বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অধরাকে কয়েকদিন ধরেই ফলো করছি।ওবুঝতে পেরেছে কিনা জানিনা।বুঝতে পারার কথাও না।আমি ওকে যথা সম্ভব দূর থেকে ফলো করি।ওকে প্রচন্ড ভালবেসে ফেলেছি. . .
.
তবে সত্যজিৎ কিভাবে যেন আমাকে দেখে ফেলেছিল।অবশ্য ওর জন্যই অধরার নাম ঠিকানা জানতে পেরেছি. .
.
আমি অভি।চাকরি করি,সাধারন একটা।লেখাপড়ায় ভালই ছিলাম।কিন্তু চাকরিটা পেতে আমাকে খুব বেগ পেতে হয়েছিল।ছাত্র জিবনে পড়ালেখা নিয়ে ব্যাস্ত ছিলাম,তাই কখনো কারও প্রেমে পড়া হয়নি।অবশ্য কেউ আমাকে পছন্দও করতো না।সে যাই হোক
.
আজও রুটিন করে অধরাকে ফলো করছি।কখনও ওর সাথে কথা বলতে পারিনি।বট গাছের নিচে যেতেই ও থেমে গেল।তাই আমিও একটা চায়ের দোকানের পেছনে লুকিয়ে গেলাম..
.
এখান থেকে অধরাকে দেখা যাচ্ছেনা।তাই অধরাও আমাকে দেখার কোন প্রশ্নই আসেনা।কিছুক্ষন পর আবার উকি দিলাম।দেখি ওখানে কেউ নেই।তাই আমি একটু দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করলাম. . .
.
বট গাছের নিচে যেয়ে দেখি আশেপাশে একটা কাক পক্ষিও নেই।
ব্যাপার টা কি?এত তারাতারি মেয়েটা কোথায় চলে গেল. . .
.
→হুমম,হুমম. . .
→আরে আওয়াজ করে কে?
→হুমম,,হুমম. . .
.
পেছনে ফিরে আমি ভয় পেয়ে যাই।দেখি অধরা নিজের ভ্রু জোড়া একসাথে করে একটা কপট রাগ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। তাৎক্ষনিত নিজেকে সামলে নিয়ে সোজা হয়ে দাড়ালাম।
.
→এইযে মিস্টার।কাকে খুজছেন?(অধরা)
→জি,,,জি,,,,আ আ আমাকে কি-কিছু ব-ব-বলছেন?
→জি। আপনাকেই বলছি।কাকে খুজছেন?(অধরা)
→আ-আ আমি কা-কা-কাউকেই খুজছিনা।আমিতো গাছের নিচে বসতে এসেছি।
.
→গাছের নিচে বসতে এসেছেন ভাল কথা।কিন্তু এদিক ওদিক কি দেখছেন?
→না না।কই,,, কিছুনাতো।
→হুম ভাল।।কাউকে ফলো না করাই ভাল।কিছু বলার থাকলে তাড়াতাড়ি বলে ফেলবেন।এখন হাওয়া খান(অধরা)
.
হনহন করে অধরা চলে গেল।কিন্তু,শেষে এটা কি বলে গেল।ও কি বুঝে ফেলেছে।কিন্তু বুঝলে এভাবে বলল কেন।মাথায় কিছুই ঢুকছেনা. . .
.
বাসায় চলে গেলাম।ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া করে দিলাম ঘুম।।কাল শুক্রবার।তাই সকালে তারাতারি উঠার চিন্তা নেই।
.
পরদিন সকাল ১০ টায় উঠলাম।।নাস্তা সেরে সত্যজিৎ কে ফোন দিলাম।
→খেলতে আয়।(আমি)
.
মাঠে, , , ,
→কিরে,,,অধরাকে কিছু বললি?তোর মনের কথাটা বলেছিস?(সত্যজিৎ)
→নারে দোস্ত।আমি তো এখনও ওর সামনে ঠিক মতো দাড়াতেই পারিনা।ঐদিনের ঘটনাটা তো তোরে বলছি।(জামগাছ তলার ঘটনা)
.
→তাহলে তো তোর কিছুই হবেনা।কয়েকদিন পর দেখবি,ঐ মেয়ে আরেক টা ছেলেকে নিয়ে তোর সামনে দিয়ে ঘুরবে,,আর তুই দেবদাস হয়ে পরে থাকবি।।হা হা হা হা।।(সত্যজিৎ)
→আমার এই অবস্থায় তুই হাসছিস?তুই বন্ধু নামের কলংঙ্ক. . .
.
এরপর ওর সাথে কিছুটা রাগ করেই ব্যাটিংয়ে চলে গেলাম।
আমি ব্যাটিং করছি এমন সময় একটা পিচ্চি বলল,ভাইয়া আপনাকে একজন ডাকছে।বলল,খুব জরুরী।ব্যাটিং এ বাধা দেওয়ায় দিলাম এক ধমক।ছেলেটা চলে গেল...
.
ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিলাম।ব্যাটিং খারাপ হওয়ায় ম্যাচটা হেরে গেলাম।তাই মন খারাপ।কেউ আমাকে ডাকছিল এটা ভুলে গেলাম...
.
পরদিন অফিস শেষে আবার অধরা কে ফলো করছি।কিন্তু একি,অধরা আমার দিকে এভাবে তেড়ে আসছে কেন।।।আমি যেই দৌড়াতে যাব,ওমনি পেছন থেকে আমার কলার টান দিয়ে ধরল।আমি আর দৌড়াতে পারলাম না।তারপর
বলল, , , , ,
.
→ঐ,কাল ডাকছিলাম আসিস নাই কেন।
→আপনি আমাকে কখন ডাকলেন।আর কোথায় আসব?
→কাল খেলার সময় আমার ভাইকে দিয়ে ডেকে পাঠালাম মনে নেই?আর তুই আমার ভাইকে ধমক দিলি কেন?
.
(বুঝতে পারলাম,,,কাল অধরা আমাকে ডেকেছিল।কিন্তু কেন?আর ওর সাথে তো আমার তেমন কথাই হয়নি।তাহলে ও আমাকে কেন ডেকে পাঠাবে।)
.
→ওহহ,,,হ্যা,, মনে পড়েছে।কিন্তু আপনি আমাকে তুই করে বলছেন কেন?
→একশবার বলব।হাজার বার বলব।আমার ভালবাসার মানুষটাকে আমি যা খুশি বলে ডাকব।
.
আমার মাথায় কিছুই ঢুকছেনা।ভালবাসার মানুষ মানে কি?তাহলে ও কি জেনে গেছে যে আমি ওকে ভালবাসি. . . .
.
এরপর দেখলাম সত্যজিৎ আসছে।সত্যজিৎ এর সাথে তাপস, প্রান্ত আছে।এরা এখানে কি করছে...
.
→কিরে,তুই ভাবিকে কষ্ট দিয়েছিস কেন?(সত্যজিৎ)
→না না অভি, ,এটা তোর থেকে আমরা আসা করিনি(তাপস)
.
প্রান্ত ওদের কথা শুনে হাসছে।আমি যেন হ্যাবলা হয়ে গেলাম।।।
→ঐ হ্যাবলা,,,কি ভাবছো?(অধরা)
অধরা আমার মনের কথা কিভাবে বুঝল।।।আর ও আমাকে তুমি করে
বলছে...
.
এবার অভি বলা শুরু করল।।
→আরে গাধা,,তোর ঐ মোটা মাথায় কিছু ঢুকবেনা জানি।শোন,,,তোর ঐ ভালবাসার কথাটা আমরা অধরাকে অনেক আগেই বলে দিয়েছি।আর ও নাকি তোকে ফলো করতে দেখেছে।আর ও বলেছে তোকে আগে বাজিয়ে দেখবে (সত্যজিৎ)
.
→আর তাই,, তোমাকে ঐ দিন বট তলায় একটু ভড়কে দিতে চেয়েছিলাম।একটা ইঙ্গিতও করেছিলাম।।কিন্তু তুমি যে এমন গাধা হবে তা বুঝতে পেরে ঐদিন আমার মনের কথা বলার জন্য তোমাকে ডেকেছিলাম।
তুমি আসলে না।তুমি খুব পচা (অধরা)
.
আভিমানি মুখটা একটু ঘুরিয়ে রাখল।।আমি পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছি।সত্যজিৎ আমার মাথায় চাটি মেরে বলল,,,,,,,
.
→আরে গাধা,তোকে আর কিছু বুঝতে হবেনা।যা এই ফুল গুলো নিয়ে ভাবিকে গিয়ে প্রোপোজ কর।।।তাইতো।।আমি আর কিছু না ভেবে ফুল গুলো নিয়ে ওর সামনে গেলাম।।।ওকে আমার দিকে ঘুরিয়ে বলা শুরু করলাম,,,,,,,,
.
→শোনো মেয়ে, তোমাকে বলছি,,, ভালবাসি।প্রথম দেখায় তোমার ঐ কাজল কালো চোখের প্রেমে পড়েছি। শোনো বেশি কিছু বলতে পারবো না।।শুধু এটুকুই বলব তোমার সাথে আমি সারাটি জিবন কাটাতে চাই।আমার মনের রানি বানাতে চাই।।তোমাকে আমার মনের রানি হতেই হবে।
.
→ঐ,,,এভাবে কেউ ধমক দিয়ে প্রোপোজ করে?(অধরা)
→না,, আসলে বুঝতে পারছিনা কি বলব।প্রথম বারতো তাই।
→হুমম।এটাই প্রথম এবং এটাই যেন শেষ বার হয়।।
আমিঃঠিক আছে মহারানি।।তবে শুরু হোক আমাদের পথ চলা...
.
এত কিছু হলো শুধুমাএ বন্ধুগুলোর জন্য। বন্ধুগুলো যদি আজ আমার পাশে ও সাহায্য না করত,,তাহলে হয়তো আমাদের কখনো ভালোবাসা হতো না. . .
.
শুরু হলো আরো একটি প্রেমের গল্প, , , ,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now