বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বন্ধুত্ব
-সাবিহা বিনতে রইস
শীতে জীর্ন হয়ে যাওয়া,পাতা ঝরা বকুল গাছটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দিশা।
গাছটির অবস্থা দেখে মোটেও বোঝা যাচ্ছে না,কয়েকদিন আগেও গাছটি ছিলো সবুজ পাতা,,আর শুভ্র ফুলে পরিপূর্ন।এর শাখায় প্রতিদিন এসে বসতো একটি বুলবুলি পাখি!এই ডাল থেকে ওই ডালে তার ওড়াওড়ি দেখে খুব মজা পেত দিশা।গাছের পাতার ফাকে তার লুকোচুরির খেলা দেখেই বোঝা যেত,তাদের সাথে কতই না বন্ধুত্ব বুলবুলিটার।
শীতে গাছটির পাতা ঝরার পর কয়েকদিন পাখিটিকে মনমরা হয়ে গাছের ডালে বসে থাকতে দেখেছে দিশা।কিন্তু কিছুদিন থেকে পাখিটির দেখা নেই।দিশা মনে মনে ভাবে,হয়ত নতুন কোন বন্ধু পেয়েছে বুলবুলিটি!তাই পুরোনো গাছটিকে অবাঞ্চিত ভেবে ফেলে গেছে সে...
গাছটির কথা ভাবতে ভাবতেই হঠাত্ নিজের জীবনের বিশেষ কিছু ঘটনা মনে পড়ে দিশার।একসময় তার খুব কাছের কিছু বন্ধু ছিলো তার।সেই ছোট্র বেলার বন্ধু,,যখন বন্ধুত্ব শব্দটার অর্থই জানতো না তারা।
হাত ধরে একসাথে স্কুলে যাওয়া,ক্লাসের ফাকে ভাগাভাগি করে টিফিন খাওয়া,ছুটির দিন গুলোতে একসাথে হৈচৈ,খেলাধুলো করতে করতে কখন যে তারা নিজেদের ভেতর একাত্ব হয়ে গিয়েছিলো তার টের পাইনি কেউ।
বুঝলো সেদিন যখন ছোট্র একটা ভুল বোঝাবোঝি,আর সন্দেহকে কেন্দ্র করে ভেঙ্গে গেল তাদের ৮বছরে বন্ধুত্ব।
হঠাত্ একা হয়ে যাওয়া দিশার কাছে মোটেও সহজ ছিলো না সময় টা।পরিচিত একটা জগত্ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কত রাত যে ঘুমাতে পারেনি সে,,তা শুধু তার চোখের জলে ভিজে যাওয়া বালিশ টা ছাড়া আর কেউ জানে না।
সকাল বেলা ফোলা ফোলা চোখ দুটোতে গাঢ় করে কাজল দিয়ে রাতের কান্নাকে আড়াল করার ব্যার্থ প্রয়াস করেছে অনেকদিন,,পাছে তার কান্না দেখে কেউ অন্য কিছু ভাবে।
কিন্তু তবুও নিজেকে লুকাতে পারেনি,বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রনা থেকে।
সে বহুদিন আগে কথা।তারপর অনেক গুলো সেকেন্ড,অনেক গুলো মিনিট,অনেক গুলো ঘন্টা,মাস,বছর পার হয়েছে।
কিন্তু সেই কষ্ট টা একই রকম আছে!আবারো চোখ ভিজে ওঠে দিশার যখন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে বন্ধুত্বের সোনালী দিনগুলি।
-"এই টেপি,,কি করছিস তুই?"
-"কি করবে আর ও?বিশিষ্ট চিন্তাবীদ, ঘরে বসে ধ্যান করতেসেন!"
-"করাচ্ছি তোর ধ্যান!
ক্লাসে তোর প্রক্সি দিতে দিতে আমরা শেষ,,আর এইখানে তুই স্মৃতিচারণ করছিস?"
-"আহা বুঝলি না ব্যাপারটা?
ও কি পরিমান কিপটে ভুলে গেছিস?থার্ডইয়ার অর্নাসের এ্যাক্সামের রেজাল্ট দিয়েছে।চিন্তাবিদ তো আবার সেকেন্ড হয়েছে,তাই ট্রীটের ভয়ে ঘরে মুখ লুকিয়ে বসে আছে!"
চোখ গোল করে সামনে দাড়িয়ে থাকা মানুষ গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে দিশা।আর মনে মনে ভাবছে,,মাত্র তো ৩দিন ক্লাসে যাইনি,,তাতেই ফাজিল গুলো বাড়িতে এসে হাজির!
-ওই আমরা কি ভূত নাকি?ওরকম চোখ বড় বড় করে কি দেখছিস আমাদের দিকে?
ভেঞ্চি কেটে প্রশ্ন করে সৃষ্টি!
-তোরা ভূত না।তোরা এক একটা আস্ত এলিয়েন,,যাদের জন্য এখনো বেঁচে আছি।
মৃদু হেসে কথাটি বলে দিশা।
-"থাক,আর আপনাকে দার্শনিক তত্ব দেওয়া লাগবে না"
গম্ভীর গলায় কথাটি বলার ব্যার্থ চেষ্টা করে অভ্র!
তারপর হৈচৈ-হুল্লোড়ে মেতে ওঠে সবাই!
প্রিয়াংকা,রিয়া,সৃষ্টি,অভ্র আর আবীর।
দিশার সবথেকে কাছের পাচঁ বন্ধু।দিশার দুঃসময়ে যারা তার হাত ধরে পথ চলতে শিখিয়েছিলো,,যাদের জন্য সে শিখেছে নতুন ভাবে বেচেঁ থাকতে।
মানুষের সুখের দিন যেমন স্থায়ী নয়,,দুঃখের দিনও নয়।৮বছরের পুরনো বন্ধুত্বের বৃত্ত ভেঙে ছিটকে পরা দিশা আজ জানে তার সুখের জীবনটা দীর্ঘ করতেই তার কাছে এসেছে এই পাচঁ জন।
যাদের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের বন্ধন ভুলিয়ে দিয়েছে সব শূন্যতা!
ফাল্গুনের শুরু!দিশার ক্যাম্পাসে আজ বসন্তবরণ উত্সব।ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাড়িয়ে বাসন্তী রঙা শাড়ীটা ঠিক করতে গিয়ে হঠাত্ জানালার বাইরে বকুল গাছটার দিকে চোখ পড়ে তার।গাছটিও তার জীর্নতাকে ঝেড়ে ফেলে নতুন সাজে সেজেছে আজ!একটু খেয়াল করতেই দিশা সবুজ কচি পাতার ফাকে দেখতে পায় সেই বুলবুলিটিকে।আবার আগের মতই তাকে দেখা যায়,,পাতার ফাকে লুকোচুরি খেলতে।পুরোনো সবকিছু ভুলে নতুন বন্ধুদের পেয়ে সে দারুন খুশি।
বহুদিন পর আবার মনের মাঝে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয় দিশার।সে জানে,সে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধুদের পেয়েছে.যাদের সহচার্য ভুলিয়ে দিয়েছে সব কষ্ট..তবুও বন্ধুত্বের ক্রান্তি লগ্নে যাদের পেয়েছিলো,,এখনো চোখ বন্ধ করলে তাদের খুনসুটি গুলো ভেসে ওঠে মনের মাঝে!বন্ধুত্ব ভেঙে গেলেও এত সহজে ছোট্র বুলবুলিটির মত দিশা ভুলতে পারে নি তাদের সাথে কাটানো মধুময় স্মৃতিগুলো!
অজান্তেই অদৃশ্য একটা কষ্টে চোখ ভিজে ওঠে দিশার।
স্রষ্টার সৃষ্টির পার্থক্য বোধহয় এখানেই!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now