বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-ভাইয়্যা তোমার লেপটপ টা দাও না?
-ক্যান লেপটপ দিয়া তুই কি করবি?
-একটু গেমস খেলবো?
-যাহ. ব্যাটা ভাগ এখান থেইকা...
-চলে আসলাম.... (রাগ করে)
কতক্ষন পর দেখি ভাইয়্যা নিজেই লেপটপ দিয়ে গেলো... আর ভাইয়্যার সাথে রাগ করে থাকতে পারলাম না...
আরেকদিন,
-ভাইয়্যা কিছু টাকা দাও...
-কেনো টাকা দিয়ে তুই কি করবি?
-মোবাইলে লোড দিয়ে ইন্টারনেট কিনবো...
-শখ কতো.. আম্মুর কাছে চা গিয়ে... আমার কাছে নাই..
-আম্মু দেয় না.. আচ্ছা যাও টাকা লাগবে না..
অতঃপর ভাইয়্যা নিজে এসে টাকা দিয়ে বললো আমার ফোনেও টাকা দিস...
যখন লোড করে ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনলাম... তখন ভাইয়্যা এসে বললো দে ফোন টা দে Clash Of Clans খেলি... তখন বিরক্ত হয়ে যেতাম.. কিন্তু এই ভাইয়্যাই তো আমাকে নিজের লেপটপ ইউজ করতে দিতো... আবার ইন্টারনেট কিনার জন্য টাকাও দিতো.. আর সে ভাইয়্যা ফোন নিয়ে গেলো সে জন্য বিরক্তবোধ করছি এটি ভেবে নিজেই লজ্জিত হয়ে যেতাম...
ভাইয়্যা যখন বলতো আমি বাড়ি আসতেছি তখন অনেক খুশি হয়ে যেতাম... সারাক্ষন জমানো কথা ভাইয়্যাকে বলতাম.. কিন্তু ভাইয়্যা যখন বকতো শাষন করতো তখন বিরক্ত হয়ে যেতাম... তখন মনে মনে ভাবতাম ধূরর ভালো লাগে না যাবে কোনদিন বাড়ি থেকে....
আবার যখন ভাইয়্যা চলে যেতো তখন মিস করা শুরু করতাম...
তখন খুবই খারাপ লাগতো....
আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম ভাইয়্যার মেসে তখন দেখি ভাইয়্যা কত কষ্ট করে সেখানে থেকে ইন্জিনিয়ারিং পড়ে... যখন বুয়ার রান্না খেতাম তখন আমার বমি চলে আসতো... আর ভাইয়্যার দিকে তাকিয়ে দেখি খেয়ে ফেলে আমার জন্য হোটেল থেকে ভালো তরকারি নিয়ে আসলো...
একদিন বুয়া আসে নি. দেখি ভাইয়্যা ভাত রান্না করে... আমার জন্য ডিম ভাজি আর আলু ভর্তা করে ভার্সিটিতে চলে গেলো... আমার সেদিন অনেক কষ্ট লেগেছিলো... আর আমি কিনা বাড়িতে ভালো তরকারি ছাড়া খেতে পারি না...
আমি ইন্টারনেট জিনিস টা বেশি পছন্দ করি.. ভাইয়্যা আমার জন্য নিজের চলার টাকা দিয়ে রাউটার কিনে ওয়াইফাই সেটিং দিয়েছে...
আর বললো ভালো করে ডাউনলোড কর... আর আমি কিনা ভাইয়্যা Clash Of Clans খেলতে ফোনটা নিয়ে গেলে বিরক্ত হতাম... আরেকদিন ভাইয়্যা আমাকে বিকেলে সারা শহরে ঘুরিয়েছিলো যদিও তার পরদিন ফাইনাল পরীক্ষা ছিল.. তবুও তিনি আমাকে সারা শহর দেখালেন....
আসলে ভাইয়্যা নামটাতেই ভালবাসা মিশ্রিত আছে.... আমি আল্লাহর কাছে সত্তিই প্রার্থনা করি আমার ভাইয়্যা যেনো ভালো থাকতে পারে... তার এই কষ্টের পড়ালেখা যেনো তাকে একসময় বড় পর্যায়ে নিয় যায়...
আমি সত্তিই গর্বিত এরকম একটা ভাই পেয়ে...মাঝে মাঝে আমার কেঁদে কেঁদে বলতে ইচ্ছা করে ভাইয়্যা তোমাকে ভিষন মিস করি...
ভাইয়ের ভালবাসা শেষ হবার মতো নয়... যেনো ফুরাতেই চায়না....
সত্তিই বাস্তবতা মানুষকে নিয়ে কত খেলাই না করে এবংকি চরম সত্যকেও হার মানায়...
[বিঃদ্রঃ উপরের ঘটনাগুলো সত্তিই আর বাস্তবিক ঘটনা... আরো অনেক উদাহরন দেওয়ার ছিলো কিন্তু তা মুখে বলেও শেষ করা যেতো না]
উৎসর্গঃ আমার একমাত্র বড় ভাই....
লিখাঃ অলিন মজুমদার
Written By: Oline mazumder
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now