বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বোনের অবহেলা

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ″BABU″♦ (০ পয়েন্ট)

X RS Shakil Azad (Writter) আয়াত চট্টগ্রামে থাকে । সে এইবার জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে । আয়াতের ৩ বোন , আয়াত ও তার বাবা-মা নিয়েই আয়াতদের পরিবার । কাল থেকে আয়াতের মন খুবই খারাপ । কারণ , তার বড় বোন রিহা কাল থেকে তার সাথে কথা বলে নি । আর বলবে কেন?! আয়াতকে তো রিহার সহ্যই হয় না । অন্যদিকে আয়াতের মেঝো বোন তাসনিম এবং ছোট বোন হাফসার অভিযোগ আয়াত নাকি তাদের খুব জ্বালায় , সবখানেই অপমান করে । কিন্তু আয়াত এসব কার্যকলাপ ,অভিযোগ কিছুতেই মানতে পারছে না । আয়াত কী করে?! সে তো শুধু একটু ফান করে , তাতেই তার বোনেরা সেটা অন্যভাবে নেয় । আর সবসময় তারা আয়াতকে ইগনোর করে । সকালে ফজরের নামাজ পড়ে এসব ভাবতে ভাবতে আয়াত আবার ঘুমিয়ে যায় । সকাল ৭ টায় আবার ঘুম থেকে উঠে এবং ব্রাশ করে । সকালে মাকে দেখতে না পেয়ে সে মাকে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে খুঁজতে থাকে । আর মাকে ডাক দেয় । আয়াতের চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে মেঝো বোন তাসনিম আয়াতকে কয়েকটা ধমক দেয় । আর মজা করে বলে আয়াতের মা তার নানির বাড়ি গেছে , একটু পরই চলে আসবে । আসলে আয়াতের মা প্রতিবেশীর বাসায় একটি কাজে গিয়েছিল! মা নানির বাড়ি গেছে শুনে এবং তাসনিমের অনেকগুলো ধমক শুনে আয়াতের মন খারাপ হয়ে যায় । সে ভাবতে থাকে , এই পরিবারে সে কী কীট হয়ে এসেছে?! কেন তার বোনেরা তাকে কারণে-অকারণে ধমক দেয় , সহ্য করতে পারে না! সবসময় ইগনোর করে?! অথচ তার চাচাতো বোন নাজিয়াত তাকে কত আদর করে , কত যত্ন নেয় , আর কত ভালোবাসে! ঠিক আছে , আয়াত ভাবে সে আর তার বোনদের জ্বালাবে না , অপমান করবে না , আর কথাও বলবে না । এসব ভাবতে ভাবতে আয়াত একসময় কেঁদে ফেলে । আর আয়াতের এখন খুব ক্ষিদা পেয়েছে কিন্তু সেটা বলবে কাকে?! তার বোনেরা যে তাকে সহ্যই করতে পারে না । বড় বোন রাতে খায় নি ভেবে কাল রাতে সেও কিছুই খায় নি! আর এখন তার খুবই ক্ষিদা পেয়েছে । মা বাড়িতে নেই এই ভেবে সে মনে করল সকালের নাস্তা বুঝি তৈরী করা হয় নি! তাই সে বাজার থেকে খাবার নিতে চাইল! তাদের বাড়ি থেকে বাজারে যেতে ৫ মিনিট লাগবে । এই ভেবে সে চকবাজার মার্কেটে চলে গেল । একটি দোকান থেকে বোনদের জন্য আর নিজের জন্য কিছু খাবার নিল! আর বোনদের জন্য কিছু চকলেটও নিল! সে জানে তার বোনেরা চকলেট খেতে ভসলোবাসে । আয়াত তাদের সাথে আজ কথা না বললেও যে কোনো কৌশলে খাবার ও চকলেটগুলো তাদের দিবেই । এই ভেবে আয়াত যেমনি রাস্তা পার হয়ে বাড়ির দিকে আসবে তখনই একটি ট্রাক এসে আয়াতকে ধাক্কা দিল । খাবার ও চকলেটগুলো রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল আর আয়াত রাস্তার একপাশে পড়ে রইল । সে এখন পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছে । চলে গেছে সে পরপারে , সেখান থেকে আয়াত আর ফিরবে না । আয়াতের অ্যাকসিডেন্ট দেখে রাস্তার লোকজনও চিৎকার করে , কেউ কেউ কেঁদেও ফেলে । আয়াতের মা প্রতিবেশীর বাসা থেকে বাড়িতে যাওয়ার সময় লোকজনের গোলমাল শুনে ভীড় ঠেলে ভিতরে উঁকি দেয় । দেখতে পায় তার বুকের মানিক ঘুমাচ্ছে । আয়াতের মা সেখানেই একটা চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় । লোকজন আয়াতের মাকে হাসপাতালে ভর্তি করে । আর আয়াতের অ্যক্সিডেন্টের খবর পেয়ে তার বোনেরা ছুটে আসে এবং আয়াতকে রাস্তায় রক্তাক্ত দেখতে পায় । পাশে খাবার ও তাদের জন্য চকলেটগুলো দেখতে পায় । তারা আয়াত আয়াত বলে চিৎকার করতে থাকে । বোনেরা একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে পাগলের মতো । কিন্তু আয়াত সে কান্না শুনে না । আয়াত আজ তাদের জ্বালায় না , তাদের অপমান করে না কখনো!!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৪৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বোনের অবহেলা
→ বোনের অবহেলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now