বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্দুক

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X স্ত্রী আর ৭ বছরের ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে পুজোর মেলা ঘুরতে এসেছে নীলয়।মধ্যবিত্ত পরিবার ওর।সামান্য কিছু টাকা বেতনের একটা কোম্পানিতে চাকরী করে সে।কিছুদিন থেকে কোম্পানির লোকসান যাচ্ছে তারজন্য ভালো করে বেতন পাচ্ছে না নীলয়।অনেক অনুরোধ ও দরখাস্ত দেয়ার পর পুজোর দুদিন আগে কয়েকহাজার টাকা পেয়েছে।তা দিয়ে প্রিয় স্ত্রী ও সন্তান কে নিয়ে পুজোর কেনাকাটা করে। নীলয় এর স্ত্রীর নাম অনু।তারা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করে,পরিবারের অসম্মতি তে।বিয়ের কিছুদিন পরেই মন্দার বাজারে অনেক কষ্টে এই চাকরীটা পায় নীলয়।তখন থেকে চলছেই। কেনাকাটা করতে গিয়ে অনু দৃষ্টি ছিল সবসময় কমদামী কাপড়ে। সবাই যেখানে কয়েকহাজার টাকা দামি কাপড় কিনছে সেখানে অনু সামান্য কিছু টাকার একটা শাড়ী কিনেই অনেক খুশি।এটাই হয়তো ভালোবাসা,সত্যিকারের ভালোবাসা।নীলয় আর অনুর একমাত্র ফুটফুটে ছেলেটির নাম তুর্য।অনুর অনেক অনুরোধের পর নীলয় নিজের জন্য একটা হলুদ পাঞ্জাবী কিনে।হলুদ রংটা অনুর খুব প্রিয়। আজ থেকে ৮ বছর আগে যখন নীলয় আর অনু প্রথমবার দেখা করে,সেদিন নীলয় এর পরনে ছিল একটা জীন্স এর প্যান্ট আর একটা হলুদ পাঞ্জাবী।চোখে একটা কালো ফ্রেমের চশমা ছিলো।যেটা অনুকে আকর্ষন করার জন্য যথেষ্ট ছিলো। অনুর জন্য একটা শাড়ী আর এক জোড়া জুতো কিনে বাকি প্রায় সব টাকা দিয়ে তুর্য বাবুর সব ইচ্ছা পূরন হলো।একমাত্র ছেলের মুখে হাসি দেখে মূহুর্তেই সকল অপ্রাপ্তি এবং কষ্ট মুছে গেল এই দম্পতীর। ~দেখো বাবু কত খুশি হয়েছে।(নীলয়) ~হুম...তবে তুমি কিন্তু একটা প্যান্ট নিতে পারতে।(অনু) ~আরেহ্ না।আছে তো কি দরকার। ~দরকার আছে।তুমি সবসময় শুধু আমাদের কথাই ভাবো।নিজের দিকে একটুও খেয়াল নেই।আমার তো একজোড়া জুতো ছিলো,আবার নেয়ার কি দরকার ছিলো। ~খেয়াল নেয়ার জন্য তো তুমি আছো।আর তোমরাই তো আমার সবকিছু,আমার পৃথিবী।তোমরা ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকবো।বাবু ঘুমাইছে? ~হ্যা..এখনই ঘুমালো। ~অনু? ~হুম বলো... ~ক্ষমা করে দিও অনু তোমায় সকল সুখ দিতে পারছিনা।(অনুর হাত ধরে) ~ছিঃ,কি বলছো এসব।ভালোবাসি তোমায়,তুমি আছো আমার বাবু আছে,আর কি দরকার আমার।এসব বলো না গো,অনেক সুখে আছি আমি নিজের ভালোবাসার মানুষ আর সন্তান কে নিয়ে। (নীলয় কে জড়িয়ে ধরে কাদতে কাদতে) ~সত্যি আমার সৌভাগ্য যে তোমার মতো একটা বউ পেয়েছি।এই কাদছো কেন? ~তো কি করবো,এসব বলো কেন?আমি কখনও তোমায় বলেছি যে আমি সুখে নেই,আমার এটা দরকার ওটা দরকার। ~আচ্ছা বাবা সরি,ভুল হয়েছে।আর বলবো না।এবার তো একটু হাসো... ~হয়েছে,হয়েছে।খেতে বসো ক্ষুধা লাগছে খুব। .. সত্যি অনেক ভালোবাসে নীলয় কে এই মেয়েটা।তাইতো সকল অপ্রাপ্তির মধ্যে একটু প্রাপ্তি খুজে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে। অভাবের সংসার ওদের তবুও কখনও কোনকিছুর অভাব বুঝতে দেয় নি স্বামী কে।বর্তমান যুগে অনুর মতো মেয়ে পাওয়া শুধু দুস্করই নয় দুর্লভও বটে। যাক আজ এই দম্পতী আর তাদের একমাত্র সন্তান পুজোর মেলা ঘুরতে এসেছে।তুর্য এটা ওটা দেখছে আর নেয়ার জন্য বায়না করছে। ~বাবা,বাবা ওই বন্দুকতা নিবো। ~ও বাবা এইতা নিবো...বাবা এই পুতুলতা নিবো। মা বাবাকে বলো না ওই গালিতা(গাড়ি) নিয়ে দিতে।ও মা বলো না। .. ছেলের এতোসব বায়না শুনে পকেট হাতড়ে নীলয় দেখলো সেখানে সামান্য কিছু টাকা রয়েছে।যা দিয়ে ছেলের বায়না পূরন করা সম্ভব নয়।ছলোছলো চোখে অনুর দিকে তাকালো নীলয়।খুবই শান্তশিষ্ট স্বভাবের ছেলে নীলয়।রাগটা মনেহয় ওর রাশিতে নেই। অনু বুঝতে পারলো স্বামীর চোখের ভাষা। ~সোনা নিবো তো সবকিছু নেব।এগুলো ভালো না সোনা। পরে বাবা অনেক ভালো এনে দিবে কেমন।এখন চলো বাবা পরে বাবা সবকিছু এনে দিবে। ছেলেকে শান্তনা দিয়ে কথাগুলো বললো অনু।কিন্তু তুর্য তো ছোট সে বায়নারম জিনিসগুলো না পেয়ে কাদতে লাগলো।ছেলেকে কোলে নিয়ে অনু বললো,"চলো বাড়ি যাই"। হুম চলো।তারপর তারা বাড়ি চলে আসলো। ~শোন আমি একটু বাইরে যাব,দরকার আছে।কিছুক্ষণ পরেই আসবো।তুমি রান্না করে রেখো। ~আচ্ছা।কিন্তু কোথায় যাচ্ছ? ~কোথাও না গো...এমনি ভালো লাগছে না তাই একটু ঘুরে আসি বাজার থেকে। ~আচ্ছা,তাড়াতাড়ি এসো। .. বলেই নীলয় বাড়ি থেকে বেড়িয়ে বাজারে গেল।অনেক কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে নীলয় একটি অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল কিনেছিল।মোবাইল মেকারের দোকানে গিয়ে সেটা বিক্রি করলো সে।তারপর যে টাকা হলো সেটা দিয়ে ছেলের বায়না করা সবকিছু কিনে নিল।আর বাকি টাকা দিয়ে একটা ছোট মোবাইল নিলো। সবকিছু নিয়ে নীলয় বাড়ি এসে দেখলো তার রাজকুমার ঘুমাচ্ছে। ~এতোসব কোথায় পেলে?(অনু) ~কোথায় আবার দোকান থেকে। ~টাকা কোথায় পেলে? ~পেয়েছি কোথাও তবে চুরি-ডাকাতি যে করিনি সেটা নিশ্চিত। ~নীলয় হেয়ালি করো না।কোথায় পেলে এতো টাকা? ~ওই মোবাইল টা একটু সমস্যা দিচ্ছিলো তাই ওটা বেচে দিলাম। দেখো এই মোবাইলটা কতো সুন্দর। (এমন সময় তুর্য ঘুম থেকে উঠে বিছানার উপর তার পছন্দের সব খেলনা দেখে তো আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলো। বাবাকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু খেলো) ~দেখেছো অনু আমাদের রাজকুমার কতোটা খুশি হয়েছে। (অশ্রুসিক্ত চোখে অনু নীলয় কে জড়িয়ে ধরলো)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বন্দুক
→ না এটা বন্দুক না ! এটা তোমার ইজ্জত

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now