বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বরকে বাসর রাতেই টাইট দেওয়া শুরু করেছি,নইলে মাথায় উঠে যাবে।
আমার বিয়ের বয়স সবে কিছুদিন হলো।
বরের সামনে সবসময় একটা জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াই। যেকোনো কাজে একটা যুক্তিবাদী ভাব দেখানোর চেষ্টা করি।
.
আজকাল যা গরম পড়েছে,একদিন বর বাইরে থেকে এসে বলল-
-চুলবুলি,বুলবুলি,সোনা মোনা তোমার মিষ্টি হাতে বরকে একগ্লাস লেবু শরবত খাওয়াবা??
আমি মুহূর্তের মধ্যে শরবতের গ্লাস নিয়ে হাজির হয়ে গেলাম।
কিন্তু একি!শরবতে চুমুক দিয়েই বর বিষম সামলে বললো-
.
-ওয়াক থু!এটা কিসের শরবত বউ?
-কেনো ভিমের শরবত।
-মানে? ভিম দিয়ে কে শরবত বানায়? আমি তো লেবুর শরবত চাইলাম।
-আরে বোকা ভিমে আছে ১০০ লেবুর শক্তি। আমার কথায় যুক্তি আছে।
বর আমার দিকে তারছেড়া মফিজের মতো চেয়ে রইলো।তাতে আমার কি?
বেশি আশকারা দিলে বর মাথায় ওঠে।
.
বর আমার হ্যাংলা-পাতলা,নাড়িমরা টাইপের।মাছ-মাংস,শাক-সবজি কিচ্ছু তেমন খেতে চায়না,শুধু একটি ডিম ভাজি হলেই চলে।
.
তো খেতে বসে বাহানা ধরলো বউ একটা ডিমভাজি করে এনে দাওনা। বাধ্য ছাত্রীর মতো চট করে গেলাম আর ফট করে ডিমভাজা নিয়ে হাজির হলাম।
ভয়ে ভয়ে জামাই ডিম মুখে তুললো।
আমিও উৎসুক মুখে চেয়ে আছি।
.
"ওয়াক থু" দিয়ে আবার ফেলে দিলো।
-বউ কি দিয়ে ভাজছো এই ডিম??
- রসুন দিয়ে।
-রসুন দিয়ে ডিম কে ভাজে কইবা একটু??
- বাহঃ রে জালিম দুনিয়া বাহঃ।
বর আবুল আবুল মুখ করে বললো-ও বউ কি বলতেছো এগুলা?
-যে পেঁয়াজ কাটার সময় কাঁদতে হয় প্রতিটি ঘরের মা,বোন,বউদের
আপনি সেই পেঁয়াজের হয়ে কথা বলছেন মিস্টার চৌধুরী বাহঃ।
.
আমার কথায় কিন্তু যুক্তি আছে।
অগত্যা বর মুখ বুজে আমার সেই রসুন দেওয়া ডিমভাজা খেয়ে উঠলো।
কিন্তু এরপরই বাঁধলো বিপত্তি।
আমার এই স্পেশাল ডিশ খেয়ে বরের মোশন চরম লুজ হয়ে গেলো।
টয়লেটে যাচ্ছে আসছে। তাতে আমার কি??বেশি আশকারা দিলে বর মাথায় ওঠে।
দুই তিন দিন পর বর সুস্থ হলো,ভালোই চলছে আমার যুক্তিবাদী সংসার।
কিন্তু বরটা ইদানীং একটু চুপচাপ থাকে।কি যেনো ভাবে সারাক্ষণ।
রাতে বর পাশে শুয়ে উসখুস করছে।
.
-কি গো কিছু বলবে?(আমি)
-হ্যা,মানে,আসলে তোমার দাঁতগুলো না আমার অনেক ভালো লাগে সুইটি,বিউটি,কিউটি।
আমি আহ্লাদে গদগদ হয়ে বললাম -তাই
জবাবে সে বললো- হ্যা আমার মেহবুবা,দিলরুবা। কারণ হলুদ আমার প্রিয় রং।
এবার আমার মুখটা থ হয়ে গেলো।
সারারাত ঘুম হলোনা।ঘোর অপমান। আমার দাঁত হলুদ??
.
কাক ভোরে ঘুম থেকে উঠেই বাথরুমে ছুটলাম ব্রাশ করতে।ওমা! গিয়ে দেখি টুথপেষ্টের জায়গায় হারপিক এর বোতল।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই বর বিছানা থেকে চেঁচিয়ে বলল-
-বউ হারপিকের গাঢ় নীল ফর্মূলা ৯৯℅ জীবাণু মারে আর তোমাকে দিবে ঝকঝকে সাদা টয়লেট থুক্কু দাঁত।
আমার কথায় যুক্তি আছে কিন্তু!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now