বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছবি ৩য় পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X #ছবি ৩য় পর্ব __দিল আফরোজ(ঐন্দ্রিলা আদ্রি) . সাইক্রিয়াটিস্ট আজিজুল হক ছবিটা কাঠের ফ্রেম থেকে খুললেন। যে লোহা দিয়ে ওটা লাগানো হয়েছিলো সেটায় মরচে ধরেছে। বোঝা যাচ্ছে অনেকদিন আগে হয়তবা আয়নাটা তৈরি করার সময়ই এই ছবিটা কাঠের পাটাতনের সাথে জুড়ে দিয়ে তারপর আয়নার কাচ বসানো হয়েছে। তখন থেকে ছবিটা এভাবেই আয়নার কাচের আড়ালে লুকায়িত ছিলো। "তমা এই মহিলাকে চেনো?",আজিজুল হক জিজ্ঞেস করলেন। "না। ডাক্তার, আপনি খেয়াল করেছেন ছবিটার মুখ বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছিলো?" "হুম। আমরা দুজনেই ভীত ছিলাম তাই ওরকম দেখেছি।" তমা যেন ভয় না পায় তাই আজিজুল হক এই কথা বললেন। কিন্তু ব্যাপারটা ভাবাচ্ছে তাকে। শোভন ছবিটা দেখার জন্য আজিজুল হকের হাত থেকে নিলো। আজিজুল হক প্রশ্ন করলেন,"শোভন, তুমি আগে দেখেছো এই ছবি?" "মনে করতে পারছি না ডাক্তার। ছবিটা হাতে নিয়ে আপনি কিছু অনুভব করেছেন?",শোভন জিজ্ঞেস করলো। "করিনি। এটা সাধারণ একটা ছবি। কি অনুভব করবো?" শোভন বললো,"ছবিটা হাতের নেওয়ার সাথে সাথে আমার শরীরের মধ্যে কেমন যেন লাগছে। আমি বোঝাতে পারছি না। খুব অস্বস্তিকর অনুভূতি।" তমা বললো,"ওটা আমাকে দে।" শোভন তমাকে ছবিটা দিলো। তমা ছবিটা কিছুক্ষণ দেখে চিৎকার করে ওটা হাত থেকে মেঝেতে ফেলে দিলো। "কি হলো তমা? তুমি ঠিক আছো?",আজিজুল হক জিজ্ঞেস করলেন। "ছবিটা আগুনের মতো গরম হয়ে গিয়েছিলো।" তমা ওর হাত দেখালো। লাল হয়ে আছে যেন আগুনের আঁচ লেগেছে। আজিজুল হক বললেন,"অদ্ভুত! তোমার বাবা আয়নাটা কোথায় পেয়েছেন?" শোভন উত্তর দিলো,"বাবা এটা কিনেছে।" আজিজুল হক জিজ্ঞেস করলেন,"অ্যান্টিকের দোকান থেকে?" তমা বললো,"না। আমাদের দূরসম্পর্কের চাচার থেকে কিনেছে। বাবা বরাবরই পুরনো জিনিস পছন্দ করে। উনিই বিক্রির জন্য আয়নাটা বাবাকে দেখায়। অল্প দামে সুন্দর পুরনো একটা আয়না পেয়ে বাবা কিনে ফেলেন।" "ওহ। তোমাদের চাচা এই আয়না কোথায় পেয়েছেন?" "আমিরা জানি না।" আজিজুল হক মেঝে থেকে ছবিটা তুলে নিলেন। ছবিটার পেছনের দিকে লাল কালিতে হিজিবিজি কি যেন লেখা। কি লেখা তা তিনি বুঝলেন না। তমা আর শোভনকেও লেখাটা দেখালেন। ওরাও বুঝলো না কী লেখা। বহুদিন আয়নার পেছনে আটকে থাকায় প্রায় অস্পষ্ট হয়ে গেছে। তবে দু একটা অক্ষর দেখে মনে হচ্ছে আরবি অক্ষর লেখা। আবার অন্য দেশের ভাষাও হতে পারে। ডাক্তার আজিজুল হক বুঝে উঠতে পারছেব না যে তার কি করা উচিৎ। এমন অদ্ভুত কেস এর আগে তিনি পাননি। তিনি ডাক্তার, অতিপ্রাকৃত বিষয়ে বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছে। তার ধারণা এসবের পেছনে ব্যাখ্যা আছে যা তিনি জানেন না। তমা বললো,"আমার মনে হয় আয়নার অদ্ভুত ঘটনার জন্য এই ছবিটাই দায়ী। আমাকে ওটা দিন আমি নষ্ট করে ফেলবো।" "না, তমা। আমি ভাঙা কাঠের ফ্রেম আর এই ছবিটা নিয়ে যেতে চাই। এই ছবি আর আয়না রহস্য আমাকে আগ্রহী করেছে।",আজিজুল হক বললেন। তমা বললো,"আপনার ইচ্ছে হলে নিয়ে যান কিন্তু এই অলক্ষুণে ছবি আর আয়নার অংশ আমি বাড়িতে রাখতে চাই না।" "ঠিক আছে তমা। আজ আমি আসি। আয়নাটা তুমি ভেঙে ফেলেছো। আশাকরি আর কোন সমস্যা হবে না। আর হ্যাঁ, তোমার বাবাকে বলো তোমাদেকে সময় দিতে তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।" শোভন আজিজুল হককে এগিয়ে দিতে গেলো। তমা তখন বাড়িতে একা। ইতোমধ্যে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। আজ বুঝি তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা নামলো। বাহিরে গাঢ় অন্ধকার। আয়নাটা ভাঙার পরেও তমার মনের মধ্যে কু ডাকছে। বার বার কুৎসিত মহিলার চেহারা মনে আসছে। শোভন অনেকক্ষণ হলো ডাক্তারকে এগিয়ে দিতে গেছে কিন্তু আসছে না। তমার একা একা একটুও ভালো লাগছে না যদিও একা থেকে ওর অভ্যাস আছে। টিভি চালিয়ে দিয়ে সোফায় আরাম করে বসলো তমা। টিভি দেখলে ভালো লাগতে পারে। টিভি দেখতে দেখতেই বিদ্যুৎ চলে গেলো সাথে সাথে সমস্ত বাড়িটা ঘন কালো অন্ধকারে ডুবে গেলো। এত বড় বাড়িতে মাত্র একজন মানুষ। তমা চার্জার লাইট জ্বালাতে গিয়ে দেখলো জ্বলছে না অথচ আজ সকালেই এটাকে চার্জ দিয়ে রাখা হয়েছে। সবসময় চার্জার লাইট ব্যবহার করা হয় তাই ঘরে মোমবাতি নেই। ঘরের জানালা দরজা খোলা কিন্তু একফোঁটা বাতাস নেই। গাছের পাতা স্থবির হয়ে গেছে। গুমোট পরিবেশ। অন্ধকারে ভয় লাগছে তমার। শোভনের উপর খুব রাগ হচ্ছে ওর। শোভন যাওয়ার সময় বলে গেলো ডাক্তারকে কিছুদূর এগিয়ে দিয়েই চলে আসবে কিন্তু আসার নামগন্ধ নেই। আয়নায় রহস্যময় ব্যাপার গুলো ঘটার পর থেকেই একা একা ভয় লাগে তমার। তমা ওর মোবাইলটা হাতে নিয়ে পিডিএফ এ একটা উপন্যাস পড়তে বসে। এতে কিছুটা হলেও ভয় কমবে, তাছাড়া মোবাইল স্ক্রিনের আলোয় ঘরের অন্ধকার কাটাবে। তমা হঠাৎ নিজের পেছনে কারো উপস্থিত অনুভব করলো। (চলবে) .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সমস্যার প্রতিচ্ছবি
→ তৃতীয় বার আঁকা ছবি
→ কার ছবি পার্ট ২
→ কার ছবি ( পার্ট ১ )
→ সীরাহ কেন পড়া উচিৎ? – তিনি ইসলামের বাস্তব প্রতিচ্ছবি – প্রথম পর্ব
→ হৃদয় আঁকা ছবি
→ ডলারের ছবি....
→ মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ (বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি) ৪
→ মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ (বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি) ২
→ মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ (বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি) ১
→ মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ (বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি) ৩
→ বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
→ চলোমান জীবনের প্রতিচ্ছবি (শেষ পর্ব)
→ চলোমান জীবনের প্রতিচ্ছবি part 2
→ চলোমান জীবনের প্রতিচ্ছবি part 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now