বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"""ব্ল্যাকমেইল"""
•
- I love u. ফারাহ! আমি তোমাকে
ভালবাসি।খুব ভালবাসি
- আমি আপনাকে ঘৃণা করি।খুব ঘৃণা করি।আমার সামনে
থেকে এখন যান তো দেখি।আর বিয়ের আগে
ভালবাসা ঠিক না।
.
- ফারাহ! আমার ভালবাসা তুমি বুঝলে না? যেদিন
অন্যের হয়ে যাব সেদিন ভালবাসা কাকে বলে
টের পাবা।যদি এখন ভাল নায়েই বাস তাহলে বিয়ে
করে ফেলি চল!
.
- আপনার জন্য একটু অনুভূতি ও আসবে না।আর
বিয়ে! আপনাকে? প্রশ্নই আসে না।
কথাটা বলেই ফারাহ হাঁটতে থাকে।
.
- যেয়ো না ফারাহ যেয়ো না, একবার ভালবাসি বল
না!
- আমার ভালবাসা কেউ পাবে না।বুঝলেন?
এখন পথ ছাড়েন বলেই আবার হাঁটতে থাকে।
.
- ফারাহ আমাকে একটুও বুঝলে না!
- হ্যাঁ বুঝছি তো!
- ফরাহ!
- মুখ ভ্যাংচি।
তাওহীদ চুপচাপ জায়গাটাতে বসেই থাকে।আর ফারাহ
চলে যেতে থাকে ও মনে মনে বলতে
থাকে আমাকে ক্ষমা কর তোমাকে এভাবে
বলে কষ্ট দিতে চাইনি।কিন্তু এছাড়া আমার কিছু করার
ছিল না।তুমি কেন বুঝ না? তোমাকে আমি কষ্ট
দিতে পারি না।
•
এই হল তাওহীদ। তার আপন বলতে আছে
একমাত্র দাদী।তাওহীদের ভাই-বোন ও কেউ
নেই।কারণ সেই ছিল প্রথম সন্তান।তার মা তাকে
জন্ম দেওয়ার সময় মৃত্যু বরণ করে।সে ছোট
থাকতেই তার বাবা ও মরণ ব্যাধী ক্যানসারে মৃত্যু
বরণ করে।আর তার দাদা! তার জন্মের আগেই ঐ
নীল আকাশে চলে যায়।
একমাত্র দাদীই ছিল তার সঙ্গী।তার দাদীই তাকে
ধীরে ধীরে বড় করে।সে ছিল চঞ্চল
প্রকৃতির ছেলে।আবার খুব রাগী ও অভিমানী
ছিল।সারা দিন-রাত দাদীকে ঘিরেই তার রাগ-অভিমান,
দুষ্টামি ও ভালবাসা চলতো।দাদী ও সবাইকে হারিয়ে
তাকে ঘিরে বেঁচে থাকে ও তাকে ঘিরেই
চলতো।তাওহীদরা অনেক বড়লোক ছিল।তাই
তাদের চলতে সমস্যা হতো না।তাওহীদ বড়
হওয়ার পর তাদের অফিস ও সম্পত্তি এখন সেই
দেখাশুনা করে যাচ্ছে।
•
আর এই হল ফারাহ।তার আপন বলতে বাবা-মা ও একটা
আদরের ছোট ভাই।সে একটু ঠান্ডা প্রকৃতির। এবং
তার রাগ ও অভিমান টা একটু বেশী।কিন্তু তার
ভায়ের জন্য সে চুপচাপ থাকতে পারতো না।
সারাক্ষণেই তাকে জ্বালিয়ে মারতো।তাই তার
ভায়ের সাথে ঝগড়া-ঝাটি ও রাগ-অভিমান টা একটু
বেশীই হয়ে যেত।
কিন্তু তার ভায়ের জন্যই আবার রাগ-অভিমান করে
বেশীক্ষণ থাকতে পারতো না ভাঙ্গীয়ে
ফেলতো।ফারাহ পড়া-শুনা শেষ করে, এখন
স্কুলে চাকরি ও করছে।
•
তাওহীদের সাথে ফারাহর প্রথম দেখা ও পরিচয়
পার্কে হয়।একদিন ফারাহ পার্কের পাশে যে পুকুর
আছে ঐ পুকুরে ঢিল ছুড়তে থাকে।ফারাহর মন
খারাপ থাকলেই এই পুকুরে এসে ঢিল ছুড়ে।
এমন সময় তাওহীদ ও তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে
সে ও ঢিল ছুড়তে থাকে।কিছুক্ষণ পর ফারাহ এই
বিষয়টা লক্ষ করে।এমনেতেই শরীরে রাগ তার
উপর আরেকটা ছেলে তার দেখাদেখি ঢিল
ছুড়তেছে।
এটা দেখে তার শরীর-টা আরও রাগে ফেঁটে
যায়।তারপর সেই তাওহীদকে বলে
•
- আপনি আমার দেখাদেখি এভাবে ঢিল ছুড়ছেন
কেন?
- আমি! আপনাকে কে বলল? হঠাৎ আমার মন
চেয়েছে তাই এখানে এসেছি।আর এসে দেখি
আপনি ও
- মিথ্যা কথা বলার মানুষ পান না?
- আপনাকে কে বলল আমি মিথ্যা কথা বলেছি?
আমি তো সত্য কথাই বলেছি।
- হইছে আর সত্য কথা বলতে হবে না।
- কিহ! তাহলে কি আমি মিথ্যা কথা বলেছি?
- চোরের মার বড় গলা এটাকেই বলে।
- এটা কি বললেন?
- আমি প্রায়েই এখানে আসি কিন্তু কোনদিন তো
আপনাকে দেখেনি!
- আমি ও আসি হয়ত আপনি যে সময়ে আসেন
সে সময়ে আসা হয়নি।তাই দেখাও হয়নি।
- ও আচ্ছা!
- হুম
- ভুল হয়ে গেছে সরি!
- ঠিক আছে কিছু মনে করেনি।
- তা আপনার নাম কি? আর কি করেন?
- আমি তাওহীদ।বাপ দাদার একটা অফিস আছে ও কিছু
সম্পত্তি আছে এই গুলোই দেখাশুনা করি আর
ঘুরাফেরা করি। আর আপনি?
তাওহীদের এমন কথা শুনে ফারাহ না হেসে পারল
না।তারপর বলে
- আমি ফারাহ ইসলাম।আর একটা স্কুলে চাকরি করি।
- ও
- আজ তাহলে আসি
বলেই ফারাহ হাঁটতে থাকে।
- ওকে।আরেকদিন দেখা হবে।
•
তাওহীদ ফারাহর কাছে মিথ্যা কথা বলে।মিথ্যা কথা
বলার কারণ ও আছে।কিন্তু তার পরিচয়টা মিথ্যা
বলেনি; পার্কে যে আসে সেটা মিথ্যা
বলেছে।সে কখনো পার্কে সময় কাটাতে
আসে না।কিন্তু আজ ফারাহকে ফলো করে
পার্কে আসে এবং এই একটা সুযোগে পরিচয়
পর্বটা শেষ করে।
ফারাহর সাথে পরিচয় হওয়ার কারণ তার বাবা।ফারাহর বাবাই
বলেছিল তার সাথে পরিচয় হতে।এবং তাকে
ধীরে ধীরে তার ভালবাসার জ্বালে ফেলাতে।
তাওহীদ সেই কাজ করতেই এখানে আসে।
•
একদিন তাওহীদ রাস্তা দিয়ে বাসায় ফিরছিল।তখন হঠাৎ
তার সামনে ফারাহর বাবা(পরে জানতে পারে) মাথা
ঘুরান দিয়ে পরে যায়।তারপর তাওহীদ উনাকে
হাসপাতালে নিয়ে যায়।ফারাহর বাবা সুস্থ হওয়ার পর তার
সাথে পরিচয় হয়।তাওহীদের আচার-ব্যবহার ও মন
মানুসিকতা দেখে উনার অনেক ভাল লাগে। এই
কথাটা উনি তাওহীদকে বলে।তারপর তাওহীদকে
জিজ্ঞাসা করে তাওহীদের বিয়ে হয়েছে কি না।
কথাটা শুনে তাওহীদ অনেক লজ্জা পায়।তাওহীদ
বলে এখনো সে বিয়ে করেনি।
তারপর তাকে যে কথাটা বলে তাতে সে
কিছুক্ষণের জন্য স্বদ্ধ হয়ে যায়। মনে মনে
বলে করলাম উপকার।এখন উপকারের ফল হিসেবে
আমাকেই উনার মেয়েকে বিয়ে করতে হবে?
তাওহীদ কি বলবে কি করবে বুঝতে পারছে না।
তখন সে বলে তার দাদী আছে দাদীর সাথে
বুঝে তারপর জানাবে।
•
কিন্তু উনি কিছুতেই মানতে রাজী না।তাকে কথা
দিতেই হবে।তখন মনে মনে তাওহীদ বলে,
আমাকে কি ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে!
ব্ল্যাকমেইল করা ছাড়া এমন তো করার কথা না।
ফারাহর বাবা বলে আমার মেয়েটা সব দিক দিয়েই
অনেক ভাল।কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভাল
ছেলে পাইনি; তাই তোলে দেওয়াও হয়নি। আর
আমার মেয়েটা না ছেলেদেরকে বিশ্বাস করে
না, প্রতারক ভাবে।
তুমি পারবে না বাবা তার এই ভুল ধারণাটা ভেংগে
দিতে? তুমি প্রথমে তার মন জয় করবে তারপর
তোমাদের বিয়ে দেওয়া হবে।কথা দাও আমার
মেয়েকে বিয়ে করবে! আমি তোমার
দাদীকে ম্যানেজ করে নিব এই বিষয়ে তোমার
ভাবতে হবে না।
তাওহীদ কোনো কথা বলে না দেখে এক
প্রকার তার পায়ে পরে যাওয়ার মত অবস্থা করে
ফেলে তখন তাওহীদ আর না করতে পারেনি।
(মনে মনে তার শশুর আব্বাহ এই বুড়ো বয়েসে
লঙ্গী ড্যান্স দিতে থাকে।কারণ টা পরে
বলতেছি)
•
ঐ-দিন এর পর থেকে শুরু হয় ফলো করা।তারপর
সুযোগ বুঝে পরিচয় হয়।তারপর আরও অনেক দিন
চলে যায়।এর মাঝে কয়েকবার দেখা হয় ও টুকটাক
কথাও হয়।তারপর আজ তাকে ভালবাসার কথা বলে ও
বিয়ে করার কথাও বলে।কিন্তু ফারাহ তাকে না করে।
.
ফারাহ না করাতে তাওহীদ দুঃখ পায়।এখন সে ঠিকমত
ঘুমাতে পারে না, ঠিকমত খেতে পারেনা, ঠিকমত
অফিসেও যায় না।ঠিকমত কোন কিছুই করতে পারে
না।কিরকম যেন হয়ে গেছে।
এতদিন ফারাহকে ফলো করতে করতে কখন যে
মনের অজান্তেই তাকে ভালবেসে ফেলেছে
বুঝতেই পারেনি।ফারাহর ঐ কাজল কালো
চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে তার অনেক ভাল
লাগে।হাজার দুঃখ-কষ্ট এর মাঝে থাকলেও তার হাসিটা
দেখলে সে সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে যেতো।
ফারাহর দিকে তাকিয়ে থাকলে তার তাকিয়ে থাকতেই
মন চায়তো।
.
ফারাহর কথাটা মনে হলেই বুকের মাঝে একটা ব্যথা
অনুভব করে।মনে মনে বলে ফারাহ তুমি আমার
সাথে এমন ব্যবহার করতে পারলে? কিন্তু ফারাহ
কেন এমন করল বুঝতে পারছে না।
তাওহীদের এই পরিবর্তন টা তার দাদীর চোখে
পড়ে।তার দাদী জানতে চায়লে দাদীকে বলে
দাদী ভাই শুনবে তোমার এই দাদু ভায়ের একটা
কাহিনী! তারপর বলা আরম্ব করে
•
- দাদী ভাই! দাদী ভাই!
- বল ভাই! বল ভাই!
কথার এই ধরণটা তাদের অভ্যাস ছিল।যখন বিশেষ
কিছু বলতো তখন এভাবে বলতো
- দাদী ভাই আমার না একটা মেয়েকে খুব ভাল
লেগেছে।কিন্তু মেয়েটা বোঝে না আমাকে।
দাদী ভাই! একটা উপায় বলে দাও না কিভাবে
মেয়েটাকে রাজী করাতে পারি!(দাদীকে এই
কথা বলার কারণ দাদীর সাথে সে খুব ফ্রি)
- দাদু ভাই আমাকে কেন আগে বললে না?
- ভেবেছিলাম মেয়েটাকে নিয়ে এসে
তোমাকে সারপ্রাইজ দিব কিন্তু তা তো আর পারলাম
না।রাগ করে না লক্ষী সোনা!
- আচ্ছা আর পাম দিতে হবে না।আমি রাগ করিনি।
- তাহলে কিছু একটা বল?
- এক কাজ কর মেয়েটাকে প্রতিদিন ফলো কর।
আর সুযোগ বুঝে ভালবাসার কথা বলে ফেল।
মেয়েটা কি কি পছন্দ করে কি কি অপছন্দ করে
তাও দেখ
- দাদী ভাই আমি তো প্রতিদিনেই মেয়েটাকে
ফলো করেছি ও তাকে ভালবাসার কথাও বলেছি
কিন্তু কাজ হয়নি।সে কি পছন্দ করে না করে তাও
জানি।সেটাও করেছি লাভ হয়নি।
- তাই নাকি দাদু ভাই!
- হুম।
- কত বড় বজ্জাদ মেয়ে আমার দাদু ভাইটাকে কষ্ট
দিতেছে। দাদু ভাই একটা কাজ কর
- বল কি কাজ
- আমি মেয়েটার মনটাকে একটা পরীক্ষা নিব।যদি
মেয়েটা পাশ করে তাহলে তার সাথে তোমার
বিয়ে হবে।
- ঠিক আছে দাদী ভাই তোমার কথাই রাজী।
- যদি মেয়েটা পাশ করে তাহলে কি করবে জান?
- কি
- তাকে তুমি তোমার ভালবাসার জ্বালে ফেলাবে
তারপর বিয়ে করবে।
- বুঝলাম।কিন্তু সে তো আমাকে ভালবাসেই না
কিভাবে কি করব?
- চিন্তা করো না।আমি তো আছি। এতদিন তাকে
ফলো করেছ ভালবাসার কথা বলেছ তার পছন্দ মত
কাজ করেছ এখন তার উল্টা কাজ করবে। তাহলেই
কাজ হবে।
- ওলে আমার জাুনোটা কি বুদ্ধি দিল, অনেক
ধন্যবাদ।
- দোয়া করি যেন তাড়াতাড়ি লক্ষী দাদু ভায়ের বউ
এর মুখটা দেখতে পারি।
কিছুক্ষণ পর তাওহীদ আবার বলে
- দাদী ভাই তাকে আর অবহেলা করব না। আবার
তাকে বিয়ে করার কথা বলব যদি সে রাজী না হয়
তাহলে তাকে সরাসরি উঠিয়ে নিয়ে আসব।ঠিক
আছে?
- আচ্ছা দাদু ভাই তোমার যা মন চা তাই কর।আমি কিছু
বলব না(মনে মনে অনেক খুশি হয়)
•
ফারাহ বসে বসে তাওহীদের কথা ভাবতে থাকে।
তাওহীদ কেন তাকে বোঝে না, কেন তাকে
চিনে না।সে কি তার সাথে এরকম আচরণ করতে
পারে? তাকে না করার মাঝেও যে ভালবাসা লুকিয়ে
থাকে, কেন সে বোঝে না? আমি তো তাকে
অনেক ভালবাসি।ছোট থেকেই যে ভালবেসে
আসতেছি এটা কি সে জানে? যেদিন শুনলাম
তোমার সাথে আমার বিয়ে দিবে সেদিন
থেকেই তো তোমাকে ভালবাসতে শরু করি।
কিন্তু তোমাকে তোমার দাদী এই বিষয়ে কিছু
বলেনি।এবং আমাদেরকেও কিছু বলতে দেয়নি।
কারণ তোমাকে সারপ্রাইজ দিবে বলে।
যেদিন তোমার সাথে আমার পার্কে কথা হয়
সেদিন আমার কত যে ভাল লেগেছিল তা বলে
বোঝাতে পারব না।তোমার ঐ চশমা পড়া চোখের
দিকে কতবার যে তাকিয়ে ছিলাম সেটা কি তুমি
জানো? মনে হয় জানো না।তারপর যেদিন
তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করি সেদিন আসার সময়
কেঁদে কেঁদে যে আসছিলাম সেটা কি তুমি
দেখেছিলে? তুমি জানো আরও কতদিন মন খারাপ
করে থেকেছি, সবার আড়ালে চোখের জল
ফেলেছি ও নিজেকে কষ্ট দিয়েছি।তুমি হয়ত
জানো না মেয়েরা যাকে মন থেকে ভালবাসে
তাকে সারাজীবন ভালবেসেই পার করে।ফারাহ একা
একাই আরও না না ধরণের কথা ভাবতে থাকে ও
নীরবে চোখের জল ফেলতে থাকে।এমন
সময় কলিং বেলের আওয়াজ শুনে।
•
দরজা খুলে তাওহীদের দাদীকে দেখতেই
সাথে সাথে দাদীকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে
থাকে।তারপর উনাকে রুমে এনে বলতে থাকে।
- দাদী ভাই! আমি আর এই অভিনয় পারছি না, আমার
খুব কষ্ট হয়।
- দাদু বোন তোমাকে আর বেশীদিন কষ্ট
করতে হবে না।আর কয়েক-টা দিন অপেক্ষা
করে থাক।
- তাই?
- হুম
- আচ্ছা দাদু বোন তুমি আমার ভাইটাকে কি এমন
বলেছ? শুধু তোমাকে ভেবে রাত-দিন পার
করে?
কথাটা শুনে ফারাহ অনেক লজ্জা পায়।তারপর বলে
- কি আর বলব! আমি তো কিছুই বলিনি।
- তাই?
- হুম
- দাদু বোন আজ তাহলে আসি তৈরি থেকো
যেকোনো সময় তোমার উপরে হামলা আসতে
পারে।
- কিসের হামলা?
- আসলেই টের পাবা।
- আচ্ছা।
- হুম
তারপর তাওহীদের দাদী আরও কিছুক্ষণ সময়
থেকে বাসায় চলে আসে।
•
পরদিন তাওহীদ ফারাহদের বাড়িতে আসে।এসে
দেখে শুধু তার শালা বাবু বসে বসে গেমস
খেলতেছে।
- কি খবর! শালা বাবু
- এই তো আপনি?
- আছি আর কি।
- ও
- শালা বাবু তোমার বোনটা এরকম কেন?
- আর বইলেন না বোনটার জন্য পাশের বাসার
আঁখির সাথে প্রেম ও করতে পারি না ।
- কি বল!
- হুম । একটা ব্যবস্থা করে দেন!
- করতেছি।আগে বল তোমার বোন কোথায়
আছে?
- কয়েকদিন ধরে দেখতেছি মন খারাপ করে
আছে।এখন মনে হয় পার্কে আছে।
- ওকে।আজ তাহলে আসি
- ওকে।
•
পার্কে এসে তাওহীদ দেখে ফারাহ মন খারাপ
করে বসে আছে।তারপর তাওহীদ তার পাশে
দাঁড়িয়ে বলে
- এই মেয়ে নিজেকে কি মনে কর হু? বিশ্ব
সুন্দরি? অনেক ঘুরেছি কিন্তু তারপরেও তোমার
মনটা পেলাম না। আজকের পর থেকে তোমার
পিছে আর ঘুরব না চলে যাচ্ছি।
- নিজেকে তো অনেক কিছুই মনে করি।
আপনারা পুরুষরা আর কি পারবেন এটাই পারেন।যখন
দেখেন ঘুরে কাজ হয় না। তখন অন্যের পিছে
ছুটেন।
- কি পুরুষ নিয়ে কথা তুললে?
- হুম যদি পুরুষেই হতেন তাহলে তো কিছু করে
দেখাতেন(রাগানোর জন্য)
- ঠিক আছে তাই করে দেখাব চল আমার সাথে।
- কি করছেন কি?(ফারাহকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে)
কোন কথা না বলে নিয়ে চলতে থাকে তার বাসার
দিকে।
•
- কি সুন্দরি! তোমাকে তো বিয়ে করেই
ফেলেছি!
- হু বিয়ে তো আমিই নিজ ইচ্ছাই করেছি।
- কিহ!
- অবশেষে বিয়েটা করেই ফেললেন।(কথা
ঘুরানোর জন্য)
- হুম পুরুষ নিয়ে কথা বলছিলে না? এখন পুরুষগীরি
দেখলে!
- হুম দেখছি।কিন্তু আপনি না বিয়ে করতে
চাচ্ছিলেন না!
- কি! তুমি এই কথা কিভাবে জানলে?
- কেন দাদী ভায়েই তো বলেছে।আর দাদী
ভায়ের প্লেনেই তো সব কিছু হয়েছে।
- কিহ!
তাওহীদ শুধু অবাক হতেই থাকে।
- দাদী ভায়ের কথাতেই তো বাবা আপনার সামনে
পরে যাওয়ার অভিনয় করে ও আমাকেও এই অভিনয়
টা করতে হয়।আর আপনার আগেই আপনাদের
অফিস ও সম্পত্তি আমার বাবাই দেখাশুনা করেছে।
আপনার বাবা ও আমার বাবা তারা দুজনেই বন্ধু ছিল।তারা
আমাদের বিয়ে ছোট বেলায় ঠিক করে
রেখেছিল।কিন্তু এখন আপনার জন্যই এসব করতে
হয়েছে।
- কিহ! আমি এই বিয়ে মানি না।
- বিয়ে না মানলেও হবে ভালবাসলেই চলবে।
- ভালবাসা! আই কাছে ভালবাসা দেখাচ্ছি তোকে।
তাওহীদের এরকম আচরণে ফারাহ অনেক ভয়
পেয়ে যায়।কাছে আসতেই ঠাস করে চড় মারে।
চড় খেয়ে ফারাহ খাটের উপরে যেয়ে পড়ে।
তারপর তার দাদীকে ডাকতে থাকে
- দাদী ভাই দাদী ভাই (জুরে জুরে ডাকে)
- কি হয়েছে দাদু ভাই?
- কি না হয়েছে বল? আমার সাথে কেন এরকম
নাটক করলে? নাটক না করলে কি হতো না!
- ....(চুপ করে থাকে)
- কি হল বল!
- কি বলব বল! তুমি তো আমার কোন কথাই
শুনতে চাওনি ফারাহ এর কথা কতবার তোমাকে
বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি শুনোনি।তাই
আমাকে এই পথটা বেছে নিতে হয়েছে।এখন
তুমি বল এছাড়া আমার কি করার ছিল? এই বুড়িটা মরে
গেলে তোমার কি হবে? তোমাকে কে
দেখবে? তাই তো তোমাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে
দিতে চেয়েছিলাম।কিন্তু তুমি এখন বিয়ে করবে না
বলে জিদ ধরেছিলে।
- .... (চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে)
- কি হল এখন কথা বল!
তাওহীদ তার ভুল বুঝতে পারে।তারপর দাদীকে
বলে
- দাদী ভাই আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে
ক্ষমা করে দাও!
- আমি কি ক্ষমা করব যাকে মেরেছো তার
কাছে যাও
বলেই দাদী চলে যায়।
- আমাকে ক্ষমা করে দেওয়া যায় না?(অপরাধী
চোখে)
- .... (অভিমানী ভাব নিয়ে চুপ থাকে)
- ভুল তো মানুষেই করে তাই না? তাই বলে কি
মানুষ ক্ষমা পায় না!(অপরাধী ভাব নিয়ে)
- না আপনাকে আগে শাস্তি পেতে হবে!
তারপর ক্ষমা করা হবে।
- কি শাস্তি? যাই দিবে তাই মাথা মেতে নেওয়া
হবে।
- আমাকে প্রতিটা মুহূর্ত ভালবাসতে হবে।এবং আমার
সাথে বাকীটা জীবন কাটাতে হবে।
ফারাহকে চোখের ভাষায় কাছে আসতে বলে।
ফারাহ কাছে আসলে বলে চল আমরা ভালবাসা শুরু
করি।এভাবে রাগ অভিমান ভুলে আবার নতুন জীবন
শুরু করে।
•
লিখাঃ MD Mahmudur Rahman Tauhid
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now