমার ভালবাসার কথা জানিয়েছিলাম, ও হাসি মুখেই
সেটা করেছে। তখন ভাবতাম ও ফিরে এলে
ওকে সর্যি বলব। কিন্তু সেটা হয়নি।অন্তরা ঠিকি দু
বছর পর ফিরে এসেছে কিন্তু আমার অস্বস্তির
কারণে আর সরি বলা হয়ে ওঠেনি।
.
আজ সকালেও অন্তরার সাথে দেখা হয়েছিল।
ওদের এলাকায় আমার একটা টিউশিনি আছে,সেটা
পড়ানো শেষ করেই বের হয়েছিলাম।কিছুদূর
সামনে এসে দেখা।
অন্তরা রিকশায় করে কোথায় যেন যাচ্ছিল।
আমাকে দেখে রিকশা থামিয়ে বলল,
-ভাইয়া ভাল আছেন ? কোথায় যাচ্ছেন?
-বাসার দিকে যাচ্ছি,,
.
দুজনে একই দিকে যাচ্ছি বলে ও আমাকে ওর
রিকশায় উঠতে বলল,এক প্রকার বাধ্য হয়েই ওর
সাথে রিকশায় উঠলাম। অন্তরার সাথে আমার কথা
বলতে অস্বস্তি হয় এটা অন্তরার মত বুদ্ধিমান
মেয়ের বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হওয়ার কথা ছিল
না।
রিকশা চলতে শুরু করলেই ও বলল,,
-ভাইয়া আপনার কি কোন সমস্যা হচ্ছে?
-কিসের?
-আমাকে দেখলেই এড়িয়ে যান
-না তেমন কিছু না?
.
রিকশায় বসে আর তেমন কোন কথা হয়নি অন্তরার
সাথে।মেয়েটার দিকে তাকাতেই কেমন যেন
লাগে?
অবশ্য ও আগের মত নেই?
বড় হয়ে গেছে সেটা ওর মুখেই ফুঁটে ওঠে।
.
রিকশা থেকে নেমে ওকে আমি ধন্যবাদ দিলাম।
অন্তরা কোন জবাব দিল না।শুধু একটু হাসল।
আমি আবার বললাম,
-অন্তরা তোমার ফোন নাম্বার টা দিয়ে যাও তো,,
.
ও ওর মুখের হাসি আরেকটু বিস্তৃত করে ওর
নাম্বার টা আমাকে দিল।তারপর বলল,
-আচ্ছা, যাই।
-হুম,,
.
আমি ভেবেছিলাম অন্তরা ওর নাম্বার দিবেনা।
যাক নাম্বার পেয়ে ভালই হয়েছে,সর্যি টা বলা
যাবে।
কিছু কথা এমন থাকেতো যেগুলো সরাসরি বলা
যায়না।
.
রাতে ফোন দিলাম অন্তরাকে , ফোন পিক করে
ওপাশ থেকে বলল,
-ভাইয়া ভাল আছেন?
-হ্যাঁ,, আমার নাম্বার কি সেভ করা ছিল?
-হ্যাঁ,দুই বছর আগের নাম্বার এটা আপনার,
-হুম,,
-ফোন কেন দিয়েছেন?
-ডিস্ট্রাব করলাম নাকি?
-না তেমন কিছুনা,,
-আচ্ছা,,অন্তরা সর্যি,,
-কেন?
-আমি জানি তুমি ব্যাপার টা বোঝ,,
-ভাইয়া তখন ছোট ছিলাম আমি।আর ওটা আবেগ
ছিল। আর এটা তো সকালেই বলতে পারতেন,
-এমনিতেই বলিনি,, আচ্ছা তোমার কিছু মনে না
থাকলেই ভাল।
-আচ্ছা,ভাইয়া।
-আচ্ছা,রাখি বাই।
.
সর্যি বলে অনেক টা হালকা মনে হল নিজেকে।
রাতের ঘুমটাও ভাল হলো।
তবে এসবেও শেষ হলো না কিছু,,
পরের দিন প্রাইভেট পড়াতে গিয়েও দেখা হয়ে
গেল অন্তরার সাথে। আমাকে দেখেও না দেখা
করে চলে গেল অন্তরা।
মনে হল আমাকে চেনেই না,অদ্ভুত লাগলো
খুব।
একাজ টা একদিন না কয়েক দিন হল।একদিন তো
আমি নিজেই অন্তরাকে ডেকে কথা বললাম।তখন
ঠিকই সে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলল।
কথা শুনে মনে হল কিছুই হয়নি এতদিন।।
.
তবে সবচেয়ে আশ্চর্য ঘটনা টা ঘটলো আজ
বিকেলে।
ক্যাম্পাস থেকে বাসা ফিরছিলাম,,হেঁটে হেঁটেই
ফিরছিলাম। তখন রিকশাতে অন্তরাকে চোখে
পড়লো। ও মনে হয় ক্যাম্পাস থেকে ফিরছিল।ওর
রিকশা আমার পাশ দিয়ে গেল তবুও ও আমাকে
দেখলই না,, তবে কিছু দূর গিয়ে রিকশা থামল।
যা বুঝলাম আমার জন্যই রিকশা থেমেছে। আমি
একটু এগিয়ে গিয়ে রিকশায় উঠে পরলাম।রিকশায়
বসে আমাদের কোন কথাও হল না। আমার বাসা
আসতেই আমি রিকশা থেকে নেমে গেলাম।
তারপর ভাড়া দিলাম রিকশার।এত কিছুতেও অন্তরা কিছু
বলল না এমন কি
ও আমার দিকে একবার তাকালো ও না। আমাকে
এভোয়েড করার কারণ টা ধরতে পারছি না কিছু
তেই। তবে কি ও ভয় পাচ্ছে, আমাকে আবার
ভালোবেসে ফেলে কিনা???
আচ্ছা...ও আমাকে এভোয়েড করলেই বা আমার
সমস্যা কি? এতোদিন তো ও এখানে ছিলো না।
তখন তো আমি ভালোই ছিলাম। হ্যাঁ...মাঝে মধ্যে
ওর খোজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করেছি। কেন
করেছি? এখন ই বা কেন চাইছি ও আমার সাথে কথা
বলুক। তবে কি আমি ওর প্রতি দুর্বল?? আমি কি ওর
প্রেমে পরে গেলাম? কি ভাবছি উল্টা পালটা?
.
জানিনা কি হচ্ছে আমার সাথে আর কেনই বা এসব
হচ্ছে।লামিয়াকে হারিয়ে যে কষ্টটা পেয়েছিলাম
সেটা অনেক টাই কাঁটিয়ে উঠেছি।আমি আর কোন
ভাবেই অন্য কারো কাছ থেকে কষ্ট পেতে
চাইনা?
অন্তরার সাথে বসে ব্যাপার টা ক্লিয়ার করতে
হবে।
তাই রাতে ফোন দিলাম ওকে,,দেখা করার জন্য
একটা রেস্টুরেন্ট এ ডাকলাম।ভেবেছিলাম ও হয়ত
রাজী হবেনা,, অনেক বাহানা করবে কিন্তু এমন
কিছু হল না। একবার বলতেই ও রাজী হয়ে গেল।
.
তো পরের দিন ঠিক সময়েই ও রেস্টুরেন্ট এ
এলো।
আমি অবশ্য একটু আগেই গিয়েছিলাম।ও যখন
এলো তখন আমি ওকে চিনতেই পারিনি,, ও অফ
হোয়াইট কালারের একটা শাড়ি পড়ে এসেছে।
মনে হল এই মেয়েটাই কি অন্তরা।এত সুন্দর
কিভাবে লাগছে ওকে,, এত দিন কি আমি অন্ধ ছিলাম
নাকি?
মনে হলো শ্যামলা কালো মেয়েটা যেন হুট
করেই রুপবতী হয়ে গেছে। ও সোজা এসে
আমার সামনে বসলো।
.
আমি প্রথম বললাম,
-অন্তরা তুমি আমাকে এভয়েড কেন করতেছ?
.
অন্তরা অবাক হয়ে বলল,
-কই ভাইয়া?
-এই কদিন যতবার দেখা হল ততবারই?
-বুঝিনাই?
-এত বার দেখা হলো,কোন কথা বল না।কাল
রিকশাতে একসাথে আসলাম তখন ও না।
-কথা কি বলতেই হবে?
-না তেমন না তবুও,,
-আপনি তো আমার বিএফ না যে আপনাকে
দেখলেই কথা বলতে হবে,,
-সেটা ঠিক তবুও,,
-তবুও কি?
-দেখো,কেউ ইগ্নোর করলে আমার ভাল
লাগেনা,,
-আপনি তো আমাকে পছন্দ করেন না তো
সমস্যা কোথায়?
-সমস্যা আছে অনেক? বিএফ ছাড়া অনেক
সমর্পক আছে দুনিয়ায়?
-আপনি আমার বন্ধুও না,,
-বন্ধু ভাবো,,
-আচ্ছা,, ভাবলাম।বন্ধুদের আমি তুমি করে বলি,অথবা
তুই। আপনাকে কোনটা বলব?
-তুমি বলিও,,
-আচ্ছা, ঠিকাছে। চলো উঠি,,
-এত জলদি,
-কি?
-না কিছুনা, আচ্ছা চলো।
.
অন্তরার সাথে বন্ধুত্ত্ব করে ভাল হলো না খারাপ
হলো বুঝলাম না। এখন সারাদিন ফোন করে
জ্বালায়।
মাঝে মাঝে জোর করে ওর সাথে শপিং এও
যেতে হয়। তবে তেমন বিরক্ত লাগেনা ওর
সাথে থাকতে, ভালই লাগে।
তবে সব চেয়ে ভাল হলো যখন ওর ডায়েরী
টা আমার হাতে চলে এলো। ডায়েরীটা ভুল
করেই ও ফেলে গিয়েছিল। তাতে উপকার
হয়েছে আমারই।
ডায়েরী তে সুন্দর করেই লেখা আছে,,
-আমি ওকে এখনো ভালবাসি,,কিন্তু ও কিছুই
বোঝেনা,,
এটুক পড়ার পরে মনে হলো আমার ওকে ভালবাসা
উচিত আর হয়ত ভালোবাসি।একবারো মনে হয়নি ও
কেমন? শুধু মনে হয়েছে ভালবাসি ওকে..
.
তারপরের দিন ক্যম্পাসে ওকে ডাকলাম।যেখানে
বসে ছিলাম সেখানে আমার পাশে অন্তরার
ডায়েরী টা ও রেখেছিলাম।ও আমার সামনে
আসতেই ওর নজর পরলো ডায়েরী টার দিকে।
ডায়েরী টা দেখা মাত্র ওর হাসি হাসি মুখটা অন্ধকার
হয়ে গেল।
.
ও আমার পাশে বসল না, দাঁড়িয়েই বলল,
-এটা কই পাইছ?
-কেন? এটা কি তোমার?
-উফ,, এটা খোল নাই তো,
-জ্বি না,, আমি কারো পারসোনাল জিনিষে হাত
দেইনা বিশেষ করে যে ডায়েরী তে কারো
ভালবাসার মানুষের নাম লেখা থাকে,,
কথা গুলো আমি হাসতে হাসতেই বললাম।
.
অন্তরা ডায়েরী টা হাতে নিয়ে আর দাঁড়াল না।
সোজা আমার সামন থেকে হেঁটে চলে গেল।
মনে হল ওর চোখে পানি,যেটা আমাকে কোন
ভাবেই দেখাতে চাইছিল না।
তবুও সেটা আমার চোখ এড়ায়নি।
.
রাতে অন্তরার ফোন এল, আমি ধরেই বললাম
-হ্যাঁ, বলো।
-কি লিখছ আমার ডায়েরীতে?
-কি?
-এই যে লিখছ যে, ছেলেটা বোঝে।
-হুম,, ঠিকই তো লিখছি,,
-কচু বোঝে,
-আরে সত্যি বোঝে,,
-তাই নাকি? বুঝলে মুখে বলতো,,
-মুখেই বলবে,, জানালার পরদা সরিয়ে
দেখো,ছেলেটা বলবে,,
.
এটা বলতেই অন্তরার ঘরের জানালার পরদা সরে
গেল। আমি ওদের বাসার সামনের রাস্তায় সেই
বিকেল থেকেই অপেক্ষা করছিলাম।কিন্তু
মহারাণীর ফোন এল এই মধ্য রাতে।
আমি ওখান থেকে চিৎকার করে বললাম,
-আমি বুঝি,,
.
অন্তরা ফোনে বলল,
-কি বুঝ?
-এই যে মেয়েটা আমাকে ভালবাসে?
-আর তুমি?
-আমিও বাসি,,
-কি?
.
আমি ফোন এর উপরেই চিৎকার করে বললাম,
-ভালবাসি,,
.
তখনি ওদের বিল্ডিং এর কুকুর টা শব্দ করে এগিয়ে
এল,আর তার সাথে বিল্ডিং এর ওয়াচ ম্যান ও।
আমি আর দেরী করলাম না ছুটলাম খুব জোরে।
পাছে আবার জলাতঙ্ক না হয়ে যায়।
তবে একবার কালো মেয়েটার জানালায় তাকাতে
ভুললাম না,চাঁদের আলোয় মেয়েটার হাসি মুখ ঠিকই
দেখা যাচ্ছিল।
.
.
.
-নাহিদ পারভেজ নয়ন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now