বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বোঝেনা সে মনের কথা

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X : এই রিমেল, দাড়া। : কি? কিছু বলবি? : কিছু না বললে কি তোকে এমনি ডেকেছি, আবুল। : যা বলার দ্রুত বল , একটু পরেই আমার ফিজিয়ো ল্যাব। : জি জনাব আমি জানি আপনার ফিজিয়ো ল্যাব আছে এবং ইহাও জানিযে কেউই ক্লাশটি করবেনা। শুধুমাত্র আতেল সমাজের অধিকর্তা রিমেল চৌধুরি ক্লাশটি করবেন। : দেখ রিমি ফাজলামির একটা লিমিট আছে , তুই আমাকে রাগিয়ে দিচ্ছিস। : ওলে আমাল বাবুতা রেগে যাচ্ছেরে, চল্না কোথাও বসে গল্প করি। এত পড়ে কি হবে বল? পড়ালেখা করে কে পেয়েছে কিকবে?ঃ/ : ধুর, তোর মত এত আজাইরা গল্প করার সময় আমার নেই, আমি চললাম.. : রিমন গটগট করে ফিজিয়ো ডিপার্টমেন্টের দিকে চলে গেল, সেদিকে তাকিয়ে রিমি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ছেলেটা কি কিছুই বোঝেনা? নাকি ইচ্ছে করেই মফিজ সেজে থাকে। রিমেলের সাথে রিমির পরিচয় মেডিকেল কোচিঙ্গে। একই সেকশনে ছিল দুজন। বেশিরভাগ পরীক্ষাতেই রিমেল সর্বোচ্চ নম্বর পেত। এক পরীক্ষায় রিমি সর্বোচ্চ পায়, আর তা দেখে রিমেলের সেকি কান্না। এই কান্নাই কাল হয়ে দাড়াল রিমির, এত্ত কিউট করে একটা ছেলে কিভাবে কাঁদে। ছেলেটার জন্য কেমন জানি করতে লাগল। সবাই চলে যাওয়ার পর্ও রিমেল রেজাল্ট বোর্ডের সামনে দাড়িয়ে কাঁদতে থাকে। : এই ছেলে ধর! টিশ্যু এগিয়ে দেয় রিমি। এমন ছিঁচকাদুনে ছেলেতো আমি বাপের জন্মেয় দেখিনি। এখনো ফেচফেচ করে কাঁদছে। থামবি? না কশে এক চড় লাগাব! : আমার ইচ্ছে আমি কাঁদব, আপনার কি? জানেন, আম্মু যদি জানতে পারে আমি সেকেন্ড হয়েছি তবে আমার পিঠের চামড়া রাখবেনা! : আহারে বুদ্ধূ, তুই বলবি তুই প্রথম হয়েছিস, তাহলেইতো হয়। : রিমেলের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, ফিক করে হেসে দিল। কি চিন্তা করে পরক্ষনেই রাজ্যের মেঘ এসে জমল। "যদি আম্মু বুঝে ফেলে? তাহলে আমি শেষ!" : আরে বেকুব, আন্টি কিছুই বুঝবেনা। বল, অল ইজ ওয়েল.. বল বল। : এটা আবার কি? : কেন?? থ্রি ইডিয়টস মুভিটা দেখস নাই?? : না, আমি টিভি দেখি না। এমনকি আমাদের টিভিই নেই। মা বলেছেন, ছাত্রনং অধিয়নং তপ। না পড়লে আমি বড় হতে পারবনা, তাই আমি সারাদিন পড়ি। রিমি মনে মনে ভাবে " কত্ত বড় হয়েছিস তাতো দেখতেই পারছি। "শুন, এখন থেকে আমি কম আনসার করব, না হলেতো আবার ফেচফেচ করে কাঁদবি। আর তুই আমাকে তুই করে বলবি, আজ হতে আমরা ফেন্দু। : ফেন্দু? : গান্ধা, ফেন্দু মানে হল ফ্রেন্ড, বুঝলি! : হুম.. আচ্ছা যাইরে, দেরি করলে আবার আম্মুর কাছে জবাবদিহি করতে হবে.. : রিমির চোখে বিদ্রুপের হাসি, এমন মাম্মি ড্যাডির ছেলে খুব কম দেখেছে। যাগা, আর দেখে পথ চলিস না হয় উষ্ঠা খেয়ে নাকমুখ ভাংবি। একটা স্মিত হাসি দিয়ে রিমেল চলতে শুরু করল। : এরপর থেকে তাদের প্রায় প্রতিদিন ই দেখা হতে লাগল, ক্লাশ শেষে একসাথে ফেরা, গল্প করা। একদিন ফেরার পথে রিমি জিজ্ঞেশ করল, আচ্ছা, তুইতো অনেক কিছুই বুঝিস না, আমি বুঝিয়ে দেই। ধর রাতে পড়ার সময় একটা টপিকস বুঝছিস না, তখন কি করবি?? : পরদিন এসে তোর থেকে বুঝে নেব। : ধর তোর ঐ মুহুর্তেই বোঝা প্রয়োজন, তখন কি করবি? : কি করব? : আমাকে কল দিবি। : ওকে, তোকে কল দিব। : কিভাবে কল দিবি? : কেন? মোবাইল দিয়ে। : ঊফফ, কলতো মোবাইল দিয়েই দেয়। আমার নম্বর তোর কাছে আছে? : নাহ, নেই। : নিবি না?? : ওহ হ্যা, বল। : ০১৬******** : ধর, আমার দরকার হল তোকে কল করার , তাহলে আমি কি করব? : কি করবি?? : আরে বোকচোদ নম্বর দে। : ওউ, ০১৯******** : তুই এমন বোকা কেন বলত? কিছুই কি বুঝিস না? : কি বুঝব? : কিচ্ছু না। চল ফুচকা খাই। এভাবেই চলে গেল তাদের দিনগুলো। কিছুদিন পর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে দুজন ই সি.এম.সি তে চানস পেল। গ্রীষ্ম যায়, বর্ষা যায়, বসন্ত এসে উপস্থিত। রিমি কিছুতেই তার মনের কথাগুলো বলতে পারেনা। ছেলেরা বোকা হয়, তাই বলে এত!!! নাহ তার আর সয্য হয়না। দুচোখ বেয়ে অশ্রুধারা নেমে আসে। রিমন ফিজিয়ো ল্যাব এর কথা বলে ফুলেরদোকানের সামনে এসেছে। টকটকে ৫টা লালগোলাপ কিনল। রিমি মেয়েটা তাকে যতটা বোকাভাবে, সে আসলে ঠিক ততোটা নয়। রিমিকে প্রথম দেখাতেই তার ভাল লাগে। ইচ্ছেকরেই এতদিন সে অভিনয় করে এসেছে। তার বাবা বিজনেসম্যান ইংল্যান্ডে থাকে, মাকে হারিয়েছে ২ বছর বয়সে। বড় হয়েছে দাদির কাছে, মায়ের আদর সে পায়নি। তাই যখন রিমির সাথে পরিচয় হয়, তার কাছে আসার চেষ্টা করে, প্রতিটি মুহুর্তে নিজের সাজানো বাগানে রিমির ভালবাসার ফুল ফোটানর চেষ্টা করে গিয়েছে। আর তাইতো এত অভিনয়। আজ যা হওয়ার হবে, রিমিকে তার ভালবাসার কথা বলবেই। এতদিনের সব অভিনয় প্রকাশ করে দিবে। যে ডিসিশন ইরিমি নিক, মাথা পেতে নিবে। রিমেল মুক্তমঞ্চের দিকে এগিয়ে যায়। রিমি পা দুটো ভাজ করে দু'হাতের উপর মাথা দিয়ে নিচু হয়ে বসে আছে। রিমেল তার সামনে গিয়ে হাটু গেড়ে বসে। : রিমি? : রিমি অবাক হয়ে মাথা তুলে তাকায়। চোখভর্তি জল। মুখদুটো ফুলে আছে। রিমন রিমিকে এই প্রথম কাঁদতে দেখল। মেয়েটা এমনিতেই অসাধারন রুপবতী, কান্না যেনো রুপের আগুন দ্বিগুন বাড়িয়ে দিল। : রিমন ধীরে ধিরে পাঁচটি লাল গোলাপ রিমির সামনে মেলে ধরল। : ঠাস!!! রিমি কশে এক চড় লাগাল। রিমন হতভম্ব!! : হারামি, বজ্জাত, শয়তান ছেলে, এতদিন লাগছে বুঝতে! আহ! রিমনের বুক হতে যেন এক টন বোঝা নেমে গেল। ধীরে ধীরে মেঘ সরে গেল, সুয্যি মামা ফিক করে হেসে দিল। বসন্তের হিমেল হাওয়ায় কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুলে ছাওয়া ডালগুলো দুলে উঠল। দুরে কোথাও কোকিল গেয়ে উঠল, কুহু, কুহু, কুহু....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বোঝেনা সে মনের কথা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now