বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বউ

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X অফিস থেকে ঘরে ঢুকেই সাহিল তার ব্যাগটা বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে চিৎ হয়ে পরে রইলো কিছুক্ষণ। এটা তার প্রতিদিনকার রুটিন।বাবাকে দেখে তিন বছর বয়সী নিহা হাততালি দিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো-- "ইয়ে! পাপা এসেছে... পাপা এসেছে.....।" কিছুক্ষণ চিৎকার করে সে বিছানায় ওঠার ব্যর্থ চেষ্টা করলো।সাহিল সেদিকে ফিরে তাকাবার প্রয়োজনবোধ করলো না।ব্যস,বিভা দপ করে জ্বলে উঠলো। দিন দিন সাহিলের এই নির্বাক, নির্লিপ্ত আচরণ তার কাছে অসহনীয় হয়ে উঠছে। মেয়েকে বিছানায় উঠিয়ে দিয়ে বিভা বললো-- তোমার প্রবলেম কী? সাহিল একথার কোনো জবাব দিল না। এমনিতেই তার কম কথা বলার অভ্যাস। বিভা বিরক্তি নিয়ে বললো-- তোমার এই ভড়ং ধরে বসে থাকাটা না আমার সহ্য হয় না।অফিস থেকে এসে বাবু চিৎপটাং।এদিকে মেয়েটা পাপা পাপা করে জান দিয়ে দিচ্ছে সেদিকে তাকাবার সময় তার নেই।মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কিভাবে? সাহিল বিরক্তি নিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসে বললো--তোমার এই প্রতিদিনকার ভাঙ্গা রেকর্ডটা বন্ধ কর প্লিজ।আর ভালোলাগে না। বিভা মুখ ঝামটা দিয়ে বললো-- প্রতিদিন এক আচরণ করো কেন? মানুষের ন্যুনতম বিবেক থাকা উচিৎ। -- কী করবো?অফিস থেকে ঘরে ঢুকেই তোমার সাথে সাম্বা ডান্স শুরু করে দেবো?ব্যাংকের কাজের প্রেশার কী বোঝো?দুপুরে ঠিকমতো ভাত খাওয়ার সময়টুকু পাই না।থাকো তো সারাদিন ঘরে বসে।তুমি কী বুঝবে? --দেখো, রিক্সাওয়ালাদের ডায়ালগ ঝারবে না।সারাদিন আমি কি ঘরে চুপ করে বসে থাকি? কয়টা দাসী রেখেছো আমার জন্য?ঘরের এত এত কাজ করে কে?আর ঐ ব্যাংকের চাকুরির দোহাই আমাকে দেবে না, খবরদার! আমার বাবাও ব্যাংকে চাকুরি করেছেন। তোমার চেয়ে বড় পোস্টেই করেছেন। উনি অফিস থেকে ফিরে তোমার মতো বিছানায় তাব্দা মেরে পরে থাকেননি। সংসারের কাজে মাকে সাহায্য করেছেন।আমাদের তিন ভাইবোনের লেখাপড়াও দেখিয়ে দিয়েছেন। লুজার কোথাকার! বিভা এক ঝটকায় মেয়েকে কোলে তুলে ড্রইংরুমে চলে গেল।নিহাকে সোফায় বসিয়ে টিভি অন করলো।ছোট্ট নিহা মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বললো-- মামনি,তুমি পাপাল সাথে লাগ কলেছো? বিভার কান্না পেয়ে যায়।সে ভেবে পায় না কেন যে ছোটখাটো ব্যাপারগুলো আজকাল ঝগড়ার রূপ নেয়! গলার কাছে আটকে থাকা কান্না সামলে বিভা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিয়ে বললো-- সরি মামণি, তোমার সামনে আমার ওরকম আচরণ করা ঠিক হয়নি। --ইট'স ওকে মামণি। সাহিল জামাকাপড় ছেড়ে হাতমুখ ধুয়ে ডাইনিং টেবিলে চলে গেল।টেবিলে এক বাটি পায়েস পিরিচ দিয়ে ঢেকে রাখা আছে। সে পায়েসটুকু তৃপ্তি নিয়ে খেল। বিভার এই একটা গুণ খুব ভালো।সে চমৎকার রাঁধে। সাহিল মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে বিছানায় আরাম করে বসলো। এটা তার প্রতিদিনকার রুটিন।অফিস থেকে ফিরে সন্ধ্যার নাস্তা গ্রহণ করেই তাকে মোবাইল ফোন নিয়ে বসতে হয়।টিভি দেখার প্রতি তার আগ্রহ কম।সে ফেসবুকে ঢুকে অন্যের পোস্টে লাইক,কমেন্ট করেই সময় কাটিয়ে দেয়।নিজের পারিবারিক ছবি বা ভাব-ভালোবাসার কথা লিখে পোস্ট করা তার স্বভাববিরুদ্ধ। লোকজনকে মনের কথা এত বলে বেড়িয়ে লাভ কী। মেসেঞ্জারে সে মাঝে মাঝে কলিগ বা বন্ধুদের সাথে জরুরি আলাপ সেরে নেয়। বাকিটা সময় সে মোবাইল ফোনে গেমস খেলে কাটায়। গেমস খেলা তার ছোটবেলার অভ্যাস।এই অভ্যাসটা সে কিছুতেই ছাড়তে পারে না।তবে গত এক সপ্তাহ যাবৎ তার মেসেঞ্জারের মোহ কিছুটা বেড়েছে।ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল নামের একটা ফেসবুক আইডি তার এই মোহ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাতদিন আগে হুট করে তার অফিসের ব্যস্ততার মাঝে ইনবক্স টুং করে উঠলো। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে সে দেখে কেউ একজন তাকে 'হাই' লিখে পাঠিয়েছে। সাহিল একটু অবাক হয়।মেসেঞ্জারে অচেনা কারো সাথে হাই-হ্যালো করার বয়স তো সে পার করে এসেছে।তার সাত বছরের পুরনো একজন স্ত্রী আছে।তিন বছর বয়সী একটা মেয়ে আছে।এই অসময়ে কে তাকে 'হাই' জানাচ্ছে?ব্যাপারটা জানা দরকার। সেও প্রতি উত্তরে লিখলো 'হ্যালো'। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এলো "কী করছেন? লাঞ্চ করেছেন?" সাহিলের বিস্ময়ের সীমা রইলো না। সেইসঙ্গে সুখের একটা ঢেউ খেলে যায় তার মনে।আইডিটা এমনভাবে প্রশ্ন করছে যেন সে সাহিলকে বহুদিন ধরে চেনে! সাহিল ইংরেজি বর্ণ দিয়ে বাংলায় লিখলো-- আপনি কে? --দেখতেই পাচ্ছেন আমি ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। কথাটা লিখে সে একটা হাসির ইমো দিল। ইমোদেখে সাহিল বিগলিত হয়।এই ইমোগুলো চ্যাটিং এ আরো গতি এনে দিয়েছে।এই ইমোগুলো না থাকলে কী যে হতো!সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। সাহিল অচেনা মেয়েটার সাথে নিজের রসবোধের প্রমাণ দিতে গিয়ে পালটা লিখলো-- ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এখন ফেসবুকে কেন? তার তো এখন ক্রিমিয়ার যুদ্ধে যুদ্ধাহত সৈনিকের সেবায় ব্যস্ত থাকার কথা। কথাটা লিখতে পেরে সাহিল খুব খুশি হয়ে উঠলো নিজের ওপর কারণ সে ভাবছে সে খুব উঁচুমাপের রসিকতা করে ফেলেছে। অপরপ্রান্ত থেকে উত্তর এলো-- সেই কাজেই তো ব্যস্ত আমি। আপনি যুদ্ধাহত সৈনিক না? --মানে? --আরে বুঝলেন না?আমরা সবাই ই তো জীবনযুদ্ধে আহত সৈনিক। সাহিল মনে মনে মেয়েটার বুদ্ধির প্রশংসা করলো।কী সুন্দর গুছিয়ে কথা বলে মেয়েটা!এরকম গুছিয়ে কথা বলতে পারা চাট্টিখানি ব্যাপার না।মেয়েটার সাথে কথা বলতে সাহিলের খারাপ লাগে না।প্রতিদিনকার একঘেয়ে জীবনে যদি অপ্রত্যাশিতভাবে একটু রঙ্গের প্রলেপ পরে তাতে মন্দ কী! শুধু একটু সাবধানী হতে হবে।অসতর্ক হওয়া চলবে না।তাছাড়া সে তো আর যেচে মেয়েটাকে নক করেনি।মেয়েটাই আগে এসেছে।কেউ নিজে থেকে এগিয়ে এলে তাকে ফিরিয়ে দেবার মতো অভদ্র সাহিল না।এইসব ভাবনা তার পাপবোধকে মুছে দিল।তার একটু একটু অপরাধবোধ যে হচ্ছিল না তা না। নিজের বউয়ের কথাও তার মনে পরে গেল।বিভা অফিসটাইমে সাহিলকে কত কত ফোন দিয়েছে,টেক্সট করেছে!সেসব ফোন বা টেক্সট সাহিলকে আনন্দ দিতে পারেনি বরং বিরক্ত করেছে।অফিসটাইমে কাজ বাদ দিয়ে কারো সাথে আলগা আলাপ করা যে তার পছন্দ না এটা সে বিভাকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছে।বিভা কেঁদেছে, কথা বন্ধ রেখেছে।কাঁদলে কাঁদুক। ছিচকাঁদুনে মেয়েমানুষের কান্নায় তার কিচ্ছু এসে যায় না। রাতে বিভা মেয়েকে মাঝখানে রেখে সাহিলের উল্টোপাশ ফিরে শুয়ে রইলো গত সাতদিন যাবৎ সে এই কাজটাই করছে।প্রথম প্রথম সাহিল বিভাকে এ ব্যাপারে কিছু বলেনি।নিজেও ভাব বজায় রেখে চলেছে।আজ আর সে পারছে না।বিভাকে তার খুব ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছা করছে।সে নরম সুরে ডাকলো-- বিভা ঘুমিয়েছ? --না, ঘুমাইনি।কিছু বলবে? --হ্যাঁ। --কাপড় খুলতে বলবে? সাহিল অপ্রস্তুত হয়ে বলল-- আমরা কি একটু গল্প করতে পারি না? --এই মুহূর্তে তোমার সাথে খেজুরে আলাপ করার ইচ্ছা নেই। --তুমি শুধু শুধু রাগ দেখাচ্ছ।আমি কিন্তু কোনো দোষ করিনি। বিভা হাই তুলে বললো-- আচ্ছা, দোষ না করলে নাই। একথার পিঠে কী বলা যায় সাহিল তা ভাবতে থাকে।বিভা ঘুমিয়ে পরে।তার গভীর শ্বাস -প্রশ্বাস এর শব্দ শুনতে পায় সাহিল।রাগে তার শরীর যেন জ্বলে যায়।স্ত্রীকে সে মনে মনে 'মাগি ' বলে গালি দেয়।এই মনে মনে কিছু বলতে পারার মধ্যে অনেক সুখ।সাহিল ভেবে পায় না এই বোকা মেয়েমানুষগুলো এত তেজ আর অহঙ্কারের রসদ কোথা থেকে পায়?আর সময়ে অসময়ে ঝগড়া করতে না পারলে যেন এদের শান্তি মেলে না। (চলবে ... .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now