বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বৃষ্টিস্নাত মায়াজাল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে।ঝুম বৃষ্টি।ইংরেজীতে যাকে বলে cats and dogs.আচ্ছা কুকুর আর বিড়াল এর সাথে বৃষ্টির নামকরণের অর্থ কি??থাক মাথাটা নষ্ট করতে চাই না।যে নামকরণ করছে তারটাই মেনে নিলাম।এমনিতেই পড়ার চাপে কাহিল তার উপর নতুন জায়গা।গতকাল রাতে এই বাসায় উঠার কারণে এখনো কিছু দেখা হয়নি।এসেই ঘুম।এক ঘুমেই সকাল।অবশ্য ক্লান্তিতে ঘুমটা ভালোই হয়েছে।। . ঘুম থেকে উঠেই টি-শার্ট টা গায়ে জড়িয়ে বেলকুনিতে এসে দাঁড়ালাম।বৃষ্টি বরাবর ই ভালো লাগে।সাথে ব্রাশটাও করা যাবে।বৃষ্টির ছিটা গায়ে লাগছে তাই ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে।বেলকুনি দিয়ে বেশি দূরের কিছু দেখার অবকাশ নেই।।এক হাত দূরেই লম্বা একটা বাসা।।ঢাকা শহরের এই এক সমস্যা শান্তি ভরে আকাশ দেখা যায় না। . বেশ কিছুক্ষণ বেলকুনিতে থাকার পর ঠান্ডায় শরীর কেপে কেপে উঠতে লাগলো।ঘরে ফিরে আসবো হঠাৎ ই সামনের বাসার বেলকুনিতে একটা মেয়ে এসে হাত দুটো গ্রিল দিয়ে বের করে বৃষ্টিতে ভিজতে লাগল।মেয়েটি আমাকে লক্ষ্য করেনি।চোখ বন্ধ করে বৃষ্টির সাথে খেলায় মেতেছিলো।অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে ছিলাম।এতো সুন্দর দৃশ্য কেও ই হয়তোবা অগ্রাহ্য করতে পারবে না।আমিও পারিনি।অবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম। . অপূর্ব তার মুখখানি।পানির ছোট ছোট টুকরো মুখের বিভিন্ন জায়গায় লেগে আছে।লাল ঠোটে পানির দানাগুলো যেন তাজা গোলাপের পাপড়িতে জমে থাকা পানির দৃশ্য।মুখে অস্পষ্ট মুচকি হাসি।আমি অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম এতো সুন্দর হাসিও হয় মানুষের।চোখের পাপড়িগুলো মৃদু কাঁপছিল আবছা হাওয়াই।আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিলাম এই মুহুর্তে ঘটে যাওয়া পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর দৃশ্যপটের দিকে। . কতক্ষণ তাকিয়েছিলাম সময় ধরে বলাটা কঠিন।তবে শেষের দৃশ্য বেশ হাসির।মেয়েটি চোখ খুলে আমার হা হয়ে তাকানো দেখে বেশ অপ্রস্তুত হয়েছিলো।ভূত দেখার মতো চমকে উঠে রাগান্বিত চোখে শাসিয়ে ভেতরে চলে গেল।একটু আগে যেটা ঘটে গেল তা দেখে অনায়াসেই যে কেও প্রেমের অতল সাগরে হাবুডুবু খেয়ে ফেলবে।আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হলো না,উলটো আমি প্রেমের সাগরের দু তিন লিটার জল ই খেয়ে ফেললাম।ফলাফল ঠান্ডা আমায় গ্রাস করে নিলো দু তিনদিনের জন্য। . প্রেমেই আমার সর্বনাশ।দিন রাত শুধু অচেনা এই মেয়েটির কথাই মাথায় আসছে।রাতের ঘুম ও কেড়ে নিয়েছে মেয়েটি।উফফ কি অসহ্য যন্ত্রণা।পাগল হয়ে যাচ্ছি।।অথচ যার জন্য হচ্ছি তার দেখাই নেই।সেদিনের পর থেকেই যেন হাওয়া।তাকিয়ে থাকি বেলকুনির দিকে।সবখানেই শূণ্যতা।ভাবি এই বুঝি মেয়েটাকে দেখতে পাবো।কতোনা কল্পনা একে ফেলেছি।কিভাবে কথা বলবো,কি থেকে শুরু করবো।। . পড়ালেখার চাপ,ক্যাম্পাস যাওয়া আর নিয়ম করে বেলকুনিতে এসে উকিঁ মেরে খুঁজা অচেনা মানবীকে।এভাবেই চলছিলো দিন।সেদিন ও বিকেলবেলায় একিভাবে তাকিয়ে ছিলাম।তবে এবার দেখেছিলাম ওপাশের বেলকুনিতে।চোখে চোখ পড়তেই ইশারায় বুঝিয়েছিলাম খুব কথা বলা প্রয়োজন।এই বেলকুনিতে এতে।কি বুঝল কে জানে ভেতরে চলে গেল।এলোই না।মেয়েটা এমন কেন?একটু কথা শুনলে কি এমন হতো।মন খারাপ করে ভেতরে এসে সিগারেট ধরালাম। . কয়েকদিন ধরেই পড়তে পারছি না।সারাক্ষণ শুধু ওর ভাবনাতেই আচ্ছন্ন থাকি।তিয়াস,নাসিম দুজনেই ওদের গার্লফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলছে।দিন রাত দেখি ফোন কানেই থাকে।এতো কি কথা থাকে সেটাই বুঝিনা।মেয়েদের সাথে কথা বলতে গেলেই এক ধরনের বিব্রতভাব চলে আসে।।সে কারনে কোন বান্ধবীও জুটে নি। . ছুটির দিনগুলোতে সকাল দেখেই অপেক্ষা করি ওকে দেখার।আজও ছিলাম।কি মনে করে যেন নিচে তাকিয়েছি দেখি মেয়েটি বেশ সুন্দর সেজে কোথায় যেন যাচ্ছে।আমিও দিলাম ভৌ দৌড়।বেশ সুন্দর লাগছে ওকে।লাল-নীলের কম্বিনেশনে লম্বা আলখেল্লার মতো কি যেন পড়েছে,ঠোঁটের লিপস্টিক ও হালকা লাল।চোখে হালকা কাজল।গালেও হালকা লাল রঙিন আভা।লাল পরী।। . -এই যে শুনুন।প্লিজ আমার একটু কথা শুনুন? . -কে আপনি?কি কথা আছে আপনার?? . -একটু সময় দিন না।অনেক কথাই জমা আছে।না বলতে পারলে আক্ষেপ রয়ে যাবে।। . -আমি কোচিং এ যাচ্ছি।দেরি ও হয়ে গেছে।এখন তো সম্ভব না। . -আপনি অনুমতি দিলে আপনার সাথেই যাই।অপেক্ষা করবো।কথাগুলো বলা খুব বেশি জরুরি। . -উফ,আচ্ছা পাগল তো আপনি। . (একঘন্টা পর রিদি বের হচ্ছে।আমাকে দেখে কেমন ভাবে যেন হাসলো।এক ফাকেঁ ওর নামটাও জেনে নিয়েছি।এক পিচ্চির কাছ থেকে শিউলি ফুলের মালাও কিনে নিয়েছি) . -চলুন ওই পার্কটাই।কি যেন বলবেন বলছিলেন?? . -দু হাটু গেড়ে ফুলগুলো ওর দিকে বাড়িয়ে বললাম,রিদি আমি আপনাকে পছন্দ করি,আর সেটা প্রবল।এভাবে হুট করে বলাটা ঠিক হচ্ছে কিনা জানিনা,তবে আমি যা করছি ভুল করছি না।আমি আপনাকে পেতে চাই।আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছেন।এভাবেই জড়িয়ে রাখতে চাই।আমাকে অপছন্দ করার অনেকগুলো কারন থাকতেই পারে।।তবে আমি নিজেকে খারাপ ও বলিনা যতটুকু নিজেকে চিনি। . -আরে থামুন।দম নিন।আমাকেও কিছু বলতে দিন।আপনি বেশ পাগল।একটা মেয়ে ভালোবাসা চাই।অনেক টা হয়তো আপনার মতোই।তবে আমি এসব প্রেমে বিশ্বাসী যে নই।একজনের প্রতারণা বিশ্বাসে যে ফাটল ধরিয়ে গিয়েছে।কি করি বলুন? . -সুযোগ দিন,আমি সেই ফাটল জোড়া লাগাতে চেষ্টা করবো না।আমি ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস আপনার প্রতি নিঃশ্বাসে মিশিয়ে দেবো।কতটুকু সুখ আপনার কাম্য তা তো জানিনা,কিন্তু নিজের দেয়ার যতটুকু আছে তা পূর্ণ করতে কার্পণ্য করবো না। . -আপনাকে ভালোবাসা যায়।তবে আমার বিশ্বাসের সেই সূক্ষ ফাটল টার কারনে যে মিছে আশা দিতে পারছিনা।।বন্ধু বানানো যায় অনায়াসেই। . -মনের এককোনায় জায়গা দিলেই সুখী মানুষ হিসেবে দাবী করতে পারবো।ছোট একটা বীজ ই তো শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে পুরো জায়গার মালিকানা নেয়।হলাম নাহয় সেই বীজ।। . সেই থেকে বন্ধুত্বের পথ চলা।সুখ,দূঃখে মেশানো ছিলো প্রতিটি গল্প।চেষ্টা করছিলাম বিশ্বাসের এক কোণাও যেন অপূর্ণ না থাকে।দিন দিন আমার প্রতি রিদির কেয়ার টা বেড়েই চলছিলো।আর ওর প্রতি ভালোবাসাটাও।সম্পর্কটা অল্প দিনেই তুমিতেও নেমে এসেছিলো। . ইতিমধ্যে রিদির স্নাতক টাও শেষ।পরিবারের বড় মেয়ে তাই দায়িত্ববোধ ও এসে জুটলো ওর ঘাড়ে।যথারীতি চাকুরী খুঁজাও শুরু করে দিলো।একদিন হুট করেই জানালো মগবাজারে কিসের যেন ইন্টার্ভ্যু আছে।সকালে নিয়ে গেলাম।বেশ নাকি ভালোই হল।আশাবাদীও।এই খুশিতে দুজনে বাইরেই লাঞ্চ করলাম।ঘুরে ফিরে সন্ধায় ফিরলাম। . রাতে রিদির ফোন এল।দুজন ই বেলকুনিতে।আবছা আলোয় দুজন দুজনকে দেখছি।এক অদ্ভুত পরিবেশে যেন ছেয়ে আছি দুজনেই। . -খেয়েছ রিদি?? . -হুম।অফিস থেকে ফোন এসেছিল।ওরা আমাকে সিলেক্ট করেছে। . -কংগ্রাচুলেশন রিদি।আমি অনেক খুশি হয়েছি। . -আমি চাকুরী টা করবো না রাজ।ট্রেনিং করতে কুমিল্লায় যাওয়া লাগবে। . -সমস্যা কোথায়?আমরাও পরশু গাজীপুর চলে যাবো।ওখানেই ইন্টার্ন করতে হবে।আমি হয়তো পারলাম না বিশ্বাসের কোঠাটুকু পূর্ণ করতে।এ জীবনে বুঝি তোমার ভালোবাসাটুকু পাওয়া হল না?? . -তোমাকে ছাড়া দূরে কোথাও যেতে পারবোনা।।তুমিও চলে যাচ্ছ।ভালো থেকো। . লাইনটা কেটে গেল।মিলাতেই পারছি না কি আড়াল করলো। . মাল সামানা গাড়িতে তুলতে তুলতে বার বার চোখ আটকে যাচ্ছে চিরচেনা প্রিয় সেই বেলকুনিতে।চোখের আড়ালেই লুকিয়ে রাখলো সারাদিন।এক বুক অভিমান নিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করলো।মেঘে ঢাকা রইলো রঙিন সবকিছু। . গাড়ি যেন ছুটছে রকেটের গতিতে।মুহুর্তেই যেন সব ফেলে সামনে এগুচ্ছি।।অথচ আমি এগুতে চাই না।মনের ভুলে কিনা জানিনা মনে হল টুপ করে চোখের জ্বল গড়িয়ে পড়ল।মুখে কেমন নোনতা নোনতা স্বাদ।আর সাথে সাথেই রিদির ফোন এল।মেয়েটি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদছে। . -রিদি কাঁদছ কেন?কি হয়েছে বল? . -আমার নিঃশ্বাস যেন থেমে যাচ্ছে।তুমি যাওয়ার পর সবকিছুই থেমে গেছে।বার বার মনে হচ্ছে হারিয়ে ফেলছি নাতো তোমায়?যা কখনোই বলা হয়ে উঠে নি,যা বলতে যেয়েও থেমে গেছি আজ না বললে হয়তো আফসোস করে যেতে হবে।তোমাকে প্রচন্ড ভালোবাসি।অনুভব করেছি কতোটা জায়গা জুড়ে ছিলো তোমার বাস।প্রতিটি মুহুর্তই তোমায় পাশে প্রয়োজন।আমি তোমায় হারাতে পারবো না।অপেক্ষা করবো তোমার জন্য। . গোঙাতে গোঙাতে এটুকু বলেই লাইন টা কেটে দিলো আমার রিদিটা।কত দিন,কত রাত,কতগুলো মুহুর্ত অপেক্ষায় কেটেছে মধুর এই বাণী শুনতে।আর আজ যখন শুনলাম তখন কত দূরে।গাজীপুরে পৌছতে রাত নেমে এল।রাতের নিঃসঙ্গতা যেন আমায় আকড়ে ধরেছে।কোনমতেই যেন পার হতে চাইছিলো না দূঃসহ এই আধার। . সকালে উঠেই ছুটলাম ঢাকায়।রিদিকে ছাড়া থাকতে পারছিলাম না।প্রাণ ই যদি না থাকে তবে কাজ এ মন বসাবো কিভাবে?রিদির বাসার নিচে এসে ফোন দিলাম। . -এই মেয়ে অনুভব শক্তি এতো কম কেন?আরেকটু আগে বুঝলে থাকার জায়গা নিয়ে ভাবতে হতো না।এখন একটু বেলকুনিতে আসেন। . -এসব হযবরল কি বলছ?নতুন জায়গায় গিয়ে পাগল হয়ে গেলে নাকি?বেলকুনিতে কেন যাবো?এখন আর যেতে ইচ্ছে করে না ওখানে . -পাগল তো আগেও ছিলাম।পাগল টাকেই তো নিজের সাথে জড়ালে।এখন নাহয় তাকে স্বাগতম জানাতে আসো। . দৌড়াতে দৌড়াতে বেলকুনিতে এসে আমার দিকে তাকিয়ে ওর চক্ষু যেন চড়কগাছ।হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।বেশ মজা পাচ্ছি।।মুচকি মুচকি হাসছি।ও যেন কথা বলতেই ভুলে গেছে। . -হা করে তাকিয়ে থাকবা নাকি কিছু বলবা? . -তুমি চলে এসেছ যে?তোমার না গাজীপুর এ ইন্টার্ন।এসব পাগলামোর মানে কি? . -পাগলীটাকে ছাড়া কিভাবে থাকি বল?এখানের হসপিটালে ব্যবস্থা করে নিবো।চোখে চোখ রেখে যে শুনতে চাই ভালোবাসি।হাত ধরে হাটতে যে চাই।কি বলবে না ভালোবাসি? . -ভালোবাসি পাগল।বড্ড বেশি ভালোবাসি।অনেক দূরে হারাতে চাই তোমায় নিয়ে।তোমাতেই আমার সত্ত্বা মিশে আছে।। . আমি নিচ থেকেই স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি রিদির চোখ ছলছল করছে।সূর্যের আলোয় সেই জ্বল মুক্তোদানার মতো ঝিকিমিকি করছে। . মনে মনে আবৃত্তি করলামঃ- . চোখের জ্বল মুছো হে সখী। ভালোবাসায় রাঙাবো ভুবন, এসো ভালোবাসা গায়ে মাখি...........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বৃষ্টিস্নাত মায়াজাল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now