বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বড় ছেলে নাটক টা কেমন যেন শেষ হয়েও হইল না
শেষ লাগছে
.
.
তাই নিজের মনের খোরাক পুরনেরউদ্দেশ্যে লিখতে
বসলাম
"বড় ছেলে পর্ব ২ "
একটু বড় তবে ধৈর্য সহকারে পড়ে দেখতে পারেন।
গল্পের নাম দিলাম
*বড় ছেলের ইতিকথা"
.
..
.রাশেদ সে দিন রিয়ার গিফট গুলোনিয়ে বাসায় ফিরলো..তার
হাতেরগিফট গুলো দেখে বাসার অনেকেবেশ অবাক
হলো...
রাশেদ তারভাগ্নীকে চকলেটের বক্স দিলো
.
.
অনেক খুশি হয়েছে পিচ্চিটা..ছোট ভাই টা পিকনিকে
গেছে বলেতার কথা আর শোনা হয় নি।..রাশেদ রাতে
খেয়ে ঘুমাতেগেলো..কিন্তু ঘুম ত আসছেনা..ব্যালকনি
তে গিয়ে নিরবে অশ্রুঝরাল..যা কেউ দেখলো
না..রিয়ারদেওয়া "ঘড়ি আর ডাইরি টা "অনেকভালো
লেগেছে রাশেদের।তবেএকটু মন খারাপ হচ্ছে কারন
সেরিয়াকে ১০ টাকার বাদাম বাদেতেমন কিছুই দিতে পারে
নি...রাত২টার সময় সে বিছানায় নিজেকেএলিয়ে দিল।কারন
পরের দিন আবারতাকে পড়াতে যেতে হবে..আরএলাকার
বড় ভাইয়ের কাছে যেতেহবে কোচিং এ পড়ানোর
কাজ টাপাবে কি না...জানার জন্য..।সকালেউঠে খেয়ে
টিউশনের জন্য বেরিয়েযাই।দুপুরে আরেক টা
টিউশনপেয়েছে সে।দুপুরে পড়ানো শেষেরআগে
তাকে নাস্তা দেওয়া হয় নুডুলস।তারপর বড় ভাইয়ের কাছে
যাইকোচিং এ পড়ানোর জন্য।..যাক শেষ মেশ কোচিং এর
কাজ টাপেল।রাত ৯ টা..রাশেদ বাসায় ফিরে খেয়ে
নিজেররুমে শুয়ে আছে..।রিয়ার সাথে কথাবলতে ইচ্ছা
করছে..কিন্তু রিয়া আবারদুর্বল হয়ে যাবে ভেবে আর
ফোনকরলো না...কিন্তু ডাইরি তে লিখেরাখল.."জানো
রিয়া আজ কোচিং এর কাজটা পেয়েছি..আর একটা
টিউশনিপেয়েছি যাক এখন একটু ভালো থাকব"লিখে ঘুমিয়ে
পড়ল সে..পরের দিন ২ টা টিউশনি শেষেবিকালে কোচিং
এ পড়াতেগেলো...ভালো ভাবে পড়ানো শেষ
হলো...।বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে..সেসময় এ রিয়া
ফোন করল"আমার বিয়ে তে তোমার দাওয়াররইল..আসবা
প্লিজ"কথাটা বলে ফোন কেটেদিল..রাশেদ কিছু সময়
ভাবলো..
তারপর বাসায় পৌছে।এভাবেই রিয়ারবিয়ের দিন উপস্থিত
.
.
.
.রিয়া বউ বেশে সেজে আছে।তার দুচোখ রাশেদ
কে খুজে চলেছে...বিয়ে পড়ানো শেষ....কবুল বলার
সময়তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল..
তার পরবিদায় নিল, বড় লোক বরের সাথেতাদের পাজারো
গাড়িতে চেপেচলে গেলো...তার কান্না থামছে না.
.
.
আড়াল থেকে রাশেদ শার্টে নিজেরচোখ দুটো মুছে
বাসার উদ্দেশ্যে পাবাড়াল......
শুশুড় বাড়িতে রিয়ার কোনো কষ্টহচ্ছে না..কারন তাকে
কোনো কাজ ইকরতে হচ্ছে না..সে তো বউ
সেজেবসে আছে শুশুড়ি বরন করে নিচ্ছে...বরন
শেষে তাদের রুমে ঢোকানোহলো..বিশাল বড়
রুম..খাট টা লাল গোলাপদিয়ে সাজানো..।রিয়া কে পুতুলের
মত লাগছে...
খাটে বসে আছে সে।তার বর রুমেপ্রবেশ করল।
এসেই খাটে ঢপাস করেপড়ে গেল..রিয়ে তাকে ঠিক
করে শুইয়ে দিল।তখন এলকোহল এর গন্ধ পেল।রিয়া
চেঞ্জ করে অন্য শাড়িপড়েছে.।বসে ভাবছে...
কত প্ল্যান ছিলতার আর রাশেদের এই রাত টা নিয়েআর
এখন!পরের দিন সকালে উঠে নাস্তারটেবিলে গেল
সে। ব্রেকফাস্ট করেশেষ।অনেক আত্মীয়
দেখতে আসলো তাকে।তার বর টা কে কোথাও
দেখতে পেলনা সে।
.
.
হ্যা, রিয়া ধনী, সম্ভ্রান্ত বরপেয়েছে।কিন্তু সুখী হয়
নি..
.
তার বর সকালে বের হয় আর রাতে রিয়া ঘুমানোর পর
ফেরে।ড্রিংক্স করেসে।বউ এর জন্য সময় নেই তার।
.
ওদিকে রাশেদ এর সেই নিত্য দিনেররুটিন।রাশেদ এর
বোনের টেইলার্স এরকাজ টা এখন ভালো চলছে।
একদিনকোচিং এ থাকাকালিন রাশেদ এরকাছে তার মা ফোন
করে
.
.
রাশেদের আব্বার অবস্থা খারাপ।রাশেদ দৌড়ে বাসায় চলে
আসে...
হসপিটালে নিতে নিতে তার আব্বা মারা যায়।জানাযা শেষে
বাসায় ফেরে।সবাই কেমন যেন চুপ হয়ে গেছে।
রাশেদ নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে এবার আর সে চাকরি
খুজে সময় নষ্ট করবে না।প্রায় ১ বছর পর সে নিজের
একটাকোচিং সেন্টার করে।তার বোন এরএখন একটা
নিজস্ব দোকান আছে।ছোটভাই টা পড়ছে।তার
বোনের কাজ অনেক বেড়েছে..
অনেক অডার্র পেয়েছেসে..আর তারা আগে
অর্ধেক টাকাপেমেন্ট করেছে। কাজ ভালো
হলেপরে আরো অডার্র পাবে।রিয়ার জীবন দুর্বিষহ
হয়ে উঠেছে।প্রতি রাতে রাত ওপর চলে পাশবিকনির্যাতন।
অনেক বার তার গায়ে হাতও তুলেছে তার হ্যাজবেন্ড।
রিয়াতার বাবার সাথে কথা বলতেপারবে না।কারন তার বাবা র
সাথেতার হ্যাজবেন্ড এর স্ট্যাটাস ম্যাচকরে না।কিছু
বললেই কথা শুনতে হয় তাকে।তাইতার বাবা তাকে ফোন
করতে বারনকরছে। রিয়া তার বাবাকে বলে নিযে..
তার গায়ে হাত তোলা হয়।ভদ্রলোকের পোশাকে ওরা
অমানুষ।রিয়ার শুশুরবাড়ির পাশের বাড়ির এসবদেখে চুপ
থাকতে পারে না।ভাবেরিয়ার বাবাকে বলা দরকার।সে রিয়ার
বাবাকে সব খুলে বলেরিয়ার বাবা কেদে ফেলে..
যে মেয়ের গায়ে ফুলের টোকা পড়তেদেন নি..
তার সাথে এমন
.
.
আর মেয়েকিছু জানায় নি!সে সেদিনই গিয়ে রিয়া
কেনিজের বাসায় নিয়ে আসে।কয়দিন পর তাদের
ডিভোর্স হয়।ওদিকে রাশেদ আর তার বোন
নিজপ্রচেষ্টা আর কিছু লোন নিয়ে নিজস্বএকটা
গার্মেন্টস করছিল প্রথমে।দুইবছরে আল্লাহর রহমতে
এখন তারা ২ টাগার্মেন্টস এর মালিক নিজের বাড়িকরেছে।
রাশেদ সব কথা ডাইরি তে লিখেছে।তার আব্বার কবর
জিয়ারত করার সময়সে কান্নাতে ভেঙ্গে পড়ে
.
.
তারবাবা এসব দেখে যেতে পারল না।রিয়ার দেয়া হাতের
ঘড়িটা পড়েসে সব মিটিং এ যাই।আজ ও সে একটা মিটিং এ
যাচ্ছিল।জ্যামে আটকা পড়েছে সে...বসে আছে
নিজের পাজারো গাড়িতে।হঠাৎ করে পাশের গাড়িতে
চোখপড়তেই সে অবাক হয়ে গেল..
আর বলে উঠল.. "আরে এই ত সে..যার সাথে রিয়ার বিয়ে
হয়েছিল..
কিন্তু তারসাথে মেয়েটা কে! সে ত রিয়ানয়..
রাশেদ রাগে গাড়ির দরজা খুলেলোক টার কলার ধরে
বলল" ঘরে বউথাকতে অন্য মেয়েকে নিয়ে
এভাবেচলতে লজ্জা করে না!পাশের মেয়েটা বলল"কি
বলছেন! ওরস্ত্রী ত আমি ই "
রাশেদ:- তাহলে রিয়া কোথায়!
লোক:- তাকে অনেক আগেই ডিভোর্সদিয়েছি।আ
মার
ই ভুল হয়েছিল..
আগেই বোঝা উচিত ছিল..
তার সাথে আমারযায় না।রাশেদ লোক টা কে ছেড়ে
দিয়েতার বোন কে ফোন করে সব বলল আর বলল.
.
সে যেন মিটিং টা হ্যান্ডেলকরে।রাশেদ রিয়ার বাসা চেনে
তবেআগে কখনো যাই নি আজ সে গেলরিয়ার বাসায়।
কলিংবেল চাপতেই রিয়ার বাবা দরজা খুলে দিলো..
:- কাকে চাই?
:- আংকেল রিয়ার সাথে কথা বলব।
:- ভিতরে আসো।তারপর রিয়ার রুমে গিয়ে দেখেরিয়া
উপন্যাসের পড়ছে।চোখে একটা চশমা। কারন এখন রিয়া
ইউনিভার্সিটি র একজন লেকচারার।রাশেদ কে দেখে রিয়া
চমকে যায়..
রাশেদ বলতে শুরু করে
.
" রিয়া আমি সব জানি।আমি সর্যি রিয়া কিন্তু সেদিন আর আমার
কোন উপায় ছিল না
.
.
রিয়া তুমি কি আবার ১০টাকার বাদাম খেতে রাজি আছো!
তোমার দেওয়া ডাইরির একটা পেজফাকা আছে সেটা কি
পুর্ন করবা"!
রিয়া:- করুনা করছো!?
রাশেদ:- না।তারপর রিয়া রাশেদ কে ধরে কাঁদতেশুরু করে
..রিয়ার বাবা সব শুনে ফেলে
.
.
আরনিজের ভুলের জন্য আপচোস করতেথাকে।
রাশেদ বিয়ের প্রস্তাব দিলেতিনি তা মেনে নেয়।
রাশেদের মাআপত্তি করেন নি।ছেলে অনেক
কষ্টকরেছে।এখন যদি ছেলে এতে খুশিথাকে তাহলে
আর কিছু চান না সে।রাশেদ আর রিয়ার বিয়ে আজ।তারা ঠিক
যেমন চাইতো তেমন ভাবে..
বাসর ঘরে বসে আছে রিয়া।রাশেদ রুমে প্রবেশ করে
রিয়ারকাছে গেলেই রিয়া বলে উঠল
.
.
."তোমার ডাইরি টা পড়তে চাই..আরআমার বাদাম কই"!রাশেদ
হাসি মুখে বলল "জানতামবাদাম চাইবে
.
.এইনাও তোমার দামিখাবার
.
.
"রিয়া রাশেদের কাধে মাথারেখে ব্যালকনি তে চাঁদ
দেখেছেরাশেদ বাদাম ছিলে দিচ্ছে আর সেবাদাম
চিবুচ্ছে"।(বি,দ্র:- জানি না কেমন হলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now