বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
★.আমি নরম টাইপের ছেলে ...কারো সাথে মিশি না সেই বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে...লেখাপরা শেষ করে । চাকরি করি এমন করে অনেক ভালো ভাবে মা আর আমি জীবন যাপন করছি। ওহ আমার নামটাই বলা হই নি সঙ্গীহীন আরাফাত.... এক দিন মা বলে তুর বিয়ে ঠিক করছি বৃহসপতিবারে । আমি আর কি বলবো বলার কিছুই নাই। বিয়ে হয়েছে ।আজ দুই মাস কিনতু ওর সাথে কিছু হইনি। একদিন সকালে বক বক করছে
..
.রিয়া**লোকটার সাথে বিয়ে হয়েছে আজ দুইমাস হলো,
,,,,,,,,,তবুও বলতে হচ্ছে কারন তাকে স্বামী হিসেবে আমি চাই নি,
,,,,,,,,,,,,,,আর সেও চাইনি কিন্তু দুজনের পরিবার জোর করে বিয়ে দিয়েছে,
,,,,,,,,,,,, বিয়ের পর এখনো আপনি ছাড়া ডাক দেয় নি,(আরাফাত) তবে সব কাজ মা কে দিয়েই করিয়ে নেয়।
''''''''''''''''''''"'কত স্বপ্ন দেখতাম রাজকুমার এসে নিয়ে যাবে এই আমাকে তার রাজ্যে তবে সে ও তো রাজকুমারের কম নয়"""""""""""""' তবে রোমান্টিক হয় না কেনো, ,,,,,,,,,,
.........তাই স্বামী হিসেবে পছন্দ না তাকে।
স্বামীকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখে মেয়েরা তবে এরকম স্বামীর জন্য কিরকম স্বপ্ন দেখবো আদও বুঝে উঠেনি।
গম্ভীর ভাব ছাড়া কথা ও বলতে পারেনা,এ নাকি আবার আমার স্বামী ভাবলেই রাগ হয়।
একই বয়সের দুজন আমরা তবে সে এ বয়সে কিসের কি বই প্রেমী ।
হ্যা ঠিকই শুনছেন ,সে বই প্রেমী ,রাত জেগে গল্প লিখে ছোফায় শুয়ে পড়বে কখনো কখনো টেবিলেই,,,,,,!
,,,,,,,,,,,,,,,,,,আমি ও কখনো নিজ থেকে কথা বলিনি,কখনো বলি নি এই এখন ঘুমিয়ে পড়েন।
,,,,,,,,,,,,___তবে লোকটা এমন রগচটা কেনো,আর এত কি লিখে যা তার রাত জাগতে হবে ,সে গল্প কি আমার থেকে বড় হয়ে গেছে ।
আমার দিক তাকিয়েও দেখে না এ কেমন স্বামী আদও বুঝে উঠতে পারলাম না।
প্রতিদিন সকালেও আমার আগে উঠে আমাকে ডেকে তুলে দিবে তবে সোজাসোজি নয় অন্য কাউকে দিয়ে।
তবে আজ উঠবো না ,শিক্ষা দিবো কি পেয়েছে সে আমি কি খেলনা ,
সকালটা হোক আজ তাকে দেখাবো মজা,
আর আজ এখনো বাসায় আসে নাই, ভয় ভয় করতেছে তবুও কিছুক্ষন রাগে থাকি,
তবে চিন্তা হচ্ছিল তার জন্য শত হলেও স্বামী ,শ্বাশুড়ি আম্মাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে বলে যে সে তো ঢাকার বাহিরে গেছে তবে ফিরবে সকালে।
কথাটা শোনার পর চলে আসবো তো শ্বাশুড়ি ফিরে ডাকে,,,,,
-রিয়া মা
-জ্বী আম্মা
-সংসার জীবন কেমন লাগছে?
-ভালো
(মনে মনে বলছিলাম ভালো না ছাই)
-ভালো গেলেই ভালো ,ছেলেটা কারো সাথে মিশে না ,তুমি মা একটু তার সাথে মিশো
-কেনো মিশে না?
-ছোট থাকতে চোখের সামনে নিজের বাবাকে হারিয়েছে সে দিনটা তাকে সকাল বিকাল পৌড়াচ্ছে।
-আচ্ছা মা ।
রুমে চলে আসি ,তবে মি. কে ছোট বেলার কথাগুলো নিজেকে কষ্ট দিচ্ছে কেনো , পনের বছর পর ও কিভাবে আঘাত থাকে।
তবে কি আমিও তার জীবনে ঠাই পাবো না?
আমিতো তাকে ভালবেসে ফেলেছি,তার সততা আমাকে মুগ্ধ করেছে,যে মেয়েটা বৌ হয়ে তার রুমে আছে সে মেয়েটা দিক তাকিয়ে ও দেখেন না এ যেনো আমার কাছে তার সততা তবে এ সততা কোন নারী চায় না তবে আমি কিভাবে চাইবো তবুও ভালবেসে ফেলেছি।
আচ্ছা তার গল্প গুলো পড়িতো,দেখি কি লিখে যা সঙ্গীহীন আরাফাতের আমার থেকে বেশি প্রয়োজনীয়।
গল্পের শুরুতে দেখছি আমার নাম তবে কি আমায় নিয়ে কিছু লিখছে, আচ্ছা পুরোটা পরিতো
অনেকক্ষন তার লেখা গল্প পড়লাম
যতই পড়ছি ততই তার প্রতি ভালোবাসা বাড়ছে ,সে যে আমায় নিয়ে লিখেছে সব গল্প কবিতা,
প্রতিদিন কি করি তার সামনে থাকলে সব যে গল্পে উল্লেখ করা।
মানুষটাতো আমায়ও ভালোবাসে তবে বলে দিলে কি কিছু বলবো নাকি ,আমাকে ভয় পাওয়ার কি আছে।
অনেকক্ষন আমায় নিয়ে গল্প লেখাগুলো পড়লাম কিন্তু তার মাঝে, হঠাৎ কিছু লাইন পড়ে মনের অজান্তে খুশিতে চোখের পানি চলে আসে,
রিয়া হয়তো তুমি আমায় স্বামী হিসেবে চাওনা তবে আমি ও তোমায় চাইতাম না বউ হিসেবে একসময়,
কিন্তু এখন আমিও চাই অন্য সবার মত আমাদের ও সংসার হোক,সে তোমাকে বলার সাহস নেই কারন বাবাকে হারিয়ে কাউকে আপন করার সাহস খুজিনি শুধু মাকে ছাড়া তার মাঝে তুমি এসেছিলে আমার জীবনে তবে তুমি কি পারো না আমায় আপন করতে।
আর ঐদিন পাশের বাসার সামিহার বিয়েতে কালো শাড়ি, কালো টিপ ,হাতে চুড়ি ঠোঁটে লিপিস্টিক দেখে খুব প্রেম মনে জেগেছিলো তোমার প্রতি একটু ছুয়ে দিতে তবুও আমার বুকে চাপা কষ্ট গুলো তুমাই দিতে পারবো না তুমি যদি কখনো বাবার মতো হারিয়ে যাও তাই তোমাই মেনে নিতে পারিনি ,কিন্তু তুমি তো আমায় চাওনা তাই আমি ও না দেখার ভাব ধরে দূর থেকে তোমায় দেখছিলাম ।
সেদিন পাশের বাসায় এক আত্নীয়দের বাসায় বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম,সেদিন খুব বিরক্ত লেগেছিলো তবে বলতে পারিনি ,সেদিন ভেবেছিলাম সে আমার দিক তাকায় না তো কার দিক তাকায় ,বউ সেজেছে কিন্তু বর কে একবার বল্লো না সুন্দর লাগছে কিনা । .রিয়া........কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আমি সুখি মানুষ।
চোখের জল এসে যায় কারন আমি ও তো ভালবাসি তাকে,
আবার গল্প পড়া শুরু করলাম,
যখন রুমে থাকোনা তখনও গল্প লিখার ফাকে তোমায় খুজি,আর যখন রুমে আসো তখন গল্পের বাহানাতে তোমায় দেখি বারবার।
অপরূপ ভাবে ওই মায়াবি মুখটা দেখি তোমার কাজল কালো চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি।এবার গল্প পড়া থেমে দেই আর নিজেই কাদিঁ ,তবে এ কান্না খুশির ছিলো, কারন লোকটায় আমায় ভালবাসে তবে কারো সাথে মিশতে জানে না বলে বউটার সাথেও মিশতে পারছে না।
বিয়ে হয়েছে এতদিন হলো এখনো বাসর রাত হয় নি বিয়ের দিন আরাফাত ,ছোফায় ঘুমাচ্ছে আমিও অপেক্ষা করতে গিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। সেদিন থেকেই,আমি মনে মনে বলি পারেও বটে লোকটা।
আর গল্প পরিনি সোজা বিছানায় এসে ঘুম দেই কারন তার আসার আগে সেই শাড়ি ,চুড়ি টিপ পড়তে হবে তো।
ঘুমিয়ে পড়লাম ,আর সেদিন সে না থাকা স্বত্তেও তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে যাই কারন তার আসার আগে আমার সাজতে হবে তো।
গোসল খানা থেকে এসেই দেখি বাহির থেকে কে যেন নক করছে আর আমি ও জিজ্ঞাসা করি কে,
অপর পাশ থেকে কন্ঠটা কানে আসা মাত্রই তাড়াহুরা বেড়ে যায়, আরাফাত এসে গেছে তবে তো আমার কিছুই হলো না তাই তাড়াহতাড়ি সব কিছু পরে দরজা খুলে দি ।
মি. আমাকে দেখে ও না দেখার ভাব ধরে ভিতরে চলে আসে,আর আমিও সোজা রান্নাঘরে চলে যাই তার ভাবখানা দেখে।
নিজেই বলছে ভালো লাগে আবার নিজেই ভাব নিচ্ছে,মনে মনে বলছিলাম ,এমন সময় একটা চিঠির টুকরো আমার হাতে সে নিজে দিয়ে যায়, উত্তেজিৎ হয়ে চিঠিটা খুলি,
একি চিঠিতে লেখা "টিপটা ঠিক ভাবে পড়েন"
মুচকি হাসি দিয়ে অন্যদিক চেয়ে তাকে শুনিয়ে বলছিলাম,
-এতোকিছু পছন্দ করেন তবে টিপটা পড়িয়ে দিলেই তো হয়
তার মানে,,,, ..-তারমানে
রিয়া- তারমানে আমি চিঠি পরে নিয়েছি
আরাফাত- আমার কাছে জিজ্ঞাসা করে পরবেন না
রিয়া-সে আপনি রাতে তো ছিলেন না
আরাফাত-তো অপেক্ষা করতে পারলেনা আমি আসার
-এহ আইছে নবাব জামাই এর জিনিষ ও কত কিছু করবে।
আরাফাত-জামাই মানে?
রিয়া-চিঠি গুলো কি আম্মাকে দিবো ।
-না না না এ করবেন না
রিয়া-তবে বিকালে ঘুরতে নিয়ে যাবেন
আরাফাত-সে আমি____
রিয়া-সে আমি আমি করতে হবে না যা বলছি তাই।
অতঃপর সে রান্না ঘরে এসে সোজা আমায় তুলে নিয়ে যায়, এমনটা হলেই ভালোই হতো কিন্তু এতো সাহস তার এখনো হয় নি,তাই দূর থেকে বলছে টিপ ঠিক করতে আর আমি ও বারবার বলছি পারবোনা আর সেও বলেই যাচ্ছে ।
রাগ উঠে যায়,তাই রুমে চলে শাড়ি চুড়ি এসব খুলতে যাবো তো এমন সময় পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে আরাফাত,
রিয়া এ স্বপ্নে নইতো তাকে জিজ্ঞাসা করি ।
আর সেও বলে
আরাফাত-সে স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকবে না
রিয়া-তাই মি.
-হ্যা রিয়াদ্রী!
রিয়া-কে রিয়াদ্রী
আরাফাত-আপনি আমার গল্পের রিয়া দি
রিয়া-তবে বাস্তবে কি?
আরাফাত-বাস্তবে আমার প্রতিটা সকালের রিয়া দি
রিয়া-হয়েছে হয়েছে মি. ফ্রেশ হোন বাহিরে বের হবো আইসক্রিম খাবো।
আরাফাত-আচ্ছা আচ্ছা।
অতঃপর সে ফ্রেশ হতে যায়, তবে তার আগে টিপটা ঠিক করে গিয়েছে ,মি. খুব রোমান্টিক হয়েও এতদিন মিথ্যে অভিনয় করেছে আর তাই নয় আজ দেখি আমাকে দেখে সে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না তবে কি লোকটি সত্যি ভালোবাসে ।
যাক এক রাত সে হীনা প্রতিটা রাতের সে হয়ে গেল।
তবে কি আজ আমাদের প্রথম বাসর রাত হবে।
এবার আপনারাই বলেন আমার বাসর কোন দিন হবে????? ।....
...
...আল্লাহ্ হাফেজ
...
...
...
..
ধন্যবাদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now