বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এটা দেখে জান্নাত জোরে জোরে হাসতে লাগলো।ওর সাথে ওর বান্ধবী গুলোও হাসছে।আর আমি লজ্জায় উপরের দিকে তাকাতে পারছি না।
ত্যাস! পড়ে যাওয়ার আর জায়গা পেলাম না।এতো গুলো মানুষের সামনে!মান-সম্মান আর কিছুই থাকলো না।
না এখান থেকে উঠতে পারছি,আর না এই ভাবে এখানে বসে থাকতে পারছি।পায়ে হালকা লেগেছেও।
সবাইতো অবাক!জামাইয়ের ভাই পড়ে গিয়েছে।
লোকজন ব্যস্ত হয়ে পড়লো আমাকে তোলার জন্য। কয়েকজন এসে আমাকে তুললো।আমারতো অনেক লজ্জা লাগছে।সবার সামনে এভাবে পড়া যাওয়ার কারনে।
আর জান্নাতের দিকে তাকিয়েও আমার রাগ হয়ে গেল।
কি জোরে খিল খিল করে হাসছে।আমার পাঞ্জাবি তে একটু ধুলা বালিও লেগে গিয়েছে।
এটা দেখে জান্নাত আর ওর ৩বান্ধবী বললো,'''আমাদের সাথে আসেন ওয়াশরুমে নিয়ে যাচ্ছি।
আমি লক্ষি ছেলের মতো ওদের পিছু পিছু যেতে লাগলাম।
ওরা ৪জন ই মিট মিট করে হাসছে।
আর আমারতো লজ্জায় অবস্থা খারাপ।
ইস!পড়ার আর সময় পেলাম না।বিয়েরদিন তাও আবার সবার সামনে!ছি ছি ছি!মান-সম্মানের একবারে ১২টা বেজে গেল।
এখন তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে গিয়ে একটু হাত মুখ ধুয়ে নিই।
তারপর ওরা আমাকে ওয়াশরুমের দরজাটা দেখিয়ে দিল।আমি ফ্রেশ হয়ে পাঞ্জাবির ধুলো-ময়লা গুলো পরীষ্কার করে নিলাম।
তারপর আমি চলে আসলাম।
নিচে আসতেই ভাইয়া আমাকে ডাক দিল।আমি ভাইয়ার কাছে গেলাম।
ভাইয়া:এই তুই চোখ গুলো কি বাড়ীতে রেখে এসেছিস?
আমি:না তো।কেন ভাইয়া?
ভাইয়া:তাহলে তুই ওখানে পড়ে গেলি কি করে?
আমি:পিছলিয়ে।
ভাইয়া:তুই পড়লিতো পড়লি আমার বিয়ের দিনেই পড়লি।মান সম্মান গুলোতো সব খাইলি।
আমি:আরে ত্যাট!আমার বুঝি মান-সম্মানের ক্ষতি হয়নি?সুধু ওনার যেন একাই ফাটছে!আচ্ছা তুই এখানে চুপটি করে বসে থাক।বিয়ে করতে এসেছিস চুপ চাপ বিয়ে করবি।আর আমি একটু এদিক ওদিক ঘুরে আসি।
তারপর আমি এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি।
হঠাৎ একজনের উচ্চ হাসি শুনতে পেলাম।আমি ওদিকে গিয়ে দেখলাম এটা হলো সেই সকালের ওই মেয়েটি,যে আমার পড়ে যাওয়া দেখে খুব হাসছিল।
ওর সাথে ওর ৩বান্ধবীও আছে।
ওরা কি যেন কথা বলছে।আমি ওদের কথা শোনার জন্য ওদের দিকে এগিয়ে গেলাম।তারপর লুকিয়ে লুকিয়ে ওদের কথা শুনতে লাগলাম।
আরশি:ছেলেটা সত্যিই হিরো।আমি আমার বিএপ কে ফোন করে বলবো,আমি তোমার সাথে ব্রেকআপ করবো।তারপর ওই ছেলেটাকে পটিয়ে ৪২ করে দেব!
রিয়া:তুই কি বেয়িমান মেয়েরে?তোর ভালোবাসার মানুষকে ঠকাবি?ছি ছি ছি!তোর মতো বেয়িমান মেয়ে ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য নয়।ওই ছেলেটাকে আমি পটাবো।কারন,আমার বিএপ কে দেখে মনে হয় ও অন্য কারো সাথে রিলেশন করে।আমাকে ছেড়ে দেবে হয়তো।তাই ওর ছাড়ার আগেই আমিই ওকে ছেড়ে দেব।
নাদিয়া:তোরা চুপ থাক।ওই ছেলেটা সুধু আমার।আমিই হবো ওর বউ। আমাদের ছোট একটা সংসার হবে।দুটো বাচ্চা হবে।ছেলে হলে নাম রাখবো নিল।আর মেয়ে হলে নাম রাখবো নীলিমা।
জান্নাত:হা হা হা!এই নাদিয়া আমি কি রিপাকে বলে ওর জায়গায় তোর বিয়েটা করিয়ে দেব?খুব ভালো হবে।
নাদিয়া:তুই যা ই বলিস না কেন,ছেলেটাকে দেখে আমার বুকের পা পাশে কেমন যেন চিমটি লাগছে!
জান্নাত:তোর যা শরীর,৩কেজি ওজন।রক্তের অভাবে এমন হয়েছে হি হি হি!
নাদিয়া:তুই ভালোবাসার কি বুঝিস?যখন আমার বিএপ এর সাথে আমার প্রথম দেখা হয় তখন এমনই ভাবে বুকের বা পাশে চিমটি লেগেছিল।আর তার পরইতো ওর সাথে প্রেম হয়।
জান্নাত:ওহ তাই বুঝি?আমিতো মনে করলাম তোর বিএপ ই চিমটি দিয়েছিল হি হি হি!
সবাই হেসে উঠলো।
রিয়া:আমার কিন্তু তখম খুব কষ্ট হচ্ছিল, যখন ওই হিরোটা নিচে পড়ে গিয়েছিল।
আরশি:আমারতো কান্না করতে ইচ্ছা করছিল।
জান্নাত:আর আমারতো চিল্লিয়ে হাসতে ইচ্ছা করছিল।আচ্ছা কেমন দেখলি আমার খেলটা?
আরশি:কোন খেলের কথা বলছি?
জান্নাত:কোন খেল আবার ওই যে ওই ছেলেটার পায়ের নিচে কলার খোসা ফেলার ওই খেলটা।তারপর ই তো ধপাস করে সবার সামনে মাটিতে পড়ে গেল।
আমি:ও মাই গোড!তারমানে এই মেয়েটা আমাকে শয়তানি করে ফেলে দিয়েছে।এর প্রতিশোধ আমি নেবোই।
নাদিয়া:তুই কিন্তু এটা ভালো করিসনি।সবার সামনে ওই হিরোর মতো ছেলোটাকে ফেলে দিয়ে।
জান্নাত:এ...আইছে আমার দরদী! দরদ একবারে উথলিয়ে উথলিয়ে পড়ছে!ওকে সবার সামনে ফেলে দিয়ে কত মজা পেয়েছি জানিস?সবেতো শুরু ওই হিরোর।এরপর আরো দেখবি।
রিয়া:আরো দেখবো মানে?তুই কি ওর সাথে আরো কিছু করবি?
জান্নাত:হুম।আচ্ছা শোন,একটু পরতো ওনারস সবাই খেতে বসবে।ওদের খাওয়া শেষ হলে আমরা শরবত নিয়ে যাব।
আরশি:ওতো গুলো লোকের জন্য শরবত?
জান্নাত:আরে না,।জামাই আর জামায়ের আশে পাশে যে ৩-৪ জন থাকবে তাদের জন্য।আর আমার মনে হয়,জামাইয়ের আশে-পাশে ওই ছেলেটাও থাকবে।
রিয়া:আচ্ছা তোর প্লান কি বলতো?
জান্নাত:আমরা সবাইকে চিনি,লেবু,ট্যাং আর স্যালাইনের শরবত দেব।কিন্তু ওই ছেলেটাকে ঝালের গুড়ার শরবত দেব।কেমন হবে বল?
আমি কথাটা শুনেতো অবাক!এই মেয়েটা বলে কি আমাকে ঝালের শরবত খাওয়াবে।দাঁড়া মজা দেখাচ্ছি।
নাদিয়া:কিন্তু যদি ওই ছেলেটা ধরে ফেলে তখন কি করবি?
জান্নাত:আরে গাধা ও ধরলেতো কি হয়েছে,কাউকেতো আর বলতে পারবে না।কারন,সবার সরবত ই মিষ্টি হবে আর ওরটা ঝাল।
আরশি:তুইতো দেখছি ১দিনে ওকে মেরে ফেলবি।
জান্নাত:মারবো নয়,হালুয়া টাইট করবো।এখন চল রিপা কি করছে দেখে আসি।
রিয়া:হুম চল।
তারপর ওরা সবাই চলে গেল।
আমিতো ফুল বোকা হয়ে গিয়েছি।এই মেয়েটা আসলে চাই কি?ও জানেনা আমি কি জিনিস!ওর খেল আমি ওকেই দেখাবো।
ওদিকে ৪বান্ধবী রিপার রুমে ঢুকলো।
রিপা:তোদের জামাই দেখা হলো?
রিয়া:জামাইয়ার কই দেখলাম।জামাইয়ের পাশে যেই হ্যান্ডসাম ছেলেটা ছিল ওকে দেখেইতো চোখ আটকিয়ে গিয়েছিল।
রিপা:এই তোরা ওর দিকে নজর দিবিনা।ওটা হলো আমার একমাত্র দেয়র।
নাদিয়া:মানে ওটা তোর জামাইয়ের ছোট ভাই?
রিপা:হুম।
আরশি:শোন রিপা আমার জান পাখি,তুই যদি তোর দেয়রকে আমার সাথে রিলেশন করিয়ে দিতে পারিস তাহলে তোকে আমি একটা সোনার নাকের নলক দেব।
রিয়া:এই চুপ করতো।তুই এখনো ছোট আছিস।আর এমনিতেই তোর একটা বিএপ আছে।তাই তুই বাদ।রিপা দোস্ত তুই তোর দেয়রের সাথে আমার রিলেশন করিয়ে দে।আমি তোকে ট্রিট দেব।
রিপা:এই জান্নাত তুই কিছু বলছিস না যে।
জান্নাত:আমি আর কি বলবো যা বলার তা তো তোর দেয়র ই বলবে।
রিপা:মানে?
জান্নাত তারপর ওই ঘটনাটা বলে,এবং সরবত খাওয়ানোর ওই প্লানটাও বলে।
এটা শুনে রিপাতো অবাক!
রিপা:এই এগুলো তুই কি করেছিস?তুইতো দেখছি আমার বিয়েটা ভেঙে দিয়ে ছাড়বি।
জান্নাত:বিয়ে করার কত শখরে বাবা!শোন আমি ওই ছেলাটাকে এমন টাইট দেবনা দেখবি জীবনে মেয়ে দেখলে কেমন ভয় পায়।
রিপা:ওকে টাইট দিতে গিয়ে আবার নিজেই টাইট হয়ে যাসনা যেন।
জান্নাত:কে টাইট হয় দেখবি।
তারপর খাওয়া-দাওয়া শেষ হয়ে যায়।জান্নাত তার প্লান মতো শরবত নিয়ে চলে আসে।জান্নাতের সাথে ওর ৩বান্ধবীও আছে।
ভাইয়ার সাথে আমরা ৪জন বসে আছি।
ওরা আমাকে বাদ দিয়ে ৪জনকে শরবত দিল।আমি জিগ্গাসা করলাম,''আমার শরবত কি নেই?
জান্নাত:হুম আছেতো।আপনার জন্য স্পেশাল শরবত বানানো হয়েছে।এই নেন(শরবতের গ্লাসটা আমার দিকে এগিয়ে দিল)
আমি গ্লাসটা হাতে নিয়ে বললাম,''আমার গুরু বলেছে,তোমার জন্য কখনো স্পেশাল কোন জিনিস আসলে যে ওই স্শেশাল জিনিসটা আনবে তাকে আগে দিবা তারপর তুমি নিবা।তাই আমার গুরুর আদেশ মোতাবেক,আপনাকে আগে এই গ্লাস থেকে শরবত খেতে হবে।তারপর আমি খাব।
জান্নাত আমতা আমতা করে বললো,''না মানে আমি শরবত খাই না।
আমি:তা বললে তো হবে না শরবত খেতেই হবে।
এটা বলে আমি জান্নাতের দিকে গ্লাসটা এগিয়ে দিলাম।
জান্নাত অল্প করে একবার চুমুক দিয়েই, ওমা কি ঝাল বলে চিল্লিয়ে উঠলো।তারপর ওখান থেকে দৌঁড়িয়ে চলে গেল।
আর ওর ৩বান্ধবী দাঁড়িয়ে আছে।
আমি:কি তোমরাও খাবে নাকি এই স্পেশাল শরবত?
ওরা এটা শুনেই ভয়ে দৌঁড়দিল।
আর আমি হাসতে লাগলাম।আমাকে টাইট দেবে।আমাকে ফেলে দেওয়ার প্রতিশোধটাও আমি নিয়ে নেব।
জান্নাত দৌঁড়িয়ে গিয়ে বারবার পানি খেতে লাগে।তারপর কিছু মিষ্টি খেয়ে একটু শান্ত হয়।
তখন জান্নাতের আম্মুর ফোন আসে।জান্নাত ফোনটা রিসিপ করে।
জান্নাত:হ্যালো আম্মু।হ্যালো,হ্যালো।আম্মু তোমার কথা কিছুই শোনা যাচ্ছে না।আমি সাদের উপর গিয়ে ফোন দিচ্ছি।
তারপর জান্নাত ফোন কেটে দিয়ে সাদে চলে যায়।
নাহ!চারদিকে এতো হৈ চৈ ভালো লাগছে না।আসলে আমার একা থাকতেই বেশি ভালো লাগে।সারা বাড়ী মানুষে ভরে আছে।কোথাও একটু নিরিবিলিও নেই।আচ্ছা সাদে গেলে কেমন হয়।
আমি আস্তে-আস্তে সাদে গেলাম।সাদের উপর থেকে কারো কথা শুনে একটু দাঁড়িয়ে গেলাম।
কথা শুনে মনে হচ্ছে ওই মেয়েটা।হয়তো ও ফোনে কারো সাথে কথা বলছে।
আমি আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে উপরে গেলাম।দেখলাম সাদে ওই মেয়েটা ছাড়া আর কেউ নেই।এটাই আমার প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ।
জান্নাতের ফোনে কথা বলা হয়ে গিয়েছে।ফোনটা কেটে যেই পিছনে ঘুরেছে,আমি সাথে সাথে ওকে আলতো ধাক্কা মেরে দেওয়ালের সাতে চেপে ধরলাম।
জান্নাত ভয় পেয়ে বললো,'' এটা কি করছেন?
আমি:তখন যে আমাকে ফেলে দিয়েছিলে তার প্রতিশোধ নেব এখন।
জান্নাত আর কিছু বলতে যাবে ঠিক তখন ই আমি ওর মুখটা চেপে ধরে আমার মুখটা ওর কাছে নিয়ে গেলাম।ওর গরম নিশ্বাস আমার মুখের উপর পড়ছে।
চলবে,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now