বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বন্ধু শব্দটিতে যেন কতোনা মায়া জড়ানো। জীবনের সব ক্ষেত্রে এরা যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জীবনের সেই প্রথম খেলার সাথী পরবতীতে বন্ধু উপাধি লাভ করে। এরপর স্কুলে চলে নানারকম বন্ধুদের আগমন। তাদের ছোঁয়ায় জীবন পূণতা লাভ করে। কিন্তু মাধ্যমিকে তারা যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মনে হয় হ্রদয়ের একটা অংশ যেন হারিয়ে যাচ্ছে। এরপর মাধ্যমিকে আবার নতুন বন্ধু হয় আবার হারিয়ে যায়। জীবন কত নিষ্ঠুর !!!! এমন কেন হয়??? একটা সময় সবাইকে ভুলে যেতে হয়। যখন মানুষ বৃদ্ধ হয় তখন তার চোখ শুধু একটা জিনিস খোঁজে.................."বন্ধু"...... আমার জীবনে এমনি একটা অংশ জুড়ে আছে আমার জিজে ফ্রেন্ডস। আমরা সবাই এখানে অনেক মজা করি। ঝগড়া,অভিমান,খুনসুটি,কেয়ারিং এইসব নিয়েই আমাদের দিন কাটে। কিন্তু মাঝখানে যখন জিজেতে ঢুকতে পারছিলাম না.....এদের সাথে কথা বলতে পারছিলাম না মনে হচ্ছিল কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছি। জীবনের কোন এক অংশ। বেঁচে থেকেও যেন বেঁচে ছিলাম না। সব্বাইকে অনেক মিস করছি। মনের ভিতর একটা অজানা ভয় কাজ করতো। যদি তাদের হারিয়ে ফেলি। অন্য সবার মত যদি.............না বলাই ভালো। সকলের কাছে একটাই রিকুয়েস্ট প্লিজ অন্য সবার মত তোমরা কোথাও হারিয়ে যেও না।আর হ্যাঁ,আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা আমি জানি যে আমি একটু বেশিই বকবক করি। কিন্ত তোমাদের কাছে আমার এই বকবক শোনা আর কোন উপায় নাই। কারন এই সাকচুন্নি তোমাদের ঘাড় থেকে সহজে নামবে না।
(এটা আমার নিজস্ব অনুভূতি। তাই ভুল ত্রুটি মাজনীয়)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now
X
"ইভান তোর সাথে পরিচয় ২০১৪ সালে
হয়তো আগস্ট মাসের শেষের দিকে
কোচিং,তারিখ ঠিক আমার মনে নেই।
আমাদের গ্রামের বাড়ি একই বিভাগে।
যদিও আমার বাসা থেকে তোর বাসা
অনেক দূরে"।
"আমাদের বন্ধুত্ত ছিলো টম ও জেরির
মতো।আমরা কিছুক্ষন পর পর মারামারি
করতাম।সাধারন মারামারি যা বন্ধুদের
মধ্যে হয়ে থাকে।আর সব সময় তো জগড়া
থাকতো আমাদের।আমার মনে আমরা
যদি জগড়া আর মারামারি না করতাম
তাহলে আমাদের ভালো থাকতে
পারতাম না"।
"আমরা যখন হাটতাম বিশেষ করে তুই
আর আমি এক জন অন্য জনকে মারতাম।
তুই পারলে কখনো আমার সামনে হাটতি
না।আমার সামনে আসলেই তোকে মারতাম।
তুইও কম না আমাকেও মারতি"।
"তুইও আমাকে সাপোর্ট দিতে সব কিছু
নিয়ে আমিও তোকে সাপোর্ট দিতাম
ভালো কিছু করার জন্য।আমার না
কখনো মনে পড়ে না তুই কারো ক্ষতি
করেছিলি।সব সময় পারলে মানুষদের
সাহায্য করতি।আমার খারাপ সময়
তুই আমার পাশে ছিলি"।
"২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল তোর জন্মদিনের
এই দিনটি তোর সারাজীবন মনে থাকবে।
সত্যি কি তোর মনে আছে?আমার কিন্তু
মনে আছে আর থাকবে।কারন আমি তোর
মাথাই প্রথম ডিম ভাঙ্গি।সেই দিন অনেক
মজা করেছিলাম।আমার জন্মদিনেও
অনেক মজা করেছিলাম।আগে যদি
জানতাম এই প্রথম আর এই শেষ
তাহলে তোর এই জন্মদিন সেরা
জন্মদিন করতাম।কিন্তু তা আর
করতে পারলাম না"।
"কিন্তু ২০১৫ সালের ১৬ অক্টোবর
শুক্রবার দুপর ১২.৩০ জুমার নামায
পড়ার জন্য বাড়ির মসজিদের পুকুরে
গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে
মারা যাস।সেই দিনের পর থেকে
আর তোকে ফিরে পেলাম।জানি
আর কখনো ফিরে পাবো না"।
"তুই এক বারও বললি না যে তুই সাঁতার
পারিস না।তাহলে তোকে মেরেও হলে
সাঁতার শিখাইতাম।একটা বার ফিরে
আসবি,একটা বার আবার তোর সাথে
জগড়া আর মারামারি করতাম।একটা
বার আসবি তোকে জড়িয়ে ধরতাম"।
"তোর সাথে অনেক সময় খারাপ ব্যবহার
করেছি এর জন্য মাফ চাচ্ছি আমাকে
মাফ করে দিস।তোর প্রতি আমার কোন
রাগ নেই।তবে অভিমান আছে যাবি যখন
তখন একা কেনো যাবি আমাকেও কেনো
এইভাবে রেখি গেলি"।
"তুই জানোছ তুই যে মারা গেছোস আমি
বিশ্বাস করতে পারিনি।এমন কি সেই দিন
সারা রাত আমি একটুও ঘুমাইতে পারি নাই।
চোখ বন্ধ করলে শুধু তোকে দেখি।কিছুতেই
আমি ঘুমাইতে পারি নাই"।
"জানোছ এখনো আমরা যেখানে আড্ডা
দিতাম সেখানে যখন যাই মনে হয় পাশে
তুই।এমন কি মাঝে মাঝে মনে হইছে তুই
ঠিক আমাদের পাশে আছিস।ভালোবাসিরে
তোকে অনেক।বেঁচে থাকতে তো বলতে
পারি নাই তাই এখন বলছি ইভান বন্ধু
তোকে অনেক ভালবাসি।পারলে একটা
বার ফিরে আয় একটা বার ফিরে আয়।
আমার না লেখতে অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই
আর কিছু লিখলাম না তোকে নিয়ে।দোয়া
করি তোর জন্য।আমিও এক দিন আসব
তখন তোকে বুঝাবো একা রেখে গেছিলি
না তখন বুঝবি"।
"এইটা আসলে গল্প না আমার এক বন্ধুর
নিয়ে লিখলাম অক্টোবর মাসের ১৬
তারিখ আমার বন্ধুর ২য় মৃত্যু বার্ষিকী।
সবাই দোয়া করবেন আমার বন্ধুর
জন্য"।