বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মনোরমা তামাসা করিয়া উত্তর লিখিল,— “তোমার পত্রে অন্যান্য সংবাদের মধ্যে জানিতে পরিলাম যে, তুমি বাড়ীতে একটি বাঁদর পুষিয়াছ,— আর তুমি তার সীতা-দেবী হইয়াছ। কিন্তু তবু একটু সাবধান করিয়া দিতেছি। ইতি মনোরমা।”
পত্র পড়িয়া মাধবীর মুখ ঈষৎ রঞ্জিত হইয়া উঠিল। সে উত্তর লিখিল,— “তোমার পোড়া-মুখ, তাই কাহাকে কি ঠাট্টা করিতে হয়, জানো না।”
মাধবী জিজ্ঞাসা করিল, “প্রমীলা, তোমার মাষ্টার-মশায়ের চশমা কেমন হয়েচে?”
প্রমীলা বলিল, “বেশ।”
“কেমন ক’রে জান্লে?”
“মাষ্টার-মশায় সেই চশমা চোখে দিয়ে, বেশ বই পড়েন— তাই জান্লুম।”
মাধবী কহিল, “তিনি নিজে কিছু বলেননি?”
“কিছু না।”
“একটি কথাও না? ভাল হয়েছে, কি মন্দ হয়েছে, কিছু না?”
“না, কিছু না।”
মাধবীর সদা-প্রফুল্ল মুখ যেন মুহূর্ত্তের জন্য মলিন হইল;— কিন্তু তখনি হাসিয়া কহিল, “তোমার মাষ্টারকে বলে দিয়ো, তিনি যেন আর হারিয়ে না ফেলেন।”
“আচ্ছা, বলে দেব।”
“দূর পাগ্লি, তা কি বলতে আছে! তিনি হয় ত, কিছু মনে কর্বেন।”
“তবে কিছুই বল্ব না?”
“না।”
শিবচন্দ্র মাধবীর দাদা। মাধবী একদিন তাহাকে ধরিয়া বলিল, “দাদা, প্রমীলার মাষ্টার রাতদিন কি পড়ে, জান?”
শিবচন্দ্র বি, এ ক্লাসে পড়ে; ক্ষুদ্র প্রমীলার শিক্ষক-শ্রেণীর লোকগুলা, তাহার গ্রাহ্যের মধ্যেই নহে। উপেক্ষা করিয়া বলিল “নাটক নভেল পড়ে, আর কি পড়িবে?” মাধবীর বিশ্বাস হইল না। প্রমীলাকে দিয়া একখানা পুস্তক লুকাইয়া আনিয়া দাদার হাতে দিয়া বলিল, “নাটক নভেল ব’লে ত বোধ হয় না!”
শিবচন্দ্র আগাগোড়া কিছু বুঝিল না, শুধু এইটুকু বুঝিল যে, ইহার এক বিন্দুও তাহার জানা নাই এবং এখানি গণিতের পুস্তক।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now