বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বন্ধু তোমার,বন্ধু আমি
-শিহাব হোসেন
দিনটি ছিল বুধবার । দুপুরে পড়তে যাওয়ার সময় আকাশটায় এক পলক চোখ বুলিয়ে নিলাম । আকাশটার দিকে তাকাতেই বুঝে গেলাম আজ আকাশটাও আমার সাথে রাগ করেছে । এই বুঝি রাগের সমাপ্তি হিসেবে আমার বুকে চুপটি করে মাথা রেখে অশ্রু ঝড়াবে ।
বড়বেশি রেগে গেলে ও আকাশটা আমার সাথে এমনি করে । খুব আদর চায় । মনে হয় পূর্ব জন্মে যেন আমিও ছিলাম ঐ বিশাল আকাশটা । ও আর আমি এক সাথে থাকতাম আর এজন্মে ওকে একা করে আল্লাহ যেন আমাকে পাঠিয়েছে পৃথিবীতে ।
আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখার পর থেকেই একটি পরিচিত রিংটনের অপেক্ষায় মনটা অস্থির হয়ে উঠছিল । ক্ষণে ক্ষণে পকেটে হাত দিয়ে দেখছিলাম কোন ভাইব্রেশন আমার আত্নাকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল কিনা । কোন বজ্রকন্ঠ আমাকে ডাকছে কিনা ।
কল্পনার খাতায় রঙিন রঙতুলির আঁচড়ে আমার ভাবনা গুলো যেন প্রাণ হয়ে ফুটে উঠছিল ।
-হ্যালো
-হ্যাঁ , পুগি বল
-কৈ তুই ?
-পড়ে বের হলাম রে,তুই কৈ?
-কলেজে
-কি করিস রে?পড়া আছে?
-না,আচ্ছা মুগি তুই কলেজে আসতে পারবি ?
-ওয়েট কর ডার্লিং আসতেছি..
ফোনটা রেখেই উর্দ্ধশ্বাসে আমার লাল সাইকেলটা নিয়ে ছুটলাম ।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল তখনও । আর এমন দিনে ছোট্ট একটা পাগলামি পোকা মাথায় ঢুকল ।সোজা ফুলের দোকানে গেলাম । ইচ্ছে ছিল হাত ভর্তি ফুল তোর হাতে তুলে দিতে কিন্তু পকেটে হাত দিতেই দেখি ১১টাকা আছে ।
তাই বোকা বাবু সেজে ১০টাকা দিয়ে একটা লাল গোলাপ কিনলাম আর নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম যে..
যাকে ভালবাসা যায় তাকে হাত ভর্তি ফুলের চেয়ে একটি ফুলে আরো বেশি ভালবাসা যায় ।
আমি বুঝিনা আমি এমন কেন ! কেউ যদি ভালবেসে খুব আপন করে নেয় , মনে হয় সেই আমার পৃথিবী । যে পৃথিবীতে থাকে শুধু দুইটি মানুষ । আর থাকে বিশাশ এক আকাশ , যার বুক জুড়ে কোটি কোটি তারা , আর থাকে আমার খুব প্রিয় পূর্ণ অথবা আধঃফালি লক্ষি একটা চাঁদ । যে কিনা নিঃশ্বার্থ ভাবে বিলিয়ে দেয় জোছনা যা আমাদের শরীর জুড়ে থাকে ঐ প্রকৃতির মত । শীতল একটা বাতাসের উপস্থিতি অনুভব করি , তা বুঝি কেবল সেই মানুষটার জন্যই বুঝতে পারি ।
মাতাল হাওয়াটা যেন শরীরে রক্তকে হিম করে দেয় আর সাথে সাথে নিদির্ষ্ট নিয়ম অনুসারি সেই ঘড়িটাকেও ।
কলেজে ঢুকতেই চোখ জোড়া যেন বড় তৃষ্ণার্থ হয়ে উঠল , চিরচেনা সেই মুখটার খোঁজে ।
খুঁজতে খুঁজতে কলেজের পেছনে বিশাল দিঘিটার সামনে চোখ আটকে গেল ।
এই তো... এই তো সেই প্রিয় মুখ আর প্রিয় মানুষটা ।
-কিরে পুগি তুই এখানে !
-এতক্ষন লাগে,চল আজ হাঁটবো
-আচ্ছা চল , কোন দিক যাবি? রেললাইনের ঐ দিকে নাকি কলেজের পেছনের রাস্তায় ?
-তুই বল রে মুগি
-আচ্ছা চল কলেজের পেছনের রাস্তায় যাই , না থাক চল রেললাইনের ঐ দিকে যাই
-শালার হাবলা মশা ! এতবড় হয়েছিস তাও ডিসিশন নিতে পারিসনা ।
বৃষ্টি হলে ভয়ংকর রুপে বাহির আমাদের টানে । প্রতি মূহুর্তে যেন পরাধীন এ মনটা ছুটে চলে ভেজা রাজপথ তার অলিএ গলিতে ।
আমরা অনেকটা পথ হাটলাম আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ভিজলাম । ফুলটা যে ওকে কথন দেব বুঝতে পারছিনা । ভাবতে ভাবতে সরকারি গন্থগারের সামনে সাইকেলটা দার করালাম আর ব্যাগ থেকে লাল গোলাপ বের করে বললাম..
-আমি তোকে অনেক ভালবাসি রে পুগি , এটা তোর জন্য ।
আমার এই ছোট্ট উপহারটা দেখে তোর মনে ও মুখে যে ভালবাসার পবিত্র একটা ছাপ ভেসে উঠেছিল তা আমার মনের মণিকোঠায় আজো গাঁথা আছে । আমার তৃষ্ণার্থ ভালবাসার প্রথম তৃষ্ণা মিটালি তুই , খুব আবেগে খুব শক্ত করে আমায় তোর বুক ছোঁয়ালি । তোর শ্বাস-প্রশ্বাস আমার কাঁধে পড়ছে আর আমারটা তোর ।
আজ তুই মোহাম্মদপুরের উচু এক দালানে খাকিস । যার প্রতিটাই কৃত্রিম । কংক্রিটের দালান গুলাতে থাকতে থাকতে তুইও কংক্রিট হয়ে গেছিস । জানিস সে দিনের সেই মূহুর্ত গুলো আজও জল ছিটিয়ে সতেজ আর প্রাণময় করে রাখি । অজানা এক অভিমান তোকে জাপটে ধরেছে । তোর বজ্র কন্ঠে কত দিন শুনিনা সেই কবিতাটা. . .
"এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে ।"
আজ খুব শোনাতে ইচ্ছে করছে তোকে আমার মনের কথা গুলো বলতে , আর সেই গানটা শোনাতে. . .
"বন্ধু আমার মন ভাল নেই
তোমার কি মন ভালো
বন্ধু তুমি একটু হেসো
একটু কথা বলো ।
বন্ধু আমার বুকের মাঝে
বিসর্জনের ব্যাথা
বন্ধু তুমি অমন করে
যেওনা আর একা ।"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now