বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বন্ধুত্বের হাত

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ক্রিঃ ক্রিঃ,, - হ্যালো,, বউ এতো সকালে ফোন দিছো কেন? তুমি তো জানই এখন আমার ঘুমানোর সময়। - তোর সকাল দেখাইতেছি হারামজাদা,, কয়টা বাজে হ্যাঁ? - বউ এতো রাগ করো কেন? - তোরে আজ আমি,,, ৯টা বাজে তাড়াতাড়ি কলেজে আয় বলছি। - আচ্ছা বউ ঠিক আছে। - কুত্তা আমি তোর কোন জন্মের বউ? - আপাতত এই জন্মের। - তুই শুধু আয় আজ, তোর বউ আমি দেখাইতেছি। - ওক্কে। . তারপর বিছানা ছেড়ে উঠে ফ্রেস হয়ে কলেজের দিকে দিলাম দৌড়। ওনি হলো আমার জানের প্রাণের একমাত্র দোস্ত ইভা। আর আমি হলাম গিয়ে দিপু। দুজনেই এবার অনার্স ফাস্ট ইয়ারে। ইভা হলো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। সেই ইন্টার থেকে আমাদের ফ্রেন্ডশীপ। . এতো দিনের ফ্রেন্ডশীপ বলে আমরা খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড হয়ে যাই তাই ওর সাথে সব রকম বাঁদরামি আর ফাজলামো করি তাই ওর হাতে বকা আর মাইর দুটোই খেতে হয়। আমার আবার সেইরাম মজা লাগে ওই কিউট গুন্ডীটার সাথে ঝগড়া আর মারপিট করতে। . সারাদিন খোঁচাখুচি আর ঝগড়া থাকেই তবুও বেলা শেষে আমাদের ফ্রেন্ডশীপ সেই অটুঁট আছে আগের মতোই। ফ্রেন্ডশীপ মানেই তো আড্ডা মজা খুনসুটি ঝগড়া, আর বিপদে এক বন্ধুকে আরেক বন্ধুর আগে ফেলা। ফ্রেন্ডশীপে মজাই আলাদা। আর সবচেয়ে শক্তিশালী হলো ফ্রেন্ডশীপ বন্ধন। . তারপর নিজে থেকেই বকবক করতে করতে কলেজ চলে এলাম। - এই এই কে কে? - এখন চিনতে পারছিস না, ফোনে তো বউ বউ বলে চিল্লাচিল্লি করলি। - এই পেছন থেকে এসে কেউ চুল ধরে টান দেয় নাকি? - কেউ না দিলেও আমি দেই । - কেন? - আমি আলাদা চিজ, তাই, - চিজ মানে,, - চল দেখাচ্ছি। . - ইভা এই ক্যান্টিনে আনলি কেন? - আজকের বোনাস দে। - কিসের? - কাল আমার কাছ থেকে ৪২০ টাকা খেয়েছিস আজ তুই ৮৪০ টাকা খাওয়াবি। - পানি দে পানি,, আগে পানি খাইয়া নেই, আমার মাথা ঘুরতেছে। - আব্বে কস কি? এইটা তো সকাল আর সারাদিন তো পরেই আছে, এখনই যদি মাথা ঘুরে তাহলে আর বাকি দিন করবি কি? - বাকি দিন মানে!!! - আজকে বিকেলে সবাই পার্কে যাব, সব বিল আজ তোর। -,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, - দিপু এই দিপু কি হইছে তোর কথা বলছিস না কেন? এভাবে বসে পড়লি ক্যান? - ইভা তুই যা বললি শুনে বোধ হয় বেচারা বেহুঁশ হয়ে গেছে ( মোনা) - মোনা একটু পানি আন না প্লিজ, - দাড়া আনছি,,,, - এই চোখ খুল ( পানি ছিটিয়ে দিচ্ছে) . - আমি কই? - কলেজে,, - কি হইছিলো? - আমার কথা শুইনা বেহুঁশ হইয়া গেছিলি। - ওহ্ হ্যাঁ, মনে পড়ছে। - এই ইভা ক্লাস শুরু হবে চল ( মুনা) - একটু দাড়া এই আধমরা জিনিসটা নিয়ে যাই। . - কি? আমি আধমরা!! - ইয়েস চল,,, ( হাত ধরে উঠালো) - তোর বর আধমরা হবে দেখিস। - আমার ভবিষ্যৎ বরের নামে আজাইরা কথা কইলে তোর খবর আছে। - কি করবি? - ঠাস,, এই দেখলি কি করলাম। - আম্মুওওওও,, দেখো ইভা আমারে থাপ্পড় দিয়া গাল উড়াই দিছে। - বেশ করছি, চল এখন। . অতঃপর গালে হাত বুলাতে বুলাতে ক্লাসে চলে গেলাম। ইসসসস বাবা, পেত্নীটার গায়ে জোর আছে বলতে হবে,, আমার গালটা একেবারে লাল করে দিছে। আমি গিয়ে ক্লাসের ডানপাশে বসলাম আর ও বামপাশে,, . একটু পর ক্লাস শেষ হয়ে গেল, আর আমি ওখানেই বসে বসে একটা নোট তৈরি করছিলাম,, - দিপু,, - বল, - রাগ করছিস? - কেন? - তোকে মারলাম। - ও মাই গড, প্রতিদিনই তো মারিস তো আজ এভাবে বললি কেন? - ক্লাস শেষ হয়ে গেল তবুও আমার কাছে গেলি না। - মাইরালা,, এরজন্য এই কথা বললি,, এই নোটটা একটু তৈরি করে দে না প্লিজ আমার ইভা দোস্ত, প্লিজ। - কিইই, তুই এখানে বসে বসে নোট তৈরি করছিলি আর আমি যেই আসলাম তুই ওটা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিলি। - তুই না আমার বউ, বউ তো বরের কথা শুনেই, তুই আমার এই কথাটা শুন প্লিজ, - পারুম না। - ক্যাটবেরি দিমু পাচঁটা। - দে দে। - আগে এটা কর। - এখনই করে দিচ্ছি জাস্ট ওয়েট। - আচ্ছা তুই কর, আমি নিয়ে আসছি। - তাড়াতাড়ি যা,, . তারপর আমি বাইরে চলে গেলাম। বাইরে গিয়ে দেখি স্যার নেই, স্যার নেই মানে ক্লাস নেই,, হুররে,, মাঠের এক কোণে বসে পড়লাম কয়েক বন্ধুরা মিলে গ্রুপ গেমস খেলতে। ১৫ মিনিট পর,, - দিপু, এই দিপু, - যা তো এখন, বিজি আছি। -হনুমান আগে আমার ক্যাটবেরি দে, এইনে তোর নোট। - থ্যাঙ্কু, পেত্নী জ্বি আপনি এবার বিদায় হোন। - আমার ক্যাটবেরি। - সেটা কি আবার? - বুঝতে পারছি,, দাড়া,, - এই আমার ফোন,, আমার ফোন দে, নিলি কেন ওটা। - ক্যাটবেরি না দেওয়া পর্যন্ত তুই এটা পাবি না। - দ্যাখ ভালো হবে না কিন্তু দে বলছি। - বায়,, . যাহ্, দৌড়ে পালালো, এখন কি হবে? আমার ফোন নিয়ে ভাগছে। কাছে একবার পাই তারপর বুঝাবো ঠ্যালা। আবার ছুটির সময়,,, গেটের সামনে দাড়িয়ে আছি রিক্সার অপেক্ষায়। - ইভা আজ গাড়িতে যাবি না রিক্সায়? - তোর সাথে যাব। - আমার সাথে কেন? - আজ সব খেয়ে শেষ করে দিছি ভাড়া নেই,, তাই তুই দিবি। - আচ্ছা চল,, . তারপর রিক্সা করে ওর বাড়ি পর্যন্ত গেলাম। তারপর ও ওর বাড়ির কাছে গিয়ে নেমে পড়লো, আমার বাসা আরও সামনে,, এখান থেকে নেমে ওকে আবার একটু হেটে যেতে হবে। -এইযে আফা ভাড়াটা দিয়া যান। - হোয়াট, আমি ভাড়া দেব কেন? - বা রে, আমার রিক্সা করে এলেন এখন ভাড়া দিবেন না? - ওইযে দিপু ভাড়া দিব। . এইযে আফা আপনার ভাড়া আমি দিব কেন? আপনাকে তো আমি চিনিই না। - কিইইই,, - আগে মোবাইল দেন, তারপর আপনার ভাড়া আমি দেব নয়তো আপনি ওনার সাথে ঝগড়া করুন। - সুযোগের সদ ব্যবহার করলি, তোকে আমি কাল দেখে নিব। এইনে তোর ফোন। - হয়েছে এবার যা, ভাড়া দিয়ে দিব। ভাই চলুন, ওর ভাড়া আমিই দিব। . কিছুক্ষণ পরই আমি বাসায় চলে এলাম। তারপর গোসল করে খেতে বসলাম,, এই হলো আমাদের ফ্রেন্ডশীপ। সব ফ্রেন্ডশীপ গুলোই এমন হয়। প্রথমে দুজনের ভাব হয়, তারপর ঝগড়া, রাগ, মারামারি, তবুও একটু পরই আবার এক হয়ে যাওয়া। ফ্রেন্ডশীপ এমন একটা অনুভূতি যেটা সহজে ভাঙা যায় না। . খাওয়া শেষে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম। তারপর ইভাকে ফোন দিলাম। আজকে আমাকেও যেমন নাচিয়েছে আমিও তেমন রাগিয়ে দিছি, কি আনন্দই না হচ্ছে এখন, - ইভা,, - ফোন দিছোস কেন? - বা রে আমি আমার বউকে ফোন দিব না, তো কাকে ফোন দিব? - তোর যাকে ইচ্ছে তাকে দে। বউ বললে খাইয়া ফালামু একেবারে। - ওমা তাই? খুব ভয় করছে রে। - তুই তোর বউয়ের হাতেই খুন হবি বলে দিলাম। - ছিঃছিঃ, এইসব কথা বলতে নেই জান। - তুই মরবি, তুই মরবি। তুই একটা চিটিংবাজ। - কেন? - আমাকে ক্যাটবেরির লোভ দেখিয়ে আমাকে দিয়ে নোট লিখিয়ে নিছোস। - বউ আমার, লোভ করে না প্লিজ, লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। - তোকে এখন কাছে পাইলে গলা টিপা মাইরালাইতাম। - এখনই জেলে গেলে তোমার বিয়ে হবে না জান, কেউ বিয়ে করবে না। - না করুক, তবুও তোর হাত থেকে রেহাই পাব। - আমি কি এতোই অকর্মা? - ভাবনার বাইরে, - তাইলে তোর পিছু আমি ছাড়ুম না কোনো দিন,, - আমি জানি তুই এটাই বলবি,, আমার বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তুই এভাবেই আমাকে জ্বালাবি, বিয়েটা হলেই এখন তোর হাত থেকে বাঁচবো। - মেয়ে দেখা যায় বিয়ে করার জন্য পাগল হইয়া গেছে। - ইয়ে না মানে,, - দাড়া তোর জন্য একটা তোর মতোই গুন্ডা বর খোজে বের করবো। টুট টুট,, . যাহ্, কেটে দিল। এখন কি করবো? ওহ্, হ্যাঁ আমার তো এখন রাগ করার কথা তাই না? কারণ ও আমাকে এতো গুলো কথা বললো, সো আমার রাগ করা একটা স্বাভাবিক বিষয়। . কিন্তু স্যরি,, আমি তো আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের উপর রাগ করি না। কারণ, আমার ফ্রেন্ডশীপে রাগ বলতে জিনিসটা মারা গেছে। যে ফ্রেন্ডশীপে অধিক সময় রাগ থাকে সেটা খুব নড়বড়ে এবং তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আমারটা নষ্ট হবার নয়, রাগ কি আমি জানিই না। বিশেষ করে,, আমার কাছের বন্ধুটা যখন আমার কাছে থাকে। . তারপরের দিন খুব সকালে, ৬টা বাজবে হয়তো,, তখনই দেখি আবার ইভার ফোন,, - উফফফ,, এই পাগলী তোর আর কাজ নেই আমার ঘুম নষ্ট করা ছাড়া। - স্যরি, - কি হইছে এখন ফোন দিছোস কেন? - একটা গল্প শুনা তো দোস্ত প্লিজ। - ওকে ওকে,, দিপু গতকাল সন্ধ্যায় তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরে, কারণ ওর ঘুম পাচ্ছিল তাই, কিন্তু ভোর বেলা এক পেত্নীর বিকট চিৎকারে দিপুর ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু দিপু ওটাকে পাত্তা না দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পরে, গল্প শেষ, বায়, . ফোনটা এয়ার প্লেন মোড দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। একে নিয়ে আর পারি না, কে জানে কার বউ হয়ে গিয়ে কার কপাল পুড়াবে। একে যে বিয়ে করবে সে কয়েক দিনেই এর প্যারা সয্য করতে না পেরে মারা যাবে। . আবার কলেজ গিয়ে,,, - দিপু ওই দিপু,, তরে আজ খাইছি,, - একটু লবণ লাগিয়ে নিস নয়তো স্বাদ পাবি না,, - লাগিয়ে নেই তাহলে আগে,, - ওই গলা ছাড় মরলাম, মরলাম,, - ফোন বন্ধ রাখছিল কেন? - বন্ধ না, সিম বন্ধ রাখছিলাম। - কেন? - ভালভাবে ঘুমানোর জন্য। - তোর যা খুশি তাই কর,, . ওই দেখো, পাগলীটা আবার গাল ফুলাইছে,, এদের এতো অভিমান কই থেকে আসে রে বাবা, কিছু বুঝি না, এটা মেয়ে না অভিমানের ডিব্বা,, - ইভা এই নে,, - ওয়াও, এত্তো গুলো ক্যাটবেরি। - তোকে আমি কি বলে যে থ্যাঙ্কু দেব, ভাষাই হারিয়ে ফেলছি। উম্মা, উম্মা, উম্মা। - এইডা কি হইলো? - কই? - এতো গুলো চুমু দিলি কেন? - হিহিহি,, তোকে দিব না তো কাকে দিব, তুই তো আমার একমাত্র দোস্ত,, আয় একটু জড়িয়ে ধরি। - না থাক অনেক পাম দিছস আর দিস না, নইলে পরে ফেটে ডিজিটং হয়ে যাব। - হাহাহা,, হিরোগিরি ফিল্মের ডায়লগ মারস,, - হু, . কি করি এখন,, যদি একটা ক্যাটবেরির দোকান দিতে পারতাম তাইলে ভালো হতো। সারাদিন ওকে ক্যাটবেরি খাওয়াতাম। ক্যাটবেরিতে কি আছে কে জানে, মেয়ে জাতি ওটার জন্য এতো পাগল কেন? তিনটা ক্যাটবেরি দিলাম তিনটা চুমু তার বদলে আমার প্রিয় বন্ধু আমাকে দিল, আহারে মগের মুল্লুক। . এভাবেই চলে যাচ্ছে আমাদের মিষ্টি ফ্রেন্ডশীপ,, যেটা সব ধরনের সম্পর্কের চেয়ে সবচেয়ে বড় আর শক্তিশালী সম্পর্ক। সব কিছু শেষ হলেও ফ্রেন্ডশীপ কখনো শেষ হয় না। . ৬ মাস পর,,, . কলেজে গিয়ে আজ বসে আছি কিন্তু এখনো ইভা আসছে না। আজ এতো দেরী করছে কেন? বুঝতে পারছি না। অনেকক্ষণ পর দেখি পেত্নীটা আসছে। . - কি রে ইভা, আজ এতো দেরী করলি? - একটু কাজ ছিলো। এই নে আমার বিয়ের কার্ড। আর চারদিন পর আমার বিয়ে। - এ বাব্বা, পেত্নীর আবার বিয়ে হয়? - দ্যাখ এখন কিন্তু ফাজলামো করার মোড নাই। - কি করে থাকবে,, খুশিতেই তো হ্যাং হয়ে গেছস মনে হয়। - উফফফ, আমার ভাল্লাগছেনা কিছু। - কেন? - ওরা নাকি আমাকে বিয়ের পর আর পড়তে দেবে না। - তাতে কি হইছে? - আমার পড়ার ইচ্ছে ছিলো, তাছাড়াও সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে। - ওটা কোনো সমস্যা না, বিয়ার পর সবাইকে সবকিছু ছেড়ে যেতে হবে। সমস্যা নাই, বিয়ে করে নে। আর পড়তে হইবো না। - আচ্ছা,, আর তুই কিন্তু সবসময়ই আমার কাছে থাকবি। - কেন? - ছেড়ে চলে যাব তো এর পর ( কান্না করে দিছে) - এই পাগলী কাঁদছিস কেন? - আমাদের এতদিনের ফ্রেন্ডশীপ কিন্তু এরপর তোর সাথে আর দেখা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে, খুব কষ্ট হচ্ছে রে। - হাহাহা,, তাই বলে কেও কাদে? যত্তোসব। চল এখন,, . তারপর ক্লাসে চলে গেলাম। আমারও খুব কষ্ট হচ্ছে রে,, আমাদের এতদিনের ফ্রেন্ডশীপ,, এরপর দুজন আলাদা হয়ে যাব। আর দেখা নাও হতে পারে,,যেখানে যেভাবেই থাকিস ভালো থাকিস। . কাল পেত্নীটার বিয়ে কিন্তু আজই ও আমাকে আমার বাসায় গিয়ে টেনেহিঁচড়ে ওর বাসায় নিয়ে আসছে। বলে কিনা,, আমি আজকে না গেলে ও বিয়ে করবে না,, তাই বাধ্য হয়ে আসতে হলো,, . পরের দিন,, . আজ পেত্নীটা অনেক সেজেগুজে বসে আছে বিয়ের আসরে। না আজ আর ইভাকে পেত্নী লাগছে না, মনে হয় একদম এক অপ্সরী বসে আছে বিয়ের আসরে। একদম এক পরী,, আজ এই পরীর মতো সবচেয়ে কাছের বন্ধুটাই আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। এতবছর ধরে একসাথে ছিলাম,, যদিও আমাদের মধ্যে প্রেম হয়নি, তবুও বন্ধু হয়ে বন্ধুকে অনেক ভালবাসি। আজ সেই বন্ধুটা আজ আমাকে ছেড়ে দূরে চলে যাবে। আর কথা বা দেখা হলে হতেও পারে নাও হতে পারে। . আমি এখন ওর পাশেই বসে আছি। আমি বসতে চাইনি, কিন্তু পাগলীটা জোর করেই বসিয়ে রাখছে। আমার খুব লজ্জা করছে এখন ওর সাথে বসে থাকতে,, সবাই এদিকে তাকিয়ে আছে,,কিন্তু গুন্ডীটা আমার সমস্যা বুঝতে চাইছে না, জোর করেই আটকে রাখছে,, উঠতে চাইলে হাত ধরে টেনে বসিয়ে দিচ্ছে, কি যে করি এখন? . . - এইতো বর এসে গেছে, বিয়ে হয়ে গেলেই তোর মতো পেত্নীটা আমার ঘাড় থেকে নেমে ওই হাঁদারামের ঘাড়ে উঠবে। - কি বললি? আমার বর হাঁদারাম। - ইয়েস,, - হারামি কুত্তা,, তোর বউ ১ বছরেই বিধবা হইবো। - আমি বিয়ে করিনাই এখনো। আর আমার সহজে কিছু হইবো না। তুই আছস তো,, - উফফফ,,, - যা বিদায় হ, - যাবোই তো,, আমি গেলেই তো তুই বেচে যাস, তাই না? এতদিন খুব বিরক্ত করছি, আর করুম না। - এরকম ভাবে বলিস না দোস্ত প্লিজ খুব কষ্ট লাগে। আমি তো জাস্ট তোকে খুশি করার জন্য একটু ফাজলামো করছি,, সত্যি বলতে খুব মিস করবো তোকে। - দিপু,, তোর বউ কিন্তু আমি ঠিক করে দিব। - ওক্কে। - চোখ ট্যারা হলে চলবো? - ধুম,, পেত্নী কোথাকার!! - উফফফ, কিল দিলি ক্যা? - তোর বরের চোখ ট্যারা হইবো। - চুপ, শয়তান,, - আচ্ছা, থাক, আমি আসছি। . . একটু পরই এসে গেল সেই কন্যা বিদায় মূহুর্ত। ইভার আম্মু আব্বু সবাই ইভাকে জধিয়ে ধরে কাঁদছে। আর আমি আসরের কোনো এক কোণে চুপচাপ দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। তারা গুলো আজ খুব বেশীই জ্বলজ্বল করছে,, তারার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমার চোখের কোণটাতেই পানি চলে এলো। ওহ্, হ্যাঁ, তারার আলোটা সয্য করতে পারিনি তাই চোখে পানি আসছে, তাছাড়া আর আমার কান্না আসে না সহজে। . একটু পরই হটাৎ বুকটা ভারি মনে হলো। মাথা উচুঁ থেকে নিচু করলাম, দেখি আমার বন্ধুটা আজ আমার বুকে মুখ গুজে কাঁদছে। এবার বোধ হয় আমার কান্না চলে আসবে। না যেভাবেই হোক আটকে রাখতেই হবে, আমি ছেলে আমার কাঁদলে চলবে না। . - এই পেত্নী এভাবে কাঁদছিস কেন? তবুও আমাকে জড়িয়ে ধরে? - ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না রে। খুব কষ্ট হচ্ছে। - তাইলে ওই হাঁদারামটাকে ঘরজামাই রেখে দে। - তুই আবারও হাঁদারাম বললি। - হিহিহি,, একশো বার বলবো,, হাঁদারাম, হাঁদারাম, হাঁদারাম। - ডিসকু,, - ওরে বাবারে,, বুকের উপর কিল দিলি কেন? - বেশ করছি আরও দিব। - এখন যা, তোর হাঁদারাম অপেক্ষা করছে। - আবার? - স্যরি, স্যরি, - নিজের খেয়াল রাখবি আর ঠিকমতো পড়াশুনা করবি। - আচ্ছা, - যদি শুনি কোনো মাইয়ার পেছনে ঘুরছিস তো ঠ্যাং কেটে দিমু,, ঠিকমতো পড়াশুনা করবি,, আর সুন্দর মেয়ে আমি তোকে এনে দিব, ফালতু মেয়ের পেছনে ঘুরঘুর করবি না। - জো আজ্ঞা মহারাণী। . অতঃপর পেত্নীটা ওই হাঁদারামটার সাথে গাড়ি করে চলে গেল। . কয়েক দিন একা একা লাগছিল ওকে ছাড়া, তারপর নিজেকে মানিয়ে নেই। বিয়ের পর ওকে আর একবারও ফোন দেইনি, যদি কেউ দেখে উল্টো পাল্টা ভাবে, তাই। . ১৭ দিন পর,, . বিছানায় বসে মটু পাতলু কার্টুন দেখছি, হটাৎ অচেনা নাম্বার থেকে কল, প্রথমবার কেটে দিলাম, কিন্তু দ্বিতীয় বার ধরলাম,, - বন্ধুকে ভুলে গেছিস তাই না? - ইভা তুই? - তাইলে আমারে কি ভূত মনে হয়? - এটা কার নাম্বার? - ওই হাঁদারামটার। - হাহাহা,, এখন তুইও বলছিস। - তোর সাথে তাল মিলিয়ে দেখলাম, রাখ এসব,, এতদিন ফোন দিলি না কেন? - তোর তো এখন বিয়ে হয়ে গেছে, ফোন দিলে তোর হাঁদারাম কি ভাববো? - কচু ভাববো। ও জানে আমাদের ফ্রেন্ডশীপ এর কথা বুঝতে পারছস? - কি করে জানলে? - আমি বাসর রাতে রাত ১:৩০ পর্যন্ত আমাদের ফ্রেন্ডশীপের গল্প শুনাইছি। - তোর বরটা সত্যিই হাঁদারাম। - কেন? - বাসর রাতে বিড়াল মারা রেখে গল্প শুনছে। - ইইইইই, কুত্তা, বিলাই, হনুমান, তরে আমি খাইছি। তোর লজ্জা করে না বলতে। - হিহিহি,, . সমাপ্ত,,, . ফ্রেন্ডশীপ এমন একটা জিনিস যেটা কোনো দিনও শেষ হয় না। সারাজীবন একরকমই থাকে। এটা একটা পবিত্র শক্ত বন্ধন। ফ্রেন্ডশীপ মানেই বন্ধুর সাথে আড্ডাবাজি, ফাজলামো, আর তার পাশে থাকা। আমিও তোদের খুব ভালবাসি রে বন্ধু। ফ্রেন্ডশীপ হবে, জিংগালালা,,,, . বন্ধুত্বের হাত . লেখক : Sopner Akash . ( গল্পটা পড়ে আপনাদের একটু মজা লাগতে পারে, কিন্তু এটাই প্রকৃত ফ্রেন্ডশীপ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বন্ধুত্বের হাত

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now