বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
বিয়ে.....থামো...লোকে শুনলে কি বলবে (টাইটেল পড়ে হাসবেন, বিস্তারিত গল্পে)
X
চল বিয়ে করে ফেলি?
- পাগল নাকি!
- কেন? পাগল ছাড়া কি বিয়ে করবেনা নাকি?
- অদ্ভুত!
- অদ্ভুত না। বল নতুন জীবনের সূচনা।
- লোকজন ডাকব?
- আরে নাহ! লোক ডাকতে হবেনা। হামাহা লোক ডেকে খরচ বাড়িয়ে কি লাভ? তাছাড়া পকেটে টাকা পয়সাও খুব বেশি একটা নেই। তার উপরে বিয়ের পরে হাতির লালনপালন। উফ! মেলা খরচ।
- হাতি মানে?
- হাতি মানে হল বউ পালা আর হাতি পালা একই কথা। দুইটার খরচের পরিমাণই সমান।
- তাহলে বিয়ে না করে সারাজীবন চিরকুমার থেকে গেলেই হয়।
- সেটাতো করাই যায়। কিন্তু এতে একটা সমস্যা আছে।
- কি সমস্যা?
- আমিতো বিয়েটা করছি তোমার কথা ভেবে। আমি বিয়ে না করলে তোমার মত হাতিটাকে লালনপালন করবে কে?
- আরেকবার হাতি বললে আপনার মুখে তালা ঝুলিয়ে দেব।
- তাহলে আমি খাওয়া দাওয়া করব কেমন করে?
- খাওয়ার কোন দরকার নেই।
- তাহলে তো মরে যাব। আর আমি মরে গেলে তো তুমি বিয়ের আগেই বিধবা হয়ে যাবে। সেটাতো হতে দেওয়া যাবেনা।
- আপনি এত বেশি কথা বলেন কেন? চুপ থাকতে পারেন না?
- বিয়ের পরে তো আর কথা বলতে পারবনা তাই বিয়ের আগেই মনের যত কথা আছে সব বের করে দিচ্ছি।
- বিয়ের পরে কথা বলা যাবেনা কেন?
- বিয়ের পরে বউয়েরা হয়ে যায় স্বৈরাচারী। তখন তারা স্বামীদের উপর কারফিউ জারি করে। আর স্বামী বেচারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নির্যাতিত হতে থাকে। আচ্ছা জুঁই তুমিও কি আমার সাথে এরকম করবে?
- প্রশ্নই উঠেনা, এটা করা কি কখনো সম্ভব!
- আমি জানতাম তুমি আমায় অনেক সম্মান কর।
- আগে আমার কথা শেষ করতে দেন।
- হ্যা হ্যা বল।
- আমি যেহেতু আপনাকে বিয়ে করছিনা সেহেতু আপনার উপর আমার কারফিউ জারি করার কোন প্রশ্নই আসেনা। আর আমি দোয়া করি যেন আপনার কপালে একটা স্বৈরাচারী বউ জুটে।
- এটা কি দোয়া করলা! বউ হবেনা ঠিক আছে তাই বলে স্বৈরাচারী বউ!!
- এত প্যাঁচাল কইরেন না তো। আমারে যায়তে দেন।
অদ্ভুত মেয়ে! দুই বছরের ধরে বুঝিয়েই যাচ্ছি ভালবাসি ভালবাসি কিন্তু সে বুঝতেই চাই না। বুঝিনা আমি দেখতে খারাপ নাকি তাহার অন্য কোন ছেলের সাথে মনের রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়ে গেছে। মা তো আমাকে বলেছে আমি নাকি দেখতে রাজপুত্রের মত। যদিও মায়েদের চোখে সব ছেলেই রাজপুত্রের মত তারপরও সেটা কমে মন্ত্রী বা এমপি'র ছেলে পর্যন্ত গিয়ে ঠেকবে নিশ্চয়।
কি যে করি! নাহ্ কিছু একটা ব্যাবস্থা করতে হবে।
হাঁটতে হাঁটতে একসময় মনে হল আমি পড়ে গেছি। জুঁইকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভাবনার এতটাই গভীরে চলে গিয়েছিলাম যে ধ্যানই ছিলনা কোথায় হাঁটছি। বন্ধু আমার দূর থেকে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে। আমি তাকে ডেকে বললাম ঐ হারামি দূরে দাঁড়িয়ে কি দেখছিস। তাড়াতাড়ি উঠা আমারে।
- খাওয়ার সময় কম খেতে পারিস না। খেয়ে খেয়ে তো শরীরটাকে আলুর বস্তা বানিয়ে ফেলেছিস, এখন উঠতে পারিস না কেন?
- তুই কি এখন লেকচার দিবি নাকি আমাকে উঠাবি?
আমাকে উঠিয়ে সে তা গোয়েন্দাগিরি শুরু করে দিল।
- দোস্ত! কেমনে পড়লি?
- পা পিছলে পড়ে গেছি।
- তা তুই কানা! দেখেশুনে চলতে পারিস না।
- দেখে কি আর চলার উপায় আছে?
- কেন! কি হয়ছে?
- আরে! কিছুনা। আচ্ছা দোস্ত সহজে মরে যাওয়ার কোন বুদ্ধি কি তর কাছে আছে?
- আছে তো।
- কেমনে?
- শরীরে বোমা বেঁধে সুইচ টিপ দিলে সাথেসাথেই তুই হাওয়া হয়ে যাবি।
- আরে ধুরু। বোমা ফাটলে শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। আমি এই ব্যাথা সহ্য করতে পারবনা। তাছাড়া সাংবাদিকরা এই খবর পেলে আত্মঘাতী হামলা বলে চালিয়ে দেবে। শেষে জঙ্গি বলে উপাধি পেয়ে যাব। জানাযাহ করতেও কেউ আসবেনা।
- তাও তো সেলেব্রিটি হয়ে যাবি।
- দরকার নেই। অন্য কোন ব্যাবস্থা থাকলে বল।
- তর যে শরীর দুই চারদিন না খেলে এমনিতেই মরে যাবি। খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দে।
- ধুর! না খেয়ে মরা তো খুবই কষ্টের হবে। এটা পারবনা। আর কোন সহজ উপায় আছে।
- আপাতত নাই। পেলে জানাব। এখন বল তুই মরবি ক্যান?
- জুঁইকে দুই বছর ধরে পটানোর চেষ্টা করছি কিন্তু সে পটছেই না। তাই ভাবছি মরে গিয়ে প্রেমের সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকব।
- কোন জুঁই?
- আমাদের বাসার ভাড়াটিয়া আছেনা সেলিম ভূঁইয়া। যে নিজেকে বুদ্ধিজীবী মনে করে তার মেয়ে।
- আগে ভাবতাম তোর মাথায় শুধু গোবর আর এখন দেখছি তোর মাথায় গোবরও নেই। মাখাল ফল একটা।
- ও... বুদ্ধিজীবী! একটু দম নেন।
- শুন, কাউকে পটানোর জন্য হাত কাটা, রক্ত দিয়ে চিঠি লেখা, আত্মহত্যা করা এসব পুরনো পদ্ধতি। এগুলো এখন কাজ করেনা।
- তাহলে এখন কি করব?
- ভালবাসা মন থেকে আসে আর এটাকে অনুভব করতে হয় মন দিয়ে।
- তার মানে কি তুই বলতে চাচ্ছিস জুঁই এর মনই নেই?
- আমি সেটা বলেনি।
- তাহলে?
- মন প্রত্যেকেরই আছে। আর প্রত্যেকটা মন এক একটা বৈশীষ্ট্য ধারণ করে। যেমন ধর: কারো আইসক্রিম খেতে ভাল লাগে আবার কারো ফুচকা। কেউ সাজতে পছন্দ করে আবার কেউ সাজাতে। কেউ বেশি কথা বলতে পছন্দ করে আবার কেউ এটাকে বিরক্তিকর মনে করে। তুই জুঁইকে পছন্দ করিস আর জুঁই হয়ত অন্য কাউকে...
- ঐ থাম। জুঁই এর কোন ছেলের সাথে সম্পর্ক নেই।
- আমি সেটা বলিনি।
- তুই কি বলতে চাস পরিষ্কার করে বল।
- প্রত্যেকটা মানুষের পছন্দ আছে। জুঁই এরও নিশ্চয় আছে। তোকে জুঁই এর পছন্দ অপছন্দ বুঝতে হবে। তোকে এটাও বুঝতে হবে জুঁই কেন তোর ভালবাসাটা বুঝতে পারেনি, কেন সে তোর মাঝে ভালবাসা খুঁজে পায়না। তোর প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, তোকে সে কেমন দেখতে চাই এসব জানতে হবে।
- এত কিছু কি করে জানব?
- ভালবাসা পাওয়ার জন্য মানুষ জীবন দিতে পর্যন্ত পিছপা হয়না আর তুমি এটা করতে পারবানা? জুঁইকে যদি পেতে চাও তাহলে এটা তোমাকে করতেই হবে। তা না হলে দেখবি জুঁই একদিন বউ সেজে তোর সামনে দিয়ে অন্যের ঘরে চলে যাবে। এখন যা আর গোয়েন্দাগিরি শুরু কর। যাওয়ার আগে খাবারের বিলটা দিয়ে যাস।
২।
বাসায় এসেই জুঁইকে নিয়ে ভাবতে থাকলাম। সারাদিন সারারাত এটা ভেবেই কাটিয়ে দিলাম যে কিভাবে জুঁইকে পটানো যায়। কিন্তু কোন রাস্তা খুঁজে পেলাম না। হঠাৎ মনে পড়ল বুদ্ধিজীবী চাচাতো বাসাই নেই, বাসায় গিয়ে কোন কিছু লাগে কি না। এই কেয়ারিং দেখে জুঁই এর পেয়ারিং জেগে উঠলেও উঠতে পারে। বাসার সামনে গিয়ে নক করতেই হবু শ্বাশুড়ী দরজা খুলে দিলেন।
- চাচী আম্মা কেমন আছেন?
- ভাল, তুমি কেমন আছ বাবা?
- চাচী আম্মা আমিও ভাল আছি।
- তুমি আমাকে চাচী আম্মা ডাক কেন? শুনতে কেমন যেন লাগে।
- চাচী আম্মা ডাকলে আপন আপন লাগে তাই ডাকি আরকি।
- তা হঠাৎ তুমি আমাদের বাসায়, কিছু বলবা নাকি?
- না, আব্বু আমাকে বলল চাচা নাকি বাসায় নেই। তাই আপনাদের কিছু লাগবে কি না জিজ্ঞাস করতে বলছে?
- না বাবা আমাদের কিছু লাগবেনা।
- জুঁই কোথায়? জুঁইকে দেখছিনা যে।
- ও পড়ছে। আর কিছু বলবা?
- না চাচী আম্মা, আমি তাহলে এখন যায়। কিছু লাগলে আমাকে বলবেন। জুঁই এর কাছে আমার নাম্বার আছে।
এক বুক হতাশা নিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম। বাসায় ফিরে আসলেও মনটা রয়ে গেল জুঁই এর কাছেই। কেমনে যে কি করি ভেবে পায়না।
মোবাইলের শব্দে আমার ভাবনার ব্যাঘাত ঘটল। অসম্ভব রকমের বিরক্তি নিয়ে মোবাইল্টা হাতে নিলাম। মোবাইলের স্ক্রীণে তাকিয়ে যা দেখলাম তাতে আমি রীতিমত অবাক। অবাক না হয়ে উপায় আছে? ফোনটা যে জুঁই করেছে। একপ্রকার তাড়াহুড়া করেই ফোনটা রিসিভ করলাম।
- কি ব্যাপার জানু? হঠাৎ ফোন দিলা যে?
সেই রকম ভাব নিয়ে প্রশ্নটা করলাম। ভাবটা নিমিষেই ভেঙ্গে গুড়াগুড়া হয়ে গেল যখন ঐ পাশ থেকে বলল-
- জানু??? জানু মানে কি?
- আসসালামু আলাইকুম চাচী।
- ওয়ালাইকুম সালাম। তুমি জানু বললে কেন? এর মানে কি?
- জানু মানে জুঁই।
- জুঁই আবার জানু হল কবে থেকে?
- জুঁই এর পুরো নামতো জাহানারা আক্তার জুঁই। আমি জাহানারাকে ছোট করে জানু বলে ডাকি। ছোট নামতো ডাকতে সুবিধা হয় আরকি।
- হয়েছে হয়েছে, এত সুবিধা করতে হবেনা। বেশি সুবিধা করতে গিয়ে পরে না আবার অসুবিধা হয়ে যায়।
গার্লফ্রেন্ড এর মায়েরা কেন যে দজ্জাল টাইপের হয় আমার বুঝে আসেনা। আরে আমিতো তার মেয়ের হবু বর, যেনতেন লোক তো আর না। একটু সম্মান দিয়ে কথা বললে কি হয়? আমার নিরবতা বুঝতে পেরব চাচী ঐপাশ থেকে চেঁচিয়ে উঠল
- ফোন রিসিভ করে কি ঘুমিয়ে গেছ? কথা বলছনা কেন?
- না চাচী, জেগেই আছি। বলেন কি জন্য ফোন করছেন?
- সকালে জিজ্ঞেস করছিলেনা আমাদের কিছু লাগবে কি না। তখন তো ভাবছিলাম কিছু লাগবেনা এখন রান্না করতে গিয়ে দেখি ফ্রিজে মাছ মাংস কিছুই নেই। তোমার কি একটু সময় হবে এগুলো আনার জন্য?
- কেন হবেনা! নিশ্চয় হবে। আমি এখনই আসছি।
অতঃপর চাচীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে রওনা দিলাম বাজারের দিকে। বাজার থেকে বড় দেখে একটা রুই মাছ আর তাজা গরুর মাংস কিনে বাসায় চলে আসলাম। কলিংবেল চাপতেই জুঁই এসে দরজা খুলে দিল। গোসল করার পর মেয়েদের দেখতে যে অপ্সরীর মত লাগে জুঁইকে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না। অবশ্য এটা বোঝার জন্য মনের ভিতর উক্ত্য কণ্যার প্রতি অনুভূতি কাজ করা লাগে। আচ্ছা সেদিকে আর নাই বা গেলাম। জুঁইকে দেখেই মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মুগ্ধতাটা তিক্ততায় পরিণত করতে জুঁই সামান্যতম কুণ্ঠাবোধ করেনি। সে রেগে বলল
- আপনি আমাকে জানু ডাকেন কবে থেকে?
বুঝতে পারলাম ফোনে যে ভুল করে চাচীকে জানু বলে ফেলেছি এটা মনে হয় চাচী জুঁইকে বলে দিয়েছে।
- কি হল কথা বলছেন না কেন?
- কি বলব?
- আপনি আমাকে জানু বলে ডাকেন কবে থেকে।
- ডাকিনি তো কি হয়েছে, তুমি বললে না হয় আজকে থেকেই ডাকব।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে বললাম।
- আমি বলছি আমাকে জানু ডাকতে?
- না ও তো করনি।
- অদ্ভুত! এমন কেন আপনি?
- কারণ তো তোমার জানাই আছে।
- না আমার জানা নেই, আপনি বলেন।
- ভালবাসি।
- আপনি একটা....
জুঁই এর কথা শেষ হওয়ার আগেই চাচী পেছনে এসে হাজির।
- বাজার নিয়ে কি বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি এগুলো ভিতরে নিয়ে আসবে?
- কি করে ভিতরে আসব? আপনার মেয়েই তো আসতে দিচ্ছেনা।
জুঁই কিছু বলার আগেই হালকা পুশ করে ভিতরে চলে গেলাম। ফিরে আসার সময় জুঁইকে বললাম
- আজকে তো দরজার সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালে একদিন আসবে যখন তুমি আমার অপেক্ষায় দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে।
৩।
দুপুরবেলা ঘুমিয়েছিলাম। ফোনের আওয়াজে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। আবারো জুঁই এর নাম্বার থেকে ফোন দিছে। নাহ্ এবার ভুল করা যাবেনা। এবার নিশ্চয় চাচী ফোন দিছে। এই ভেবেই ফোনটা রিসিভ করলাম।
- হ্যা চাচী বলেন।
- আমি চাচী না, জুঁই বলছি।
- কি জন্য ফোন দিয়েছ? কিছু লাগবে নাকি?
- কিছু লাগলেই ফোন দিতে হবে? আমি কি এমনিতেই ফোন দিতে পারিনা?
- তা হবে কেন! বল কেন ফোন করছ?
- আপনি এখন কোথায়?
- বাসায় আছি।
- একটু আমাদের বাসায় আসেন।
- কেন? কোন সমস্যা?
- মা আপনাকে খাবার খাওয়ার জন্য ডাকছে। তাড়াতাড়ি আসেন।
- মা ডাকছে নাকি তুমি ডাকছ?
- আপনি এত বেশি কথা বলেন কেন? তাড়াতাড়ি আসেন। খাবার ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।
হবু বউ ডাকতেছে না গিয়ে কি পারা যায়? জামাই জামাই ভাব নিয়ে চলে গেলাম হবু শ্বশুড়বাড়ি। খেতে খেতে হবু শাশুড়িকে বললাম
- রান্নাটা চমৎকার হয়ছে চাচী। আপনার মেয়েকেও রান্না শিখিয়ে দিয়েন। শ্বশুড়বাড়ি গেলে কাজে লাগবে।
- শেখানোর প্রয়োজন হবেনা।
আমি কৌতুহল নিয়ে চাচীকে বললাম
- কেন চাচী? মেয়েকে কি সারাজীবন ঘরেই বসিয়ে রাখবেন, বিয়েশাদী দিবেন না?
- তা হবে কেন?
- তাহলে?
- এগুলো জুঁই নিজেই রান্না করেছে।
- তাই নাকি?
- তা নয়তো কি? আর তোমাকে যে ডেকে আনা হল এটাও জুঁই এর ইচ্ছায়।
বাহ্! বউ আমার মেলা গুণবতী, সাথে কিছুটা অভিনেত্রী। কি সুন্দর অভিনয় করে বলল মা আপনাকে আসতে বলেছে। বুঝলাম ভালবাসার সিগনাল একটু একটু করে আসতে শুরু করেছে কিন্তু মুখ দিয়ে সেটা প্রকাশ করছেনা। এবার তাহলে অন্যভাবে খেলতে হবে।
*****
ছুটিরদিন হওয়াতে শুক্রবার সকালে একটু বেলা করেই ঘুম থেকে উঠি। কিন্তু মায়ের অত্যাচারে সেদিন সেটা সম্ভব হয়নি। মায়ের দূর সম্পর্কের খালাতো বোনের মেয়ে আসছে ঢাকাতে তাকে স্টেশনে গিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
- আসছে, আসুক। আমাকে স্টেশনে কেন যেতে হবে।
- লিজা তো আমাদের বাসা চিনেনা। সে আগে কখনো আসেনি। তাই তুই গিয়ে নিয়ে আয়।
- এই লিজাটা আবার কে?
- আমার দূর সম্পর্কের খালাতো বোনের মেয়ে।
- দূর সম্পর্ক হঠাৎ করে কাছে আসছে কেন?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য ভর্তি কোচিং করতে।
- তা এটা কি কোচিং সেন্টার?
- তুই এত বেশি কথা বলিস কেন? ঢাকায় আমরা ছাড়া তাদের আর কোন আত্মীয় স্বজন নেই। তাই সে এখান থেকেই কোচিং করবে। এখন তুই গিয়ে লিজাকে নিয়ে আয়।
- চিনব কি করে?
- আমি তোকে লিজার নাম্বার আর তার ছবি হোয়াট'স এ্যাপে ম্যাসেজ করে দিয়েছি।
স্টেশনে পৌছেই লিজাকে ফোন দিলাম।
- ঢাকায় পৌছাতে আর কতক্ষণ লাগবে?
- মনে হয় আরো আধা ঘন্টা লাগবে।
- আচ্ছা! স্টেশনে পৌছে আমাকে ফোন দিয়েন। আমি স্টেশনেই আছি।
৪।
লিজার সব দায়িত্ব আমার উপর পড়ল। যেহেতু সে ঢাকাতে নতুন তাই তাকে কোচিং এ ভর্তি করানো, কোচিং এ নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা সবই আমাকেই করতে হল। লিজা আসার পর প্রায় এক সপ্তাহ জুঁই এর সাথে তেমন কোন কথা হয়নি। লিজাকে নিয়ে কোচিং থেকে ফেরার সময় জুঁই আমাদের দেখে ফেলে। আমি সেটা তখনও বুঝতে পারিনি। আমি সেটা জানলাম সন্ধ্যাবেলা যখন জুঁই এর সাথে দেখা হল।
- খুব তো বলতেন ভালবাসি ভালবাসি। এখন কি সব ভালবাসা হাওয়াই মিলে গেছে?
- তা হবে কেন! এই দেহে প্রাণ থাকবে যতদিন, তোমার প্রতি ভালবাসা থাকবে ততদিন।
- তাই যদি হবে অন্য মেয়েদের সাথে এত রঙ ঢং কিসের?
- কবে, কার সাথে রঙ ঢং করলাম?
- কি ভাবছেন কেউ কিছু দেখবেনা জানবেনা?
- কি আজেবাজে কথা বলছ?
- আজকে রিক্সাই সাথে কে ছিল?
- ও... লিজার কথা বলছ! এটাতো আমার খালাতো বোন তবে দূর সম্পর্কের।
- খালাতো বোন হলেই একসাথে রিক্সাই গা ঘেঁষে বসতে হবে?
- ধ্যাত! কি যে বল! সে ঢাকার রাস্তাঘাট কিছুই চিনেনা। তাই তাকে কোচিং এ নিয়ে যেতে হয় আবার নিয়ে আসতে হয়। রাস্তাঘাট চিনে ফেললে তখন আর নিয়ে যেতে হবেনা।
- বুঝি বুঝি! সব বুঝি। সব ছেলেরাই একরকম।
- সব বুঝলে আমাকে বুঝনা কেন?
- আপনাকে কি বুঝার আছে? ফালতো একটা ছেলে। মেয়ে দেখলেই টাংকি মারতে ইচ্ছে করে।
- আমি অন্য মেয়েদের সাথে টাংকি মারলে তোমার এত জ্বলে কেন? হয়ে গেছে নাকি?
- কি হবে?
- ইস্টুগুরু!
- মানে?
- ভালবাসা! হয়ে গেছে নাকি?
- আপনাকে??? অসম্ভব।
মুখে যায় বলুক না কেন অন্তরে যে ভালবাসার বীজ বপন করা হয়ে গেছে সেটা বুঝতে আমার আর বাকি রইল না। এখন শুধু বীজ থেকে গাছ হয়বার পালা।
এরপর লিজাকে নিয়ে আর যাওয়া হয়নি। সে এখন একা একাই কোচিং এ যায়।
এখন আমার একটাই কাজ জুঁই এর প্রতি একটু কেয়ারিং হওয়া। কারণ
Love means caring and sharing.
রাত ১১:৫০ মিনিটে জুঁইকে কল দিলাম। হয়ত এত রাতে সে এমনটা আশা করেনি। ফোন রিসিভ করেই একপ্রকার ঝাড়ি দিয়ে বলল
- এত রাতে কেন ফোন করছেন?
আমি তার এই প্রশ্নের কোন উত্তর দিলাম না। সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়না। উল্টো আমি তাকে বললাম
- এখন ছাদে আসতে পারবে?
- এত রাতে...! পাগল নাকি?
- পাগল তো আমি তোমার জন্য।
- আমি এখন আসতে পারবনা।
- বেশি সময় নেব না। মাত্র দশ মিনিট।
- বললাম তো পারবনা। কেউ দেখলে কি ভাববে?
- আসো না। মাত্র তো দশ মিনিট। একটা গাঢ় লাল রঙ এর শাড়ি পড়ে এসো।
- বললাম তো আসতে পারবনা। তারপরও কেন বিরক্ত করছেন???
- আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব।
আমার ধারণা সে আসবে, অবশ্যই আসবে। মুখে না বললেও আমাকে যে সে ভালবাসে সেটা তো আর মিথ্যা না। যদিও মুখে না না বলে বেড়ায়। আমার ধারণা মিথ্যা হয়নি। সে এসেছিল হ্যা শাড়ি পড়েই এসেছিল তবে গাড় লাল শাড়ি পড়েনি, হলুদ শাড়ি পড়ে এসেছিল। জুঁই ছাদে পা রাখতেই টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখা কেকের উপরের মোমবাতিটা জ্বালিয়ে দিলাম। জুঁই বিস্ময় ভরা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। সে কোন কথা বলছিলনা। ছুরিটা হাতে দিয়ে বললাম কেকটা কাট কিন্তু সে নির্বিকার। বুঝলাম বিস্ময়ের ঘোড় এখনও কাটেনি। আমি আবারও বললাম
- একেতো দেরী করে এসেছ। তার উপর এখন কেক কাটতেও দেরী করছ। কেক কি ভোর হলে কাটবে।
সে তবুও কেক কাটছেনা। তাই আমি নিজে তার হাত ধরে কেক কেটে দিলাম। এটাই আমার প্রথম স্পর্শ ছিল। এক টুকরো কেক হাতে নিয়ে মুখে তুলে খাইয়ে দিলাম। সুযোগ সবসময় আসেনা। তাই তাকে নিজের হাতে খাওয়ানোর সুযোগটা ছাড়িনি।
- শুভ জন্মদিন জুঁই।
- আপনি কি করে জানলেন আমার জন্মদিনের কথা?
- সেটা না হয় অজানা থাক।
- অজানা থাকবে কেন?
- কারণ অজানাতে আগ্রহ বেশি থাকে। অজানাকে জানার পর আগ্রহটা হারিয়ে যায়।
- তারপরও বলুন। আমি শুনতে চাই।
- শুধুই কি প্রশ্ন করে যাবে? আমাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিবেনা?
- আপনি কি শিশু যে নিজে তুলে খেতে পারেন না?
- কিছু সময়ের জন্য না হয় শিশুই হলাম।
আমার এ ইচ্ছাটাও বিফলে যায়নি। সেদিন জুঁই আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছিল। সেদিন কেকের মিষ্টির পরিমাণ বেশিই মনে হয়েছিল। খেতে খেতেই জুঁইকে বললাম
- আমাকে সারাজীবন এভাবে খাওয়ানোর দায়িত্বটা নেবে?
সে কিছু না বলেই চলে গেল। বুঝিনা সে কেন আমাকে মুখ ফুটে বলছেনা যে আমিও তোমাকে ভালবাসি।
৫।
এবার ফাইনাল খেলার পালা। মা বহুদিন ধরেই আমাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু জুঁই এর হ্যা অপেক্ষায় মা'কে এতদিন না করে এসেছি। এখন আর না। মা'কে অনেক বুঝিয়ে জুঁই এর বাসায় পাঠালাম। পাশাপাশি বাসা হওয়াতে মা'কে বললাম সন্ধ্যার সময় যেতে কারণ এসময় জুঁই বাসাতেই থাকে।
- আরে ভাবী যে, আসেন আসেন ভিতরে আসেন। তা কি মনে করে এই সন্ধ্যাবেলা হঠাৎ আগমন?
- আমার ছেলে আতিক। এতদিন ধরে বলছি ঘরে বউ আন। না সে বিয়ে করবেই না। বলে এখনও নাকি বিয়ে করার সময় হয়নি।
- তা এখন কি ভাবছেন?
- আর ভাবাভাবির কিছু নাই। এখন যেভাবেই হোক বিয়ে করিয়েই ছাড়ব।
- তা মেয়ে দেখেছেন?
- তা একটা মেয়ে আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
- কে সে? বাড়ি কোথায়? দেখতে কেমন?
- লিজা, আমার খালাতো বোনের মেয়ে। খুবই লক্ষী একটা মেয়ে। ভাল হবেনা ভাবী?
- আরে কেন হবেনা! আপনি পছন্দ করেছেন ভাল না হয়ে উপায় আছে? আচ্ছা আপনার ছেলে যদি রাজি না হয়?
- তার ব্যাবস্থাও করা আছে।
- কি ব্যাবস্থা?
- আমি বাড়ি ছেড়েই চলে যাব। একথা শুনার পর মুখ দিয়ে নিশ্চয় না শব্দটা আসবেনা।
- বাহ্! চমৎকার বুদ্ধি করেছেন তো।
- আমি এখন যায় ভাবী। বিয়ে শাদীর আয়োজন করতে হবে।
শুয়ে শুয়ে ভাবছিলাম জুঁই কি মায়ের কথাগুলো শুনেছে? শুনে থাকলে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হয়েছিল? একথা জানার পরও কি জুঁই চুপ থাকবে? অদ্ভুত এক ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। মোবাইলের আওয়াজে ভাবনার সাগরে ছেদ পড়ল। জুঁই ফোন করেছে। তাহলে কি ঔষধে কাজ হয়েছে? ফোন রিসিভ করতেই জুঁই বলল
- আপনি এখন কোথায়?
- একটা ভদ্র ছেলে এত রাতে কোথায় থাকবে? নিশ্চয় বাসার বাহিরে থাকবেনা।
- আপনি কি একটু ছাদে আসবেন?
- এত রাতে ছাদে কেন যাব? লোকে দেখলে কি ভাববে?
- আমি ডাকছি সেজন্য আসবেন। কে কি ভাবল সেটা দেখতে হবেনা। আপনি না পুরুষ মানুষ! মেয়েদের মত কথা বলেন কেন?
- আমার ঘুম পাচ্ছে, আমি এখন ঘুমাব।
- আপনি যদি না আসেন তাহলে আমি ছাদ থেকে লাফ দেব।
- পাগল নাকি? ২ মিনিট অপেক্ষা কর আমি আসছি।
ঔষধ যে এত ভাল কাজ করবে তা আমার ধারণার বাহিরে ছিল। অবশেষে মনে হয় আমারই জিত হতে চলেছে। একপ্রকার দৌড়েই ছাদে গেলাম। সামনে গিয়ে এমন একটা ভাব ধরলাম যেন আমি কিছুই বুঝিনি। আগুনটাকে আরেকটু বড় করার জন্য বললাম
- টিকটিকির আত্মা আজ এত সাহস কোথায় পেল যে লাফ দেওয়ার কথা বলছে?
- আজাইরা কথা বন্ধ করেন?
- এটা আজাইরা কথা হলে কাজের কথা কোনটা?
- লিজার সাথে নাকি আপনার বিয়ের কথা হচ্ছে?
- বিয়েতো মানুষই করে। আমিও তো একটা মানুষ নাকি আমাকে মানুষই মনে কর না?
- বিয়ে করবেন ভাল কথা কিন্তু লিজাকে কেন?
- কি আশ্চর্য কথা! লিজাকে বিয়ে করলে কি সমস্যা? আমি কি সারাজীবন তোমার পেছন পেছন ঘুরঘুর করব নাকি?
- তাহলে আমি কি করব?
- সেটা আমি কি করে বলব?
- আমি যে আপনাকে ভালবেসে ফেলেছি।
- কি বললে? আবার বল।
- ভালবাসি।
- শুনতে পায়নি জোড়ে বল।
- আমি তোমাকে ভালবাসি....।
অবশেষে আমার ধারণাটা বাস্তবে রূপ পেল।
- আস্তে বল। লোকে শুনলে কি বলবে?
- লোকের কথায় আমার কিছু যায় আসেনা।
- এতদিন জানতাম মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফুটেনা। আজতো দেখছি বুকও ফাটল, মুখও ফুটেছে। ঘটনা কি?
- আমার সামনে দিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করে নিয়ে যাবেন, আমি কি তা চেয়ে চেয়ে দেখব?
- তাহলে কি করবা?
- বলতে পারবনা।
- তাহলে আমি এখন যায়। লিজা মনে হয় আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
- এখান থেকে এক পা বাড়ালে আমি ছাদ থেকে লাফ দেব।
- তাহলে বল কি করবে?
- বিয়ে করব।
- কাকে?
- আপনাকে!
এটা বলেই দৌড়ে পালাল।
এর দুই সপ্তাহ পরেই জুঁই এর সাথে আমার বিয়েটা হয়ে যায়। লিজার সাথে বিয়ের কথাটা ছিল একটা অভিনয়। ভালবাসা যখন চোখের সামনে ঘুরে বেড়াই তখন নজরে পড়েনা। যখনই সেটা দূরে যেতে থাকে তখনই ভালবাসার প্রতি টান অনুভূত হয়। জুঁই এর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে জুঁই এখন আমার বউ।
---------- সমাপ্ত -----------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now