বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--আম্মু আমি বিয়ে করতে চাই...!! (আরশ)
--হুম, ভালো ডিসিশন নিয়েছো বাবা, পড়াশুনা শেষ করেছো, ভালো একটা জব করছো,, এখন'ই তো বিয়ের সময়,, আমিও ভাবছিলাম তোমার পাপাকে বলবো তোমার জন্য মেয়ে দেখা শুরু করতে...!!
--মেয়ে দেখতে হবেনা আম্মু,, নাহিদ আংকেলের মেয়ে নিহাকে তো চিনো...? আমরা একে অপরকে ভালোবাসি... তুমি পাপাকে বলো ওদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে...!!
কথাটা শুনে মিসেস মেহরাব ভ্রু কুঁচকে আরশের দিকে তাকালেন, একটু রেগে গিয়ে আরশকে বললেন-
--মানে কি আরশ...? তারমানে তুমি প্রেম করছো? তুমি জানোনা তোমার পাপা প্রেম করে বিয়ে করা একদম পছন্দ করেন না... আর নিহাকে যদি ওনার পছন্দ না হয়..? তখন কি করবে...? তোমাকে ওনি বার বার কি বলতেন ভুলে গেছো...?? "তোমার লাইফের সবকিছুতে স্বাধীনতা দিচ্ছি, কিন্তু লাইফ পার্টনার কাকে করবে এই স্বাধীনতা তোমাকে দেওয়া হচ্ছেনা, এই দায়িত্বটা আমার"" এটাই তোমার পাপা তোমাকে বার বার বলতেন তাইনা..? এসব ভুলে গিয়ে তুমি কি করে কোনো মেয়েকে পছন্দ করে ফেললে...??
--আম্মু নিহা সত্যি খুব ভালো মেয়ে...!!
--চুপ করো আরশ... এসব তোমার পাপাকে বলে কোনো লাভ হবেনা... আমার কাছে এসো,, আর মন দিয়ে শুনো আমি কি বলছি...!!
.
আরশ আস্তে আস্তে হেঁটে আম্মুর কাছে যায়... আরশের কানে কানে মিসেস মেহরাব কি যেনো বললেন... মিসেস মেহরাবের কথা শেষ হবার পর আরশ কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলো তার আম্মুর দিকে... তারপর মুখে অনেক সুন্দর একটা হাসি দিয়ে আম্মুর কপালে জোরে একটা কিস করে বললো-
--বিশ্বাস করো আম্মু,, তুমিই হলে পৃথিবীর সবচাইতে সেরা আম্মু,, সবচাইতে ভালো আম্মু...!!
--হুম হইছে,, আমাকে আর খুশি করতে হবেনা... এখন পাপার রুমে যাও...!!
আরশ আম্মুর দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বেরিয়ে গেলো রান্নাঘর থেকে... এখন তাকে পাপার রুমে যেতে হবে... আম্মুর বলে দেওয়া কথাগুলো পাপাকে বলতে হবে... যে করে হোক নিহাকে লাইফ পার্টনার করতেই হবে...!!
.
--পাপা কিছু জরুরি কথা বলতে চাই...!!
--হুম বলো, আমি শুনছি...!! (পেপারের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কথাটা বললেন মিঃ মেহরাব..)
--পাপা... ইয়ে মানে,, আমি... মানে... পাপা আমি বিয়ে করতে চাই...!! (চোখটা বন্ধ করে অনেক তাড়াতাড়ি কথাটা বললো আরশ)
আরশের কথা শুনে মিঃ মেহরাব পেপারের দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললেন-
--আমিও ২-১ দিনের ভিতর কথাটা তোমাকে বলবো ভাবছিলাম... ঠিক আছে,, আমি আর তোমার আম্মু আগামিকাল থেকে মেয়ে দেখা শুরু করে দেবো...!!
--পাপা... আমি কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে চাইনা...!!
--কোনো মেয়েকে বিয়ে করতে চাইনা মানে...?? কি বলতে চাচ্ছো আরশ...?
--ইয়ে মানে, পাপা আমি ওদের কাউকে বিয়ে করতে চাই, মানে ওইযে... যারা মেয়েও না আবার ছেলেও না...!! (মাথাটা নিচের দিকে করে কথাটা বললো আরশ)
কথাটাশুনা মাত্রই মিঃ মেহরাব বসা থেকে উঠে দাঁড়ান... আরশ আড়চোখে একবার পাপার দিকে তাকায়... মুহৃর্তের মধ্যেই রাগে মুখটা লাল হয়ে গেছে... আরশের বুকটা ধুক ধুক করতে থাকে,, পাপা কি এখন এসে মাইর দেওয়া শুরু করবেন...? আরশ মনে মনে যা দোয়া পারে তা পড়তে থাকে... ঠিক তখন ই মিসেস মেহরাব রুমে ডুকলেন... আম্মুকে দেখার সাথে সাথে আরশ তাড়াতাড়ি রুম থেকে বের হয়ে যায়... দরজার বাইরে গিয়ে বুকের ভিতর ফুউউ দিতে থাকে,, আরো কিছুক্ষণ ওই রুমে থাকলে হয়তো হার্ট ফেটে বের হয়ে যেতো...!!
.
--কি ব্যাপার আরশের পাপা...? আরশ এভাবে রুম থেকে চলে গেলো কেনো...? (কিছু না জানার বান করে প্রশ্নটা করলেন মিসেস মেহরাব)
আরশের আম্মুর প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলেন না মিঃ মেহরাব... স্রেফ রাগ করে তাকিয়ে থাকলেন আরশের আম্মুর দিকে...!!
--কি ব্যাপার আরশের পাপা..? কিছু হইছে..? আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো? আমাকে খেয়ে ফেলবে না'কি...?
--তোমার ছেলে কি বলেছে জানো...? সে না'কি ৩য় নাম্বার জাতি, মানে যারা মেয়েও না ছেলেও না ওদের কাউকে বিয়ে করতে চায়... কত্ত বড় সাহস চিন্তা করছো...??
--আসতাগফিরুল্লাহ.... আমার ছেলে এটা বলেছে?... ব্যাপারটা ভালো মনে হচ্ছেনা আরশের পাপা... ওর তাড়াতাড়ি একটা বিয়ে দিয়ে দাও,, না'হয় কখন কি করে ফেলে আল্লাহ জানেন...!!
--তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দাও বললেই হয়ে গেলো না'কি..? এতো তাড়াতাড়ি আমি মেয়ে কোথায় পাবো...?
--টেনশন কেনো নিচ্ছো...? তোমার বন্ধু মিঃ নাহিদ সাহেবের খুব সুন্দর একটা মেয়ে আছে,, নাম নিহা... তোমার বন্ধুর সাথে কথা বলে দেখো ওনি কি বলেন...!!
--ঠিক বলেছো আরশের আম্মু, এই অবস্থায় এর চাইতে ভালো উপদেশ আর কি হতে পারে...? নিহা মেয়েটা কালো হলেও আমার কোনো প্রবলেম নাই... কোনো ৩য় জাতি না হয়ে যেকোনো কানা ল্যাংড়া মেয়ে হলেই চলবে...!!
কথাটা শুনে মিঃ মেহরাবের দিকে তাকিয়ে আরশের আম্মু মুচকি মুচকি হাসতে থাকেন... মনে মনে বলেন "এই মানুষটা এত্ত বোকা কেনো...? একটা মানুষ কি করে এতোটা বোকা হতে পারে...? কি করে...??
.
"""৭দিন পর"""
.
ঠিক এই মুহূর্তে আরশ-নিহা দুজন বাসর ঘরে বসে আছে... মাত্র ৭দিনের ভিতর সব আয়োজন করে অনেক তাড়াতাড়ি তাদের বিয়ে দেওয়া হলো...!!
.
--এতো তাড়াতাড়ি তোমাকে পেয়ে যাবো কখনো কল্পনাও করিনি নিহা... কেমন যেনো সব স্বপ্ন মনে হচ্ছে..!! (আরশ)
--এই সবকিছুই আমার শাশুড়ি আম্মার জন্য হইছে... অনেক ভালো একজন শাশুড়ি আম্মা পেলাম... সাথে অনেক বোকা শশুড় আব্বাও... হিহিহি...!! (নিহা)
--আসলেই পাপা বোকা একজন মানুষ... এতো প্ল্যান করে বিয়েটা করলাম, অথচ তিনি কিছুই বুঝতে পারলেন না... আগের যুগের মানুষ তো তাই...!!
--হুম,, বাদ দাও এসব কথা... বাসর রাতে কেউ শশুড়-শাশুড়ি নিয়ে কথা বলেনা বোকা ছেলে...!!
কথাটা শুনে আরশ মুচকি মুচকি হাসতে থাকে, নিহাও আরশের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে... তারা এভাবেই একসাথে হাসতে চায় আজীবন...!!
.
ঠিক এই মুহূর্তে আরশের পাপা আর আরশের আম্মু তাদের রুমে শুয়ে আছেন... সময়টা কতো দ্রুত চলে যায়... আজ তাদের ছেলের বিয়ে, অথচ মনে হচ্ছে এইতো কিছুদিন আগেও বাসর রাত নামক অনেক সুন্দর একটা রাত দুজনে একসাথে কাটিয়েছেন...!!
.
--আচ্ছা আরশের আম্মু,, একটা প্রশ্ন করি...?? (মাথার উপরে ঘুরতে থাকা ফ্যানের দিকে তাকিয়ে কথাটা বললেন মিঃ মেহরাব)
--হুম করো...!!
--আমি কি খুব বোকা??...!!
মিসেস মেহরাব প্রশ্নটা শুনে কিছুটা অবাক হলেন,, মনে মনে বললেন "কিছু বুঝে ফেললো না'কি...? মিসেস মেহরাব শুয়ে থাকা অবস্থায় আরশের পাপার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন-
--হুম... তুমি আসলেই বোকা, এবং তোমার এই বোকামি আমার অনেক ভালো লাগে, আরররর... আমি আমার এই বোকা স্বামিটা নিয়ে অনেক সুখি...!!
--হিহিহি... কিন্তু আরশের আম্মু,, আমি এতোটা বোকা না ওকে...? সব খুলে বলছি, মন দিয়ে শুনো... নিহাকে আমার বউমা করবো সেটা কয়েক বছর আগেই আমি আর আমার বন্ধু নাহিদ ঠিক করেছিলাম... ওদের প্রথম দেখা কিভাবে হয় জানো...? আমি আরশকে নিয়ে যেদিন শপিং এ যাই, সেদিন নাহিদকে কল করে বলেছিলাম নিহাকেও যেনো সাথে নিয়ে আসে,,, প্ল্যান অনুযায়ী শপিং এ প্রথম আরশের সাথে নিহার পরিচয় করিয়ে দেই... তারপর ঠিক পরেরদিন আরশকে আমার বন্ধু ডাঃ শামিমের চেম্বারে এটা বলে পাঠাই যে "আমার জন্য কিছু ঔষদের নাম নিয়ে আসতে",, ঠিক তখন'ই নাহিদকে কল করে বলি ঔষধের নাম করে নিহাকেও যেনো ওখানে পাঠায়... আমি আমার ছেলের পছন্দ জানি... তাই আমি শিওর ছিলাম নিহাকে আরশ পছন্দ করবে... ভাবছিলাম নিহার পড়াটা শেষ হলেই আরশের মত নিয়ে ওদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবো, কিন্তু তোমরা মা-ছেলে মিলে আগেই নিহাকে ঘরে নিয়ে আসলে...!!
কথাগুলো শুনে মিসেস মেহরাব বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকলেন আরশের পাপার দিকে... কি শুনলেন এগুলো তিনি? নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছেনা তার.. আচ্ছা এটা কি স্বপ্ন? তাড়াতাড়ি মিঃ মেহরাবের হাতে একটা চিমটি দিলেন মিসেস মেহরাব... না,, এটা তো বাস্তব... মিসেস মেহরাব আবারো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলেন আরশের পাপার দিকে...!!
--কি ব্যাপার আরশের আম্মু? এত্ত বড় বড় চোখ করে তাকাচ্ছো কেনো..??
--ওরেএএএএএ শয়তানননন... এই বয়সে তুমি এত্ত চালাক হয়ে গেছো... ক্যামনে...??
মিঃ মেহরাব কোনো উত্তর দেন না... স্রেফ হাসতে থাকেন... মিসেস মেহরাব ও হাসতে থাকেন,, আর মনে মনে বলেন- ""যাক... আমার স্বামিটা তাহলে বোকা না... একদম না...!!
লেখক : মেহরাব নয়ন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now