বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বজ্জাতেে ছেল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X "বজ্জাত ছেলে কোথাকার ক্লাসে ত তাকিয়ে তাকিয়ে খুব ভাল ভাবে চোখ টিপ মারতে পার।এখন কেন নিচের দিকে তাকিয়ে আছ হু।এবার নিচে তাকালে খবর আছে কিন্তু" . আজ বেশ তাড়াতাড়ি কলেজে পৌছে দেখলাম রাইসা মাঠের এক কোণে বই নিয়ে বসে আছে। গভীর মনযোগ বইয়ের দিকে চারপাশে যে কি হচ্ছে তার কোন খেয়াল নেই মনে হয়।গোল গোল চশমা পড়া চোখ দু'টো যেন বইয়ের পাতা থেকে নড়ছে'ই না।আমি গিয়ে ওর পাশে দাড়ালাম।তবুও ওর কোন খেয়াল নেই।ও মনযোগ দিয়ে পড়ছে ত পড়ছেই। আমি বেশ একটা কাশি দিয়ে ওর পাশে বসলাম।ও এবার বইয়ের দিক থেকে মুখটা তুলে আমার দিকে একবার তাকিয়ে না দেখার ভান করে আবার বইয়ের দিকে মনযোগ দিল।এভাবে খানিক্ষন ওর পাশে বসে থাকার পর বেশ শান্ত গলায় ওকে বললাম। . -তোমাকে না আমার কিছু বলার আছে। . ও আমার কথাটি শুনে বইটা বন্ধ করে ব্যাগে রেখে আমার দিকে বেশ ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল। . -হ্যা বল নতুন করে আবার কি বলবা। -আসলে না। -আসলে কি। . এবার ওর কথাটি বেশ কিছুক্ষন চুপ মেরে বসে আছি।দেখলাম রাইসা ও কিছু না বলে চুপ করে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।যেখানে অন্যদিন এতক্ষনে দুইজন পাশাপাশি থাকলে ঝগড়ায় লিপ্ত আছি। আর আজ অন্যদিন থেকে আর ওকে বেশ শান্ত দেখাচ্ছে চিন্তা করলাম এই সুযোগটা হাত ছাড়া করা যাবে না।তাই কিছু না বলে সরাসরি বসা থেকে উঠে ওর সামনে দাড়ালাম।অনেক সাহস নিয়ে আসলে ও ওর সামনে দাড়ানোর পর কি রকম একটা নার্ভাস ফিল হচ্ছে তবুও।রাইসা অবাক হয়ে সোজা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।যার জন্য নার্ভাসের গতিটা বেশ বাড়তে'ই লাগল। . এবার কিছু না বলে ব্যাগ থেকে গোলাপ ফুলটা বের করে সরাসরি ওকে প্রপোজ করে বসলাম।দেখি ও আর ও বেশি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।হয়ত ভাবতে ও পারেনি আমি এসব কান্ড করে বসব।ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে গোলাপটা ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে দিলাম এক দৌড় ক্লাসের দিকে। . রাইসাকে আমি বেশ অনেক আগে থেকেই চিনি। সারাদিন খালি বই পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত।চোখে গোলগোল মোটা ফ্রেমের চশমা মুখে গম্ভীর ভাব নিয়ে সবসময় বই নিয়ে বসে থাকত।আমরা যখন ব্রেকের সময় বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতাম আর ও কলেজের এক কোণায় গিয়ে চুপটি মেরে বসে বই পড়ত।ক্লাস শেষে লাইব্রেরীতে গিয়ে পড়ে থাকত।আর আমার কাজ ছিল ওকে সবসময় জ্বালানো।ক্লাসে চোখাচোখি হলে চোখ টিপ মারা লাইব্রেরীতে গিয়ে ওর থেকে পড়া বুঝানোর নামে বারবার ওর চশমা খুলে দেওয়া।ও ক্লাসে ডুকার সময় আমি বেঞ্চের এক পাশ ছেড়ে অন্য পাশে গিয়ে বসতাম যাতে ও আমার পাশে বসে।কিন্তু ও আমাকে মুখে ভেংচি দিয়ে বরাবরি বান্ধবীদের সাথে গিয়ে বসত।এসব নিয়ে যে আমাদের মাঝে কতবার ঝগড়া হয়েছে তার কোন হিসাব নেই। . আজকে ক্লাসে ডুকার পর আমি ওর দিকে একবার ও তাকালাম না।ক্লাসে স্যারের লেকচারের দিকে বেশ মনযোগ দিলাম।ক্লাস শেষে যে যার যার মত বেরিয়ে গেল।দেখলাম রাইসা বসে বসে কি যেন লিখছে।সেই ফাকে আমি ও বের হওয়ার জন্য যে বসা থেকে উঠে দরজার দিকে পা বাড়ালাম ঠীক তখনি রাইসা পেছন থেকে আমার শার্টের কলার ধরে আমাকে ওর দিকে ফিরাল।দেখ বেশ রাগি রাগি চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।গোল গোল চশমার ভেতর চোখ দু'টোতে যেন ফুটন্ত লাভা স্ফুটিত হচ্ছে।আর যে কোন সময় সেই জীবন্ত লাভা এসে যেন আমাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিবে।আমি ভয়ে ওর দিকে না তাকিয়ে এবার নিচের দিকে তাকিয়ে আছি।আমার এভাবে চুপ মেরে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকা দেখে রাইসা এবার সরাসরি আমার সামনে এসে আমার শার্টের কলার ধরে ওর মুখটা আমার মুখের কাছে নিয়ে আসল।আর রাগে গজগজ করতে লাগল।তবুও আমি ভয়ে ওর মুখের দিক থেকে মুখটা সরিয়ে নিচের দিকে তাকালাম।আবার এভাবে আবার ও নিচের দিকে তাকিয়ে থাকা দেখে।বেশ রেগে ও আমাকে হুমকি দিয়ে কথাটি বলল। . "বজ্জাত ছেলে কোথাকার ক্লাসে ত তাকিয়ে তাকিয়ে খুব ভাল ভাবে চোখ টিপ মারতে পার।এখন কেন নিচের দিকে তাকিয়ে আছ হু।এবার নিচের তাকালে খবর আছে কিন্তু" . ফাজিল মেয়ে কোথাকার এভাবে একটা ভাল ভদ্র ছেলেকে হুমকি দেওয়ার কোন মানে আছে নাকি। কেউ যদি দেখে ফেলে একটা মেয়ে আমাকে এভাবে শার্টের কলার ধরে হুমকি দিচ্ছে তাহলে আমার ইজ্জতের বারটা বাজবে।এবার আমি আস্তে আস্তে ওর দিকে তাকিয়ে বেশ শান্ত গলায় ওকে বললাম। . -আচ্ছা ঠীক আছে এবার কলারটা না হয় ছাড়। . ও আমার কথাটি শুনে খানিক পর কলারটি ছেড়ে আমার হাতটা শক্ত করে ধরে আমাকে বলল। . -কি ভাবছ আমি তোমার মত এত বোকা নাকি।হু কলার ছেড়ে দেওয়ার পর এখন সকালের মত দৌড়ে পালাবে।মোটেও না। . রাইসা কথাটি বলে আমার হাত শক্ত করে ধরে বলল। . -চল আমার সাথে চল। . এটা বলে এক প্রকার আমাকে জোড় করে রাস্তার দিকে নিয়ে গেল।একটা রিক্সা ঠীক করে ও নিজে উঠে টেনে আমাকে ও রিক্সায় তুলল। . আমি রিক্সায় চুপ মেরে বসে আছি ওর পাশে কি বলব ভেবে পাচ্চি না।সকালে ওকে এভাবে প্রপোজ করে বসা তারপর ওর কর্মকান্ড গুলো দেখে আমি কিছু বলার ভাষা'ই খুজেঁ পাচ্ছি না।রাইসা ও দেখি চুপ মেরে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।কিছুক্ষন পর ও আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার হাত ধরে আমার দিকে তাকিয়ে বেশ শান্ত গলায় বলল। . -আর দূর থেকে নয় এবার কিন্তু সবসময় পাশে বসে চোখ টিপ মারতে হবে। . আমি ওর কথাটি শুনে ওর হাতটা আর ও শক্ত করে ধরে ওর কাধে মাথা রাখলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বজ্জাতেে ছেল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now