বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
,
মনোবিজ্ঞান
ক্লাসের জন্য তিনতলা উঠছি আমি আর বাপ্পি...!
কিছু উপরে যেতেই বাপ্পি বলল, দেখ ইমি মেয়েটা
কিভাবে উপরে উঠছে.?
-------পাদুকার শব্দে খুব বিরক্তি
লাগছিলো, উপরে ওঠার একটা সিষ্টেম
আছেতো.?
.
আমি: মেয়েটিকে বললাম,,
---এই যে শুনুন.!
(অতঃপর ঘুরে তাকালো. দেখতে তো অনেক
সুন্দর! কিন্ত তার মতই অসুন্দর চলাফেরা)
-জ্বী আমি.?
-- হ্যা আপনি.!
-- ওকে বলুন.,
-- এভাবে আপনাকে কে হাটতে শিখিয়েছে.?
---কেন.?
--কোন শিক্ষিত মানুষ এভাবে উপরে ওঠে না,!
যত্যসব।।
'"মেয়েটিকে দেখে খুব রাগান্নিত মনে
হচ্ছিলো"",!
তাই কথা না বাড়িয়ে ওখান চলে আসলাম.,!
.
এদিকে রাগে আমার মাথা ঠিক নাই, সে অন্যরকম এক
অবস্থা.!
--উপরে উঠবে ভদ্র ভাবে পা উচু করে
হাটবে তানা মনে হচ্ছে গায়ে শক্তি নেই,,
ফ্লোরের সাথে পাদুকা ঘসতে ঘসতে হাটছে..,
কোন রকমে নিজেকে কন্ট্রল করে ক্লাসে
গেলাম...
.
ক্লাস শেষ ক্যান্টিনে আড্ডা দিয়ে বাসায়
গেলাম.!
বাসায় গিয়ে ভাবতে লাগলাম আসলে মেয়েটিকে
অনেক বেশিই বলে ফেলেছি.,
কেন যে এত
কিছু বলতে গেলাম.?
ধ্যাত নিজের মনটাকে কোন
ভাবে শান্ত করতে পারছিনা..!
.
সবকিছুর মাধ্যেই মনে
হচ্ছে আজ বড় অন্যায় করে ফেলেছি..!
-ব্যাপার না কাল দেখা হলে সরি বলে
দিবো,!
.
-----পরের দিন মেয়েটাকে খুজতে গিয়ে আমিতো
হয়রান., তারপরো আমি মেয়েটার নাম জানিনা..!
প্রতিদিনই মেয়েটাকে খুজি কিন্ত পাই না..,
.
কয়েকদিন পর দরকারি একটা বইয়ের জন্য
লাইব্রেরীতে যাচ্ছি হঠাত চোখে কি যেন
পড়লো.?
কেমন জ্বালাপোড়া করছিলো..,
.
তখনি মেয়েটির সাথে দেখা । আমাকে অবাক করে সে
একটু এগিয়ে এসে, ব্যাগ থেকে রুমালটা বের
করে চোখে লাগিয়ে
পরিস্কার করতে লাগলো.,
.
মেয়েটির নিউরোন জাগানো রুমালের গন্ধ নাকে
এসে পড়তেই মনে হলো আমার মাথার চুলগুলোই
সব খাড়া হয়ে গেছে.!
এক চোখে মেয়েটিকে দেখতে পাচ্ছিলাম..,
.
মেঘ কালো চুল, জোড়া দুটি ভ্রু কাজল কালো
চোখ.., যেন সৃষ্টি কর্তা সবকিছু সঙ্গে দিয়েই
পৃথিবীতে পাঠিয়েছে..!
এগুলো ভাবতে ভাবতে মেয়েটি আমার থেকে
অনেক দুরে চলে গেছে...
.
মেয়েটিকে যতটা
খারাপ ভেবেছিলাম আসলে তেমন না..! পেছন
থেকে ডাক দিলাম, পেছন ফিরে তাকাতেই বুকের,
মাঝে অন্য রকমের এক শিহরন বয়ে গেল,,!
.
-- এই যে আপনি এদিকে আসুন.!(আমি)
---জ্বী বলুন.(মেয়েটি)
--- আপনাকে কত খুজেছি জানেন.?
--হ্যা জানি, কিন্ত কেন.?
---- আসলে সেদিনের ব্যাবহারের জন্য আমি সরি.!
আমি এমনভাবে বলতে চাইনি,,!
.
---ওকে,,! তবে আপনাকে ধন্যবাদ ।
---কেন.?
---সেদিনের পর থেকে ভালোভাবে হাটতে
শিখেছি.!হাহাহাহা........
মেয়েটির হাসি দেখে বুকের মাঝে মোচড়
দিয়ে উঠলো.!
.
-- এত সুন্দর ভাবে কাউকে কখনো
হাসতে দেখিনি.!
-ওহ্ ঠিক আছে.! আচ্ছা আপনার নামটা জানা হয়নি।
-- আমি তমা.!
আমতলী র এই কলেজে টিসি নিয়ে নতুন এসেছি
মনোবিজ্ঞান বিভাগে..!আপনি.?
--আমি ইমি।
আমি ও মনোবিজ্ঞান বিভাগেরই ছাত্র..!
এভাবেই কথা বলতে বলতে দুজন লাইব্রেরীতে
গেলাম...
কিছু দিনেই আমরা বেশ পরিচিত হয়ে গেলাম..!
.
--আপনি থেকে তুমি বলে কথা শুরু হয়.. তারপর মনের
অজান্তেই কখন যে মেয়েটিকে ভালোবেসে
ফেলেছি কিছুই বুঝতে পারিনি,!
একটু ভয়ে তাকে বলতে পরিনি যদি তমা আমাকে ভুল
বোঝে,!
.
--ক্লাস শেষে দুজন রাস্তার পাশ দিয়ে
হাটছি..! আনমনেই আমার পাদুকা রাস্তার সাথে
ছেসড়ে যাচ্ছে.,
তমার দিকে তাকিয়ে বুঝতে
পারলাম সে মনে মনে হাসছে..!
.
--তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে হাটতে থাকলাম..
--কোন কথা নেই দুজনের. মাঝে মাঝে একজনার
হাত অন্য জনের হাতের সাথে লাগে
যাচ্ছে.,,
দুজনেরই এক অজানা ভালোলাগা
লুকিয়ে আছে.,
.
বারবার হাতটা খালি ফিরে আসলেও পরেরবার হাতটা খালি
এলোনা., তমার হাতটা আমার হাতের সাথে ধরে
আছে..!
সে ছোট্ট গলায় বলল,,
.
--এভাবে কী সবসময় পাশে থাকবে.?
আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছিনা.. মনের মাঝে
আনন্দের ঝড় বইছে।
আমি তাকে বললাম কক্ষনো ছেড়ে যাবোনা
তোমায়,,!
.
এভাবেই তোমার হাতটি ধরে জীবনের যত রাস্তা
আছে সব গুলি পাড়ি দিবো..,
জীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now