বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চালাক মেয়ে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X আমি ছিলাম খুব চঞ্চল টাইপের একটা মেয়ে।হাসা হাসি, আড্ডা, মাস্তিতে লেগে থাকতাম সব সময়।মানুষকে বোকা বানাতে আমি খুবই আনন্দ পেতাম।এগুলো তো বেশি সময় ব্যায় করতাম। সুমনা কে নিয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়াতাম। আর অনেক গুলো প্রেম করতাম।আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল টাকা।এক প্রকার টাকার প্রতি খুব আকৃষ্টতা ছিলা আমার। লোভী ছিলাম আমি।ভার্সিটি তে দুইটা আর ফেবুতে তিনটা প্রেম করতাম আমি।পড়ালিখার প্রতি মনযোগ খুব কমই ছিল।মোবাইলে রিচার্জ এর জন্যে ফেবুর প্রেমিকদের ব্যবহার করতাম। আর বাহিরে খাওয়া ও ঘোরাঘুরির জন্যে ভার্সিটির দুই প্রেমিক দের ব্যবহার করতাম।এই ছিল আমার কারসাজি।বেশ আনন্দেই কাটছিল দিন গুলো। ভার্সিটির সবাই জানে যে আমি এমন জঘন্য কাজ করি।তাই অনেক ঘৃনার দৃষ্টিতে দেখে আবার অনেকে এটাকে ফ্যাশন মনে করে। তবে এ নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই।মাথা ব্যাথাটা হচ্ছে এইখানে যে অন্য এক ছেলে আমাকে আজ দুমাস ধরে দেখে আসছে।তবে সামনে এসে কথা বলার সাহস এখনো হয়ে উঠে নি তার । কিন্তু ছেলেটা আমাকে দেখবে কেন? সে কি জানেনা আমি কেমন। আমার প্রকৃতি কেমন। কয়েকদিন যাবত এই ব্যাপারটা আমায় বেশ ভাবাচ্ছে। তবে ছেলেটার চোখ জোড়ার মাঝে বড্ড মায়া আছে। একদিন ছেলেটাকে হাতেনাতে ধরে পেললাম।আমি আর সুমনা যখন কথা বলছিলাম তখন আমার কেন জানি মনে হল হাবলুটা আমাকে দেখছে।তাই পিছন ফিরে ওর দিকে তাকালাম। আমি ওর দিকে তাকাতেই ও চোখ জোড়া ঘুরিয়ে নিল।আমি চোখ ফিরিয়ে নিলাম।কিছুক্ষণ পর একই কাহিনী আবার ঘটল।এবারেও কিছু বললাম না।তৃতীয় বারে ওরে ধরে পেললাম। একপ্রকার দৌড়েই ওর সামনে উপস্থিত হলাম। ও হয়তো ঠিক বুঝে উঠতে পারে নি।তাই দাড়িয়ে রইল।আমি ওর সামনে গেলাম।ও আমার দিকে তাকিয়েই ছিল।আমি ঠিক ওর দিকে তাকাতে পারছিলাম না।ওর চোখের দিকে তাকানোর সাধ্যি আমার নেই।তবুও কোন রকমে বললাম, এই আপনার সমস্যা কি হুম? আপনি আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকেন কেন? জবাবে সে বলল, ভালো লাগে তাই। আমি বললাম, রাখেন আপনার ভালো লাগা।আপনি আমার সম্পর্কে কিছু জানেন।আপনি জানেন যে আমার বয় ফ্রেন্ড আছে? সে বলল, হুম জানি তো।তবে এটাও জানি যে আপনি তাদের কাউকে সত্যি কারের লাভ করেন না। আমি বললাম, সত্যি কারের লাভ টাভ নেই।এগুলো জাস্ট টাইম পাস।এর ছেয়ে বেশি কিছু না। ও বলল, আপনার কাছে তা মনে হতে পারে। তবে আমার কাছে লাভ এর মিনিং অন্য কিছু। আমি বললাম, কি? ও বলল, সময় হলে বলব।আর আপনিও টের পাবেন। এই বলে ছেলেটা চলে গেল।আমি ঠায় দাড়িয়ে রইলাম।আসলে আমি সত্যিই জানি না ভালোবাসার মিনিংটা কি? কারন আমার কাছে কখনই মনে হয়নি যে আমি কাউকে লাভ করি।কারো প্রতি আমার তেমন কোন অনুভূতি কাজ করে না। বাড়িতে এসে অনেক ভাবলাম।ছেলেটার ব্যাপারেও ভাবলাম। পরের দিন আবার ধরলাম। :এই যে আজ আবার তাকিয়ে আছেন সমস্যা কি? :না কোন সমস্যা নেই।।আমি তাকিয়ে থাকি কারন আমার ভালো লাগে। :নাহ আপনি আর তাকাবেন না। :তাকালে কি করবেন শুনি? :খুন করে পেলব। এই বলে আমি চলে আসলাম। পিছন থেকে ছেলেটা চেঁচিয়ে বলে উঠল, :আমি তাকাবো।দেখি আপনি খুন করতে পারেন কি না। আমি হাসলাম। তবে ওর অগোচরে।চলে আসলাম ভার্সিটি থেকে। আজকাল ছেলেটা কে নিয়ে খুব ভাবি।আমার ভাবনার রাজ্যে যে ও কিভাবে ডুকে গেল? টেরিই পেলাম না।কত ছেলের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে,কথা হয়েছে।কই তাদের সাথে কথা বলে তো আমার এমন কোন অনুভূতি হয়।এই ছেলের সামনে গেলে আমি কেমন জানি হয়ে যাই।ঠিক গুছিয়ে কথা বলতে পারি না।সব কথা গুলিয়ে যায়।কেন? কেন এমন হয়? তাহলে কি আমি তাকে ভালোবাসি?না এ হতে পারে না। আমি কেন তাকে ভালোবাসব।তাকেতো ঠিক চিনিও না।তেমন মায়া জমানো কথাও হয় নি তাহলে কিভাবে আমি তাকে ভালোবাসাব? নাহ আর ভাবতে পারছি না।।। কিছু দিন পর ছেলেটা কে আবার জিজ্ঞেস করলাম :আচ্ছা আপনি আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন কেন? :বাগানে হাজারো রকমের ফুল থাকার পরেও মানুষ কেন গোলাপের দিকে তাকায়? :কারন গোলাপ দেখতে সুন্দর। মন কাড়ার মত মায়া আছে তার মাঝে। :এই মায়াটাই আমি আপনার মাঝে পেয়েছি।তাই তাকিয়ে থাকি। :কিন্তু আমি যে কয়েকটা রিলেসন করি সেটা তো আপনি জানেন তাই না? :হুম জানি। :তাহলে আপনার কোনদিক থেকে মনে হল যে আমি কারো মায়া কাড়ার মত মেয়ে।আমি তো খারপ।তাহলে কিভাবে আমাকে আপনার ভালো লাগল? :চাঁদের কত কলংক। তবুও সবার কেন চাঁদ কে ভলোলাগে? এর উত্তর আমার কাছে নেই।এখন কি বলব সেটা আমি জানি না।এখানেই আমি তার কাছে হেরে গেছি। বেশ কিছুদিন পর তার সাথে আমার রিলেশন হয়।আমি জানি সে আমাকে ভালোবাসে ।আমিও ভালোবাসি তাকে।ও যখন জানতে পারে আমি তাকে ভালবাসি তারপরেই ও মানে রিপাত আমাকে প্রপোজ করে ।যেহেতু আমি ওর প্রতি আগে থেকেই দুর্বল ছিলাম তাই আর না করতে পারি নি। আসলে আগে এমন ছিলাম না।আমার প্রকৃতি এমন ছিল না।।বাবা মা আর আমি এই ছিল আমাদের পরিবার।একদিন আমার বাবা ও মায়ের সাথে খুব জগড়া হয়।খুব জগড়া। আমি তখন ক্লাস টেন এ পড়তাম। বাবা মায়ের এই জগড়া দেখে আমি সোজা নিজের রুমে এসে বসে রইলাম। কারন জগড়া করা আমি একেবারেই পছন্দ করি না।জগড়া হলেই নিজেকে আড়াল করে পেলি।আমি রুমে বসে ছিলাম।হঠাৎ ঠাশশ করে একটা শব্দ হল।আমি দৌড়ে গেলাম গিয়ে দেখি মা গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে।তারপর আর কি! ব্যাগপত্র গুছিয়ে চলে গেল বাবার বাড়ি।আমার সামনে দিয়েই গেল।অথচ আমায় একটা কথাও বলল না।আস্তে চলে গেল।আমাকে হয়ত তিনি ভুলে গিয়েছেন। আমি সেদিন প্রথম বাবাকে কান্না করতে দেখলাম। খুব কান্না করছিল বাবা।তারপর বাবা নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের বিজনেস এ মন দেয়।আর আমি একা একা মাকে ভুলার বৃথাই চেষ্টা করতাম। তবে এখনো মায়ের প্রতি আমার ঘৃণা কাজ করে। তাকে আর ঠিক ভালো বলে আমার মনে হয় না। মাধ্যমিক পরিক্ষা শেষ হবার পর আমি পুরো একা হয়ে যাই।বাবা থাকে অফিসে। আর আমি রান্না করেই একাএকা বসে থাকি।কোন কাজ থাকে না।সারাদিন টিভি দেখতে দেখতে বোর হয়ে যাই। আমার এই একাকিত্ব দেখে আমার এক বন্ধু বলল,আরে কয়েকটা প্রেম কর।এতে টাইমপাস ও হবে আর নিজের লাভও হবে।সেইদিনের সেই ববন্ধুর সলাতে আজ আমার এই অবস্থা। আমি শুধু টাইমপাসই করতাম। কখনই ভাবতাম না যে আমার এমনটার কারনে একজন মানুষ কত কষ্ট পাবে। এই ছিল আমার এই পরিনতির কারন।বন্ধুর বুদ্ধিতে আজ আমি কত গুলো মানুষ এর মন নিয়ে খেললাম।না জানি এর জন্যে খোদা আমাকে কি শাস্তি দেয়। এগুলো রিপাত জানে।এগুলো জেনেই রিপাত আমাকে ভালোবাসে।আর আমিও তাকে খুব ভালবাসি। ওর সাথে থেকে আমি সব ভুলে যাই।নিজেকে নতুন আঙ্গিকে, নতুন রূপে গড়ে তুলি।সকল খারাপ কাজ ছেড়ে দেই।এখন নামাজ পড়ে শুধু খোদার কাছে ক্ষমা চাই।তবে কারো মন ভাংগার অপরাধ এর শাস্তি হতে যে আমি খুব সহজে রেহাই পাব না সে আমার জানা ছিল।রিপাত এর সাথে রিলেশন হওয়ার পর আমি যখন ফেবুর ওই তিন প্রেমিক এর কাছে ক্ষমা চাই,ওদের যখন সব খুলে বলি তখন তারা শুধু একটাই কথা বলেছে যে, "খোদা তোমার বিচার করবে নিশি।খোদা তোমার বিচার করুক।" আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাই।কিন্তু তারা আমাকে কিছু না বলেই ব্লক মেরে দেয়।ভার্সিটিতে যাদের সাথে প্রেম করতাম তারা শুধু বলেছিল, "ভালো থেকো " কিন্তু আমার মনে হয় না তারা এটা মন থেকে বলেছে। যাক এসব ভেবে লাভ নেই।আমি এখন যথেষ্ট খুশি আছি রিপাত এর সাথে।অন্য সব রিলেশন এর মতই ছিল আমাদের রিলেশন। খুব ভালোই ছিলাম আমরা। এরই মাঝে একটা কাহিনী ঘটে।আমার মা আবার ফিরে আসে।এর পিছনে ছিল রিপাত এর হাত।কিভাবে ও এগুলো পারে তা আমার মাথায় ধরে না।কারো মন গলাতে ওর বেশি সময় লাগে না।আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে ওর যাদু আছে।কিন্তু পরে আবার ভাবি না এটা যাদু নয় এটা ওর গুন। এর পর থেকেই আমি রিপাতকে পাগলের মত ভালোবাসতে শুরু করি।ওর ফোন না পেলে যেন আমি পাগল হয়ে যাই।খুব ভালোবাসতাম আমি পাগলটা কে।আর পাগলটাও আমাকে ওর ভালোবাসায় পাগল করে তুলত। . এত ভালোবাসা আমার কপালে ছিল না আর।আমি একটা কথা ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমার এখনো শাস্তি পাওয়া বাকি আছে।কারো মান ভাংগার শাস্তি। সেদিন আমি ঘুমিয়েছিলাম।হঠাৎ রিপাত এত ফোন। ফোনটা ধরে হ্যালো বলতে যাব তার আগেই এক লোক বলে উঠল, :আপনি কি নিশি? :জি আমি নিশি।কিন্তু,,,,, :আপনি জলদি প্রাইম হাসপাতালে চলে আসুন। :আপনি কে? আর রিপাত কই? :আপনি আগে আসুন তারপর বলা যাবে। আমি পাগলের মত ছুটে গেলাম। গিয়ে দেখালাম ট্রাকের চাপায় দুমড়ে মুছড়ে রিপাতের মৃত দেহ।আঠারোই জুন ছিল ওর মৃত্য বার্ষিকী।আর সেদিনই আমার জন্মদিনও ছিল।কি গিপ্ট আনবে সে নিয়ে রিপাত এর সাথে জগড়াও করছিলাম।কত করে বললাম যে, কি দিবা বল না। নাহ ও বলবেই না।বলে নাকি সারপ্রাইজ দিবে।হয়ত এটাই ছিল ওর সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজ। সবচেয়ে বড় গিপ্ট। আর এটাই ছিল আমার সেই পাপের শাস্তি।কেন এত বড় শাস্তি দিলে খোদা কেন?ওকে না নিয়ে আমায় নিয়ে যেতে।ও কি দোষ করেছে?যা করেছি আমিই করেছি।শাস্তি দিলে আমায় দিবা ওকে কেন? এই বলে কান্না শুরু করে দিল নিশি।মুখে ওড়না গুঁজে হু হু হু করে কান্না শুরু করে দিল ও।আমি চোখে হাত দিয়ে দেখি আমার চোখ ভেজা। একি আমি কান্না করছি কেন? আমার তো হাসার কথা। ও শাস্তি পাচ্ছে।প্রতিটা মুহূর্তেই ও শাস্তি পাচ্ছে।এটাই আমি চাইছিলাম।তাহলে আমি হাসির বদলে কান্না করছি কেন? নিশি কষ্ট পাচ্ছে বলে নাকি এমন একটা ভালোবাসা অপূর্ন রয়ে গেল বলে? এ আমার অজানা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ চাষীর চালাক মেয়ে
→ চাষীর চালাক মেয়ে
→ চালাক মেয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now