বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#ছবি
২য় পর্ব
__দিল আফরোজ(ঐন্দ্রিলা আদ্রি)
.
শুক্রবারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আজিজুল হক তমাকে ফোন করলেন। তমা তাকে আসতে বললো। তিনি ৪:৩০ টা নাগাদ তমাদের বাড়ি পৌঁছালেন।
তমা আজিজুল হককে ড্রইং রুমে বসতে দিলো।
আজিজুল হক বললেন,"তোমার বাবা আর ভাই বাড়িতে আছে? ওদের সাথে কথা বলতে চাইছি।"
"বাবা শুক্রবারেও বাড়িতে থাকেন না তিনি বরাবরের মতো রাতে ফিরবেন। ভাইয়া ঘুমাচ্ছে। আগে আয়নাটা দেখুন তারপর ওর সাথে কথা বলবেন।
"আমার সাথে আসুন। গতকাল ওটা স্টোর রুমে সরিয়ে রাখা হয়েছে।"
আয়নাটা সাদা কাপড়ে ঢাকা ছিলো। তমা কাপড় সরিয়ে দিলো। দেখতে বেশ সুন্দর। কাঠের আয়না, নিপুণ কারুকার্য আয়নাটাকে বিশেষায়িত করেছে।
আজিজুল হক কিছু না বলে আয়নার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং দায়িত্ব সহকারে আয়নাটা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন। তিনি আয়নায় এমন কিছু দেখলেন যা তাকে সাহস শূন্য করে দিলো। আয়নার প্রতিচ্ছবি অনুযায়ী তার চোখ গুলো অসাড় এবং নিষ্প্রভ দেখাচ্ছিলো। তার বাম চোখ অবসন্ন ভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে রইলো।
সাইক্রিয়াটিস্টের উদ্বিগ্ন মুখভঙ্গি দেখে তমা জিজ্ঞেস করলো,"কোন সমস্যা?"
আজিজুল হক উত্তর দিলেন,"না।"
তিনি হাত দিয়ে চোখ ঘোষলেন, চোখ বন্ধ করে আবার আয়নার দিকে তাকালেন। তিনি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন আয়নায় তার বাম চোখের সাথে ডান চোখের কোন সামঞ্জস্য নেই! কিন্তু তিনি তমাকে এ কথা বললেন না। তাকে আরো নিশ্চিত হতে হবে। উনার নিজেরও চোখের ভুল হতে পারে।
হঠাৎ তমা ডাক্তারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বললো,"আয়নার কাচ স্পর্শ করুন। ওটা আপনার কাছে আঠালো ঠেকবে।"
আজিজুল হক অনিচ্ছাসত্ত্বেও ধীরেধীরে আয়নার স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ কাচের উপরিভাগের দিকে হাত বাড়ালেন।
তার আঙুল আয়না স্পর্শ করলো কিন্তু আয়নার কাচ মোটেও আঠালো লাগলো না বরং কাচের মতোই ঠাণ্ডা এবং মসৃণ।
"আঠালো লেগেছে?"
তমা টানটান উত্তেজনা নিয়ে উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো।
"না",আজিজুল হক একঘেয়ে বিরক্ত ভরা কণ্ঠে উত্তর দিলেন এবং পুনরায় আয়নার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলেন।
আয়নাতে তার চুল দেখে অবাক হলেন। তার পাকা চুলের যায়গায় যুবক বয়সের মতো কালো চুল দেখা যাচ্ছে। এটা খুবই হাস্যকর। কেউ তাকে এ অবস্থায় দেখলে না হেসে থাকতে পারবে না। তার মনে হলো আয়নাটা তাকে সুক্ষ্ম ভাবে অপমান করছে।
তমা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে চিৎকার করে সতর্ক করলো,"ডাক্তার, আয়নার দিকে দেখবেন না।"
আজিজুল হক আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
তমা বললো,"এখন আয়নায় আপনাকে বিকৃত দেখা যাচ্ছে তাইনা?"
"হুম। এটা খুবই অদ্ভুত এবং অপ্রীতিকর।"
"আমি আপনাকে বলেছিলাম না আয়নাতে কিছু আছে।"
কথাটা বলেই তমা হাপাতে লাগলো এবং দৌড়ে অন্য রুমে চলে গেলো। হাতে একটা লাঠি নিয়ে ফিরে আসলো।
"তমা এমন করো না",আজিজুল হক বুঝতে পারেন তমা কি করতে চলেছে।
তিনি ওকে বাঁধা দিতে গেলেন কিন্তু কাজ হলো না। তমা আয়নার উপর সজোরে আঘাত করতে থাকলো। আয়নার রূপোর পাত লাগানো টুকরা বিপদজনক ভাবে এদিক ওদিক ছিটে পড়তে লাগলো। ভাগ্য ভালো ডাক্তার বা তমা আহত হয়নি। আয়নার কাচ ভাঙা হয়ে গেলে আয়নার কাঠের ফ্রেমের উপর আঘাত চলতে থাকলো। শব্দ শুনে তমার ভাই শোভন দৌড়ে এলো। তমা বড় ভাইকে দেখে থামলো।
"ওটা কী?",আজিজুল হক আয়নার ফ্রেমের দিকে আঙুল দিয়ে দেখালেন। ডিম্বাকৃতির কাঠের পাটাতন যেটার সাথে রূপার পরত দেওয়া আয়না লাগানো থাকে সেখানে একটা ছবি লাগানো। একজন মহিলার ছবি। মহিলার চেহারা অশুভ লক্ষণ যুক্ত এবং ছবিটা দেখে মনে হচ্ছে এটা ক্যামেরায় তোলা না। হাতে আকা পোট্রেট। আজিজুল হক আর তমা ভয়ার্ত চোখে দেখতে পেলো ছবিটা দ্রুত বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সাইক্রিয়াটিস্ট ভাঙাচোরা ফ্রেমটি হাতে তুলে নিলেন এবং ছবিটা কাছ থেকে দেখলেন। ফ্রেমের সাথে রহস্যময় ছবিটা লোহা দিয়ে আটকানো।
(চলবে)
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now