বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বুরহান খুব চিন্তিত। আজ তার S.S.C পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে। আর সকলের মত তার ভালো রেজাল্টের আশা না, পাশ করলেই খুশি। কারন এই নিয়ে তিন বারের মত পরিক্ষা দিছে সে। এই বার ফেল করলে মান সম্মান আর এক ফোটাও বেচে থাকবে না।
।
গতবার ফেল করার পর প্রতিবেশীদের কাছে অনেক অপমানিত হাওয়া লাগছে , এবার যেন এমন কিছু না হয় তার জন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করেছে। বইয়ের প্রতিটা পাতা তার সাক্ষি। সবার সাথে হাসি মুখে কথা বললেও তার মনের ভিতর অজানা এক ভয় কাজ করছে আজ। যতটানা প্রতিবেশীদের ভয় পাচ্ছে তার থেকে বেশি তার বাবাকে ভয় পাচ্ছে সে। কারন তার বাবা ইউসুফ আলি যে এক রাগি পুলিশ অফিসার। চোর গুন্ডা পিটাতে সিদ্ধ হস্ত তিনি। অনেক বার বুরহানেরও ভাগ্য হয়েছে তার হাতে মার খাওয়ার ।এইতো কয়েক বছর আগেও মেরে দাত ভেঙে দিছিলো বুরহানের। কারন তেমন কিছু ছিল না, বাবার মুখের উপর পাদ মেরেছিল শুধু। ।
।
এদিকে ইউসুফ আলি মিস্টি নিয়ে বাড়িতে হাজির। ছেলে পাশ করলে সবাইকে মিস্টি খাওয়াবেন তিনি। বুরহান আরো বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লো , বুঝতে পারলো এইবার পাশ না করলে ইউসুফ আলি আর তাকে দুনিয়ায় রাখবে না। হাড় মাংস আলাদা করে ফেলবে।
।
দুপুর ২টা বাজে। রেজাল্ট দিয়ে দিছে। বুরহানের সহপাঠী সবাই কত ভালো রেজাল্ট করেছে! কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস আর নিয়তির খেলায় আবারো ফেল বুরহান।
।
রাগি পুলিশ রেজাল্টের একটা কপি নিয়ে বাসায় ছুটে এলেন , কিন্তু বুরহান বেপাত্তা। উঠানের পাশে আমগাছের মগডালে পালিয়েছে সে। রাগে টগবগ করে মাথার রক্ত ফুটছে ইউসুফ আলির। হারামজাদা বুরহান এবারও অংকে ডিম পেড়ে দেছে? পাড়াচ্ছি ডিম। ওকে আজ মেরেই ফেলবো। এভাবেই বিড়বিড় করে যাচ্ছে ইউসুফ আলি।
।
বাড়ির সবাই নিরব, শুধু উঠান ভরে পায়চারী করে বেড়াচ্ছেন তিনি। হঠাৎ পা ফসকে হুড়মুড় করে গাছ থেকে ইউসুফ আলির ঘাড়ের উপর পড়লো বুরহান। উঠানের উপর দুইজনই চিৎপটাং। চারিদিকে সরিষার ফুল দেখতে লাগলো ইউসুফ আলি আর এই সুযোগে দৌড়ে পালালো বুরহান। ইউসুফ আলিও কম নয়, ঝাড়ু হাতে বুরহানের পিছু নিলেন তিনি। জীবনে চোর ডাকাত কম ধরেননি ইউসুফ আলি, কিন্তু কেন জানি বুরহানের সাথে পেরে ওঠেন না কোন বার। প্রত্যেক বারই কিভাবে যেন পালিয়ে যায় সে। এবারো তাই হল। ইউসুফ আলি হাফাতে হাফাতে বাড়ি ফিরে এলেন। বাড়িতে অনেক লোক জড় হয়েছে, প্রতিবারই হয়। বুরহানের রেজাল্ট দেওয়ার দিন বাপ বেটার কান্ড দেখতে বাড়িতে আশে সবাই। ইউসুফ আলির রাগি মেজাজ দেখে আবার চলেও যায়।
।
রাত ২টা বাজে। ইউসুফ আলি ঘর ভরে পায়চারি করে বেড়াচ্ছেন , বুরহান এখনো বাসায় ফেরে নি। এদিকে ছেলের আসায় না খেয়ে বসে থেকে তার ইয়া মোটা ভুড়িটা শুকিয়ে আসছে। ভুড়ি এবং ছেলেকে নিয়ে ভিষন চিন্তায় পড়ে গেলেন তিনি। উপায় না পেয়ে অন্ধকারেই ছেলেকে খুজতে বেরিয়ে পড়লেন ।
।
উঠানের পাশে যেতেই আম গাছ থেকে কিছু একটা হুড়মুড় করে ইউসুফ আলির ঘাড়ের উপর পড়লো। আবারো চিৎপটাং তিনি । তবে অন্ধকারের জন্য এবার আর সরিষার ফুল দেখতে পেলেন না। জলদি টর্চ জালালেন। অবাক হওয়ার কিছু নেই, তার গুনধর পুত্র আবারও গাছ থেকে পড়েছে। ইউসুফ আলি এবার আর ভুল করলেন না, খপাৎ করে ধরে ফেললেন বুরহানকে। তারপর কি যেন চিন্তা করে আবার ছেড়েও দিলেন।
।
পরের দিন সকাল ৫ টা। ইউসুফ আলি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ তিনি বুরহানকে অনেক বড় শাস্তি দিবেন , তাইতো সকাল হতে না হতে ছেলেকে ডেকে তুলেছেন। আজ সম্ভাবত বুরহানের জন্য অনেক বড় শাস্তি অপেক্ষা করছে। বাপের ঘাড়ের উপর একই গাছ থেকে ২ বার পড়া? শাস্তি হিসেবে সারা দিন বুরহানকে এই আম গাছে উঠার প্রাকটিস করতে হবে। এই শাস্তি দেওয়ার পেছনে ইউসুফ আলির একটা কারনও আছে। ছেলের চরিত্র সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট জানেন। পরিক্ষায় তিন বার অংকে ডিম পেড়েছে হতচ্ছাড়াটা, যাতে বাপের ঘাড়ে তৃতীয় বার না পড়ে তাই এই আজব সিদ্ধান্ত ইউসুফ আলির। তৃতীয় বার কোন রিস্ক নিতে চাচ্ছেন না তিনি। ।
।
শাস্তি শুরু। বুরহান গাছের মগডালে , নিচে ইউসুফ আলি পাহারারত। সাফল্য পাবেন কি ইউসুফ আলি? নাকি বুরহান আবারো .........
[] রবি []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now