বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
যখন ছোট ছিলাম তখন শুধু বড় হতে ইচ্ছে করত।
কিন্তু এখন মনেহয় অামার জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহুর্ত টা ছোটবেলা'র সময়টা।
যখন ছিলনা কোন বাধা।মন যা চাইত তাই করতে পারতাম। কোন কিছু কিনে না দিলে অভিমান করে বসে থাকতাম যার জন্য জিনিসটা পাইতাম।
ঈদের সময় ১০ টাকা দিলে যে পরিমাণ খুশি ছিলাম এখন ১০০০ টাকা দিলেও তার অর্ধেক পরিমাণ খুশিও লাগেনা।
স্কুল ছুটি দিলে এক দৌড়ে খেলার মাঠে।
অার স্কুল বন্ধ দিত সময় তো কথাই নাই। সবাই মিছিল পাড়তে পাড়তে বাড়িতে ফিরতাম।
গ্রামে একটা বড় পুকুর অাছে সেখানে সবাই গোসল করতে নামলে চোখ লাল হয়ে যেত কিন্তু অামরা উঠতাম না।যখন কেউ লাঠি নিয়ে দৌড়ানি দিত তখন সবাই হাওয়া। বৃষ্টির সময় সবাই মিলে ফুটবল খেলতাম।যদিও তখন একটা ফুটবল ছিল অাবার ফুটো হয়ে গেছিল সেটাতেই সবাই গড়াগড়ি শুরু করতাম।গ্রামে কোন গাড়ি অাসলে কেউ সেই গাড়ির চারপাশ থেকে সড়তেই চাইতনা।
.
শীতের দিন অাসলেই সবাই মাঠের মাঝখানে ঘর বানায়া পিকনিক করতাম।যখন সন্ধ্যা হয়ে যেত সেই ঘরটায় অাগুন জ্বালায়া চিৎকার করতাম।
অার শীতকালে মাহফিলের সময় তো অারো মজা হত। কত কি যে করতাম!
সারাক্ষণ খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতাম।ভবিষ্যৎ বলে যে একটা শব্দ অাছে। সেটা মনেহয় জানতামই না।শুধু জানা ছিল অাজ খেললাম অাবার কাল ভোরে উঠে খেলতে যাইতে হবে।স্কুল ২০ দিন বন্ধ দিলে যখন খোলার সময় হইত কান্না চলে অাসত।কেন যে খুলল! অার এখন হঠাৎ ক্লাসে ইচ্ছে হলে যাই না হলে নাই। অাগে বৃষ্টি হলে পলিথিনের ভিতর বই গুলো রেখে দিতাম বাড়ির দিকে ভো-দৌড়।
ছোটবেলা যখন বাবার অাঙুলে ধরে বাজারে যাইতাম।
ইচ্ছেমত অনেক কিছু খাইতাম।সেই খাওয়াই যতটা মজা ছিল।এখন রেষ্টুরেন্টে সারাদিন পেট ভরে খাইলেও সেই মজাটা অার পাওয়া যাবেনা।
.
ঈদের ৪০ দিন অাগে থেকেই দিন গুণা শুরু করতাম।এভাবে ৪০,৩৯,৩৮,৩৭………০১ ঈদ চলে অাসত। ঈদের অাগের দিন সবাই মিলে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে চাঁদ দেখতাম।ঈদের অাগের দিন ঘুমই অাসতনা।স্পষ্ট মনে অাছে একবার ঈদের অাগের দিন সারারাত একটুও ঘুমাইনি।যখন অাযান দিল।অামার এক বন্ধু ।ও অাইসা ডাক দিল।পরে নামায পড়তে গেলাম। এত্ত উত্তেজনায় ছিলাম যে ঘুমই অাসছিলনা।
অার ঈদের পরদিন খুব অাফসোস হত ইশশ যদি ঈদটা অাজকে হত।অার এখন ঈদের অাগের দিন,ঈদের দিন, পরেরদিন কিভাবে চলে যায় খোজই পাইনা।অাগের মত সারারাত জাগতে হয়না এমনি ঘুম চলে অাসে।ঈদ চলে গেলেও অার মন খারাপ হয়না।অারেকটা অানন্দের মুহূর্ত ছিল পহেলা বৈশাখে অামাদের গ্রামে মেলা হয়।সেখানে কমপক্ষে ৩০ বার মেলাই যাইতাম।অার এইবার মেলায় সারাদিনে ৩বারও ভাল করে যায়নি।
.
মনে হচ্ছে যতই বড় হচ্ছি অানন্দ গুলো দূর অাকাশে হারিয়ে যাচ্ছে। কেন জানি সবসময় মনেহয় ছোট বেলাই ভাল ছিল।কেন যে বড় হলাম! এখন তো রাগ করলেও ছোটবেলার মত অাদর করে কেউ অামাদের রাগ ভাঙায় না।
ঈদের অাগের দিন অাগের মত মজা হয়না।
ক্লাস বন্ধ দিলেও অাগের মত ফিলিংস টা অার অাসেনা।
খেলাধুলায় অাগের মত ভাল লাগেনা।
সারাদিন দৌড়াদৌড়িও ভাল লাগেনা।
পুকুরে গোসল করতে গেলে মনেহয় যত তাড়াতাড়ি উঠতে পারি ততই মঙ্গল।তাই কারো অার লাঠি নিয়ে অামাদের পিছে দৌড়াতে হয়না।
.
কত রোমাঞ্চকর ছিল সেই দিন গুলো।
অনেক অনেক মিস করি ছেলেবেলা।
অাপনিও মিস করেন???????????????
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now