বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
_আপনি বৃষ্টিতে ভিজেছেন কোনদিন?
মেয়েটার
এমন প্রশ্ন শুনে হতবাক হতে গেল
আব্রার।
এ কেমন প্রশ্ন ?
_কি হলো বললেন না যে?
_হ্যা ছোট বেলায় ভিজেছি।
_বড় হয়ে ভিজেছেন কি?
_না,
_কেন?
_এমনি?
_বৃষ্টিতে ভিজতে কেমন লাগে আপনার?
_কেমন আবার লাগবে।
_সেটাই তো আমি আপনার কাছে জানতে চাইছি।
_আপনার কথা আমি কিছুই বুঝতেছি
না।
_ওকে বুঝা লাগবে না চলুন নিচে যাওয়া যাক।
সবাই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।
_হুম চলুন।
.
এত ক্ষন কথা হচ্ছিল আব্রার আর আশার সাথে।
আব্রার সবেমাত্র লেখাপড়া শেষ করে চাকরি তে জয়েন করেছে।
মা বাবা আর ছোট বোন নিয়ে আব্রার এর পরিবার।
চাকরি পাওয়া ১ মাস মতো ও হয়নি
এর মধ্যে ফ্যামিলি থেকে বিয়ের চাপ দিচ্ছে।
যদিও এখন বিয়ে করার কোন ইচ্ছাই নেই আব্রারের।
কিন্তু ফ্যামিলির জুরাজুরিতে রাজি হয়েছে।
মেয়েটার নাকি আব্বুর কলিগের মেয়ে।
নাম আশা।
লেখাপড়া অনার্স ফাস্ট ইয়ার।
.
আজ কে আব্রার এর মা বাবা আশা কে দেখতে এসেছে।
তাদের কে আলাদা রুমে পাঠানো হয়েছিল কথা বলতে।
.
মেয়েটার প্রশ্ন গুলা শুনে অবাক হয়ে যাই।
কারন এই সব প্রশ্ন সাধারণত সে শোনে নি।
.
আব্রারের বাবা মা এই মেয়ে পছন্দ অনেক আগে থেকেই করে রেখেছে।
শুধুমাত্র আব্রার রাজি হলেই বিয়ে হয়ে যেত।
মেয়ের চেহারা দেখে আব্রার না করতে পারে নি।
আশা নামের এই মেয়েটা আহামরি সুন্দর তা নয়।
কিন্তু চেহারাতে মায়াবি মায়াবি ভাব আছে।
যা দেখলেই সব ছেলেই তার প্রেমে পড়ে যাবে।
লম্বা চুল, সুমিষ্ঠ কন্ঠ সব কিছু মিলিয়ে ভাল পাত্রি হিসেবে পারফেক্ট।
বিয়ের দিন ক্ষন সব ঠিক হয়ে গেল।
আব্রারের মা বাবা আশার মা বাবা কে পাকা কথা দিয়ে দিয়েন।
আর দিবেনই না কেন এমন মেয়ে কি আর হাতছাড়া করা যাই।
.
বিয়ের দিন ক্ষন সব ঠিক করা হয়ে
গেল।
এক সপ্তাহ পর তাদের বিয়ে।
রাতে খেয়েদেয়ে আব্রার নিজের রুমে চলে আসলো।
আশার কথা ভাবতে লাগলো।
আসলেই মেয়ে টা অনেক সুন্দর।
মায়াবি চেহারা।
এসব ভাবতে ভাবতে আশার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা হলো আব্রারের।
কিন্তু ওর কাছে তো আশার নাম্বার নাই।
মায়ের কাছে হয়তো কিন্তু মায়ের
কাছে কি না কি মনে করবে ভেবে আর চাইলো না।
.
আচ্ছা আফরিন কে বললে ও হয়তো ম্যানেজ করে দিতে পারবে।
আফরিন হলো আব্রারের ছোট বোন।
আব্রার আফরিন কে ডাক দিলো,
_এই আফরিন।
_হুম বল ভাইয়া।
_আমার রুমে আইতো আপু।
_কেন?
_আরে দরকার আছে।
_আমার কোন দরকার নাই।
তোর দরকার হলে আমার রুমে আয়।
আব্রার এর হঠাং রাগ হয়ে গেল।
তার কথার কোন দামই নেই আফরিন এর কাছে।
কিন্তু নাম্বার টার জন্য সব কিছু মেনে নিচ্ছে আব্রার।
.
_আসবো ম্যাডাম।( দু এক সময় আব্রার আফরিন ম্যাডাম বলেও ডাকে)
_জি আসেন স্যার।
_ধন্যবাদ।
_এবার বল তো ভাইয়া কি দরকারে আমাকে তোর প্রয়োজন হলো।
_ওর নাম্বার চাই।
_ওর নাম্বার মানে কার নাম্বার।
_আশার নাম্বার ।
_ভাবির নাম্বার আমি কই পাবো। তুমি নাও নি তখন।
_না।
_গাধা। এখন আসছে নাম্বার নিতে।
_কি বললি।
_নিজের বউ এর নাম্বার চাইতে পারে না তাকে আর কি বলবো।
_দে না আপু প্লিজ।
_১০০০ টাকা দে।
_কেন।
_নাম্বার নিতে হলে টাকা লাগবো।
_তাই বলে এত টাকা।
_বেশি বকবক করলে কিন্তু টাকার পরিমান বাড়িয়ে দেবো।
_আচ্ছা। এবার নাম্বার দে।
_আগে টাকা।
কোন কিছু না বলে চুপচাপ টাকা দিয়ে নাম্বার নিয়ে চলে আসলো আব্রার।
কারন
'
বেশি কথা বললে আবার যদি বেশি টাকা চাই।
.
নাম্বার টা তুলে আব্রার ভাবতেছে ফোন দিবে কি দিবে না।
অবশেষে ফোন দিল আশার নাম্বারে।
রিং হচ্ছে।
এক বার দুই বার তিন বার চার বারের বেলায় ফোন টা রিসিভ করলো আশা।
_হ্যালো।(আশা)
_হেলছি। (আব্রার)
_মানে কি।
_আপনি হেলতে বললেন তাই আমি বললাম হেলছি।
_আপনি কে। ফোন দিয়ে আবলতাবল বকছেন।
_ওমা আবলতাবল বকলাম কখন।
_এত কিছু বাদ দিয়ে আপনার পরিচয়
দিন।
_আমি আপনার জামাই বলছি।
_কি,,, আমি কিন্তু ফোন রেখে দিব ।
ভালোই ভালোই পরিচয় টা দেন।
_আমার নাম আব্রার।
_ওহ আপনি।
_হুম।
_আগে বলবেন না।
সরি আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি।
_আরে না ঠিক আছে।
_কেমন আছেন?
_ভাল আপনি?
_ভাল।
_তা কি করছেন এখন?
_এই তো ছাদে বসে আছি, আপনি?
_রুমে আছি।এত রাতে ছাদে কেন?
_এমনি।
_ভয় করছে না।
_ভয় কেন করবে।
_ভুতের ভয়।
_আমার ভুতের ভয় নেই বুঝেছেন মিস্টার আব্রার।
_হুম।
.
টুকটাক কথা বলে ফোন রেখে দিলো আব্রার।
এভাবে তাদের মধ্য টুকাটাক কথা হতো।
আস্তে আস্তে বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলো।
বিয়ের কাজ শেষ করে সদ্য বিয়ে করা
নতুন বউ আশা কে নিয়ে নিজের বাড়ি চলে আসলো আব্রার।
.
বাসার আসার সাথে সাথে বৃষ্টি শুরু
হলো।
বাসর ঘরে ঢুকে আব্রার দেখে তার সদ্য বিবাহিতা বউ বিছানায় নেই।
আব্রার যতদুর জানে বাসর রাতে তো বউ বিছানায় ঘোমটা দিয়ে বসে থাকে কিন্তু কই তার বউ আশা কই।
আচ্ছা আবার পালিয়ে গেল নাকি?
আরে ধুর পালাবে কেন।
আর পালাতে পারবে কিভাবে।
বেলকুনির দরজা টা তো খোলা।
আব্রার বেলকুনি তে গিয়ে দেখে তার বউ আশা
বিয়ের শাড়ি চেঞ্জ করে অন্য একটা শাড়ি পড়ে দাড়িয়ে আছে।
বৃষ্টিতে আশা তার হাত ভিজাচ্ছে।
আব্রার এই অবস্থা দেখে হা করে আশার দিকে তাকিয়ে আছে।
এটা খেয়াল করে আশা আব্রার কে
বলল,
_এমন করে তাকিয়ে আছেন কেন?
_না মানে আমি ভাবতেই পারি নি যে নতুন বউ এভাবে এখানে থাকবে।
_সেটা বড় কথা নয়, এখন বড় কথা হচ্ছে আমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে হবে।
_কি,,,
_জি।
_আমি পারবো না।
_পারতে আপনাকে হবেই।(পাঞ্জাবির কলার ধরে বলল)
_না পারলে কি করবেন।
_আপনার বার টা বাজিয়ে দেবো।
_আচ্ছা থাক বার টা বাজানোর দরকার
নেই।
চলুন।
_হুম।
আর আজ থেকে তুমি করে বলবা।
_আচ্ছা বউ। আর তুমিও আমাকে তুমি করে বলবা।
_হুম।
এখন চলো বৃষ্টি বিলাশ করি।
বৃষ্টিতে ভিজতে যে খারাপ লাগে সেটা নয় আসলে মন চাই না ভিজতে।
কিন্তু কেন জানি আজ আশার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ভাল লাগছে।
আশা বাচ্চা মেয়ের মত বৃষ্টিতে ভিজছে।
যাই হোক না কেন আব্রার বৃষ্টি পাগলি বউ পেয়েছে এতেই সে অনেক খুশি।
বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আব্রার জড়িয়ে ধরলো আশা কে।
দুজনেই তখন এক দম কাছাকাছি চলে এসেছে।
হঠাং আব্রার এর ঠোঁটে কামড় বসিয়ে দিল আশা।
আর আব্রার ও তার গালে ভালবাসার পরশ একে দিলো।
লেখক:লাভগুরু
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now