বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বুঝতে পারছিলাম কদিন যাবত অয়নের মন খারাপ। কিন্তু
ছেলেটা যাচ্ছে তাই রকমের চাপা স্বভাবের।
যত রাগ ক্ষোভ নিজের মাঝেই রাখবে।
মনে হয় যেন যক্ষের ধন। আমিও হয়ত একটু গা ছাড়া টাইপ।
কেউ নিজে থেকে কিছু বললে যতটা আগ্রহে কথা
গিলব,বলতে না চাইলে ঠিক ততটাই বিরক্তি নিয়ে চুপ
করে যাব। চুপ করে আছি বলেই কেউ ভেবে নেয় আমি হয়ত
গা ছাড়া। আমার কোন কিছুতেই চিন্তা হয় না।
হ্যা চিন্তা হয়না ঠিক কিন্তু দুশ্চিন্তা যে কতটা হয় তা
কেবল আজকের গুমরামুখো বিকেলটা জানে।
সেই বিকেল থেকেই মুখ ভার করে শুয়ে আছি। আমি স্পষ্ট
দেখছি কপোলে কলাম করে তিনটা ভাজ।
কতত স্বাভাবিক ভাবেই না কথা বলে যাচ্ছে।
জিজ্ঞেস করলাম তোমার মন খারাপ?
কিচ্ছু না ভেবেই বলে দিল তার নাকি মন ভালো। আর
কিছুই হয়নি বলার মতো।
সে জানে দুশ্চিন্তারা মাথায় চেপে বসলে আমায় কতটা
কষ্ট দেয়।
আমি কিছু জিজ্ঞেস না করলেও কিছু একটা শুনতে
চাইছিলাম।
সে আশা গুড়েবালি। তিনি আমাকে চিন্তায় ফেলতে চান
না। কিন্তু দুশ্চিন্তায় ঠিক রাখেন।
*
বিদ্যুৎ চলে গেছে প্রায় ঘন্টা খানেক। বিচ্ছিরি
গরমেরা তাই মাথায় চেপে বসল।
সুযোগ পেলে কে না নেয়।
গরমের অমন বাজে অনুভূতি আপন খেয়ালেই তার শরীর
জুরে ঘুড়ে ফিরছে।
যেন বউ পালানো খেলায় মেতে আছে তারা ।
আর অয়ন বেচারা!!
গরমের অযুহাতে কপোলে চিন্তার ভাজে খারাপ লাগার
লাগাম টেনে নিজেকে ব্যস্ত রাখায় বৃথা চেষ্টায় ডুবে
আছে।
অয়নকে আর বিরক্ত করতে ইচ্ছে করছিল না।
এদিকটায় তখন প্রচন্ড রকম বৃষ্টি শুরু হয়।
একটু আগেই কেউ একজন বৃষ্টিতে ভিজতে না করল,
মুহূর্তেই সব ভুলে ছাদে যাবার মনস্থির করলাম।
এখন ছাদে না গেলে দুশ্চিন্তার দখলে চলে যাবে
মাথাটা। তখন দেখা যাবে মাথা ব্যাথা নিয়ে জেগে
রাত কাটতে হবে। তার থেকে বৃষ্টিতে ভেজাই ভালো।
সুতি কাপড়ের সব থেকে যে ভারী উড়নাটা, তা দিয়েই
মাথায় ভালো করে যতটা সম্ভব ঢেকে নিলাম। ঠান্ডা
লাগবে সে ভয়ে না। তার অনিচ্ছায় বৃষ্টিতে ভিজব বলেই
এমন।
*
এত কোটি কোটি বৃষ্টি হচ্ছে। আর আমার গায়ে কেবল
একটা দুটো ফোটা জল পড়ছে। এই অনিয়মটা আমার একদম
ভালো লাগে না। আমার মনে হয় সব কটা বৃষ্টির ফোটা
একসাথে আমায় ভিজিয়ে দিক। ছাদের একপাশটায় জল
জমে আছে। একটু নিচের দিকে তাকাতেই দেখি প্রবল
বেগে জল গড়িয়ে পড়ছে। মনে হচ্ছে আমি হিমছড়ির
শীতল পানির ঝরণার পাশে দাড়িয়ে আছি। আমি কখনো
ঝরণা দেখিনি। আজই প্রথম। পাচ তলা বাসার ছাদে
বৃষ্টির জমা জল যখন নিচে গড়িয়ে পড়ে তা দেখেই আমার
মনে হয় যেন সদা প্রবহমান ঝরণা।
আমি সে শীতল জলে পা ভিজাই। ততক্ষনে দু হাত ,পায়ের
নিচের দিকটা ভিজল কেবল।
দুহাত এক সাথে চেপে হাতের তালুতে বৃষ্টির জল
জমাচ্ছি। সে জলে আবার মুখ ভিজাচ্ছি।।
*
আমার কল্পনা শক্তি খুব প্রখর । আমি কল্পনায় গন্ধ ,স্পর্শ
পাই। এমনকি স্পষ্ট দেখতেও পাই।
ছাদের একপাশে একটা ইট পড়ে ছিল।
তার উপরই বসে গেলাম। মনে হচ্ছিল যেন আমার নিজের
সুসজ্জিত বাসার ছাদের একপাশে রাখা দোলনায় বসে
দোল খেতে খেতে বৃষ্টি স্নান করছি।
বেশিরভাগ মানুষ একাকি বৃষ্টিতে ভিজলেই দেখি বিষন্ন
মনে থাকে। অনেকেই চিৎকার করে কাদে। কেউ আবার
চোখের জল লুকোতেই বৃষ্টিতে ভেজে।
একেক জনের অনুভূতি একেক রকম।
ভাবছিলাম এমন করে একলাই না হয় ভিজব আজীবন। তার
ইচ্ছে হলেই সঙ্গ দিবে। না দিলেও বলব না কখনো।
তাকে ভেবে এমন হাজার খানেক বৃষ্টি স্নান আমি
হেসেই করতে পারি। শুধু তাকে ভেবেই শব্দ বুননের সবটুকু
নির্ভেজাল অধিকার পেলেই খুশি আমি। বাকিটুকু আমি
চিন্তার রং এ রাঙিয়ে নিব।
*
কখন থেকে এমন ভিজে ভিজে ভেবে যাচ্ছি মনে নেই।
হবে হয়ত মিনিট ত্রিশ এক। হঠাৎ কারোর খিলখিল হাসির
শব্দে খেয়ালে ফিরি । পাশের বাসার ছাদে তিনটা
মেয়ে। দুজন ভিজতে এসেছে। আর একজন হলুদ রং এর
একটা ছাতা মাথায় ছাদের একপাশ থেকে অন্য পাশে
হাটছে। দুটো মেয়েই আমাকে দেখছিল। হয়ত ভূত দেখার
মতো ভয়ও পেয়েছে। না হয় আমার বোকামো দেখেই
হাসছে। এমন বৃষ্টিতে আমি এমন চাদর পেচিয়ে উদাস
দৃষ্টিতে একঘেয়ে বসে ভিজে যাচ্ছি। কোন নড়াচড়া
পর্যন্ত নেই।
একটা মেয়ে দেখলাম মায়া ভরা চোখে তাকাল।
হয়তো ভাবছে...
ইসসসস রে... সদ্য ছ্যাকা খেয়ে মেয়েটা কেমন নিষ্প্রাণ
হয়ে গেছে।
ওদের চিন্তাটা ঠিক পড়তে পারছি না। দুরত্বটা এবটু
বেশি হওয়ায় তাদের চোখ গুলোও কিছুটা অস্পষ্ট ছিল।
*
হঠাৎ করে ডান দিকের বাসার ছাদে চোখ পড়তেই আমার
চক্ষু ছানাবড়া।
আরেকটা হলুদ মানবী।
অরবিন্দুর সুতি কাপড় এমনিতেই যথেষ্ট পাতলা। ভেজার
আগে জামার রং হয়তো হলুদ ছিল। এখন আর তার নিজস্ব
সে রং টা নেই। বৃষ্টিতে ভিজে মেয়েটার গায়ের রংটাই
গাঢ় হয়ে উঠেছে।
অন্য যে কোন একটা মেয়ের দৃষ্টি তে সে এখন সব থেকে
দেখতে বাজে একটা মেয়ে।
আমি ভাবছি এমন ভেজা কাউকে দেখেই হয়ত বরী বাবু এই
বৃষ্টি স্নাত কোন অচিন বালিকার প্রেমে পড়েছেন।
প্রেমে পড়েছেন এই বর্ষার শ্রাবন কিংবা আষাঢ়ের।
নিজের অজান্তেই হেসে ফেলি।
এবার আর মুখ চেপে না একটু জোড়েই হেসে ফেলেছি
হয়ত। মেয়েটা এদিকে ফিরল। ঠিক আমার চোখ বরাবর।
কেমন একটা জিজ্ঞাসু দৃষ্টি তার। আমি তখনো খুব
মনোযোগ দিয়ে মেয়েটাকে দেখছি।
কত আর হবে 70 কেজি + ওয়েট। হোয়াইট প্রিন্ট খাতার
মতো গায়ের রং। পিছন থেকে যেমনই হোক। সামনে
থেকে দেখে মুখের মাঝে নাক আর চোখের অস্তিত্ব কে
আলদা করার চেষ্টা করছি।
মেয়েটার গলাও খুব একটা খারাপ না।
আপু আমি কী আপনাকে চিনি???
তার এমন প্রশ্নে ভীষণ ধাক্কা খেলাম।
নিজেকে সামলে বললাম না আপু এমনি হলুদটা আমার
ফেবরিট কালার তো তাই দেখছিলাম....
ততক্ষণে বৃষ্টি কমে গেছে। সন্ধ্যা নেমে এসেছে
পিতৃছায়ার চারপাশটায়।
অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে সব।
তার আগেই আমায় ঘরে ফিরতে হবে।
ঘরে যে আমার অস্তিত্ব আমার অতীত, আমার ভবিষ্যৎ।
তাকে ছেড়ে এতটা সময় বৃষ্টিতে ভিজে না জানি কোন
জ্বর বেধে বসবে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now