বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃবন্ধুহীন সুমন
লেখাঃমুহাম্মদ জোবায়ের ইসলাম (কাল্পনিক জুবাই)
.
---আরে,সুমন কিভাবে যাবে ?
--- তাই তো ! সবার জায়গা হলো, আর ওর টায় হচ্ছে না . . ?
--- ওকে না হয় মেয়েদের ভ্যানে দাও ?
---না,না।এটা করা যাবে না।ও এমনিতেই যা লাজুক,ওখানে একাই দেওয়া যাবে না।
--- ঠিক আছে।তাহলে . . . . ?
--- আচ্ছা,ওকে জুবাইর সাইকেলে দাও।ওরটাতে দুজন যাওয়া যাবে।
---আচ্ছা।ঠিক আছে।
---জুবাই,ওকে তোমার সাইকেলে নাও।
আমি আর সুমন দাঁড়িয়ে আছি স্কুল বারান্দায়।সুমনের কাঁধে ব্যাগ।হাতে পানির বোতল ।মাথা নিচু।
কথা বলছিল রাকিব ,মেহেদি আর সাজিদ।আমাদের ক্লাশে,খেলার মাঠে,সব জায়গায় রাকিব ,মেহেদিরা আমাদের নেতা।সবাই তাদের কথা শোনে।শুনতে বাধ্য।ক্যাপ্টেন,সহকারী ক্যাপ্টেন বলে কথা !
কথা হচ্ছিল পিকনিকে যাওয়ার আগে,কারা কিভাবে যাবে এই নিয়ে।
আমাদের স্কুলে প্রতিবছর ৮ম শ্রেণির সমাপনি পরীক্ষার্থীদের পিকনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।অন্যদেরমতো এ বছর আমরাও যাচ্ছি।এবারে পিকনিক স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে, আমাদের স্কুল থেকে মাত্র ৮-১০ কিলোমিটার দূরে, তিস্তা নদীর তীরে।আমাদের সাথে স্কুলের প্রায় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাও যাচ্ছেন।
আমাদের মেয়ে বন্ধুরা,স্যার-ম্যাডামরা অটো ভ্যানে আর আমরা ছেলেরা , সাইকেলে।স্যারেরা প্রথমে আমাদের সাইকেলে যেতে না দিলেও সবার অনুরোধ,একসাথে দলবেধে সাইকেলে করে যাওয়ার মজা,অল্প রাস্তা ইত্যাদি বিষয়ে রাকিবের নাতিদীর্ঘ বক্তব্যের পর স্যারেরা আমাদের সাইকেলেই যেতে দিচ্ছে।
রাকিবদের কথামতো সুমন আমার সাইকেলে উঠেছে।সুমনের পরিচয়টা একটু দিয়ে নিই।
সুমন আমাদের ক্লাশের সবচেয়ে লাজুক আর ভদ্র ছেলেদের একজন।কথা খুব কম বলে।হাসলেও শব্দ হয় না,যদিও ও হাসে কম !ওর মনটা এতোই সু ,যে তাতে কোনো কু নাই !রোল এগারো হলেও সে ক্লাশে সবচেয়ে পেছনের বেঞ্চগুলোতে বসে।সব সময় চুপচাপ থাতে।অন্যদের মতো হৈ হুল্লোড়ে ওকে দেখা যায় না।কারো সাথে ওর ভালো বন্ধুত্ব নেই।কেউ অর বন্ধু হতে চায় না।কারণটা যে কি,ও নাকি নিজেও জানে না ! মাঝে মাঝে আমিই একটু খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করি।তাও আবার বেশিরভাগ দিনে খেয়াল থাকে না।
টিফিনের সময়,সবাই যখন টিফিন খেয়ে খেলাধুলা করে,হৈ হুল্লোড় করে আড্ডা দেয়,ও তখন ষষ্ঠ পিরিয়ডে সোহেল স্যারের ব্যাকরণ পড়া রিভিশন দেয়।কোনোদিন বা চুপচাপ হুমায়ুন আহমেদের বই পড়ে . . . .।
আজকের আবহাওয়াটা খুব সুন্দর।হালকা রোদ,সাথে মৃদু বাতাস।সকালে বৃষ্টি হওয়ায় আকাশ ও পরিস্কার।পিকনিকের জন্য চমৎকার আবহাওয়ায় বলতে হয়।
তিস্তার ১৫-২০ মিটার দুরে গাছের নিচে রান্না বান্না চলছে।পাশেই কূলকূল শব্দে নদীর পানি , খেলে চলেছে।
হালকা নাস্তার পর সবাই আনন্দে মেতেছে।পাশের সদ্যতোলা ভুট্রা খেতে ,নতুন চাষ করা জমিতে ফুটবল,গোল্লাছুটখেলায় সবাই ব্যস্ত।সাথে স্যারেরা যোগ দেওয়ায় আমাদের আনন্দের মাত্রা তিনচারগুন বৃদ্ধি পেয়েছে !
এ সময় সুমন ?হাতে ক্যামেরা নিয়ে মাঠের বাইরে থেকে ছবি তুলছে।ওর দিকে কারো খেয়াল নেই।বল কুড়াতে গিয়ে আমিই মনে হয় এটা খেয়াল করলাম।ওর কাছে যেতেইক্র্যাশ্চ করে একটা ছবি নিল।আমি হাসলাম।
---জুবাই,একটা দাঁড়াবে ? (সুমন)
--- ক্যান ? বলো।(বল নিতে নিতে বললাম)
--- আমার একটা ছবি তুলবে ?
--- পরে তুলবে রে।আগে খেলি।(বলতে বলতে মাঠে এসে গেছি)
.
দুপুরের দিকে,খেলাধুলা শেষে,অনেকে আবদার করল,তিস্তার পানিতে গোসল করবে।দুই একজন না করলেও সবার কথার ভিড়ে তাদের আওয়াজ হারিয়ে গেল।রাকিব,মেহেদি স্যারদের ম্যানেজ করল।
.
যেখানে রান্না হচ্ছে সেখান থেকে আমরা প্রায় অনেক দূরেই এসেছি।পাশে অনেক বড় বালুর স্তূপ।মেশিন দিয়ে পাথর তোলা হচ্ছে,ট্রাক্টর দিয়ে সেগুলো আবার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
নদীর সাথে লাগানো একটা পুকুরের মতো অংশ।যেখানে স্রোত ছিল না,সেখানে সবাই গোসল করতেছি।হঠাৎ সুমনকে দেখে অবাক হয়ে গেলাম।ও গোসল করতে নেমেছে ?হা হা হা।প্যান্ট টি-শার্ট পরেই পানিতে নেমেছে,পাছে কেউ ওর খোলা গা দেখে ফেলে ?
এতো ভাবার সময় নাই।সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত।তারপর ও কি করছিল,কোথায় ছিল তা খেয়াল করার কেউই ছিল না . . .
গোসল শেষে,খাওয়ার আগে স্যার দেখলেন সবাই আছে।সুমনের ব্যাগ,পানির বোতল,ক্যামেরা সব আছে,শুধু ওই নেই।কই গেল ? একাই কোথাও যাওয়ার ছেলে তো সুমন না,তাহলে . . . . ?
.
খাওয়া রেখে খোঁজাখুজি শুরু করছি।সবাই,সবখানে।কিন্তু কোথাও নেই।মুহূর্তেই আমাদের আনন্দ যেন মাটির সাথে মিশে গেল।খাবার নষ্ট হতে থাকল।টেনশনে হার্টবিট বাড়তে লাগল।
ওর ব্যাগ,ক্যামেরা আমার কাছে।ব্যাগে এক্সট্রা কাপড় দেখে বুঝলাম,গোসল করার পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই তাহলে এসেছে।ক্যামেরায়প্রায় সবার ছবি।আমার ছবি,সোহেল স্যারের ছবি একটু বেশি।কিন্তু ওর কোনো ছবি নেই।কে তুলবে ওর ছবি ?ওহহহ ! ওর যে ছবি তুলে দিতে চেয়েছিলাম ? খেয়াল ছিল না রে !
অবশেষে সন্ধ্যার একটু আগে ওকে খুঁজে পাওয়া গেল।আমরা পাইনি।খুঁজে পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর ডুবুরিরা।
সে তার স্বভাবসুলভ,ভদ্রশান্তভাবে এককোণে একা একাই গোসল করতে করতে চলে গিয়েছে অনন্তের ঠিকানায়।যেখানে তার বন্ধুর অভাব নেই।খেলার সাথির অভাব নেই ।অভাব নেই তার সব কথা শোনার মতো মানুষের।
শুধু আমাদের জন্য রেখে গেছে সেই লাজুক,শব্দহীন ,পবিত্র হাসি . . . . .
.
.
(বাস্তব ঘটনার ছায়া অবলম্বনে)
গল্পঃবন্ধুহীন সুমন
লেখাঃ Muhammd Zobayer Islam
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now