বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুপুরে ভাত খেয়ে একটু টেলিভিশন দেখতে লাগলাম। টেলিভিশন দেখতে দেখতে আমার চোখে ঘুম চলে আসছে। যদিও আমি দুপুরে তেমন একটা ঘুমাই না। কিন্তু চোখে সত্যিই ঘুম আসার কারনে টেলিভিশন অফ করে ঘুমাতে গেলাম। বিছানায় পিট রেখে চোখ বুজতেই ঘুম চলে আসছে। কিন্তু দশ পনেরো মিনিট পর কেমন জানি অস্বস্তি লাগছে। শরীরে কেমন একটা ভেজা ভেজা লাগতেছে। আমি চোখ বন্ধ থাকা অবস্হায় এপাশ ওপাশ করে শরীরটা নাড়াচাড়া করলাম। তারপর ও কেমন একটা অস্বস্হি অনুভব করলাম। চোখ খুলে দেখি শরীর ঘেমে গেছে। ফ্যান অফ। বুঝলাম কারেন্ট চলে গেছে। গরমে আমি মোটেও ঘুমাতে পারি না। গায়ে গেঞ্জি ছিল ওটা কেমন ভিজে স্যাতস্যাতে হয়ে গেছে।
.
বিছানা থেকে উঠে গেঞ্জিটা খুলে , গামছা নিয়ে বাথরুমে গেলাম। গামছাটা পানি নিয়ে ভিজিয়ে শরীরটা মুছে গামছাটা ধুয়ে তারপর ভাল মত চিপে ছড়িয়ে দিলাম। এরপর একটা শার্ট পড়ে ছাদে চলে আসলাম। আমি যে বাড়িটায় থাকি তার পাশেই আম গাছ আছে। আম গাছটার ছায়া ছাদ টাকে অনেকটা ঘিরে রেখেছে। চুপচাপ দাড়িয়ে আছি রেলিং ধরে আর আম গাছটার দিকে তাকাচ্ছি। এবার এই গাছটায় আম ধরেছে বেশ ভাল। আম গুলার দিকে যখন তাকিয়ে দেখছিলাম একটু পর পিছন থেকে একটা মেয়ের কণ্ঠের মত শুনতে পেলাম... এই বৈশাখীতে আপনার প্ল্যান কী?.... পিছনে ফিরে দেখি ঈশিতা। ঈশিতা হলো বাড়ি ওয়ালার বড় মেয়ে। দেখতে শুনতে ভালই। একটা লাল রঙের সেলোয়ার কামিজ পড়া আর চুল গুলা বেনী করা অবস্হায় আমার সামনে দাড়িঁয়ে আছে। ঈশিতারা দু বোন। ঈশিতা বড় আর ছোট বোন আফিয়া। ও ক্লাস ফোরে পড়ে। আফিয়ার সাথে আমার ভাব সাব অনেকট ভাল। ঈশিতার সাথেও তেমন একটা ভাল না, তা বলব না। তবে ওর সাথে কথা কম হয়। প্রাপ্ত বয়স্ক তো তাই। তার উপর ওর বাবা খুব বদ মেজাজের লোক। কোন কিছু আচঁ করতে পারলে আমার খবর আছে। এলাকায় ওর বাবার যতেষ্ট সম্মান আছে। বলা যেতে পারে এলাকার সম্মানি লোক। আমার চুপ থাকা দেখে ঈশিতা আবার বলল...
.
"কি হলো বলুন। এইবার কি কি প্রোগ্রাম করবেন চিন্তা করেছেন?
"না মানে এটা নিয়ে এখনো তেমন কিছু ভাবি নি।
"কেন, ভাবেন নি কেন? সবকিছুতে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হয়। যে কাজটায় আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয় সেটা খুব সুন্দর হয়।
.
আমি চুপ করে শুধু মাথা দিয়ে হুম সুচক ইশারা দিলাম। এরপর ঈশিতা আমার বামপাশে এসে আম গাছটার দিকে তাকায়। তারপর বলল...
.
"আমি কিন্তু প্ল্যান করে ফেলেছি।
"ভাল করেছেন।
"আমি সব সময় ভাল করি। কই এবার জিজ্ঞেস করুন কি প্ল্যান করেছি।
.
আমি কি বলব কিছু বুঝতে পারছি না। একটু চুপ করে থেকে বললাম...
.
"কি প্ল্যান করেছেন।
.
এবার ঈশিতা আম গাছ থেকে চোখ সরিয়ে পিছনে ফিরে রেলিং এ হেলান দিয়ে দাড়িঁয়ে তারপর বলল...
.
"প্রথমত সকালে উঠে গোসল দিব। এমনিতে সকালে সবার মন ফ্রেশ থাকে। তারউপর গোসল করলে আরো ফ্রেশ লাগবে।
"হুম তাও ঠিক।
"ঐদিন শাড়ি পড়বো, চুড়ি পড়ব, চোখে কাজল দিব। আচ্ছা কি কালারের শাড়ি পড়া যায় বলেন তো।
.
আমি হাত দুটো বুকের উপর একটার উপর একটা রেখে জড়োসড়ো করে বললাম...
.
"আমি তো মেয়েদের এত কিছু বুঝি না। তবে ঐদিন সাদা কালার টাইপের কিছু পড়লে ভাল হয়।
"আমিও এইটা ভেবেছিলাম।
.
আমি আর কিছু বললাম না। যেই বলব আচ্ছা ঠিক আছে আমি আসি। কিন্তু তা বলার আগেই ঈশিতা আবার বলল...
.
"কোথাও বের হবেন না ঐদিন?
"না, তবে ঐদিন একটা লম্বা ঘুম দিব।
"কি বলেন এই গুলা? আপনি জানেন না, বছরের প্রথম দিন যার ভাল কাটে সারা বছর ও তার ভাল কাটে। আপনি ঐদিন ঘুমালে সারাবছর ও আলসে আর ঘুমানোর মাঝে কেটে যাবে। কোন কাজে মন বসবে না।
.
আমি একটু অবাক হলাম ঈশিতার কথা শুনে। এই মেয়ে এই গুলা কি বলে?
.
"আপনাকে এই কথা কে বলল?
"আমার দাদুর কাছ থেকে শুনেছি। শোনেন কোথাও বের হবেন বুঝলেন?
.
আমি কিছু বলতে গিয়েও আর কিছু বললাম না। আসলে ঈশিতার দাদির বয়স হয়েছে। আমাদের অনেক আগের প্রজন্মের মানুষ। আগের প্রজন্মের মানুষেরা কত কিছুই না বলে। ঈশিতা একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল..
.
"জানেন আমিও বের হবো যদি কেউ একজন নিয়ে যায়।
.
আমি কিছুই বুঝলাম না এই মেয়ে কি বলতে চায়। আসলে মেয়েরা অনেক সময় এমন ভাবে কথা বলে যা বুঝা মুশকিল। ওরা কথা বলার সময় কত প্রকারের ইঙ্গিত দিবে শুধু ওরাই জানে।
.
"মানে কে নিয়ে যাবে আপনাকে? আর কার কথা বলতেছেন?
"কিছু না বাদ দেন তো।
.
এই টুকু বলেই ঈশিতা হেটে আমার সামনে আসে তারপর এদিক ওদিক তাকিয়ে একটা ইটের কংকর নিয়ে আম গাছটার দিকে তাকায়। তারপর আম গাছ টায় ঢিল মারল। ঢিল মেরেই আমার দিকে তাকিয়ে বলে...
.
"আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?
"হঠাত্ এই কথা কেন?
"এমনি জানতে চাইলাম আর কি। কেন জিজ্ঞেস করে অন্যায় করে ফেলেছি?
"আরে আমি তো সেটা বলি নি। হ্যাঁ গার্লফ্রেন্ড আছে।
.
আমার এই কথাট শুনে ঈশিতা আমার দিকে কেমন করে জানি তাকালো। একটু নুয়ে পাথর নিচ্ছিলো আম গাছে ঢিল মারার জন্য সেটা আর হলো না। কেমন যেন মূর্তির মত হয়ে নুয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর সোজা হয়ে আমার দিকে একটু এগিয়ে এসে বলে...
.
"কি বললেন আবার বলেন।
"বলেছি গার্লফ্রেন্ড আছে।
.
ওর মুখটা কেমন জানি হয়ে গেল। কেমন একটা রাগ রাগ ভাব।
.
"আপনি আমার সাথে মজা করছেন তাই না? ধুর এইসব মজা আমার ভাল লাগে না।
"আমি মজা করছি না।
.
ঈশিতা একটু চুপ হয়ে গেল। কিছুক্ষন সময় নিয়ে একটু রেগে বলল...
.
"গার্লফ্রেন্ড থাকা সত্তে ও অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলতে লজ্জা করে না? আপনার সাহস কি করে হলো আমার সাথে কথা বলছেন।
.
আরে এই মেয়ে বলে কি? আমি একটু অবাক হলাম। ঈশিতা আমার সামনে আর দাড়াঁল না। হন হন করে হেটে চলে গেল। মেয়ে গুলা এমন কেন আমি তো কিছুই বুঝলাম না। সত্যিই মেয়েদের বুঝা মুশকিল। একটা ছেলের গার্লফ্রেন্ড থাকতেই পারে। গার্লফ্রেন্ড মানে কি? গার্লফ্রেন্ড হলো মেয়ে বন্ধু। মেয়ে বন্ধু থাকতেই পারে। তাই বলে কি অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলা যাবে না? কোন কোন মেয়ে ভাবে , যে ছেলের গার্লফ্রেন্ড আছে তার সাথে বেশি কথা বলতে নেই। হাই, হ্যালো, ভাল আছি কিনা, বাসার সবাই ভাল? ব্যাস এইটুকু কথা বলেই শেষ। এই তো গত মাসে অফিস থেকে আসার পর গেট দিয়ে ঢুকে উপরে উঠছিলাম, দেখি ঈশিতা বিল্ডিং এর নিচে তার বোন আফিয়ার সাথে ব্যডমিন্টন খেলছে। আমি ফোনে হেসে হেসে কথা বলছিলাম। অফিসের কলিগ এর সাথে। এমন সময় ঈশিতা সামনে এসে বলে...
.
"কার সাথে কথা বলছেন?
.
আমি মোবাইলটা কান থেকে নামিয়ে বললাম....
.
"কিছু বলেছেন?
"বলেছি এত হেসে হেসে কার সাথে কথা বলছিলেন?
.
আমি একটু চুপ করে থেকে মোবাইলটা আবার কানে লাগিয়ে যার সাথে কথা বলছি তাকে বললাম.. পরে ফোন করছি এখন রাখি।... আমার এই কথা শুনে ঈশিতা আবার বলল...
.
"ডিস্টার্ব করেছি তাই না? আমার সামনে কথা বলতে পারছেন না?
.
আমি তখন কিছুই বুঝি নি। ঈশিতা এমন আচরণ করছে কেন? আমি অফিসের ফারুক ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম হেসে হেসে। আমি বললাম...
.
"আপনি ঠিক আছেন তো?
.
ঈশিতা চুপ করে রইল। পাশ থেকে আফিয়া এসে বলল...
.
"নিলয় ভাইয়া আমার সাথে খেলবে?
.
আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম...
.
"ভাইয়া তো এখন অফিস থেকে আসছি। অন্য দিন খেলব। যেদিন অফিস ছুটি থাকবে সেদিন কেমন।
.
আমার এই কথা শুনে ঈশিতা তার ছোট বোন আফিয়াকে বলতে লাগল.. কারো সাথে খেলতে হবে না। চল এখান থেকে। অপরিচিতদের সাথে কথা বলবি না, একদম না, খবর দার।
.
এইটা বলেই আফিয়াকে নিয়ে চলে যায়। আমি কিছুই বুঝি নি। অবশ্য এর পরের দিন আমার সাথে ঠিকি কথা বলতে লাগল। আর আজকে ও গার্লফ্রেন্ডের কথা শুনে এমন করল। আচ্ছা আমি যেটা ভাবতেছি সেটা নাতো? ঈশিতা কি কোন কারনে আমাকে পছন্দ করে? আমি পকেটে হাত ঢুকিয়ে হেটে হেটে যেই ছাদ থেকে নামতে যাব এমন সময় আবার ওকে ছাদের দরজাটা দিয়ে আসতে দেখলাম। আমি দাড়িঁয়ে গেলাম। ও আমার সামনে এসে দাড়াঁয়। আমি পকেট থেকে হাত বের করে চুপ করে দাড়িঁয়ে আছি। ঠিক এমন সময় ও আমার হাতটা ধরে ওর মাথায় নিয়ে রেখে বলে...
.
"আমার মাথা ছুয়ে বলেন, আপনি যা বলেছেন মিথ্যে বলেছেন। আপনার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই।
.
আমি কি বলব কিছুই বুঝতে পারছি না। ওর চোখ গুলা কেমন লাল হয়ে গেছে। আমি বললাম...
.
"আমি মিথ্যে বলব কেন? আমার গার্লফ্রেন্ড আছে। একজন ছেলের মেয়ে বন্ধু থাকতে পারে না?
.
ও এবার একটু অবাক হয়ে তাকিযে বলল...
.
"শেষের বাক্যটা কি বলেছেন আবার বলেন তো?
"বলেছি মেয়ে বন্ধু আছে।
.
ঈশিতা এবার আমার হাতটা ওর মাথা থেকে নামায়। তারপর চোখ মুছে একটা হাসি দেয়। তারপর বলে...
.
"ইশ আমি কি বোকা। আচ্ছা লাভার আছে আপনার?
.
আমি একটু হাসলাম। কোন কথাই বললাম না। ঈশিতা এবার একটু পিছনে সরে যায় এক পা দু পা করে। তারপর ছাদের দরজাটার কাছে গিয়ে বলল.. এই বৈশাখীতে আমি আপনার সাথে বের হতে চাই। আপনার সব কিছুতেই আমিই থাকতে চাই...। এইটা বলেই ও দরজা দিয়ে নেমে যায়। মেয়ে গুলা এমন কেন বুঝলাম না। পছন্দ করে সেটা মুখে বললেই হয়। এইভাবে আকার ইঙ্গিতে বলার কোন মানে হয়? মেয়েরা আসলেই একটা সরল অঙ্ক। ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে অঙ্কের মত সমাধান হয়....।
-- নিলয় খান
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now